
পাইকগাছার দেলুটিতে ঘূর্নিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্থ ১হাজার পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরন
পাইকগাছা প্রতিনিধি।।
পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নে ঘূর্নিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ ১হাজার পরিবারকে ত্রান সামগ্রী দেয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ত্রান সামগ্রী দেয়া হয়। বিতরন অনুষ্টানে উপস্হিত ছিলেন,দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল,উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ট্যাগ কর্মকর্তা ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়নের সহকারি কর্মকর্তা গোবিন্দ দে,প্যানেল চেয়ারম্যান সুকুমার কবিরাজ,ইউপি সদস্য রাম টিকাদার,কিংশুক রায়, রবিন্দ্র নাথ মন্ডল, পবিত্র সরদার,পলাশ কান্তি রায়,রিংকু রায়,বদিয়ার হোসেন,লক্ষী রানী সরদার,বিনতা রানী সরকার,মেরি রানী সরদার প্রমুখ।
ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে পাইকগাছায় রাড়ুলীর জেলে পল্লীর ১শ ঘর-বাড়ী বিলিনের পথে
পাইকগাছা প্রতিনিধি।।
ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে ও কপোতাক্ষের লবন পানি উপচে পড়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলীর জেলে পল্লীর ১শ ঘর-বাড়ী বিলিনের পথে। আর লবন পানি প্রবেশ করায় ক্ষতি হয়েছে ফসলের ক্ষেত ও শাকসবজি । ভেঙ্গে গেছে রাস্তাঘাট সহ আরো ২শতাধিক ঘর-বাড়ি। ইউনিয়ন পরিষদ সুত্রে জানাগেছে, ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন প্রায় ৩ কিলোমিটার ওয়াপদা রাস্তা ভেঙ্গে ও লবন পানি উপচে পড়ে ৩ ও ৫ নং ওয়ার্ড প্লাবিত হয়। তাতে ক্ষতি হয় জেলে পল্লীর ১শ ঘরবাড়ি, ৭০ বিঘা পাট ক্ষেত, ৫০ বিঘা পানের বরজ ও গাছপালা সহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি। এ ছাড়াও ১০টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে পাকা রাস্থা ও ওয়াপদার ভেড়িবাঁধ। ৩ নং ও ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইলিয়াস হোসেন ও সাইফুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কাজ করে কোনরকম আটকানো হয়েছে। আগামী পূর্ণিমা গোনের আগে যদি বাঁধ সংস্কার না করা হয় তাহলে আবারো এলাকা প্লাবিত হবে। রাড়ুলী ইউপি চেয়ারম্যান বীরমুক্তি যোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ জানান, রাড়ুলী ইউনিয়নের কপোতাক্ষের পাড়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে জেলে পল্লী। এখানে নেই কোন টেকসই বাঁধ। নদে পানি বাড়লে বা ঝড় আসলে এ এলাকা প্লাবিত হয়। সরকারী ভাবে এ এলাকায় জাইকা প্রায় দুই বছর ধরে কাজ করছে। কিন্তু তাদের কাজ এতই মন্থর যে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে তা কেউ বলতে পারে না। যদি তারা এ কাজটা দ্রুত সম্পন্ন করতো তা হলে এমন ক্ষতি হতো না। সর্বোপরি কাজটি যাতে দ্রুত শেষ হয় এ জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
কেশবপুরে বিজ্ঞান ও রোবটিক্স ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভলান্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশ (ভাব)-এর উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞান ও রোবটিক্স ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার উপজেলার সাতবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ওই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
সাতবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্যাম্পে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম জিল্লুর রশীদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ভাব বাংলাদেশের সহকারী কান্ট্রি ডিরেক্টর এম এ আলিম খান ও গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্রভাত কুমার বসু। ক্যাম্প পরিচালনা করেন, আন্তর্জাতিক রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে পদকজয়ী সাদিয়া আনজুম পুষ্প, পাবনার ভাঙ্গুড়া জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝিনুক মনি, জিম খাতুন, সুমাইয়া খাতুন, প্রিয়ন্তী বিশ্বাস ও জুলিয়া খাতুন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান ও রোবটিক্স ক্যাম্পে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৭ জন শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পে শিক্ষার্থীরা রসায়ন রহস্য, আলোক বিজ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মজার পরীক্ষণ আলোর ঝলক, শব্দশক্তি ও তার বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যাখ্যা ও চমৎকার পরীক্ষণ শব্দকল্প, তড়িৎ সৃষ্টি ও তার ব্যবহার তড়িৎ তান্ডব, চম্বুকের রহস্য উন্মোচন ও ব্যবহারে চম্বুকের চমক, মানুষের মনোযোগ স্থিরকরণে ফোকাস চ্যালেঞ্জ গেম, আন্তর্জাতিক মানের রোবট কার ও ফুটবল খেলা, রোবটিক হ্যান্ড তৈরি এবং রোবট শো প্রদর্শনী হয়।
ক্যাম্প শেষে ভাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোটারি গ্লোবাল গ্র্যান্ট প্রকল্পের কেশবপুরের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় সাতবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক সুপ্রভাত কুমার বসু, ইংরেজি শিক্ষক কানিজ সুলতানা, গণিত প্রদীপ কুমার দেবনাথ ও কম্পিউটার শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম এবং ৫টি স্কুলের ৫জন শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। #
রামপালে বখাটে রবিউলের বিরুদ্ধে ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
