Home খেলাধুলা প্রশংসায় ভেসে কাঁদলেন ইয়ারজান

প্রশংসায় ভেসে কাঁদলেন ইয়ারজান

42

খুলনাঞ্চল ডেস্ক।।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম খোপড়াবান্দি। সেখানে জরাজীর্ণ একটি বাড়িতে দেখা যায় রাজ্যের ভিড়; উৎসবের আমেজ। শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হয়েছেন। অনেকে বসেছেন উঠোনে প্লাস্টিকের চেয়ারে; অনেকে দাঁড়িয়ে। তাদের উৎসুক চোখ বাড়িতে প্রবেশের সড়কের দিকে। সকাল থেকেই তারা অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে দুপুর ২টার দিকে এলেন সেই কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিটি। তিনি সাফজয়ী ইয়ারজান বেগম। তাঁকে দেখে সবার চোখে ফুটে উঠল আনন্দের ঝিলিক; সমস্বরে বলতে লাগলেন– ‘তোমার জান, আমার জান, ইয়ারজান, ইয়ারজান।’
গতকাল শনিবার দুপুরে খোপড়াবান্দি গ্রামে এশিয়ার অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ইয়ারজানের বাড়িতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। তিন মাস পর তিনি বাড়ি ফিরেছেন। গাড়িতে করে কোচ টুকু রেহমানসহ অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে তিনি বাড়ি ফেরেন। স্থানীয় যুবকরা মোটরসাইকেল র‍্যালির মাধ্যমে তাঁর গাড়িটিকে স্বাগত জানান এবং বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসেন। এমন আয়োজন ও মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায় ইয়ারজান চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি।

গাড়ি থেকে নেমে প্রথমেই মাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। এরপর একে একে অনেকে তাঁকে মালা পরিয়ে দেন। ইয়ারজান সেই মালা গলা থেকে খুলে তাঁর দাদি, চাচিসহ পরিবার ও স্বজনের গলায় পরিয়ে দেন, যেন তাঁর সব কৃত্বিত্ব তাদের পাওনা। এ সময় প্রতিবেশীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এর আগে সকালে ঢাকা থেকে প্রশিক্ষক টুকু রেহমানের সঙ্গে পঞ্চগড়ে পৌঁছান ইয়ারজান। পরে টুকু একাডেমির খেলোয়াড়সহ অন্যরা তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় ইয়ারজান তাঁর কোচকেও মালা পরিয়ে দেন। এরপর তারা সবাই টুকু রেহমানের বাড়িতে কিছু সময় অবস্থান করেন। দুপুরে পিকআপে করে জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সরেজমিন দেখা যায়, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইয়ারজানের বাড়িতে নতুন পাকা ঘর নির্মাণকাজ চলছে।

ইয়ারজানকে দেখতে আসা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান সিফা জানায়, যেদিন থেকে শুনেছি ইয়ারজান আপু ফুটবলে জিতেছেন, দেশের সুনাম অর্জন করেছেন, সেদিন থেকে তাঁকে দেখার ইচ্ছা বেড়ে গেছে। এ জন্য সকাল থেকে এসে বসে ছিলাম।

খোপড়াবান্দি এলাকার রাজমিস্ত্রি মনির হোসেনের স্ত্রী খালেদা আক্তার বলেন, ইয়ারজান আমাদের এলাকার মেয়ে; আমাদের কন্যারত্ন। শুনেছি সে এখন এশিয়ার সেরা খেলোয়াড় হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সে বাড়ি আসছে শুনে গ্রামের সব নারী-পুরুষ তাকে দেখতে এসেছি।

তিন মাস পর বাড়ি ফেরা নিয়ে ইয়ারজান বলেন, সাফ ফুটবল জয়ের পর প্রথম বাড়ি এলাম। এত মানুষ এসেছেন; বাড়িতে সবার মুখে আনন্দ দেখে অনেক ভালো লাগছে। কখনও কল্পনাই করিনি, বাড়িতে এত মানুষ আসবেন। শিশু-কিশোর ছাড়াও ভাই, বাবা ও দাদার বয়সী অনেকেই এসেছেন। সবাইকে সালাম জানাই। তিনি বলেন, লিগে খেলার জন্য ইতোমধ্যে একটি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সেই ক্লাব শুরুতে আমাকে সুযোগ দিয়েছিল। আমি যেন জাতীয় দলে খেলতে পারি, এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের নারী সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মূল কারিগর আমাদের কন্যা ইয়ারজান বেগম। তাঁর পারিবারিক অবস্থা বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি পাকা ঘরের কাজ শুরু করা হয়েছে। একই দলে থাকা পঞ্চগড়ের আরও দুই খেলোয়াড়সহ ইয়ারজানকে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।