Home আন্তর্জাতিক হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের ঘোষণা ইরানের, অবরোধ চলবে- যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের ঘোষণা ইরানের, অবরোধ চলবে- যুক্তরাষ্ট্র

1

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চলাকালে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা থাকবে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এমন কথা বলেছেন।

পোস্টে আরাগচি লিখেন, ‘যুদ্ধবিরতির বাকি দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।’ তবে আরাগচি ঠিক কোন যুদ্ধবিরতির কথা বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে গত ৮ এপ্রিল, শেষ হবে ২২ এপ্রিল। এছাড়া, আজ শুক্রবার থেকে লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ অবরোধ চলবে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকবে। যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া শতভাগ সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ এটি বহাল থাকবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, এটি (চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া) খুব দ্রুত হওয়া উচিত।

ইউরোপে বৈঠক
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত শেষে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে চায় ইউরোপ। সেখানে একটি বহুজাতিক বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করতে ফ্রান্সে জড়ো হয়েছেন কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান। ইউরোপের নেতাদের আশঙ্কা, জলপথটিতে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যাভাব এবং জেট ফুয়েলের সংকট বাড়বে।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই বৈঠক শুরু হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বৈঠকে অনলাইনে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, নেতারা নৌ-চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার দাবি এবং অবরোধের অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে আলোচনা করবেন।

ওই আমন্ত্রণ পত্রে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে একটি প্রতিরক্ষামূলক বহুজাতিক সামরিক মিশন মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।’

এই বাহিনী কেবল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই মোতায়েন করা হবে। প্রধান কাজগুলোর মধ্যে থাকবে সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ এবং প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছে থেকে টোল আদায় বন্ধ নিশ্চিত করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরাসি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা সফল করতে মিত্রদের দুটি বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। প্রথমত, ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে যে তারা যাতায়াতকারী জাহাজে গুলি চালাবে না। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে যে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের প্রবেশ বা প্রস্থানে বাধা দেবে না।

প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদের ওই বৈঠকে সরাসরি ও অনলাইনে বিভিন্ন দেশের ৩০ নেতা অংশ নিয়েছেন।