রামপালে বখাটে রবিউল গাইন (৩০) এর বিরুদ্ধে এসএসসি পাশ ছাত্রীকে ফুসলিয়ে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা জিল্লুর রহমানের পিতা বাদী হয়ে রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার রাজনগর গ্রামের জিল্লুর রহমানের এসএসসি পাশ কন্যা গত ইং ৩০ মে ভাগা যায় কম্পিউটার শিখতে। তার যাওয়া আসার পথে রবিউল প্রায়ই উত্যাক্ত করতো। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার সময় ভাগা বাজারে রওনা দেয় সুমাইয়া। ওই সময় রাজনগর থেকে রবিউলের মাতা রহিমার সহায়তায় রবিউল সুমাইয়াকে অপহরণ করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মাতা গত ২ দিন ধরে মূর্ছা গেছে।
এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি সোমেন দাশ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভিকটিম উদ্ধারে কাজ চলছে। আশা করি শিগ্র উদ্ধার হবে।#
বন্দর প্রতিষ্ঠার ৭৩বছর পর ট্রেন চালু হওয়ায় খুশি যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলা বন্দরের ইতিহাসের ৭৩বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলো মোংলা বন্দর। শনিবার সকাল ১০টায় ৬০০যাত্রী নিয়ে বেনাপোল থেকে ছেড়ে বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মোংলায় এসে পৌঁছায় দুপুর ২টায়। আবার বেনাপোলের পথে ছেড়ে যায় দুপুর আড়াইটায়। সপ্তাহে মঙ্গবার বাদে বাকী ছয়দিন রেল চলবে এ নিয়মে। এই রেলপথ চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণসহ গতিশীল হবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি।
মোংলা বন্দরকে দেশের রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে ২০১৬সালে শুরু হয় খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ। ২০১৯সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ৫দফা সময় বাড়িয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০২৩সালের অক্টোবরে। খুলনার ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৬৪কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে রয়েছে রুপসা নদীর ওপর ৫দশমিক ১৩কিলোমিটার একটি রেলসেতু, ১০৭টি ছোট বড় কালভার্ট, ৮টি প্লাটফর্ম ও ৯টি আন্ডারপাস। গত বছরের ১লা নভেম্বর এই রেলপথ বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালী উদ্ধোধন করেন। এর ৭মাস পর খুলনা-মোংলা রেলপথে শনিবার আনুষ্ঠানিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
মোংলা রেল স্টেশন মাষ্টার এস, এম মনির আহম্মেদ বলেন, এই পথে মঙ্গলবার বন্ধ রেখে সপ্তাহে ৬দিন চলবে মোংলা এক্সপ্রেস নামে একটি কমিউটার ট্রেন। তবে আপাতত এ লাইনে নতুন সময়ের জন্য ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেই কর্তৃপক্ষের। আর মোংলা-বেনাপোল রুটে ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ টাকা এবং মোংলা-খুলনার ফুলতলা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ টাকা।
খুলনা-মোংলা রেল পথ ঘিরে অর্থনীতিতে খুলছে নতুন সম্ভবনার দুয়ার। ঢাকার সাথে সহজ হবে মোংলা বন্দরের সাথে যোগাযোগ। একই সাথে এই রেলপথ চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তারা বলছেন, কম খরচে সহজে যাতায়াত এবং আরামদায়ক ভ্রমণও করতে পারবেন। চিকিৎসাসহ ব্যবসা বাণিজ্যের কাজেও ভারতে যেতে এই রুট সহজ হবে তাদের। তবে সরকারি-বেসরকারী চাকুরীজীবিদের দাবী অফিস টাইম অনুযায়ী সকালে একটি ট্রেন চালুরও।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রী সাধারণ বলেন, বহুল কাঙ্খিত এই রেলপথ চালু হওয়ায় মোংলা বন্দরের সাথে ভারত, ভূটান ও নেপালের ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারিত হবে।
নড়াইল নার্সিং কলেজে বখাটে ও প্রভাবশালীদের উৎপাত বন্ধসহ নানা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শিক্ষার্থীদের
মেঃ তাহের, নড়াইল প্রতিনিধিঃ
নড়াইল নার্সিং কলেজের শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ, স্থানীয় বখাটেদের উৎপাত বন্ধ, শিক্ষাবৃত্তি চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। শিক্ষার্থীদের আয়োজনে শনিবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে কলেজ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিভিল সার্জন কার্যালয় ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা দাবি-দাওয়া পূরণে স্লোগান দিতে থাকেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ক্লাসে ফিরে যাবেন না বলে ঘোষণা দেন তারা।
এ সময় সিভিল সার্জন ডাক্তার সাজেদা বেগম পলিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, নড়াইল নার্সিং কলেজে শিক্ষক স্বল্পতার জন্য পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। আর দুই মাস পর পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও পড়াশোনায় কনো অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া কলেজে কনো নিরাপত্তাকর্মী নেই। যার কারণে কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাছাড়া স্থানীয় বখাটে ও প্রভাবশালীদের উৎপাতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় চরম উদ্বিগ্ন থাকতে হয়।
শিক্ষার্থীরা আরো জানান, কলেজে অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করছে। অন্যত্র সরকারি শিক্ষা বৃত্তি চালু থাকলেও নড়াইল নার্সিং কলেজে এখন পর্যন্ত তা চালু হয়নি। এ কারণে তাদের পড়াশোনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এছাড়া সুপেয় পানির অভাব থাকায় শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
রেমাল তাণ্ডব: সুন্দরবনে সুপেয় পানির তীব্র সংকট, ঝুঁকিতে বন্যপ্রাণী
