স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সার্ভারসহ নানা জটিলতায় গতি পাচ্ছে না জন্ম-মৃত্যু সনদের কার্যক্রম। ফলে জরুরি প্রয়োজনে অনেকে যেমন জন্ম নিবন্ধন সনদ পাচ্ছেন না। তেমনিভাবে বিদেশেউচ্চ শিক্ষা, জাতীয় পরিচয় পত্র, ব্যাংক এ্যাকাউন্টসহ নানা কাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি নাগরিক সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকার জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, শিক্ষা,চাকরি, ভোটার আইডি কার্ড, বিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরির নিয়োগ, উচ্চতর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা,টিকা, সম্পদ ক্রয়, বিক্রয়, সম্পদ হস্তান্তর, ব্যাংক হিসাব খোলা, বিমা সুবিধা প্রাপ্তি, বিধবাভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং সরকারি যেকোনও সুবিধা পেতে হলে জন্মসনদ থাকতে হবে। গত তিন মাস ধরে খুলনা সিটি করপোরেশন তোড়জোড়ের সাথে শুরু হয়েছে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক কাজ। তারা আাগামী ৪-৫ মাসের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করবে। ২০০৬ সালে শুরু হয় জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর ২০২২ সালে তৎকালীন সরকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামুলক করে। সেই থেকে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এমনকি সারাদেশে এই কার্যক্রমে বেশ তোড়জোড় শুরু করে সংশ্লিষ্ট দফতর ও কর্মকর্তারা। কিন্তু এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে সার্ভারসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। এখনো সঠিকভাবে হচ্ছে না জন্ম নিবন্ধনসনদের কাজ। জরুরি প্রয়োজনে অনেকে পাচ্ছে না সঠিক সময় তার জন্ম নিবন্ধন সনদ।
জানাগেছে, বিভিন্ন সেবার জন্য আবশ্যক করা হয়েছে জন্মসনদ। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের ভিত্তিহিসেবেও জন্মসনদ কাজ করে। জন্মনিবন্ধন না থাকলে মৃত্যুনিবন্ধন করা যায় না, যা উত্তরাধিকারনিশ্চিত করতে বাধা সৃষ্টি করে। দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বাস্থ্যসেবার আওতায় জন্মগ্রহণ করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এছাড়াও বিদ্যমান আইনঅনুযায়ী নিবন্ধকের নিকট জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য প্রদানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পরিবারকে দিয়েস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বকে ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে।
এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে খুলনা সিটি করপোরেশন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দায়িত্বটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজ সম্পাদনে নানা ধরনের জটিলতা কাজ করে, এরমধ্যে সার্ভার সমস্যা প্রকট। জন্মনিবন্ধন করার সার্ভারটি সব সময় শতভাগ সচল পাওয়া যায় না। একারণে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিও হয়। যা তিক্ততা পর্যন্ত গড়ায়। আমরা সব কিছু ছাপিয়ে নাগরিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
কেসিসি’র স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানাযায়, তিনটি ধাপে বর্তমানে বেশ জোরেশোরে শুরু করেছে তারা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের কাজ। যেমন: ০ থেকে ৪৫ দিন, ৪৬ দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত এবং ১ বছরের উর্দ্ধে। এই তিন ধাপে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ্য তদারকিতে স্বাস্থ্য কর্মীরা কাজ করছেন। তবে জন্মনিবন্ধনে কিছুটা জটিলতা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান হবে বলে দাবি কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শরীফ শামিউল ইসলামের।
তিনি বলেন, সার্ভারসহ নানা জটিলতায় জন্ম নিবন্ধন সনদ দিতে দেরি হওয়ায় অনেকের সাথে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সার্ভার নিয়ন্ত্রিত হয় জেলা প্রশাসক ও স্হানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রণে। গত দুই মাস যাবত কেসিসি’র নিয়ন্ত্রণে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সেবা বেশতোড়জোড় করে চলছে। আগামী ছয় মাস পর এর সুফল আরো বেশি ও ভালোভাবে পাওয়া যাবে বলে কেসিসি’র স্বাস্থ্যবিভাগের দাবি। অনেক সময় পিতা- মাতার জন্ম নিবন্ধন না থাকায়ও জটিলতার একটা প্রধান কারন বলে উল্লেখ্য করা হয়। অনেকে আবার তাদের সন্তানের বয়স কমানোর জন্য ও এ কার্যক্রমের সমস্যাহচ্ছে।
খুলনা পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে আসা ইমতিয়াজ হোসেন সেলিম নামে বিএল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাবো। তাই পাসপোর্ট করতে এসেছি। কিন্তু বয়স প্রমাণের জন্য জন্মসনদ লাগবে বলে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমি এনআইডি দিয়েছি, শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র দিয়েছি। সেখানেও জন্মতারিখ আছে। কিন্তু তাতে নাকি কাজ হবে না,অনলাইন জন্মসনদ লাগবে। তিনিবলেন, ‘পাসপোর্টের জন্য এটি যে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তা জানতাম না। আগে থেকে জানা থাকলে সেটি প্রস্তুত করেই নিয়ে আসতাম। কিন্তু এ বিষয়ে যদি আগে থেকে সরকারিভাবে প্রচার ও প্রচারনা কথা হতো তাহলে আমার মত অনেকই এ ধরণের হয়রানি ও বিড়ম্বনার স্বীকার হতো না।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেলমো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এখন রাষ্ট্রের অনেক সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ কারণে চাপ বেড়েছে। মাঝে-মধ্যে সার্ভার জটিলতার অভিযোগ শুনি। তবে কারিগরিদিক গুলো আগের তুলনায় এখন অনেক উন্নত। এখন আর মানুষ হয়রানির শিকার হন না। সেকারণেই সেবা পাচ্ছে। সামনে আরও পাবে।











































