Home Lead খুলনা ঘুরে গেলেন যুবলীগ ক্যাডার কালা শওকত

খুলনা ঘুরে গেলেন যুবলীগ ক্যাডার কালা শওকত

1158


রানা কবীর।।
দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি খুলনা ঘুরে গেলেন পতিত হাসিনা সরকারের আমলে খুলনার অপ্রতিরোধ্য সন্ত্রাসী শওকত হোসেন ওরফে কালা শওকত। জানাগেছে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর খোঁজ খবর নিতে তিনি গেল সপ্তাহে খুলনায় এসেছিলেন। অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে খুলনায় এসে তিনি তার নির্মানাধীন হায়াত বিল্ডার্সের ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে কাজ শেষে আবারো ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছেন।


দায়িত্বশীল সুত্র আরো জানিয়েছেন, নির্মানাধীন হায়াত বিল্ডার্সের ভাড়াচুক্তি ও কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয় চুড়ান্ত করেছেন ইতমধ্যে। কেডিএ এ্যাভিনিউ ও মজিদ স্মরণীতে নির্মানাধীন হায়াত বিল্ডসের কয়েকটি ফ্ল্যাট ও তার নিজের ক্রয়কৃত জমি বিক্রয়ের জন্য আগামী সপ্তাহের যেকোন সময়ে আবারো খুলনায় আসবেন এবং কমিশন দলিলের মাধ্যমে বিক্রি সম্পাদন করবেন। সুত্র আরো জানিয়েছেন, শেখ সোহেলের অত্যান্ত বিশ্বস্ত শওকত বটিয়াঘাটায় শেখ সোহেল ও শেখ রুবেলের জমি বিক্রয়ের ব্যাপারেও আলোচনা করে গেছেন। তবে কি আলোচনা করেছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।


তবে হাসিনা সরকারের পতনের পরে ১১মাস অতিবাহিত হলেও শীর্ষ কোন আওয়ামী সন্ত্রাসী গ্রেফতার না হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে সচেতন নগরবাসির মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। কালা শওকত হাসিনা সরকারের আমলে শেখ বাড়ির আর্শিবাদ নিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজির মাধ্যম কোটি কোটি টাকার মালিক বনেছেন। বিগত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের সাথে সাথে শওকত হোসেন আত্মগোপনে চলে যায়। চাউর আছে ২০১৪ সালে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন গম আত্মসাতের মাধ্যমে আলোচনায় আসে নগরীর ২৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শওকত হোসেন ওরফে কালা শওকত।


পশ্চিম বানিয়াখামার বিহারী কলোনীর মোড়ের বাসিন্দা পেশায় দর্জি মৃত আব্দুল আলিমের পুত্র শওকত। ২০০৯ সালে নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক পদ পেয়ে বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে দুইটি একতলা বাড়ি, একটি চারতলা বাড়ি, বটিয়াঘাটা উপজেলাধীন হেতালবুনিয়া এলাকায় ২০বিঘা জমির ওপর বাগানবাড়ি, দুইটি কার্গো জাহাজ, দুটি প্রাইভেটকার, একটি জীব গাড়ি, ঢাকাস্থ বনানী মিরপুর গুলশানে তিনটি ফ্লাটে মালিক হয়েছেন।


২০১৪ সালের ০৫ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান মেরিটস ফায়ার এন্ড মেরিন ইন্সুরেন্স কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারকে বিনামূল্যে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন গম (যা ওই সময়ের বাজার মূল্য ৯০ কোটি টাকা) প্রদান করে। উক্ত গম শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাত মালিকানাধীন শিপিং এজেন্ট ও তার গুদাম চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে খালাসের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উক্ত গম খালাস এর ব্যাপারে উচ্চ আদালতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাত সুকৌশলে অবৈধভাবে উক্ত গম বিক্রি করেন। সে ঘটনায় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো পত্রিকায় ২০১৭ সালের ০৮ আগস্ট প্রতিবেদন প্রকাশ হলে দুদকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে গম চুরির ঘটনায় শিপিং এজেন্ট ও গুদামের মালিক শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাতসহ ০৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়।


পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি চুরির মূলহোতা শওকাত হোসেন পুলিশকে বড় অংকের উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতেন। শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাত গত ২০০৯ সালে খুলনা মহানগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী সময়ে তিনি স্থানীয় এলাকায় মাদক ব্যবসায়, টেন্ডার বাজি, চাঁদাবাজি এবং চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে গ্রহণযোগ্য অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ সোহেল এর নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সড়ক বিভাগ, এলজিইডি, গণপূর্ত বিভাগে টেন্ডারবাজি করার অনেক অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা সুত্রের দাবি শওকত বাহিনীর কাছে ০৪টি বন্দুক এবং পিস্তলসহ প্রায় ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এছাড়া শওকাতের আপন মেজো ভাই কালা রিপন ময়লাপোতা মোড়ে সন্ধ্যাবাজারের বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি জোরপূর্বক দোকান দখল করে সে বর্তমান ০৮টি দোকান ও পাওয়ার হাউজ মোড় এলাকায় খান পেট্রোল পাম্প এর মালিক হয়েছিলেন।


শওকাতের বড় ভাই মোরশেদ আহমেদ টুটুল ২০১৫ সালের ২৫ জুন শেখ সোহেল এর মাধ্যমে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সদস্য হন। ইতিপূর্বে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং বিএনপির সকল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনিও টেন্ডারবাজি, জবরদখল, চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিত্তশালী হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।