Home স্বাস্থ্য বিড়ালের আঁচড়ে কি ক্ষতি হতে পারে, চিকিৎসকের পরামর্শ

বিড়ালের আঁচড়ে কি ক্ষতি হতে পারে, চিকিৎসকের পরামর্শ

30

মিলি রহমান।।


প্রতিদিন কত মানুষ যে পোষা বিড়ালের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে থাকেন, তার হিসেব নেই। তাদের কোমল পায়ের স্পর্শ কিংবা নরম গায়ে মুখ গুঁজে আদর করা যেন এক অনাবিল প্রশান্তি। এই আদরের বিড়ালের আঁচড় থেকেও শরীরে বাসা বাঁধতে পারে এক মারাত্মক সংক্রমণ। সেই সংক্রমণের নাম ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ (সিএসডি)। এটি একটি জুনোটিক ইনফেকশন, যা মূলত ছড়ায় বার্টোনেলা হেনসেলিনামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে। সাধারণত সংক্রমিত বিড়ালের আঁচড়, কামড় অথবা তাদের লালার সংস্পর্শে এলেই এই রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।


যেভাবে চিনবেন এই রোগ: স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. পি এন রেনজেন জানান, ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজের সাধারণ উপসর্গ হলো:

>আঁচড়ের আশেপাশে লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া
>জ্বর
>দুর্বলতা বা ক্লান্তিভাব
>তবে ভয়াবহ দিক হলো, বিরল কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যাধি মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যা এনসেফালোপ্যাথি নামে পরিচিত। তখন রোগীর মধ্যে বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, তীব্র মাথাব্যথা, এমনকি স্মৃতিভ্রংশের লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

যেভাবে প্রভাব ফেলে মস্তিষ্কে: অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগ নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে মস্তিষ্কে সংক্রমণ হলে তা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। ডা. রেনজেন বলেন, ব্যাকটেরিয়া যদি ব্রেইন টিস্যুতে প্রভাব ফেলে, তবে মানসিক ভারসাম্য হারানো, স্নায়বিক সমস্যা এবং জটিলতা দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়।

প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল, যেমন—এইডস রোগী, ক্যানসার চিকিৎসাধীন রোগী কিংবা বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। তাই কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মেনে চলা জরুরি:

বিড়ালের সঙ্গে রাফ খেলা এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে বাচ্চা বিড়ালের সঙ্গে, কারণ তারা এই ব্যাকটেরিয়া বহন করার সম্ভাবনা বেশি।
সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন বিড়াল ছোঁয়ার পর এবং আঁচড় বা কামড় পেলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করুন।
পোষা বিড়ালের শরীরে পোকা-মাকড় (যেমন ফ্লি বা উকুন) নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কারণ এগুলোর মাধ্যমেই ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন: যদি বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের কয়েক দিনের মধ্যে জ্বর, গ্লান্ড ফুলে যাওয়া বা স্নায়বিক সমস্যা দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে রক্তপরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে এবং উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

পোষা বিড়াল আমাদের জীবনের সঙ্গী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তাদের ভালোবাসার মাঝেও থাকতে পারে রোগের ঝুঁকি। তাই যত্ন আর সচেতনতাই হতে পারে এই রোগ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। ডা. রেনজেন-এর ভাষায়, সময়মতো সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করলেই ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য।

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস