Home আঞ্চলিক আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা থেকেই বিএনপির সৃষ্টি : মঞ্জু

আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা থেকেই বিএনপির সৃষ্টি : মঞ্জু

5

৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনায় বিএনপির বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালন

খবর বিজ্ঞপ্তি

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র সুরক্ষা ও উৎপাদন মুূখী রাজনীতির স্লোগান দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধেও চেতনা ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার স্লোগান ছিল কর কাজ গড় দেশ ্ও উৎপাদন মূখী রাজনীতির সৈনিক হউ। ১৯ দফা অর্থনৈতিক কর্মমূখী ও স্বনির্ভও বাংলাদেশ গড়া তার স্বপ্ন ছিল। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সাম্য ও সুশাসনের বাংলাদেশ গড়াই ছিল তার লক্ষ্য। জাতীকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ বিএনপি। দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ^াসের দল বিএনপি। জিয়ার সততা, দেশপ্রেম, নিষ্ঠা, বলিষ্ঠ নেতৃত্বই তার জনপ্রিয়তা। ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায় বিচার ও সুসম বন্টনের রাজনীতি করেছেন তিনি। এক ব্যক্তি ও একদলের রাজনীতির পরিবর্তের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পূনপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

তিনি আরো বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ট্রেডইউনিয়ন অধিকার পূনপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, একটি শক্তিশালী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও প্রশাসন গড়ে তোলা, গ্রামীন অর্থনীতি ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠা, বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে পরিবেশের সুরক্ষায় অবদান রয়েছে তার। ৮১ সালে জিয়া হত্যা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ৮২ সালে স্বৈরাচার এরশাদ ক্ষমতা দখল করে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতুন মাত্রা সৃষ্টি হয় বিএনপির। ৯ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোষহীননেত্রীর সঙ্গতি গণতন্ত্রেও বিজয় এরশাদের পতন ঘটে। ৯১ সালে সরকার গঠন করে বিএনপি। ৯৭ তে আবারও গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ২০০১ সালে সরকার গঠন, এরপর বিএনপির বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ১/১১ মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন-হাসিনা ষড়যন্ত্র করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসায়।

তিনি বলেন, ১২ বছরের দূ:শাসন, গণতন্ত্র হরণ, রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, গুম-খুন, হামলা, ৯৫ হাজার মামলা, ৭০ লাখ আসামীর বোঝা মাথায় নিয়ে বিএনপি চলছে। সীমিত গণতন্ত্র ভোট ডাকাতির নির্বাচন জোর করে ক্ষমতায় থাকা, দেশনেত্রী ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বিএনপিকে নেতৃত্বশূণ্য করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে দূর্নীতির মহোৎসবের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামী দিনের পথচলার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী সংগঠন, সাহসী নেতৃত্ব ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি। এতে আমরা সফল হবো ইনশাল্লাহ। স্বাধীনতার পরবর্তী সকল হত্যাকান্ডের দায় আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগই দেশে রক্ষিবাহিনী গঠন, বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড চালু করে।

বিএনপি ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর ও জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে সূর্যোদয়ের সাথে সকল দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। মূল সড়কে তোরণ নির্মাণ, সকাল ১১ টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১ টায় বেলুন, ফেস্টুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

দোয়া অনুষ্ঠানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর আত্মার মাগফেরাত কামনা, বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থ্যতা কামনা এবং দেশের করোনা মহামারী আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুস্থ্যতা কামনা, মৃতদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশবাসীর শান্তির কামনা করা হয়।

বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মুরাদ ও ওহেদুজ্জামান রানার পরিচালনায় সভায় বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সভাপতি এসএম শফিকুল আলম মনা, নগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, বিএনপি নেতা জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মন্টু, শেখ আব্দুর রশিদ, আবু হোসেন বাবু, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, এ্যাড. মাসুদ হোসেন রনি, রেহানা আক্তার, এ্যাড. তসলিমা খাতুন ছন্দা, মুজিবর রহমান, চৌধুরী নাজমুল হুদা সাগর, শরিফুল ইসলাম বাবু। অনুষ্ঠানে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল গফ্ফার।