বাগেরহাট প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে বন্যপ্রাণী ও জেলে-বাওয়ালিদের খাওয়ার জন্য মিঠাপানির ৮৮টি পুকুরের পানি। এতে বনের অভ্যন্তরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, সংকট নিরসনে কাজ শুরু করেছেন তারা।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে বনের ৮৮টি পুকুরের পানি লবণাক্ত হয়েছে। এতে খাবার পানির সংকটে পড়েছে বানর, হরিণ, বাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। ইতিমধ্যে বনের এসব পুকুর থেকে লবণাক্ত পানি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। যদি শিগগিরই বৃষ্টি না হয়, তাহলে বাহির থেকে মিঠাপানি এনে পুকুরগুলোতে মজুত করা হবে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বনের ভেতর ৭-১০ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়। এতে মিঠাপানির পুকুরগুলো তলিয়ে নোনা পানি ঢুকে পড়ে। এখনও বনের মধ্যে অনেক আহত ও নিহত প্রাণীর মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে। যেসব বন্যপ্রাণী আহত হয়েছে আমরা সেগুলো পর্যবেক্ষণে রাখছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে বন কর্মীরা সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থান পর্যবেক্ষণ করছেন।
সুন্দরবন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে উচ্চ জোয়ারে সুন্দরবনের সব নদী-খাল উপচে বনের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ সময় বনের ভেতরে প্রায় ৮৮টি মিঠাপানির পুকুর প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি হলে যাতে এসব পুকুরে মিঠাপানি জমা হয় সেজন্য মেশিন বসিয়ে লবণাক্ত পানি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপকূল অতিক্রম করার পর থেকে এখন পর্যন্ত বনের বিভিন্ন স্থান থেকে হরিণ ও শুকরসহ ১৩১টি বন্যপ্রাণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, জীবিত ১৮টি হরিণ ও একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে।
নড়াইলে যুবককে কুপিয়ে ও দু’পায়ের রগ কেটে হত্যা, আটক ১
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের নড়াগাতিতে দুর্বৃত্তরা আনিস শেখ (৩৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও দু’পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
শুক্রবার (৩১ মে) রাতে নড়াগাতি থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আনিস শেখ চরকান্দিপাড়া গ্রামের মোশারেফ হোসেন ছেলে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের ওসিকার শেখ নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে আনিস শেখ বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী ইটভাটা এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখানে একদল দুর্বৃত্ত তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দু’পায়ের রগও কেটে দেয়। এসময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আনিস শেখকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার ভোরে ওসিকার শেখ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।
রেমালে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি: আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ১ হাজার পরিবার
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক হাজার পরিবার এখনো নিজ ঘরে উঠতে পারেনি। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঝালকাঠি জেলার ৫৮৯টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ৪ হাজার ৬০০ ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানবতার জীবনযাপন করছে ঘর হারিয়ে এসব মানুষ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, বিষখালী নদী তীরবর্তী সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চরভাটারাকান্দা গ্রামে বেড়িবাঁধ না থাকায় গত ২৬ মে দুপুরেই জোয়ারের পানি আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করতে শুরু করে। পানির চাপ বেশি দেখে ঐ এলাকার বাসিন্দারা তাদের জরুরি মূল্যবান সম্পদ ও গরু-ছাগল নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠে। ঝড়ের কবলে ঘরের উপড়ে গাছ পড়ে মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকুও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
পানি বৃদ্ধিতে কাঁচা ঘরের ফ্লোর এখনো স্যাঁতস্যাঁতে রয়েছে। ঘরে উঠতে গেলেই কর্দমাক্ত হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। তাই এখনো অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রেই রাত্রি যাপন করছেন। শুধু ঐ গ্রামের মানুষই নন, জেলার প্রতিটা এলাকায় এমন অবস্থা নিম্ন আয়ের মানুষের। তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত হেমায়েত উদ্দিন জানান, আমাদের পাঁচ জনের সংসার। একাই উপার্জন করে সংসার চালাই। কোনোমতে কাঠের ঘর তুলে টিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করি। দিনমজুরি ও অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করে যা উপার্জন করতাম তা দিয়ে সমান সমান সংসার চালাতে পারতাম। ঝড়ে গাছ পড়ে আমার ঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এখন আর সেই ঘরে থাকতে পারছি না। পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। ঘরটি সংস্কার করারও কোনো সামর্থ্য নেই আমার। অন্যের ঘরে ইটের অস্থায়ী চুলা তৈরি করে রান্না করে তা খেয়ে কোনোমতে জীবনযাপন করছি।
