Home Lead স্বামীর মরদেহের বুকে লিখা ‘সরি জান আই লাভ ইউ’, পাশেই স্ত্রীর নিথর...

স্বামীর মরদেহের বুকে লিখা ‘সরি জান আই লাভ ইউ’, পাশেই স্ত্রীর নিথর দেহ

56

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ভাড়া বাসা থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাসার এক ঘরে পড়ে থাকা স্বামীর মরদেহের পেটের ওপর লেখা ‘সরি জান আই লাভ ইউ’। আরেক ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় স্ত্রীর মরদেহ পাওয়া যায়। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার ওয়ারিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।


প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্বজনেরা ধারণা করছেন, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় স্বামী আবুল কালাম আজাদকে (৪৫) হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী নাজমিন নাহার (৩৫)।

আবুল কালামের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তবে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমিন নাহারকে নিয়ে সদর উপজেলার ওয়ারিয়া গ্রামে মোহন পালের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বাজারের একজন কাপড় ব্যবসায়ী। তার বড় স্ত্রী শারমিন খাতুন দুই সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

স্থানীয় প্রতিবেশী আবুল জানান, ঘটনা স্থলে গিয়ে কয়েকটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি সব কিছু শেষ করে দিলাম। আমি ২টা ৩১ মিনিটে মারছি, এবার আমিও মরছি। একা হলেও বাঁচবো না, কারণ শারমিন ও তার পরিবার আমাকে শেষ করে দেবে। তাই আমরা দুইজন মরে গেলাম। এবার তোমরা সংসার করো, ভালো করে। আর কেউ বিরক্ত করবে না। আমার ছেলে কষ্ট পাবে, তারপরও কালামের জন্য আমি সবাইকে কষ্ট দিলাম। তবুও সে আমাকে কষ্ট দিল, শয়তান একটা।’

কালামের ভাই গোলাম মোস্তফা জানান, তার ভাই কালামের দুইটি স্ত্রী ছিল। বড় স্ত্রী কলারোয়াতে থাকে। সেখানে দুই সন্তান রয়েছে। ছোট স্ত্রী নাজমিনের সঙ্গে বিয়ের পর সংসার চলাকালীন ডিভোর্স হয়ে যায়। এর মধ্যে নাজমিনের আরেক জায়গায় বিয়ে হয়। সেখানে নাজমিনের একটি ছেলে হয়। সম্প্রতি কালাম নাজমিনের সঙ্গে ফের যোগাযোগ শুরু করে এবং তারা পালপাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। হঠাৎ আজ তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি (অপারেশন) সুশান্ত ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- স্বামীকে মেরে স্ত্রী রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তদন্ত ছাড়া কোনো কিছু বলা সম্ভব না। আমরা প্রায় সব আলামত সংগ্রহ করেছি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানা থেকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।