Home স্বাস্থ্য লাল সাদায় দশমীর সাজ

লাল সাদায় দশমীর সাজ

6

মিলি রহমান।।
বারবার আয়নায় নিজেকে দেখছে সেঁজুতি। প্রাণেশ্বরের দেওয়া লাল পাড়ের সাদা তসর সিল্কের শাড়িটি গায়ে জড়িয়েছে। দর্জিবাড়ি থেকে সদ্য বানিয়ে আনা ব্লাউজ গায়ে ঠিকঠাক লাগবে তো? সিঁদুর খেলার দিনে মেকআপটাও যে ঠিকঠাক বসতে হবে। শ্বশুরবাড়ির সব জা ও ননদের চেয়ে সাজ হওয়া চাই ভিন্ন। উফ, কত্ত চিন্তার ঢেউ মাথায় খেলা করছে! নব্য বিবাহিতা বলেই হয়তো এত উত্তেজনা। দেবী বোধনের দিন থেকেই বরের সঙ্গে এবারের পূজার দিনগুলো বিশেষভাবে কেটেছে সেঁজুতির। আজ মহানবমী আর কাল বিজয়া দশমী। এ দুদিনের সাজটাই যেন বিশেষ।

নবমীর সাজের প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়েছে সে। হলুদ-কমলা রঙের শাড়িতে ঠাকুর দেখতে বের হবে। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি হবে। গরমের সকাল-দুপুরে তাই হালকা বেজই নেবে। তার ওপর চলবে হাতের কারিকুরি। রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে যাবে গোলাপি-ম্যাজেন্টা শেডের জামদানি পরে। তখন আরেকটু জমকালোভাবে সাজবে। কিন্তু বিজয়া দশমীর দিনের সাজ নিয়েই যত্ত ভাবনা।

সেঁজুতির মতো অত ভাবলে হবে? সময় যে কম। সিঁদুর খেলার দিনে সাদা শাড়ি পরতে পারেন। শাড়িতে থাকতে পারে লাল পাড় কিংবা পুরো জমিনজুড়ে থাকতে পারে লাল সুতার এমব্রয়ডারি। হ্যান্ডপেইন্ট কিংবা কাঁথা স্টিচের শাড়িও বেছে নিতে পারেন। দুর্গার প্রতিকৃতি-জবা ফুল-পদ্ম ফুল, স্বস্তিক চিহ্ন অথবা শঙ্খ আঁকা আছে এমন শাড়ি হলে জমবে বেশ। সিল্ক, তসর, খাদি, তাঁত, জামদানি, মসলিন শাড়ি রাখতে পারেন পছন্দের তালিকায়। অবিবাহিতরা যদি শাড়ির ঝক্কি এড়াতে চান, তাহলে টিউনিকের দ্বারস্থ হতে পারেন। শ্রাগ, কাফতান, টিউনিক আপনাকে অন্যরকম লুক দেবে। সে ক্ষেত্রে সাজটা হবে হালকা বেজের।

শাড়ির সঙ্গে মানানসই সাজ
দশমীর সাজ জমকালো হওয়াই ভালো। কেননা, এদিন সিঁদুর খেলা হয়। এতে মুখ লাল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে এদিন মেকআপের বেস একটু ভারী করা যেতে পারে বলে মনে করেন মেকআপ আর্টিস্ট রুমানা ইসলাম। মেকআপের বেসের জন্য বেছে নিতে পারেন লিকুইড ফাউন্ডেশন। তবে খেয়াল রাখতে হবে বেস যেন বেশি ভারী না হয়। এতে ক্র্যাক পড়ে যায়। তবে শুরুতে ত্বক অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার লাগানোর পর ফুল কাভারেজ ম্যাটিফাইয়িং ফাউন্ডেশন, তার ওপর প্রেসড পাউডার লাগিয়ে বেইজ সেট করে নিন।

নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে ভ্রু যুগল এঁকে নিতে পারেন। ভ্রুতে একটু জেল দিয়ে বুশি করে নেওয়া যেতে পারে। চোখে আইলাইনার দিন টানা করে। মাশকারা লাগান। এদিন বেশি মোটা করে চোখ সাজাতে পারেন। শ্যাডো ব্যবহার করুন শাড়ির সঙ্গে কনট্রাস্ট করে। চাইলে দুটি কিংবা তিনটি রঙের মিশেলেও চোখ সাজাতে পারেন। স্মোকি আইলুকটাও এদিন মানিয়ে যাবে। নাক, জলাইন, চিবুকের অংশ কন্টুরিং করে নিন। নাকের আগায়, কপালের মধ্যখানে আর ঠোঁটের নিচে বুলিয়ে নিন হাইলাইটার। গালে ব্লাশন বুলাতে ভুলবেন না যেন।