মামুন হাওলাদার জানান, আমাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বলতেই শুধু বাপের ভিটা। রেমালের প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের টিনকাঠের ঘরেও পানি ঢুকেছে। ঘরের মধ্যেও হাঁটু সমান পানি হওয়ায় চৌকিতে মালামাল উঠিয়ে প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। এখন পর্যন্ত ঐ ঘরেই বসবাস করছি। যতক্ষণে ঘরের ফ্লোর না শুকাবে ততক্ষণে ঘরে উঠতে পারবো না। রোহিঙ্গার মতোই বসবাস করতে হচ্ছে এখন।
বিধবা লাইজু বেগম জানান, স্বামী মারা গেছেন দুই বছর আগে। দুটি ছেলে সন্তান নিয়ে বসবাস করতাম। দিনমজুর স্বামীর ভিটা ছাড়া আমাদের আর কোনো জমি নেই। স্বামী মারা যাওয়ার পরে মানষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতাম। ঝড়ে আমাদের কোপা খুঁটির ঘরের উপরে প্রতিবেশীর গাছ পড়ে সব শেষ হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, ঝড়ের সময় বাড়ির একটি ঘরে আশ্রয় নিলেও পরে আর সে ঘরে আমাদের রাখেনি। আধা কিলোমিটার দূরে স্বামীর দিন মজুরি সহকর্মী একজনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। একবান টিন কিনেও যে নিজের ঘরে আশ্রয় নেবো সেই সাধ্যও নেই আমার। এখন ঐ ঘরেই পরবাসের মতোই থাকছি। তারা দয়া করে যা দেয় তাই খেয়ে দিনাতিপাত করছি।
হনুফা বেগম জানান, আমার বাবা মারা গেছেন অনেক বছর আগে। আমিও স্বামী পরিত্যক্তা। মায়ের সঙ্গেই ঘরে থাকতাম। বন্যা ঘরের উপড়ে গাছ পড়ে তা শেষ হয়ে গেছে। মাটির ঘরে পানি ওঠায় তাও ফুঁসে গেছে। এখন ঘরে থাকতে পারছি না। পাশের বাড়ির একজনের গোয়ালঘরে আশ্রয় নিয়েছি। রান্না করে খাবার মতোও আমাদের কোনো উপায় নেই। বৃদ্ধ মাকে নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। কেউ যদি সাহায্য করতো, তাহলে হয়তো মায়ের মুখে একটু খাবার তুলে দিতে পারতাম। এখন যেভাবে বেঁচে আছি, তাতে মানুষ বাঁচতে পারে না।
জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম জানান, আমরা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছি। সরকারি সহায়তার বরাদ্দ পেলে যথাযথভাবেই তা বণ্টন করা হবে। বন্যার সময় আশ্রিতদের শুকনা খাবার সরবরাহ করেছি। কারো সমস্যা হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা তা জরুরি ফান্ডের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।
রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রি, দোকান সিলগালা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গুটিবসন্তে আক্রান্ত মৃতপ্রায় গরু গোপনে জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ওই দোকানটি সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (১ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের জিরণগাছা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওই মাংস জব্দ করে কেরোসিন মিশিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলার পাশাপাশি বিতর্কিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গাজী ফারুক হোসেন জানান, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামের সহিল উদ্দীন ওরফে সলু কসাইয়ের ছেলে মোজারুল ইসলাম (৩৬), কুশলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মরহুম সোহরাব সরদারের ছেলে মিলন (৩৪) ও একই গ্রামের মরহুম দেলবার সরদারের ছেলে মুনসুর আলী (৫৫) দীর্ঘদিন যাবত জিরণগাছা বাজারে মাংস বিক্রি করে আসছেন। শনিবার ভোর ৫টার দিকে তারা বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বেজুয়া গ্রামের হজরত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলামের গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত একটা মৃতপ্রায় গরু ৯ হাজার টাকায় কিনে ওই গোয়ালে জবাই করে। সেই মাংস জিরণগাছা বাজারে এনে দেশী এড়ে গরুর মাংস হিসেবে প্রচার দিয়ে বিক্রি করতে থাকে তারা।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্রেতা ও জনসাধারণের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জনতা মাংসের দোকান ঘেরাও করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এসময় সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান অভিযুক্ত তিন কসাই।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাহার আলী। এসময় তিনি প্রায় ১৬০ কেজি মাংস কেরোসিন মিশিয়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন। মাংসের দোকান সিলগালা করার পাশাপাশি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয় মাংস বিক্রিতে ব্যবহৃত কনক্রিটের চাতাল।
এ বিষয়ে মো. আজাহার আলী বলেন, রোগাক্রান্ত গরুর মাংস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এসব মাংস বিক্রি করায় অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিয়ের আসরে তালাক দিতে চাওয়ায় গণপিটুনির শিকার বর
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় বিয়ের আসরে স্ত্রীকে তালাক দিতে চেয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন এক প্রবাসী বর। সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের শোলগাড়ি গ্রামে বিয়ে করতে গিয়ে এমন বিপাকে পড়েন পার্শ্ববর্তী আলমডাঙ্গা উপজেলার হাড়গাড়ি গ্রামের প্রবাসী রফিকুল ইসলাম।
দেনমোহরের অর্থ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দর কষাকষি নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বরকে উদ্ধার করে থানায় নেয়।
শুক্রবার (৩১ মে) দুপুরে শোলগাড়ি গ্রামের কনের বাড়িতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় ছেলে ও মেয়ে পক্ষের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঝামেলা মিটমাট হয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাড়গাড়ী গ্রামের আশরাফুল মালিথার ছেলে প্রবাসী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদরের মোমিনপুর ইউনিয়নের শোলগাড়ী গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। প্রবাসী বর দেশে ফিরে আসার পর শুক্রবার বিয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন চলছিল। কথা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে সম্পন্ন হবে কাবিন।
