বিনোদন ডেস্ক।।
জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে যে কোনো কাজ করতে নারাজ সাফা কবির। যে গল্প মনকে নাড়া দেবে, যাপিত জীবন নিয়ে কিছুটা হলেও ভাবনার খোরাক জোগাবে– সেই কাজই বরাবর বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। না, সাফা সম্পর্কে এ কথাগুলো বাড়িয়ে বলা নয়, তাঁর অভিনীত নাটক, টেলিছবি, ওয়েব সিনেমাগুলো দেখলেই তার প্রমাণ মিলবে। এর সত্যতা যাই হোক খুব একটা পেছন ফিরেও তাকাতে হবে না।
এই তারকা অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক কাজগুলোর দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে, অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে কীভাবে ভিন্ন সব চরিত্র পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করে গেছেন তিনি। গত ঈদের ‘মৎস্যকন্যা’ নাটকের কথাই যদি বলি, তাহলে দেখবেন, এতে সাফার চরিত্রটি ছিল একেবারে আনকোরা। আর তা দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ করে তুলতে অভিনয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই অভিনেত্রী।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মৎস্যকন্যার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জীবন বাজি রাখতে পিছপা হননি। সেই গল্প শুনিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই। এও স্বীকার করেছেন, সমাজ বাস্তবতা, আবেগী টানাপোড়েন থেকে শুরু করে অনেক রকম গল্পে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু মৎস্যকন্যার মতো ইলিউশনধর্মী কাজ সেভাবে করা হয়ে ওঠেনি। তাই চরিত্র দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ‘মৎস্যকন্যা’র পোশাক পরে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া কিংবা ডুবে থাকতে মানসিকভাবে তৈরি হয়েছিলেন। এমনকি পরিচালকসহ শুটিং ইউনিটের সবাইকে বলেছিলেন, যদি ভেসে যান কিংবা মরেও যান তবুও শুটিং করবেন এবং যেভাবে দৃশ্যধারণে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেভাবে তা শেষ করতে চান। সাফার এই কথা থেকে স্পষ্ট যে, ভালো কাজের জন্য যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত।
শুধু ‘মৎস্যকন্যা’ নয়, গত ঈদের অন্যান্য নাটকগুলোয় নজর দিলেও দেখা যায় গল্প ও চরিত্র নির্বাচনে সাফার দৃষ্টিভঙ্গি অনেকের চেয়ে আলাদা। ‘বেসড অন ট্রু স্টোরি’, ‘হাত ধরেছি উড়ব বলে’, ‘লেলিন’, ‘ফড়িয়া’সহ এ সময়ের প্রতিটি নাটকেই নতুনরূপে নিজেকে তুলে ধরার প্রয়াস ছিল এই অভিনেত্রীর। আর এসবই সম্ভব হয়েছে, দেশ, কাল, সময় থেকে শুরু করে প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারার কারণে।
নির্মাতাদের কাছে জানা যায়, সাফা সেসব হাতে গোনা অভিনেত্রীদের একজন, যে স্বভাবে নরম কিন্তু ভীষণ সাহসী। দেশ-বিদেশ, শহর-গ্রাম যেখানেই কাজ করুন, সেখানকার মানুষজন, পরিবেশ-পরিস্থিতি, আবহাওয়া সবকিছুর সঙ্গে দারুণভাবে মিশে যেতে পারেন। প্রতিটি কাজ পরিকল্পিতভাবে শেষ করার জন্য সবসময় নিবেদিত থাকেন। পরিণত শিল্পী হয়ে ওঠার সবরকম চেষ্টা চোখে পড়ে তাঁর বেলায়। তাই সাফা জনপ্রিয় তারকাদের তালিকায় থেকেও নিজেকে আলাদাভাবে চেনাতে পেরেছেন। সেই সুবাদে দর্শকও তাঁকে প্রতিনিয়ত নতুনরূপে আবিষ্কারের সুযোগ পাচ্ছেন।
নির্মাতারা যখন কোনো শিল্পীর প্রশংসায় মেতে ওঠেন, তখন ধরে নেওয়া যেতেই পারে, সেই শিল্পী কাজগুলো দর্শককে বিমুখ করবে না। সাফা কবিরের বেলায় এই কথা কতটা সত্যি, তার প্রমাণ বহুবার মিলেছে। হয়তো সে সাফা যখন কোনো কাজ শেষ করেন, তখন তা নিয়ে দর্শক কৌতূহল থাকে চোখে পড়ার মতো। এই যেমন সদ্য মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন ওয়েব সিনেমা ‘চা গরম’; যার প্রথম ঝলক দেখার পর থেকে দর্শকরা আলোচনায় মেতে উঠেছেন। আর সিনেমাটি প্রকাশের পর তো রীতিমতো প্রশংসায় ভাবছেন অভিনেত্রী। তবে সাফা এই কাজটি শুধু গল্প ও চরিত্র ভালো লাগার কারণে বেছে নেননি; নিয়েছেন নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্তের কাহিনি উপস্থাপনের মুনশিয়ানার জন্য।

এই অভিনেত্রীর কথায়, শঙ্খ দাশগুপ্ত সেই নির্মাতাদের একজন যিনি, সবসময় ভিন্ন ধরনের গল্প বলেন এবং তাঁর কাজের মধ্যে একটা স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। তাই যখনই এই নির্মাতার সঙ্গে কাজের প্রস্তাব এসেছে, শত ব্যস্ততার মাঝেও তা লুফে নিয়েছেন।
তাঁর ভালো লাগার আরেকটি বিষয় হলো, ‘চা গরম’-এর গল্প; যা দারুণভাবে মনকে নাড়া দেয়। চা-শ্রমিকদের জীবনে এখনও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব প্রকট। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা– এমন অনেক কিছুতে তারা পিছিয়ে আছেন। তারচেয়ে নির্মম সত্যি হলো, দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পরও তাদের পারিশ্রমিক এত অল্প যে, তা দিয়ে কীভাবে জীবনযাপন করা যায়– সেটাই বিস্ময়কর। আর করুণ সত্যি যে গল্প তুলে ধরা হয়েছে, তা পর্দায় তুলে ধরার জন্য একরকম মরিয়া ছিলেন এই অভিনেত্রী। তাই ‘চা গরম’ অভিনয় ক্যারিয়ারের স্মরণীয় একটি কাজ হয়ে থাকবে বলেই বিশ্বাস করেন সাফা।











































