ঢাকা অফিস।।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে বিএনপি আশার আলো দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আশা রাখছি সামনের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটা নির্বাচন হবে।’ গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করেছে। নিঃসন্দেহে তারা ইতোমধ্যে অনেক ভালো কাজ করছে। আমাদেরকে পথ দেখাচ্ছে। লন্ডন বৈঠকের আগে এবং পরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশ্বস্ত হচ্ছি যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে। তার মাধ্যমে আমাদের আশাগুলো কিছুটা হলেও পূরণ করার সুযোগ হবে। আশা করব, আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো, ফ্যাসিবাদবিরোধী আমরা সবাই একজোট হয়ে একসঙ্গে তাদেরকে সহযোগিতা করব। আমাদের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারব।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে বেশ কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হচ্ছে, একটা গুরুত্বপূর্ণ দল সম্ভবত কাল (আজ রবিবার) নিবন্ধনের জন্য নির্বাচিন কমিশনে যাবেন। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছি। তাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা প্রত্যাশা করি, এই তরুণরা, এই নবীনরা যারা বিগত আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন; সেই নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে কাক্সিক্ষত সেই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।
সংস্কার বিষয়ে ফখরুল বলেন, কতগুলো বিষয়ে একমত হয়েছি, কতগুলো বিষয়ে একমত হচ্ছি না। যতগুলো বিষয়ে একমত হওয়া যাবে, সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করব। যেগুলোতে একমত হবে না, নির্বাচনের পরে সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করব, ওই বিষয়গুলোতে আমরা একমত হব।
গণ-অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, জনগণের এই সংগ্রাম প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছে। নতুন করে আমরা জনগণকে একটা স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হয়েছি যে, বাংলাদেশে আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব, একটা গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করব। এটা ছিল জনগণের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই বছরের মধ্যে সুইস ব্যাংকে অনেক টাকা জমা হয়েছে। আমি জানি না এই টাকাগুলো কাদের, কবে কিভাবে জমা হয়েছে। এই সংবাদটা দেখলেই প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের মনে হবে, তা হলে কি কোনো পরিবর্তন হয়নি? এটা ফ্যাসিস্ট আমলে হয়েছে। আরেকটা প্রমাণ হয়েছে, তারা কী পরিমাণ লুটপাট করেছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।











