কিন্তু এতে বাঁধ সাধেন বরপক্ষের লোকজন। তাদের দাবি, ৫ হাজার টাকায় হবে দেনমোহর। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চলে দর কষাকষি ও কথা কাটাকাটি।
এক পর্যায়ে বর রফিকুল বলে বসেন, ‘দরকার হলে দেড় লাখ টাকা দিয়েই কাবিন করবো, কিন্তু আজই টাকা পরিশোধ করে বউ তালাক দিয়ে যাবো।’
এ কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কনেপক্ষ। কনেপক্ষ ও স্থানীয় জনতার রোষাণলে পড়ে বরপক্ষ। একপর্যায়ে গণপিটুনির শিকার হন বর রফিকুল ইসলাম। পরে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বরপক্ষকে উদ্ধার করে থানায় নেয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব জানান, খবর পেয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে বর ও তার স্বজনদের থানায় নেওয়া হয়। পরে রাতে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তারা নিজেরাই মীমাংসা করে নিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে বাগেহাটের শিকদার বাড়ী দূর্গামন্দির লন্ড-ভন্ড
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে বাগেহাটের ঐতিহ্যবাহী শিকদার বাড়ী দূর্গামন্দির লন্ড-ভন্ড হয়ে পড়ায় এবছর বৃহৎ আকারে পূজা অর্চনা করা সম্বব হচ্ছে না। অবকাঠামো গুলো পূর্ণনির্মাণ করতে দু’মাসের বেশি সময় লেগে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যাক প্রতিমা তৈরী ও বৃহৎ আকারে পূজা অর্চনা করা সম্বব হচ্ছে না। এমনটিই দাবী করেছেন মন্দিরটির আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য শিশির শিকদার সহ সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ দূর্গাপূজা মন্দির হিসাবে দেশ-বিদেশে শিকদার বাড়ীর দূর্গা মন্দিরের সুপরিচিতি রয়েছে। বিগত বছর গুলিতে বিপুল পরিমানে প্রতিমা তৈরী করে পূজা অর্চনা করা হয়। সে মোতাবেক এবছরও পূর্বের ন্যায় প্রতিমা তৈরী করে পূজা অর্চনা করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে শিকদার বাড়ীর দূর্গামন্দিরটির অবকাঠামোগুলি সম্পূর্ণ লন্ড-ভন্ড হয়ে পড়ায় সে আয়োজন ভেস্তে গেছে। ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে মুল মন্দিরের ছাউনী প্রচীর ও অন্যান্য অবকাঠামো গুলি ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা পূর্ননির্মাণ করতে দু’মাসেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। সেই সময়ের মধ্যে মন্দিরটি পূর্ননির্মাণ করা ও প্রতিমা তৈরী করা সম্বব হয়ে উঠবে না। যে কারণে বৃহৎ আকারে প্রতিমা তৈরী না করে স্বল্প পরিষরে প্রতিমা তৈরী করে পূজা অর্চনা করার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১১সাল থেকে বিশিষ্ট সমাজসেবক স্বর্গীয় দুলাল কৃষ্ণ শিকদার বিপুল পরিমানে প্রতিমা তৈরী করে দূর্গাপূজা আরম্ব করেন। যা পর্যায়ক্রমে দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ দূর্গাপূজা মন্দির হিসাবে দেশ-বিদেশে শিকদার বাড়ী দূর্গা মন্দির সুপরিচিতি অর্জন করে।
ইন্দুরকানীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রানসামগ্রী বিতরণ
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতাঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রানসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো পরিদর্শন শেষে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ঘর বিধ্বস্ত ও পানিবন্দীদের মাঝে নগদ ১০ লক্ষ টাকা ও শুকনা খাবারসহ ত্রানসামগ্রী বিতরণ করেন নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওমীলীগগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী।
ত্রান বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহামুদুল হক দুলাল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলারা পারভীন প্রমুখ। উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল আহসান গাজী বলেন, ঘূর্ণিঝড় এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকদের খোজখবর নিচ্ছি, ব্যক্তিগতভাবে সাধ্যমত ত্রানসামগ্রী বিতরণ করছি। সরকারি সহায়তা আসলে সুষ্ঠভাবে বিতরণ করা হবে।
ইন্দুরকানীতে বিশ^ তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে অবস্থান কর্মসূচী
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা ঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিশ^ তামাক মুক্ত দিবস উপলক্ষে অবস্থান কর্মসূচী পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে রূপসী বাংলা উন্নয়ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধ জোট এর যৌথ উদ্যোগে ইন্দুরকানী সদর রোডে এ অবস্থান কর্মসূচী পালিত হয়। এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন, ইন্দুরকানী উপজেলা নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক দুলাল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন গাজী, সাবেক বিআরডিবি চেয়ারম্যান মোঃ ফদির আহমেদ, ইন্দুরকানী প্রেস ক্লাব সভাপতি এইচএম ফারুক হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান, রিপোটর্স ক্লাব সভাপতি আবুল কামাল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কেএম শামীম রেজা, কর্মসূচী সমন্বয়কারী মোঃ আলতাফ হোসেন প্রমুখ। অবস্থান কর্মসূচী সঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন রূপসী বাংলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ আজাদ হোসেন বাচ্চু। বক্তরা আলোচনায় যুব সমাজকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত করতে আসন্ন বাজেটে তামাকজাত পন্যের কর ও মূল্যবৃদ্ধির দাবী জানান।
