>>বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নিজে ঠিকাদারী কাজ করার অভিযোগ
>> কমিশন নেওয়ার অভিযোগ
>> তিন প্রতিষ্ঠান ও তার ভাইয়ের ঠিকাদারী কাজের হিসাব চেয়েছে দুদক
>> তিন প্রতিষ্ঠানের বাইরেও আরো প্রতিষ্ঠানের সাথে ঠিকাদারী
>>তথ্য চাওয়া হয়েছে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও কর কমিশনারের কাছেও
স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের টিম।
তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন, খুলনা কর কমিশনার ও নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে। সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদারী কাজে কমিশন নেওয়া, অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ করা ছাড়াও উঠেছে নানা অভিযোগ। দুদক বলছে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ২০১৮ ও ২০২৩ সালে দুই বার মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন তালুকদার আব্দুল খালেক। এই দায়িত্ব পালন কালে প্রতিটি ঠিকাদারী কাজে কমিশন দিতে হতো তাকে। ২০২৪ সালে এই নিয়ে বাক-বিতণ্ডা হয় ঠিকাদারদের সাথেও।
অভিযোগ রয়েছে, অন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে নিজেই কাজ করতেন তিনি। এ কারণে অন্য সাধারণ ঠিকাদররা কাজ পেতেন না। কাজ পেতো নির্দিষ্ট ছয়টি প্রতিষ্ঠান।
মেসার্স রাজ্জাক এন্ড সন্স’র মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাবেক মেয়রের নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান প্রীতির কারনে অনেক ঠিকাদার তাদের লাইসেন্স রেনু করতেন না। তিনি নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকেই কাজ দিতেন।
মেসার্স নাদিম এন্ড ব্রাদার্স এর মালিক সৈয়দ জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, সাবেক মেয়র নিজেই একজন ঠিকাদার ছিলেন। তিনি নিজে নিজেই ঠিকাদারী কাজ করতেন অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে। এব ্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য কর্মকর্তা আর আমরা সাধারণ ঠিকাদাররা অসহায় ছিলাম।
জিসান এন্টারপ্রাইজ এর মালিক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, আমাদের কাজ করে বিল নেওয়ার সময় কমিশন দিতে হতো তাকে। পরে এই নিয়ে গত বছর ঠিকাদারদের সাথে তার একটি সভায় বাক-বিতণ্ডা হন। সে সময় তিনি বলেন, আর কমিশন নেওয়া হবে না।
এমতবস্থায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হোসেন ট্রেডার্স, আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্স, মেসার্স তাজুল এন্টারপ্রাইজ, তার ভাই ঠিকাদার এস এম ট্রেডার্স এর কাজের বিবরণ, পরিশোধিত বিলের পরিমান সহ নানা তথ্য চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি চাওয়া হয়েছে গাড়ির লগ বই ও ১৮নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজের টেণ্ডার সংক্রান্ত নথিপত্র। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, দুদকের কাছ থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারী কাজের হিসাব চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও চাওয়া হয়েছে তার ভাই ঠিকাদার এস এম ট্রেডার্স এর কাজের বিবরণ ও পরিশোধিত বিলের পরিমানও। আমরা সেগুলো একত্রিত করে তাদের দিচ্ছি। পাশাপাশি তার গাড়ির লগ বই ও ১৮নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজের বিবরণ চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দুদকের কাছ থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে আরো অনেক গুলো প্রতিষ্ঠানের হিসবা চাওয়া হতে পারে।
দুদক বলছে, দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েই খুলনা সিটি কর্পোরেশনসহ তথ্য চাওয়া হয়েছে কর অঞ্চল খুলনার সার্কেল ৩ ও নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছেও।
দুদক খুলনার উপ পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এ কারণে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত চাওয়া হয়েছে। এ গুলো পাওয়ার পর যদি আরো তথ্যের প্রয়োজন হয়, তখন সেগুলোও সংগ্রহ করা হবে।
২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী তালুকদার খালেকের সম্পদ ছিল ৪৫ লাখ টাকার। ২০২৩ সালের হলফনামায় সম্পদ দেখান সাড়ে ৯ কোটি টাকার। নগরীর কাস্টমস ঘাট এলাকায় রয়েছে তার ৬ তলা বাড়ি। তিনি তিন দফায় মেয়র ছিলেন ১১ বছর। প্রদর্শিত এই সম্পদের বাইরেও রয়েছে তার বিপুল সম্পদ। এ গুলো খুঁজে বের করে জনগনের সামনে তুলে ধরতে হবে বলছেন নাগরিক নেতারা।
এ বিষয়ে নাগরিক সমাজ সদস্য সচিব, এ্যাড. বাবুল হাওলাদার বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি বেনামে ঠিকাদারী কাজ করে আইনের ব্যাত্যয় ঘটিয়েছেন। এই ধরণের বড় মানুষদের দুর্নীতির সঠিক তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে এগুলো সমাজের দুর্নীতি বৃদ্ধিতে আরো সহায়ক হবে।
নগরবাসী বলছে, অথচ দায়িত্বকালে রাস্তার অবৈধ দোকানদারদের প্রকাশ্যে চর থাপ্পর মারা, সামান্য অনিয়মে মানুষের সাথে ত্যাক্ত বিরক্ত ব্যাবহার করে নিজেকে দুর্নীতি বিরোধী মানুষ হিসেবে প্রমাণ করতেন তিনি।











































