স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) হামলার ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতারা ছাত্রশিবির ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীদের দায়ী করেছে। তারা বলেছেন, কিছু শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত করে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারের পেছনে লুকানো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির ধারক বাহক ইসলামি ছাত্রশিবিরের গুপ্তকর্মীরা ও ক্যাম্পাসে রয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ছাত্রদল কুয়েট ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন না করলেও এসব গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের ইন্ধনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে ওই ‘মব মিছিলটি’র পূর্বে ছাত্রদলের রাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়ে ক্যাম্পাসে বিশাল ব্যানার টানানো হয়। মিছিল থেকে বিনা উস্কানিতে ছাত্রদলের সমর্থকদের উপরে হামলা চালানো হয়।
বুধবার (১ ে ফব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতার এসব দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মো: ইয়াহিয়া ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম।
ছাত্রদল নেতারা কুয়েটে সংঘটিত ঘটনাকে চরম অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত আখ্যা দিয়ে বলেন, পাল্টাপাল্টি হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন। এসব ন্যাক্কারজনক হামলা ও উস্কানিতে জড়িত যেই হোক না কেন, সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক তাদের সকলকে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনলাইন-অফ লাইনে সত্য চাপা দিয়ে ছাত্রদলের নামে যে মিথ্যা অপবাদ চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের উদ্বৃতি দিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার সূত্রপাত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি মিছিল থেকে রাহুল জাবেদ (২০২১-২২ সেশন), ইফাজ (২০২২-২৩ সেশন) ও ইউসুফ (২০২২-২৩ সেশন) নামক তিনজন ছাত্রদল সমর্থকের উপর অতর্কিত হামলার মধ্য দিয়ে। সেই মিছিল থেকেই ধারণকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যখন ভুক্তভোগী সেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে অতি সাধারণভাবেই মিছিলটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কতিপয় মিছিলকারী তাদের দিকে অতর্কিতে তেড়ে গিয়ে হামলার সূচনা করে। ভুক্তভোগীদের ধাওয়া দিয়ে ও মারধর করে কুয়েট গেটের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। গেটের কাছে একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেই দোকানদারকেও হেনস্তা করা হয়। যার জবাবে সেই দোকানমালিকের পরিচিত কিছু স্থানীয় লোকজন ওই মিছিলে সশস্ত্র হামলা চালায়। পরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া চলে, কুয়েটের গেট হয়ে উঠে এক রণক্ষেত্র।
ছাত্রদল নেতারা আরো বলেন, বৈষ্যমবিরোধী পতিত ফ্যাসিবাদ ছাত্রলীগের মতো আচরণ করছে। ছাত্রলীগও ভিন্নমতের কাউকে সহ্য করতো না। তারাও সেই একই আচরণ করছে। শুধু তাই তারা ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলছে অথচ নিজেরা রাজনীতি করছে। তারা রাজনৈতিক দল গঠন করছে। ছাত্রদল বহুত্ব বাদে বিশ্বাস করে। ক্যাম্পাসে সকল রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে। যার যেটি ভাল লাগবে তিনি সেই আর্দশ পালন করবেন। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ওঈঈচজ)-এর ধারা ১৯, ২১ ও ২২ অনুসারে রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হয়ে বাক স্বাধীনতার চর্চা ও সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করা সকল শিক্ষার্থীর স্বীকৃত অধিকার। তা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতার কারণে বর্তমানে ফ্যাসিবাদ ও দখলদারিত্বের চর্চা যখন অসম্ভব, তখন সেই ফ্যাসিবাদ ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতির ধারক-বাহক গুপ্ত ও নিষিদ্ধ সংগঠন শিবির ও ছাত্রলীগ সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত ও অবৈধ উপায়ে ক্যাম্পাসসমূহে সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশ ধরে গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি করে ক্যাম্পাসসমূহে নিজেদের অঘোষিত দখলদারিত্ব জারি রাখার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রনেতারা বলেন, কুয়েটে ছাত্রদলের কোন কমিটি নেই, শুধুমাত্র সমর্থক হওয়ায় কুয়েটে প্রথমে তিনজন ছাত্র আহত হন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্মান কোর্সের নিয়মিত শিক্ষার্থী। তাই এঘটনাকে ছাত্রদলের হামলা হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাবিবুল বাশার, সাফি ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহেদ হাসান, হাসানুর রহমান, শাহাদাত হোসেন, সোহেল রানা, নূরুজ্জামান চন্দন প্রমুখ।











































