Home আঞ্চলিক করোনা: সংকটের মুখে ছোট-মাঝারী ব্যবসায়ীরা

করোনা: সংকটের মুখে ছোট-মাঝারী ব্যবসায়ীরা

8

দেনার ভারে হেলে পড়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো, মিলছেনা সরকারি সহায়তা

আহাদ আলী

খুলনায় করোনার প্রভাবে প্রায় ৫০ হাজার বেশি ছোট-মাঝারী ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকানে বেচাকেনা বন্ধো থাকলেও, কর্মচারীদের বেতন, ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ভ্যাট-ট্যাক্স থেমে নেই। পাশাপাশি আয়-রোজগার না থাকায় লকডাউনে বাসা ভাড়া ও ভরণ-পোষণে পুঁজি শেষ হয়ে গেছে অনেকের। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট-মাঝারী ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে প্রণোদনা দিতে হবে।

ঋণ সহায়তা দিতে ব্যবসায়ী সংগঠন বা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করতে হবে। জানা যায়, করোনাকালীন গত প্রায় চার মাসে খুলনার অধিকাংশ দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো এক এক করে বন্ধো হতে চলেছে। দোকানে বেচাকেনা নেই, প্রতিদিন বাড়ছে দেনার পরিমাণ। ব্যবসায়ী নাজমুল শেখ জানান, প্রতি মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে। তার ওপর রয়েছে সংসারের  বাড়তি চাপ। ফলে দেনার ভারে বন্ধো হচ্ছে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। নগরীর ডাকবাংলা সুপার মার্কেট ও ক্লে রোড ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক এইচ এম মাহফুজুল ইসলাম বাবলু জানান, এখানকার প্রায় দুই হাজার বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক আর্থিক ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে।

এসব দোকান মালিকদের সব মিলিয়ে প্রতি মাসে ৫০ থেকে এক লাখ টাকা ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। বেচাকেনা না থাকায় পুঁজি শেষের দিকে অনেকের। খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বে। এদের মধ্যে আবার অনেকের দেউলিয়া হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের তেমন লেনদেন বা ঋণের সম্পর্ক না থাকায়, ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে না ছোট- মাঝারী ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে  ছোট-মাঝারী ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন বা স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি দোকান মালিক-কর্মচারীদের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।