ঢাকা অফিস।।
জ্বালানি সংকটের কারণ দেখিয়ে বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত করায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপির এমপি আখতার হোসেন।
তিনি বলেছেন, ’সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই। আবার জ্বালানি সংকট দেখিয়ে নির্বাচন বন্ধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি আইন ও জ্বালানি মন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি করেন।’
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতের অন্য কারণের কথা উল্লেখ করলেও জ্বালানি সংকট নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি।
রংপুর-৪ আসনের সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ’মধ্যরাতে নোটিশ দিয়ে বার কাউন্সিল নির্বাচন পেছনো হয়েছে জ্বালানি সংকটের কারণে। অথচ আমরা যখন সংসদে জ্বালানি সংকটের কথা বলি তখন সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, জ্বালানি সংকট নেই। আবার সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সংকটের কথা বলে নির্বাচন স্থগিত করছে। মূল ইস্যুটা কী? এই জায়গাটাতে একটা সিদ্ধান্ত আসার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি জ্বালানি ও আইনমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন।’
তিনি বলেন, ’এখানে দুই ধরনের বিষয় রয়েছে। এটা একটা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। যেটার সাথে আইন মন্ত্রণালয়ের একটা সংযোগ আছে। আবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় তাদের একটা কারণ দেখিয়ে নির্বাচনটাকে স্থগিত করা হয়েছে। বিধান অনুযায়ী, তিন বছর পরপর বার কাউন্সিলের নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে যদি নির্বাচন করার মত পরিবেশ না থাকে অর্থাৎ প্যান্ডেমিক বা অকওয়ার্ড- এমন কোন ধরনের দুর্যোগ ঘটে তাহলে- সেই সময়টাতে এক বছরের জন্য একটা অ্যাডহক কমিটির বিধান রয়েছে। করোনার সময়টাতে এটা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ধরনের কোন পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করার পরে নির্বাচন না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি করা হয়। সেই কমিটি এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। এই কমিটি থেকে একটা গণতান্ত্রিক যাত্রায় উত্তরণের জন্য একটা নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল। আগামী ১৯ মে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে হঠাৎ করেই নির্বাচনকে স্থগিত ঘোষণা করা হলো।’
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ’সংসদে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আনা হয়েছে। দুইটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। প্যান্ডামিক অ্যান্ড অকওয়ার্ড। কিন্তু যুক্তিসংগত কারণ যেটা আইনের মধ্যে আছে, সেটা উল্লেখ করা হয়নি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে যাওয়ার জন্যই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই বার কাউন্সিলের নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা স্বকীয়ভাবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে টেনে বলা হলো, শুধুমাত্র একটা কারণে। কিন্তু এখানে ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিললের কাছে অনুরোধ এসেছে। তাদের ওখানে এখন নির্বাচন চলছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সমুন্নত ও নির্বিঘ্ন রাখার জন্য বা কাউন্সিলের নির্বাচনটা পেছানোর জন্য বলেছেন। বার আসোসিয়েশনের সেই অনুরোধটাও রক্ষা করেছে। ফলে এই পার্টটা কিন্তু উনি বলেননি। বার কাউন্সিল নিজস্ব মেধা প্রজ্ঞা স্বকীয়তা এবং স্বাধীনতা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কারণে সেখানে আমরা কোন হস্তক্ষেপ করিনি। আমরা চাই, উনার (এমপি আখতার হোসেন) মতোই যে, বার কাউন্সিল স্বাভাবিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাক। সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সেখানে হস্তক্ষেপের মধ্যে যাচ্ছি না।’











