চোখে ভারী মেকআপ নিলে ঠোঁটে লাগান ন্যুড, পিচ, বারগেন্ডি, হালকা গোলাপি ও বেরিস কালারের লিপস্টিক। রাতের সাজের জন্য গ্লসি লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন। অনেকে বিজয়া দশমীতে দুর্গার লুক নিতে চান। শাড়ি ও সাজের সঙ্গে মিলিয়ে মাথায় শোলার চূড়া কিংবা মুকুট পরতে পারেন।

দশমীর দিনে কুচিবিহীন এক প্যাঁচে শাড়ি পরলে চুল ছেড়ে রাখতে পারেন। চাইলে মাঝ বরাবর সিঁথি করে সামনের দিকে টুইস্ট করে পেছনে খোঁপা করতে পারেন। খোঁপায় পরে নিতে পারেন রজনীগন্ধা, অর্কিড অথবা গাজরা। তাজা ফুলের পরিবর্তে কৃত্রিম ফুলও গুঁজে দিতে পারেন খোঁপায়।

দশমীর সাজকে পূর্ণতা দিতে পরতে পারেন টিপ। গোল, ত্রিকোণাকার, চার কোনা ও লম্বাটে আকারের টিপ পাওয়া যায় বিভিন্ন পেজে। স্বস্তিক চিহ্ন, শিউলিসহ নানা ফুল, লতা-পাতা, মাছ, ময়ূর আঁকা টিপও পরতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে বড় আকারের টিপ কিন্তু বেশ মানায়।

সাজ তো হলো, এবার গহনার পালা। এখন কিন্তু সাবেকি নকশার গহনা বেশ চলছে। এবারের পূজায় ধাতবের সাবেকি গহনা হতে পারে সঙ্গী। কানপাশা, বড় ঝুমকা শাড়ির সঙ্গে মানাবে। ঝুমকা কিংবা কানপাশার সঙ্গে কানটানা থাকলে বেশ জমবে। হাতে গোলাপ বালা, চুড়ি, চুড় পরতে পারেন। গলায় সীতাহার, মালা, নেকলেস পরে নিন ইচ্ছেমতো। পলা-শাখাও পরতে পারেন। যদি মাথায় মুকুট না পরেন তাহলে সিঁথিতে টিকলি পরে নিন। এতে দারুণ মানাবে।

টিউনিকের সঙ্গে যেমন সাজ
টিউনিকের সঙ্গে মেকআপের বেজ হালকা রাখুন। চাইলে বিবি ক্রিম দিয়ে করতে পারেন বেস। শুরুতে প্রাইমার এবং খুঁত ঢাকতে কনসিলার অবশ্যই দেবেন। সানস্ক্রিন দিতে ভুল করা যাবে না। যদি লিকুইড ফাউন্ডেশন লাগান, তাহলে প্রেসড পাউডার, লুজ পাউডার দিয়ে তা সেট করুন। এরপর চোখ সাজান হালকা করেই। টিউনিকের সঙ্গে বেশি মোটা করে আইলাইনার ও কাজল ভালো লাগবে না। শ্যাডো দিতে পারেন কনট্রাস্ট করে। মুখের গড়ন ঠিক দেখাতে কন্টুরিং করে নিন। গালে গোলাপি কিংবা বাদামি ব্লাশন বুলিয়ে নিন। ঠোঁট রাঙাতে বুলিয়ে নিন ন্যুড শেডের লিপস্টিক।

টিউনিকের সঙ্গে ভারী গহনা একেবারেই মানানসই নয়। তাই হালকা ও ছিমছাম গহনা পরুন। লম্বা মালা বা স্টাড কানের দুল পরুন। যদি টিউনিক অল্প দৈর্ঘ্যের হয়, তবে এর সঙ্গে একটি বড় লকেটের মালা বেছে নিতে পারেন।

সাজের আগে ত্বকের প্রস্তুতি
মেকআপের আগে ত্বককে প্রস্তুত করে নিন। নয়তো বেস ঠিকভাবে বসবে না। এতে মেকআপ মেকি লাগবে। ক্র্যাক করবে। মেকআপের আগে ত্বক ক্লিনজারের সাহায্যে ধুয়ে নিন। একটি সুতি কাপড়ে বরফের টুকরা নিয়ে তা ত্বকে ঘষে নিন। এতে ত্বক মেকআপ ব্যবহারের উপযোগী হবে। বাড়বে রক্ত সঞ্চালন। বরফ ঘষলে আলাদা টোনার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। ত্বক সতেজ রাখতে হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।