Home সম্পাদকীয় সাবধানের মার নেই

সাবধানের মার নেই

11

করোনাভাইরাস বিদায় নেয়নি। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং নিজের সুরক্ষা বজায়ে করণীয় কড়াকড়িভাবে পালনের আবশ্যকতা শেষ হয়ে যায়নি। এখানে বিন্দুমাত্র শিথিলতা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমরা এই সম্পাদকীয়র মাধ্যমে পাঠক তথা দেশবাসীর কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে চলার। মাস্ক পরা এবং একে অপরের থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে। তাছাড়া ঘনঘন অন্তত কুড়ি সেকেন্ড ধরে দুই হাত সাবান দিয়ে ভাল করে ধুতে হবে। এর অন্যথা হবে ভয়ঙ্কর। কেননা এখন বেশি সংখ্যক মানুষ ঘরের বাইরে যাচ্ছেন। কাজ শেষে তারাই আবার ঘরে ফিরে আসছেন নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে। তাই বাইরে যাওয়া ব্যক্তির ওপর স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়েছে অতিরিক্ত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে সামান্যতম গাফিলতি তার পুরো পরিবারকেই ফেলে দিতে পারে ভয়ঙ্কর ঝুঁকির মধ্যে। তাই নিজের ও নিজের পরিবারের কল্যাণ চাইলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালনের কোন বিকল্প নেই।

অফিস-আদালতে যথাযথভাবে স্বাস্থ্য বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা সেটি তদারকিতে যদি কোথাও শিথিলতা এসে থাকে তবে আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ, জুন মাসে সুদীর্ঘ ছুটিশেষে যে কড়াকড়িভাবে ভাইরাসের মোকাবেলা করেছেন সবাই, এখনও তেমনটাই করা উচিত। কার্যালয়ে আগত প্রতিটি কর্মী ও দর্শনার্থীর পরিহিত জুতা থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই জুতাও ভাইরাসমুক্ত করার সুবন্দোবস্ত থাকা চাই। প্রবেশদ্বারে শুধু দুই হাত ধোয়ার বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকাটাই সব নয়। যিনি প্রবেশ করছেন তিনি মাস্ক পরিহিত কিনা, তার দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক কিনা সেসব নিরীক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তথা প্রশাসনকেও সার্বক্ষণিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করায় ভূমিকা রাখতে হবে। বলাবাহুল্য, সামান্যতম শিথিলতা বা দায়িত্বে অবহেলা পুরো কার্যালয়ের সব কর্মীর জন্যই বিপদ ডেকে আনতে পারে।

করোনাভাইরাস অদৃশ্য। তাই বলে এটির অস্তিত্ব অস্বীকার করা মানে ভয়ঙ্কর নির্বুদ্ধিতা। মৃত্যু ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে করোনাপূর্ব জীবনযাপনে ফিরে গেলে শেষাবধি ক্ষতিই ডেকে আনা হবে। শুধু নিজেরই নয়, আপনজনদেরও। একইভাবে সমাজের সংশ্লিষ্ট স্তরেও। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে মানুষকে কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, করোনা সংক্রমণ শেষ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন ক্রমাগতভাবে সংক্রমণ এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তাই বেপরোয়া চলাফেরা সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে-এমনটি ভেবে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। পথেঘাটে, হাটেবাজারে প্রচুর মানুষের আনাগোনা এবং আগের মতোই যানজট শুরু হওয়ায় অনেকেই ভাবতে পারেন যে, এই তো আমরা স্বাভাবিক জীবনে প্রবেশ করলাম। কিছুদিনের মধ্যে প্রতিষেধক টিকাও চলে আসবে। তাই আর সাবধানতার দরকার নেই। মাস্ক পরলে গরম লাগে, তাই ওসব বাদ। বারবার হাত ধোয়া এখন অপ্রয়োজনীয়Ñ যদি সত্যিই এমনটাই কেউ ভেবে থাকেন তাহলে বিরাট ভুল করবেন। স্বাস্থ্যবিধি কেউ না মানলে তাকে সতর্ক করার দায়িত্ব নিকটজনের এবং কাছে চলাচলকারী অচেনা মানুষেরও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জরিমানা করে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গকারীদের সুপথে কতটা আনতে পারবে যদি ওই ব্যক্তি নিজেই বিপদ সম্পর্কে সাবধান না থাকেন।

আগস্টের মাঝামাঝি এসে দেশে করোনা পরিস্থিতির বাস্তবচিত্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ- এ তথ্য অবশ্যই আমলে নিতে হবে। এশিয়ার ভেতর বর্তমানে নতুন রোগী শনাক্তের হিসেবে বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। আর বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। সুতরাং এখন আমরা সংক্রমণের অতি ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছি। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে পরিপূর্ণভাবে আগের জীবনযাপনে ফিরে গেলে স্বল্পতম সময়ের ভেতর পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাবধানের মার নেই।