Home সম্পাদকীয় করোনাভাইরাস: এখনও সচেতনতা জরুরি

করোনাভাইরাস: এখনও সচেতনতা জরুরি

10

করোনাভাইরাস এখনও বিশ্বব্যাপী স্বীয় দাপট অব্যাহত রেখেছে। কিছু কিছু জায়গায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার যদিও কিছুটা কমে এসেছে, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও গত ক’দিন ধরেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ওঠানামা করছে।

দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের ২০৮তম দিনে দেশে শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আজ মারা গেছেন ২১ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ২৭২। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার ১.৪৪ শতাংশ।

এ সংখ্যা একেবারে কম নয়। লকডাউনের সময় মৃতের সংখ্যা আরও বেশি ছিল। এখনকার পরিস্থিতিও স্থিতিশীল নয়, বরং শঙ্কার। কিন্তু আমাদের অসচেতনতা ও কার্যক্রমে শঙ্কা আরও বাড়ছে। বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগে দু’বার করোনাভাইরাসের সর্বোচ্চ সংক্রমণ পর্যায় দেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেশটিতে তৃতীয় ধাপে সংক্রমণের আশঙ্কা দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ভারতে একদিনে ১হাজার ১শর বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। ব্রাজিলে দৈনিক আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমে আসলেও মেক্সিকোতে আবারও বেড়েছে করোনার প্রকোপ। দেশটিতে বুধবার মৃত্যু হয়েছে সাড়ে পাঁচশোর বেশি মানুষের। সুতরাং আমাদের আত্মতৃপ্তির কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে ভ্যাকসিন পেতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন: ‘বাংলাদেশ করোনা ভ্যাকসিনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ভ্যাকসিনের দৌঁড়ে এগিয়ে থাকা প্রতিটি দেশের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে।’ করোনাভাইরাস এর ভ্যাকসিন আগেভাগে পেতে প্রয়োজনে অগ্রিম অর্থায়ন করতে হবে। কারিগরি জ্ঞান ও সার্বিক সহায়তা পেলে বাংলাদেশে এর উৎপাদন সম্ভব বলে আমরা মনে করি। এজন্য আমাদের দেশের মানসম্মত ওষুধ কোম্পানিগুলোকেও উৎপাদনে সক্ষম হতে সহযোগিতা করা যেতে পারে। এমনটা করা গেলে সহজেই ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

তবে এখনও বিশ্বের কোথাও যেহেতু করোনাভাইরাস এর ভ্যাকসিন আসেনি, তাই এ বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে যার যার অবস্থান থেকে সচেতনভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।