Home খেলাধুলা প্রভাবশালীদের বিপক্ষে পারবে তো বাংলাদেশ

প্রভাবশালীদের বিপক্ষে পারবে তো বাংলাদেশ

8


ক্রীড়া প্রতিবেদক

৩০ দেশের আরচাররা এখন ঢাকায়। অপেক্ষার প্রহরও শেষ। আজ থেকে পর্দা উঠছে এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের। রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড মিলিয়ে ১০ ইভেন্টের পদকের লড়াইয়ে ২০৯ জন আরচার অংশ নিচ্ছেন এবার। রিকার্ভে ৫৪ জন এবং কম্পাউন্ডে ৩৮ জন মিলিয়ে মোট ৯২ জন। জাতীয় স্টেডিয়াম ও আর্মি স্টেডিয়ামÑ এই দুই ভেন্যুতে হচ্ছে প্রতিযোগিতা। তবে আজ প্রথম দিনে আরচাররা আনুষ্ঠানিক অনুশীলন করবেন জাতীয় স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে হবে এশিয়ান আরচারির কংগ্রেস।

তৃতীয়বারের মতো এই আসরের আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশকে এবার তীর ধনুকের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে ফেভারিট দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও চীনসহ অন্য দেশের সঙ্গে। যদিও বৈশ্বিক এই আসরে কখনই বাংলাদেশ সোনার পদক জিততে পারেনি। তার পরও এবার সেই আকাক্সক্ষা ঘুচানোর পালা। স্বাগতিকদের চোখ অবশ্য থাকবে নিজেদের তারকা আবদুর রহমান আলিফ, সাগর ইসলাম, বন্যা আক্তারদের দিকে। ২০২১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আসরে একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তিনটি পদকই ছিল দলগত ইভেন্ট থেকে পাওয়া। রিকার্ভ মিশ্র থেকে এসেছিল রুপার পদক। ২০২৩ সালের সবশেষ থাইল্যান্ডের আসরে অবশ্য খালি হাতে ফিরতে হয় দলকে। এবার সে হতাশার বলয় থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনতে চান আর্চাররা। রিকার্ভ ইভেন্টের সাগর ইসলাম (আরচারির র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৫তম) বলেন, ‘আমাদের দেশের মাঠে এবারের প্রতিযোগিতা। স্বাভাবিকভাবে অনেক কিছু আমাদের পক্ষে থাকবে। এখানকার সবকিছুই আমাদের জানা। এই প্রতিযোগিতার জন্য আমরা বছরজুড়ে ক্যাম্পে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আশা করি, পরিশ্রমের ফল আমরা পাব। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব।’

রিকার্ভ ইভেন্টের আরচার আব্দুর রহমান আলিফের (আরচারির র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭১তম) কথা, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক ভালো মানের আরচার এসেছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে এসেছে অনেকে। অভিজ্ঞতায় তারা হয়তো এগিয়ে থাকবে, তবে আমাদেরও আত্মবিশ্বাস আছে দেশকে ভালো কিছু এনে দেওয়ার। আরচারি একটি নির্দিষ্ট দিনের খেলা, র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান যা-ই হোক না কেন, যে সেরাটা মেলে ধরতে পারবে, সেই সেরা হবে।’

কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকও আশাবাদী, ‘আরচারদের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। ব্যাংককের গত আসরে আমরা কোনো পদক পাইনি। এ নিয়ে হতাশা আছে ওদের মধ্যে। এবার ভালো ফল করতে ওরা উন্মুখ হয়ে আছে।’ বাংলাদেশের আলিফ, সাগর, ভারতের ধীরাজ বোম্মাডেভারা, আতানু দাস, দীপিকা কুমারী, দক্ষিণ কোরিয়ার সিও মিনগি, কিম ইয়াচেন, কিংবা ইরাকের ফাতিমা আলমাশদানি নাকি নতুন অচেনা কেউ বাজিমাত করবেন, সেদিকে চোখ থাকবে এশিয়ার আরচারিপ্রেমীদের।