জেলায় জেলায় আজিজ ও বেনজিরদের খুঁজে বের করার দাবি নাগরিক ঐক্য’র
খবর বিজ্ঞপ্তি
সরকারি ছত্রছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাষন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটেছে দুই বাহিনীর সাবেক প্রধান। তাদের আয়ের সাথে সম্পদ দেখে বিশ্ববাসি বিস্মৃত হয়েছে। ২০১৪ ও২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সরকারের অনুকূলে রায় দেয়ার জন্য সাবেক পুলিশ প্রধান ন্যাক্কারজনক ভূমিকা রাখে। জেলায় জেলায় অসাধু আজিজ ও বেনজিরদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছে নাগরিক ঐক্য। গতকাল শনিবার বিকেলে স্থানীয় একটি হোটেলে দলের সদর থানা ও নগর শাখার যৌথ সভায় নেতৃবৃন্দ এ আহবান জানান।
সভায় উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজিরের দেশত্যাগের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে কোন কালো হাত রয়েছে। ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য আনারুল আজিম আনারের আয় বহির্ভুত সম্পদ জব্দ করার জন্য নেতৃবৃন্দ দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, অবৈধ সরকার সংসদে একাধিক আনারুল আজিমকে পুষছে। তাদেরও সম্পদের হিসাব দিতে হবে।
সিনিয়র সদস্য কাজী আমিনুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সোহরাব হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন নগর সদস্য সচিব, কাজী মোতাহার রহমান বাবু, মোল্লা আব্দুর রহমান, শেখ মাহমুদ হাসান, সুলতানা পারভিন চুমকি, খন্দকার ওয়াহিদুজ্জামান সোহাগ, এস এম সেলিম রেজা বকুল, মোঃ আনিসুদ্দিন গাজী, ডাঃ ওবায়দুল্লাহ, আবু তালেব গাজী মিন্টু, জাহাঙ্গীর হোসেন ফারাজি প্রমূখ।
আগামী ১৩ জুলাই বেলা ১১টায় স্থানীয় উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে দলের খুলন নগর শাখার প্রথম সম্মেলন সফল করার আহবান জানানো হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন, দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি মাহামুদুর রহমান মান্না। গতকালের অনুষ্ঠানে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে মোঃ ওমর ফারুক নাগরিক ঐক্যে যোগদান করেন।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যানবাহন ও নৌযান চলাচলে কেএমপির গণবিজ্ঞপ্তি
তথ্য বিবরনী
আগামী ৫ জুন চতুর্থ ধাপের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যানবাহন ও নৌ-যান চলাচলের বিষয়ে নিম্নরূপ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের দিনের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ৪ জুন দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৫ জুন-২০২৪ মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত খুলনা জেলার নির্বাচনি এলাকায় (লবনচরা ও হরিণটানা থানাধীন জলমা ইউনিয়ন) ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ, ইঞ্জিন চালিত বোট (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত) চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন এলাকায় ৩ জুন-২০২৪ দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৬ জুন মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী/তাঁদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (পরিচপত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। সেই সাথে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি/বিদেশি সাংবাদিক (পরিচপত্র থাকতে হবে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক এবং কতিপয় জরুরি কাজ যেমন-এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য উল্লেখিত যানবাহন/নৌ-যান চলাচলের ক্ষেত্রে উক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
এ আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসকল তথ্য জানানো হয়েছে।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা
তথ্য বিবরনী
আগামী ৫ জুন চতুর্থ ধাপের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ/১৯৮৫ এর ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচনি এলাকায় (লবনচরা ও হরিণটানা থানাধীন জলমা ইউনিয়ন) আজ ২ জুন থেকে ১২ জুন-২০২৪ পর্যন্ত সকল বৈধ অস্ত্রের মালিক/লাইসেন্সধারীগণ কর্তৃক অস্ত্র বহন, অস্ত্র প্রদর্শন এবং অস্ত্রসহ চলাফেরা করার ওপর নিষেধাজ্ঞারোপ করা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ আদেশ চতুর্থ ধাপের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাথে সম্পৃক্ত সকল বাহিনীর সদস্য ও বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি দপ্তর, আর্থিক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং স্থাপনাসমূহে নিয়োজিত প্রহরীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসকল তথ্য জানানো হয়েছে।
কয়রার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন
এমপি রশীদুজ্জামান ও পানি সম্পদ মন্ত্রনায়রে সচিব নাজমুল আহসান
কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ কয়রায় ঘুর্নিঝড় রেমালের তান্ডবে ভেঙ্গে যাওয়া দশহালিয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য মোঃ রশীদুজ্জামান ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান। শুক্রবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টায় তারা এই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় এমপি কয়রা-পাইকগাছার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাধ দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের দাবি জানান সচিবের নিকট। এমপির দাবির প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব সাংবাদিকদের জানান, কয়রা-পাইকগাছায় জরুরী ভিত্তিতে ঘুর্নিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ গুলো সংস্কার করা হবে। যাতে করে উপকুলীয় এলাকার মানুষ কষ্ট না পায়। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে দুর্যোগ কবলিত এলাকার সকল বেড়িবাঁধ টেকসই করা হবে। বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এসব কাজ অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব নাজমুল আহসান আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই কয়রা-পাইকগাছার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ জরুরি মেরামত এবং মজবুত করার লক্ষে কাজ করছে মন্ত্রনালয়। এ সময় বাঁধে কাজ করা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় এমপি ও সচিবের নিকট ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্তরা। পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের চীফ ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুৎ সাহা, খুলনা সার্কেলের তত্ববধায়ক প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম তারিক-উজ-জামান, কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, সেকশান কর্মকর্তা মশিউল আবেদীন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধরন সম্পাদক নিশীত রঞ্জন মিস্ত্রী, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল্যাহ আল মামুন লাভলু, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্যাহ আল মাহমুদ, প্রভাষক শাহনেওয়াজ শিকারী, প্রমুখ।
৬ দিন পর কয়রার দশালিয়ার বেঁড়িবাঁধ সেচ্ছাশ্রমে মেরামত
কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি
প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে খুলনার কয়রা উপজেলার ছয়টি স্থানে বেঁড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে কপোতাক্ষ নদের লোনা পানি । এর মধ্যে পাঁচটি স্থানে সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধ সংস্কার করে লোনা পানি ঠেকিয়েছেন। শুধু একটি জায়গা দশালিয়া বেঁড়িবাঁধ মেরামত করতে পারেননি তারা। অবশেষে ৬ দিন পর ২য় বার ভেঙে যাওয়া বেঁড়িবাঁধটি আটকাতে সক্ষম হয়েছেস্থানীয়রা। শনিবার সকাল থেকে বাঁশ, জিওব্যাগ ও বালুর বস্তা নিয়ে প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ সেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি আটকাতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁধটি প্রাথমিকভাবে মেরামত করা হলেও পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ও বলগেটের অভাবে জোয়ারের পানিতে পুনরায় বাঁধটি ভেঙে যায়। এলাকাবাসী জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধগুলো মজবুত করা না হলে আগামীতে বিপদে পড়তে হবে।
ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লোনা পানি আটকানোর চেষ্টায় কাজ করছিলেন শত শত মানুষ। কেউ কোদাল নিয়ে বালি কাটছেন। কেউ সেই বালি দিয়ে বস্তা ভরছেন। সেই বস্তা লম্বা সারি করে দাড়িয়ে একজন আরেকজনের হাতে দিচ্ছিলেন। বাঁধের কাছে দাঁড়ানো কাছে কিছু মানুষ সেই বস্তা দিয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ করছিলেন। অপর দিকে বলগেট দিয়ে ১০ মিটার লম্বা টিউব ভরে বালু দিয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ করছিলেন। মজুরি কিংবা টাকা পয়সা নিয়ে ভাবছেন না এলাকাবাসী। সেচ্ছাশ্রমে দিতে আসা শাহিনুর ও জাহিদুল জানান, টাকা নিয়ে তাদের কোনো ভাবনা নেই । তারা চান, এলাকায় যাতে দ্রুত লবণ পানির প্রবেশ বন্ধ হয়। দ্রুত পানি আটকানো না গেলে জোয়ারের সময় ভাঙনের জায়গা বড় হয়ে খাল হয়ে গেলে আর পানি আটকানো মতো অবস্থা থাকে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ¦ দীন মোহাম্মাদ বলেন, সাময়িকভাবে পানি আটকানো
সম্ভব হলেও আগামী কয়েকে দিনের মধ্যে বাঁধটি মজবুত করে সংস্কার না করলে আবারও ভাঙন দেখা দেবে। এখন পানির চাপ কম থাকবে। তবে এক দু সপ্তাহের মধ্যে জোয়ারের চাপ বাড়বে। এই সময়ের মধ্যে বাঁধ মজবুত করা না হলে আবারও সমস্য হবে।
বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করায় ক্ষতিগ্রস্থ আঃ আলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন এখানে রাস্তার খারাপ অবস্থা ছিল। একটা প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু ঠিকাদার ঠিকমত কাজ করেনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড
(পাউবো) কোন দিন খেয়ালও করে না। আদৌ কোন কাজ হচ্ছে কিনা।
সেচ্ছাশ্রমে কাজের নেতৃত্ব দেওয়া ও সিপিপি টিম লিডার জিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসীনতায় বাঁধটি বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত টেকসই বেঁড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছেন।
পাউবোর সহায়তা ব্যাপারে জানতে চাইলে পাউবো কর্মকর্তা মশিউল আবেদীন বলেন, জিও ব্যাগ, বাঁশ, কাঠ ও বলগেট দিয়ে জনগনের সহায়তায় বাঁধের সংস্কার চলছে।
দিঘলিয়ায় খালখননের নামে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের অভিযোগ
