বিশ্বে অধিকারবঞ্চিত, শোষিত, নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে যুগে যুগে আবির্ভূত হয়েছেন বহু মহামানব। শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, জেল-নির্যাতন মোকাবেলা করে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাদের অনেককে। ২৩ বছর পাকিস্তানের জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে, বারবার মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে অধিকারবঞ্চিত বাঙালীর স্বাধীনতা এনেছিলেন বাঙালীর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন মানবদরদী নেতা। সারাবিশ্বে তাঁর পরিচিতি ছিল শোষিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে। তাঁর কন্যা এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। চার চারবারের প্রধানমন্ত্রী। মানবিক মনোভাবের কারণে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এখন বিশ্বে একটি বহুল আলোচিত নাম। তার নামের আগে পরে কোন বিশেষণ যোগ করার দরকার হয় না। এক কঠিন সংগ্রামের পথ বেয়ে তিনি আজ স্বপ্রতিভায় স্বমহিমায় বিকশিত। পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ৩৯ বছর ধরে একটানা দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকা, পরপর চারবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এবং এখনও প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা সত্যিই গর্বিত হওয়ার মতো। পিতার মতো দুর্জয় সাহস নিয়ে দেশের রাজনীতি ও জনগণের পক্ষে নিজের সুদৃঢ় অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন, জীবনের সমূহ ঝুঁকি নিয়ে এখনও এগিয়ে চলেছেন।
তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বহুবার। গ্রেনেড হামলাও হয়েছে। তবে বেঁচে গেছেন তিনি অলৌকিকভাবে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় ঘাতকের ঘৃণ্য তৎপরতা সফল হয়নি। তার চারদিকে এখনও পরাক্রান্ত বহু শত্রু। যুদ্ধের ময়দানে একাই লড়ছেন মাথা উঁচু করে। সাম্রাজ্যবাদের কাছে নত হওয়া, স্বৈরাচারের কাছে আত্মসমর্পণ এবং দেশ ও জনগণের বিপদের মুহূর্তে দেশত্যাগ বা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার কোন ঘটনা নেই তার জীবনে। তাই তো ভূগোলের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বিশ্ব ভাবনাকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত জানাতেও পিছপা হন না। বিশ্বজুড়ে জঙ্গীবাদ, দ্বন্দ্ব, হানাহানি, সংঘাত-সংঘর্ষ, বারুদের বিস্ফোরণের বিপরীতে শান্তির বার্তা তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে যে জঙ্গীবাদের বিস্তার তার নির্মূলে তিনি সোচ্চার। দেশের সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের তিনি দমন করছেন। সাহসের সঙ্গে। শেখ হাসিনা আজ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের জন্য রোল মডেল।
তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন প্রায় ২০০০ ডলারের বেশি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, বিদ্যুত, যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে দ্রুত পরিবর্তন। অর্থনৈতিক সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ধাপে ধাপে পূরণ হয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও রূপকল্প ২০২১-এর সকল কর্মসূচী। দারিদ্র্য হ্রাস, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ- এসব কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে বিশেষ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট. মেট্রোরেলসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান হচ্ছে আমূল পরিবর্তন। শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে অসাধারণ অবদানের জন্য অর্জন করেছেন ৩৭টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে হয়েছেন মাদার অব হিউম্যানিটি- মানবতার জননী।
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিন। আজ তিনি ৭৪ বছরে পদার্পণ করলেন। শেখ হাসিনার মধ্যে সহজ-সরল মহত্ত্ব রয়েছে, যা সকলের শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা আকর্ষণ করে। নানা ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে জাগ্রত তিনি। সমগ্র জাতিকে নিষ্ক্রিয়তা, নির্জীবতা, বিমূঢ়তা থেকে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘ লড়াই তিনি অব্যাহত রেখেছেন। সংগঠক হিসেবে নিজ দল এবং দেশকে করে তুলেছেন গতিশীল। তিনি বাঙালীর প্রতীক এবং পুরো দেশের প্রতিনিধি। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির অগ্রসরতার মূল নায়ক শেখ হাসিনা বিশ্ব রাষ্ট্রনায়ক অভিধার দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাবেন- জন্মদিনে এই প্রত্যাশা।










































