স্পোর্টস ডেস্ক।।
দলের জয়ের জন্য দরকার ২ রান। তবে সেঞ্চুরি করতে বিরাট কোহলির প্রয়োজন ৪ রান! সমীকরণটা যখন এমন তখন ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন কিং কোহলি। খুশদিল শাহকে ৪ হাঁকিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছালেন। সেইসঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল ভারত। অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচ হেরে আসর থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পাকিস্তান।
আজ রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে খেলতে নামে দুদল। বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়। যেখানে প্রথমে ব্যাট করা পাকিস্তান সৌদ শাকিলের ফিফটিতে ভর করে ২৪১ রানের পুঁজি পায়। জবাবে ব্যাট করা ভারত ৪ উইকেট হারিয়ে ও ৪৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
২৪২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারতের সাবেক দুই ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার ও মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে দুটি ভিন্ন রেকর্ডে ছাড়িয়ে যান কোহলি।
ক্যাচ ধরার রেকর্ড গড়ে আজহারউদ্দিনকে ছাড়িয়েছেন কোহলি। পাকিস্তান ইনিংসের সময়েই রেকর্ডটি হয়ে যায় তার। ম্যাচে দুইটি ক্যাচ ধরা কোহলির ওয়ানডেতে এখন ক্যাচ ১৫৮টি। দুইয়ে থাকা আজহারউদ্দিনের ক্যাচ সংখ্যা ১৫৬টি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শচীনকে ছাড়ান কোহলি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে শচীন ও শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারার পর এদিন ১৪ হাজার রান পূর্ণ করেন কোহলি। তবে একটি দিক দিয়ে দুই পূর্বসূরীকে ছাড়িয়ে গেছেন ভারতের এই ব্যাটার। তাদের চেয়ে দ্রুতগতিতে এই ক্লাবে পৌঁছেছেন তিনি।
কোহলি ১৪ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন মাত্র ২৮৭ ইনিংসে। যেখানে শচীনের লেগেছিল ৩৫০ ইনিংস। ২০১৫ সালে ১৪ হাজার পূর্ণ করা সাঙ্গাকারার লেগেছিল ৩৭৮ ইনিংস। এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ১৩ হাজার রান পূর্ন করেছিলেন কোহলি। সেটি করতে লেগেছিল তার ২৭৭ ইনিংস। অর্থাৎ, মাত্র ১০ ইনিংস পরই রানসংখ্যা হাজার বাড়িয়েছেন তিনি।
শেষ পযন্ত কোহলি ১১১ বলে ৭টি চারে বরাবর ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫২তম সেঞ্চুরি। এছাড়া শ্রেয়াস আইয়ার ৬৭ বলে ৫৬ ও শুভমান গিল ৫২ বলে ৪৬ রান করেছেন।
পাকিস্তান বোলারদের মধ্যে শাহিন শাহ আফ্রিদি ২টি উইকেট পান।
এর আগে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সব শটে ইতিবাচক শুরু এনে দেন বাবর আজম। নিখুঁত সব কভার ড্রাইভ ও ফ্লিকে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন তিনি। তবে দলীয় নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছন্দপতন ঘটে তার। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শেষ হয় তার ২৬ বলে ২৩ রানের ইনিংস। পরের ওভারে আউট হয়ে যান ফখর জামানের পরিবর্তে স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়া ইমাম-উল-হকও। এই ওপেনারের ব্যাট থেকে ২৬ বলে আসে মাত্র
দুই ওপেনারের আউটের পর সতর্ক হয়ে যায় পাকিস্তান। ধীরগতিতে খেলতে থাকেন অধিনায়ক রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল। ২৬তম ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলীয় শতরান পূর্ণ করেন শাকিল। শতরান পার করার পর অবশ্য কিছুটা আক্রমণাত্মক হন এই দুজন। ১০২ রানের জুটি গড়ার পর থামেন রিজওয়ান। ৪৬ রান করতে তিনি ব্যয় করেন ৭৭ বল। ১৫১ রানে তৃতীয় উইকেট হারানো পাকিস্তান দুই শ রান করতে হারায় ৭ উইকেট।
কোনো ক্রিকেটারই দলের হয়ে বড় প্রভাব রাখতে পারেননি। সাত নম্বরে নামা খুশদিল শাহ ৩৯ বলে ৩৮ রান না করলে আরও আগেই অলআউট হয়ে যেত আয়োজক দেশটি। ৭৬ বলে দলের সর্বোচ্চ ৬২ রান আসে শাকিলের ব্যাটে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এদিন দুর্দান্ত বল করেন হার্দিক পান্ডিয়া। ৮ ওভারে মাত্র ৩১ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন তিনি। ৩ উইকেট নেওয়া কুলদীপ যাদব ৯ ওভারে দেন ৪০ রান।











































