Home আঞ্চলিক খুলনা সদরে ধানের শীষের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে দুইদিনের কর্মসুচি ঘোষনা

খুলনা সদরে ধানের শীষের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে দুইদিনের কর্মসুচি ঘোষনা

835



।। খবর বিজ্ঞপ্তি।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মনোনয়নকে ঘিরে খুলনা বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে “আত্মঘাতী” ও “দলবিরোধী রাজনীতিকে পুরস্কৃত করা” বলে অভিহিত করেছেন খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।


মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় খুলনার কেডি ঘোষ রোডে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি এবং ১৬টি ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবীর। সভা পরিচালনা করেন সোনাডাঙ্গা থানার সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজ। সভায় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা “অগ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাতিল করো”, “তৃণমূলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাও”, “তারেক রহমানের নির্দেশ মানো” ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকেন। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু অতীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করেছেন।

এমনকি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে “বিষোদগার” করেছেন বলেও তাঁরা অভিযোগ তোলেন। বক্তারা বলেন, “যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তিনি বিএনপি করেন না, এবং পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে সেই মর্মে আবেদন করেছেন, এমন একজন বিতর্কিত নেতাকে প্রার্থী করা তৃণমূলের জন্য লজ্জাজনক।” তাঁরা আরও বলেন, “যখন আমরা গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরছাড়া, তখন মঞ্জু সাহেব নিশ্চিন্তে বাড়িতে ঘুমিয়েছেন। আন্দোলনের কঠিন সময়ে তিনি মাঠে ছিলেন না, অথচ এখন তাকেই প্রার্থী করা হয়েছে-এটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।” বক্তারা অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন এবং একাধিকবার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন। তিনি বিএনপির ঐক্য নষ্টে ভূমিকা রেখেছেন এবং পদত্যাগী কিছু নেতাকে আশ্রয় দিয়ে দলকে বিভক্ত করেছেন। বক্তারা বলেন, “দীর্ঘ চার বছর ধরে মঞ্জু সাহেব দলের ঐক্য বিনষ্ট করেছেন। তৃণমূলের ত্যাগ ও আত্মত্যাগের প্রতি এটা এক প্রকার অবমাননা।” সভায় উপস্থিত সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি, ১৬টি ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বলেন, দলের স্বার্থে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবশ্যই তৃণমূলের অভিমত শুনতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের ময়দানে ঐক্য গড়ে তোলা কঠিন হবে। তাঁরা বলেন, “আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানাচ্ছি-খুলনা-২ আসনের মনোনয়ন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক। তৃণমূলের গ্রহণযোগ্য ও আন্দোলনমুখী নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়া হোক।” সভায় জানানো হয়, তৃণমূলের এই ক্ষোভ ও দাবি ইতিমধ্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম (বকুল)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি উপস্থিত নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, খুলনার তৃণমূলের অবস্থান ও ক্ষোভ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বক্তারা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা-২ আসনে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে প্রতি আহবান জানিয়েছেন। একই সাথে রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার আহবান জানান। অন্যথায় জিয়া পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য দাবি জানান।
সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সদর থানার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, সোনাডাঙ্গা থানার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো, নাসির উদ্দিন, সোনাডাঙ্গার সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পী, মহানগর শ্রমিক দলের শফিকুল ইসলাম শফি, জাসাসের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব কেএম এ জলিল, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি যথাক্রমে শেখ আবু সাইদ, আফসার উদ্দিন মাস্টার, ইফতেখার হোসেন বাবু, শেখ মনিরুজ্জামান মনির, মাসুদউল হক হারুন, মোল্লা মশিউর রহমান, মোঃ শফিকুল ইসলাম, গাজী আফসার উদ্দীন, এস এম নুরুল আলম দিপু, শেখ মোস্তফা কামাল, আজিজুর রহমান, শেখ আব্দুল আলীম, শেখ হাবিবুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলাম, মোঃ মাহমুদ আলম মোড়ল, ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক যথাক্রমে, মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোঃ বায়েজিদ, মেশকাত আলী, মঞ্জুরুল আলম, জুয়েল খান, মোঃ নাজমুস সাকিব, মোঃ সওগাতুল আলম ছগীর, মোঃ আমিন আহমেদ, মোঃ শওকত আলী বিশ^াস লাবু, সাইফুল ইসলাম, মোঃ ওহিদুজ্জামান হাওলাদার, কাজী মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ আবুল ওয়ারা, মোঃ কামরুজ্জামান রুনু, মোঃ আরিফুল ইসলাম বিপ্লব, ওয়ার্ড সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে, মোঃ রফিকুল ইসলাম, শেখ মোঃ মফিজুর রহমান, শেখ সরোয়ার, জামির হোসেন দিপু, মোঃ মুরাদ হোসেন, মোঃ মফিজুল সরদার, সৈয়দ আজাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, বাবুল রানা, মোঃ সোহরাব মোল্লা, মোঃ ইয়াছিন মোল্লা, আব্দুল কাদের মল্লিক, শেখ মনিরুল ইসলাম, মোঃ বক্কর মীর, মোঃ আলী আফজাল, ডাঃ শাহিন আহসান, মহিলা দলের হাসনা হেনা, নাসরিন শ্রাবণী, কাওসারী জাহান মঞ্জু, রোকেয়া ফারুক, হোসনে আরা চাঁদনী, সুলতানা পারভীন রজনী, মুন্নী জামান, অ্যাড. কামরুন নাহার হেনা, রশিদা আক্তার ময়না, শারমিন সুলতানা, সুলতানা রহমান, রোমানা ন্যান্সি, কাকলি খান, আনিকা সুলতানা নিপা, শারমিন সুলতানা রাখি প্রমূখ।


সভা থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে দুইদিনের কর্মসুচি ঘোষনা করা হয়। কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে আজ ১২ নভেম্বর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ রকিবুল ইসলাম বকুলের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর কাছে স্মরকলিপি পেশ। ১৩ নভেম্বর খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারপারসন কার্যালয় ও বিএনপি মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হবে।