Home খেলাধুলা রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ভারতের জয়, সিরিজ সমতায় শেষ গিল-সিরাজদের

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ভারতের জয়, সিরিজ সমতায় শেষ গিল-সিরাজদের

14


স্পোর্টস ডেস্ক

মোহাম্মদ সিরাজের ইয়র্কার লেংথের বল কোনোভাবেই খেলতে পারেননি গাস অ্যাটকিনসন। স্টাম্প ছিটকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্টাইলেই—‘সিইইউ’ উদযাপন করেন সিরাজ। যেখানে আগের দিন হ্যারি ব্রুকের সহজ ক্যাচ নিয়েও বাউন্ডারি লাইনে পা ঠেকিয়ে দুঃখের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। তবে ওভালের শেষ দিনে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দিয়ে যেন সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্তই করলেন এই পেসার।

উত্তেজনায় ঠাসা অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির পঞ্চম ও শেষ টেস্টে মাত্র ৬ রানে জয় তুলে নেয় ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শেষ হয় ২-২ সমতায়। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল শুভমান গিলের দল।

শেষ ইনিংসে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রায় জয়ের কাছেই পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ভারতের বোলাররা চরম মুহূর্তে ধরে রাখেন স্নায়ুচাপ। সিরাজের দুর্দান্ত ইয়র্কারে ম্যাচের শেষ টানেন তিনি নিজেই।

সিরাজ শেষ দিনে তুলে নিলেন তিন উইকেট, ইনিংসে তার মোট শিকার পাঁচটি। ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হলেন মোহাম্মদ সিরাজ। পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সবকটিতে খেলে সবচেয়ে বেশি ২৩ উইকেট শিকার করে সিরিজের সেরা বোলারও তিনিই।

যেখানে সিরাজ মূল নায়ক, সেখানে পার্শ্ব চরিত্রে দারুণ অবদান রাখলেন পেসার প্রাসিধ কৃষ্ণ। দুই ইনিংসে চারটি করে মোট ৮ উইকেট নিয়ে জয়ের পথে বড় ভূমিকা রাখেন তিনিও।

শেষ দিনের শুরুটা ইংল্যান্ডের জন্য আশাজাগানিয়া ছিল। প্রথম বলেই প্রাসিধকে পুল করে চার মারেন জেমি ওভারটন। পরের বল ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটকিপারের পাশ দিয়ে যায় বাউন্ডারিতে।

তবে সিরাজ দ্রুত ছন্দ খুঁজে নেন। পরের ওভারে জেমি স্মিথকে কট বিহাইন্ডে ফেরান তিনি। এক বল পরই অ্যাটকিনসনের ব্যাট ছুঁয়ে যাওয়া বল অল্পের জন্য স্লিপে রাহুলের হাতে জমা পড়েনি।

কিন্তু নিজের পরের ওভারে ওভারটনকে এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়ে দেন সিরাজ। এরপর প্রাসিধের এক বলে আম্পায়ার জশ টংকে এলবিডব্লিউ দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান টং—রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্টাম্প মিস করত। তবে সেই বাঁচা ছিল সাময়িক, পরের ওভারে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান তিনি।

ইংল্যান্ড তখনও জয় থেকে ১৭ রান দূরে। চোট পাওয়া বাঁ হাত সোয়েটারের নিচে ঢেকে, অন্য হাতে ব্যাট নিয়ে মাঠে নামেন ক্রিস ওকস। দর্শকরা ততক্ষণে গর্জে উঠেছেন।

অ্যাটকিনসন ছক্কায় সিরাজকে ওড়ান, স্ট্রাইক ধরে রাখেন ও রান টানেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পরের ওভারে সিরাজের প্রথম বলেই তার স্টাম্প ছিটকে যায়। ২৯ বলে ১৭ রান করে শেষ ব্যাটার হিসেবে বিদায় নেন তিনি। ওকসের ব্যাটে বলই লাগেনি—ম্যাচ শেষ।

আগের দিনই অবশ্য একসময় মনে হচ্ছিল জয় খুব সহজেই তুলে নেবে ইংল্যান্ড। সিরাজের হাত ফসকে হ্যারি ব্রুক জীবন পেয়েছিলেন ১৯ রানে, সেখান থেকে খেলেন ১১১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। এরপর জো রুটের আরেকটি সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের মাত্র ৪২ রানের দূরত্বে পৌঁছে যায়।

তখনই হাল ধরে ভারত। প্রাসিধ কৃষ্ণ এক ওভারে জ্যাকব বেথেল ও জো রুটকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরান ভারতকে।

আবহাওয়ার বাধায় আলো ও বৃষ্টির কারণে ম্যাচ গড়ায় পঞ্চম দিনে। আর সেখানে নাটকীয় এক জয়ে সিরিজ সমতায় শেষ করে সফরকারী ভারত।

রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অবসরের পর প্রথমবার টেস্ট অধিনায়কত্ব পেলেন শুবমান গিল। আর তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ছাপ রাখলেন দারুণভাবে। ব্যাট হাতে চারটি সেঞ্চুরি করে সিরিজের সর্বোচ্চ ৭৫৪ রান করেন গিল—যেটি এখন ভারতীয়দের মধ্যে এক টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

রোমাঞ্চে ঠাসা এই সিরিজ শেষ হলো ২–২ সমতায়, কিন্তু ভারতের জন্য এটি ছিল এক নবযাত্রার সাহসী ও সাফল্যময় সূচনা।