Home Lead খুলনা নগরীতে পুর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ক্যাপটেন শাহাদাৎ গুলিতে নিহত

খুলনা নগরীতে পুর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ক্যাপটেন শাহাদাৎ গুলিতে নিহত

808

।।স্টাফ রিপোর্টার।।

সঙ্গীতা হলের সামনে দোকানে ঢুকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে পুর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল জনযুদ্ধে)-এর আঞ্চলিক প্রধান শাহাদাৎ হোসেন ওরফে ক্যাপটেন শাহাদাৎ । তিনি ক্যাপটেন শাহাদাৎ নামে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ সাড়ে ২২ বছর কারাভোটের পর কয়েক মাস পুর্বে খুলনা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন সঙ্গীতা হলের সামনে একটি দোকানের ভিতরে অবস্থান করছিলেন শাহাদাত। হঠাৎ মুখোশ পরা কয়েকজন দুর্বৃত্ত দোকানে ঢুকে তাকে কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শাহাদাতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল এবং তিনি একটি চরমপন্থী সংগঠনের সক্রিয় নেতা ছিলেন। ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

অপর এক সুত্র জানিয়েছেন অাওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইমাম, শেখ পাড়ায় ২জন পুলিশ হত্যা , ২০০৩ সালে নগরীর খলিল চেম্বারের সামনে আশরাফ দারোগা হত্যা, খালিশপুরের পাটকল থেকে ১৯ রাইফেল লুট মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িত শাহাদাৎ সম্প্রতি খুলনা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেছেন। তিনি ঢাকায় এম-১৬ রাইফেলসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা ছিলো।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম শাহাদাত চরমপন্থী দলের নেতা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হন।

আজ রাত পৌনে ৮টার দিকে সংগীতা সিনেমা হলের বিপরীত দিক থেকে কয়েকজন যুবক তাঁকে ধাওয়া করেন। জীবন বাঁচাতে তিনি সংগীতা সিনেমা হলের নিচে শফি টায়ারের দোকানে আশ্রয় নেন। সেখানে গিয়েও তাঁর শেষরক্ষা হয়নি। সন্ত্রাসীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। এ সময় ৬টি গুলি তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয়। এ ছাড়া তাঁর শরীরে ৮টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, নিহত শাহাদাত ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গাউসুল আজম গাউসের চাচাতো ভাই।