মোঃ জামাল হোসেন।।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, মানুষের মাঝে অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী বৃক্ষ রোপনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ঠিক তখনই খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাইকিং করে স্থানীয় নাককাটি নামক একটি খালের উভয় পাড়ের জীবন্ত গাছ কেটে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীবন্ত বৃক্ষ নিধন রোধে পরিবেশবাদী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পরই গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মৎস্য অফিসের তত্ত্বাবধায়নে ‘শরীফ এন্ড ফিলামেন্ট’ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নাককাটি খালটি খননের জন্য কার্যাদেশ পেয়েছেন। যেখানে ৪ এপ্রিল থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে কাজ সমাপ্তির মেয়াদ রয়েছে। খালের দৈর্ঘ্য ৪.৪ কিলোমিটার। ৫৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬৮ টাকার
কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরুর পূর্বে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলামের মাধ্যমে এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করে নাককাটি খালের উভয়পাড়ের ব্যক্তি মালিকানা জমির বিভিন্ন প্রজাতির জীবন্ত গাছ , ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘের সরিয়ে ফেলার জন্য। তিন দিনের সময় সীমা বেধে দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ নির্দেশনা প্রদার করায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এসকেভেটর বা ভেকু মেশিন চালিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয়দের বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫ হাজার জীবন্ত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। মৎস্য ঘেরের ভেড়িবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ কাজে স্থানীয়রা বাঁধা দিলে তাদেরকে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নওয়াব আলী জানান, মৎস্য অফিসের মাইকিং এর ফলে ভেকু চালকেরা জোরপূর্বক ভাবে আমাদের গাছগুলি উপড়ে ফেলে দিচ্ছে। তিনি জানান, তার বিভিন্ন প্রজাতির ১শ’ গাছ ইতিমধ্যে উপড়ে ফেলেছে।
আরেক বাসিন্দা সাবর আলী জানান, তার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে ঘরবাড়ি ভেঙে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঠিকাদারের লোক ও ভেকু চালক চাপ দিচ্ছেন। অন্যথায় আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন।
কবির গাজী,কামাল হোসেন, নিতাই দাস, হামিদ শেখসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, মৎস্য কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলামের মাইকিং এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে একটি আতঙ্ক তৈরি হয়। এ সুযোগে ঠিকাদারের লোক ও ভেকু চালক জোর করে খালের উভয়পাড় থেকে জীবন্ত গাছগুলি উপড়ে ফেলে দিচ্ছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ইবনুল হাসান মিনার জানান, তার মালিকানা জায়গার পাশ্ববর্তী মালিকের জায়গা থেকে জোর করে ভেকু চালক জীবন্ত গাছ উপড়ে ফেলেছে। তার জায়গা থেকে গাছ কাটতে বা উপড়ে ফেলে দিতে বাঁধা দিলে তারা সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদান করেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছি।
এলাকাবাসী জানান, খাল খননের নামে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলামের মাইকিং এর ফলে ইতিমধ্যে নাককাঠি খালের উভয় পাড় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির জীবন্ত প্রায়
(ছোট-বড়) ৫ হাজার কাজ কর্তন করা হয়েছে । দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উভয় পাড় থেকে ১৮ থেকে ২০ হাজার জীবন্ত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে ফেলা হবে এর ফলে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাক ফেলবে বলে মনে করছেন সামাজিক সংগঠনগুলো। ভুক্তভোগীদের দাবি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশের বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম মাইকিং এ প্রচারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খালের উভয় পাড় থেকে গাছগুলি সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, পরিবেশবান্ধব গাছ কোনভাবেই কর্তন করা যাবে না। খাল খনন করতে খালের দুই পাড়ের গাছ কোনভাবেই কাটা ও ঘর বাড়ি ভাঙ্গা যাবে না । তিনি আরো বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাইকিং এর মাধ্যমে জীবন্ত গাছ কেটে ফেলার নির্দেশনা দিতে পারেন না। তিনি মাইকিং এর প্রচারের মাধ্যমে কেন গাছ কাটার নির্দেশনা দিয়েছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
মৎস্য বিভাগের ডেপুটি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর সরোজ কুমার মিস্ত্রি এ প্রতিবেদককে বলেন, খাল খনন করতে যে দুই পাড়ের গাছ ঘরবাড়ি নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেন মাইকিং করছে- বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব ।
তিনি আরও বলেন, গত বছর দিঘলিয়ায় একটি খাল টেন্ডার হয়েছিল। আমি ঘটনাস্থলে যেয়ে দেখি খালের দুই পাড়ের গাছ কাটার দরকার। এজন্য সেই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে যেয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটার আরিফুর রহমান এ প্রতিবেদকে বলেন, আমাদের গাছ কাটার কোন নির্দেশনা নেই, আমরা কাটতেও পারিনা। গাছ না কেটে যদি খাল খনন করতে বলে তাও আমরা করবো। আমার কোন লোক ম্যানেজার ও ভেকু চালক এলাকাবাসীর উপর জোরপূর্বক গাছ কর্তন ও ঘর বাড়ি ভাঙ্গার হুমকি দিয়ে থাকলে তার শাস্তি হবে। জোর করার কোন সুযোগ নেই। কোন লোকজন কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন তো দূরে থাক কোন গাছই কাটেননি বলেও দাবি করেন তিনি।










































