কয়রা প্রতিনিধি।।
খুলনার কয়রা উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা বিদুৎ থাকে না। এতে বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার শিক্ষার্থীসহ ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এ লোডশেডিং সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, ‘লোডশেডিংয়ের ফলে কয়রার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে কতবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে আর আসছে, তার কোনো হিসাব নেই। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী দুই ঘণ্টা থাকেনা। উপজেলা সদরের থেকে গ্রামগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। একবার বিদ্যুৎ গেলে আবার যে কখন আসবে, তা কেউ বলতে পারে না। এ অবস্থা চলছে দিনের পর দিন। রাতের ১২ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র বিদ্যুৎ থাকে ৩–৪ ঘণ্টা ‘
খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের খান সাহেব কোমর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন স্টেশনারি দোকান রয়েছে জুবায়েরের। এই দোকানের টাকায় চলে সংসার। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ফটোকপি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের দরকারি কাগজপত্র ফটোকপি করতে এসে ফিরে যাচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের বলেন, ’বিদ্যুৎয়ের কথা বলে কোনো লাভ নেই, একবার গেলে কয়েক ঘণ্টা পরে আসে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাই থাকে না। কাজই তো করতে পারি না। এর কারণে ব্যাবসাও বন্ধ। তারপরও দোকান খুলে বসে আছি। কিছু করার নেই। ’
উত্তরবেদকাশির মাহফুজুর রহমান ও মাহমুদুল বাদশা জানান, ’দিনে ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে কখনো কখনো ৩-৪ ঘণ্টা না থাকা স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে একবার বিদ্যুৎ গেলে আর আসবে না, এটা মানুষ ধরে নিয়েছে।’
২ নং কয়রার ঢালী বাড়ি এলাকার আলামিন ইসলাম বলেন,’ এখন না হয় যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ কম থাকছে। কিন্তু কয়রায় দীর্ঘদিন ধরে একটু বাতাস দিলেই আমাদের বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর দীর্ঘসময় থাকে না। এছাড়া সামান্য বৃষ্টিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার নজির কয়রা ছাড়া আর কোথাও নেই। বৃষ্টি ছাড়াও আধা ঘণ্টা থাকলে দুই ঘণ্টা থাকে না বিদ্যুৎ। ২৪ ঘণ্টায় হয়ত ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।’
কয়রা সদরের ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী ফজলুল হক বলেন, ‘ঘণ্টায় ঘণ্টায় কারেন্ট যায়। মাঝে মাঝে টানা দুই ঘণ্টাও লোডশেডিং চলে। দোকানে কাজ করা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে।’
ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি মারুফ বিল্লাহ বলেন, ‘ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করি। বিদ্যুৎ সারা দিনে ৩-৪ ঘণ্টাও থাকে না। ক্রেতাদের মাল ঠিকঠাক ও মেরামত করে দিতে পারছি না। এভাবে বিদ্যুৎ লোডশেডিং চলতে থাকলে দোকানপাট বন্ধ করে অন্য পেশা বেছে নিতে হবে।’
কয়রা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ’জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়রায় বিদ্যুৎ চাহিদা ১০ মেগাওয়াট। আমাদের সে অনুযায়ী বরাদ্দ নাই। আমরা পাচ্ছি ৪-৫ মেগাওয়াট, কখনো এর থেকেও কম পাচ্ছি। কয়রায় বিদ্যুৎ গ্রাহক ৬৪ হাজার। এত সংখ্যক গ্রাহকদের ১০ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকের কম দিয়ে চালাতে হচ্ছে। তাই না চাইলেও লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ’বিদ্যুতের ঘাটতি ছাড়াও, জরাজীর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি, পুরোনো যন্ত্রপাতি আর ঝড়বৃষ্টির কারণে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে।’ তবে কয়েক দিনের মধ্যে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমতে পারে বলে জানান তিনি।











































