Home আঞ্চলিক চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে স্ট্রবেরি

চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে স্ট্রবেরি

7

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।।


স্ট্রবেরি ফল বিদেশি হলেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে সফলতা পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গার কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ। অপ্রচলিত ও উচ্চ মূল্যের ফল হওয়ায় লাভজনক চাষে পরিণত হয়েছে স্ট্রবেরি।
অপ্রচলিত ও উচ্চ মূল্যের ফল হওয়ায় লাভজনক চাষে পরিণত হয়েছে স্ট্রবেরি। ছবি: সময় সংবাদ

ফুল আর কাঁচা-পাঁকা ফলে ভরে গেছে ছোট ছোট গাছগুলো। এ চাষ অনেক সহজ। স্ট্রবেরি পুষ্টি সমৃদ্ধ ফল হওয়ায় দেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের আবহওয়ায় স্ট্রবেরি চাষ সম্ভব হয়েছে। চাষে খরচও তুলনা মূলক কম।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ বাণিজ্যিক ভাবে স্ট্রবেরি চাষ করছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয় গাছগুলো। ৬ বিঘা জমিতে ৪০ হাজার স্ট্রবেরির চারা রোপণ করেন।

জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। কিছু দিনপর গাছে ফল আসতে শুরু করে। সাদা ফুল, সবুজ কাঁচা ফল আর পাঁকা লাল স্ট্রবেরি ফল গাছে শোভা পাচ্ছে। জানুয়ারি মাসের শেষের দিক থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যাবে। প্রতি কেজি ফল বিক্রি হচ্ছে বাজারে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ টাকায়। ঢাকার ও খুলনার ফল মার্কেটে স্ট্রবেরি ফল বিক্রির জন্য পাঠানো হয়।

প্রতি বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষে খরচ হয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে স্ট্রবেরি চাষে। প্রতিদিন ২৫-৩৫ কেজি ফল উত্তোলন হচ্ছে। উদ্যোক্তাসহ অন্যরা বাগান দেখতে ছুটে আসছেন। ৫০ হাজার স্ট্রবেরি গাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার কেজি ফল উৎপাদন হবে।

স্থানীয়রা জানান, বিদেশি ফল হলেও দেশের মাটিতে চাষ সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয় ভাবে এ চাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ ফলটি চাহিদা বাড়বে। বাজারে দাম ভাল। বাজার তৈরি করতে পারলে সফলতা পাওয়া যাবে। এ ফলের আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে। কৃষি বিভাগকে উদ্যোগ নিতে হবে।

কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ বলেন, চারটি জাতের স্ট্রবেরি চাষ করছি এবার। গাছ গুলো অনেক ভাল হয়েছে। ফুল আর ফলে ভরে রয়েছে। হারভেস্ট শুরু হয়েছে। বাজারে চাহিদা রয়েছে। দাম ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি। নতুনরাও এ চাষ করতে পারে। অন্য ফসল চাষের চেয়ে স্ট্রবেরি চাষ সহজ।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, জীবননগরে কয়েক জন কৃষক উচ্চ মূল্যের কিছ‚ বিদেশি ফসল চাষ করেন। এ ফলের বাজার তৈরি করাই এখন চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। দেশের অন্য জেলায় ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।