Home জাতীয় ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার

১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার

0

ঢাকা অফিস।।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু সৌরশক্তি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটিও করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তারা কাজ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্ত জানান।

এ ছাড়া প্রতিবছর ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিনটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ’আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও গণসংহতি দিবস আগে পালন করা হতো। এখন আবার ফেরত আনা হয়েছে। গত ১৬ বছর এই দিবস পালন করা হয়নি। এদিন সরকারি ছুটি থাকবে। ৬ জুলাই থেকে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হবে, তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এটি ‘খ শ্রেণিভুক্ত’ দিবস হবে।’

তিনি বলেন, ’নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন খাতে বড় আকারের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা অংশ নিতে পারবেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কয়েক দিনের মধ্যেই এটি কাজ শুরু করবে। প্রয়োজনে নীতিমালা সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন,’ বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে আরও বেশি যুক্ত করা হবে এবং সরকারি সহায়তায় বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা হবে। আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত কমিটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে দ্রুতই কাজ শুরু করবে।’

নাসিমুল গনি বলেন, ’পাশাপাশি জৈবগ্যাস ও বায়ুশক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে চার থেকে আট টাকা প্রতি ইউনিট উৎপাদন ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা সহজ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল-সংলগ্ন জায়গা ব্যবহার করে ছোট ও বড় আকারের বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে আগের কিছু সৌর প্রকল্প কাঙ্ক্ষিতভাবে কার্যকর না হওয়ায় নতুন করে নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ’সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। জ্বালানি তেল কত সহজে দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা চলছে। যেসব জায়গায় পাম্প থেকে জ্বালানি মিসিং হয়ে যাচ্ছে, সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের চেষ্টার পরও সংকট কাটছে না কেন এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জ্বালানি নিয়ে প্রত্যেকের মধ্যে ব্যবসা করার মনোভাব এসে গেছে। ভাবছে– আমি এখান থেকে কী ব্যবসা করতে পারি। যতক্ষণ অসমান লেভেল থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যা থাকবে।’

সাম্প্রতিক সময়ের জ্বালানি সংকট ও যানজট পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাসিমুল গনি বলেন, ’সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে।’

তবে কিছু ক্ষেত্রে বাজারে অস্থিরতা ও ব্যবসায়িক প্রবণতার কারণে জ্বালানি বিতরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সোলার প্যানেল নিয়ে তিনি বলেন, ’অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালে সোলার প্যানেল স্থাপনের একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এটা খুব একটা কার্যকর করতে পারেনি। হয়তো নিয়মের ভেতরে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু এটাকে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।’

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী; কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ অন্য সদস্যরা অংশ নেন।