Home আঞ্চলিক ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য স্থায়ী শিক্ষক নেই একজনও

৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য স্থায়ী শিক্ষক নেই একজনও

43

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।

২০১৩ সালে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং সেন্টার (ম্যাটস) ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) গড়ে তোলা হয়। উদ্দেশ্য ছিল দক্ষ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট গড়ে তোলা। প্রায় ৬০ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। তবে জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে ম্যাটস ও আইএইচটিতে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন। তবে স্থায়ী শিক্ষক নেই একজনও। পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে যুক্ত করে কোনোমতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ডিগ্রি পেয়েছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিক নেওয়াজ জানান, প্রতিষ্ঠান দুটিতে শূন্য পদের সংখ্যা ১৩২টি। এর মধ্যে আইএইচটিতে ৮৩ ও ম্যাটসে ৪৯টি। এসব পদে নিয়োগ চেয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগ হয়নি।
এ কর্মকর্তার ভাষ্য, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৪ জন এবং কালীগঞ্জ ও দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছয়-সাতজন কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের দিয়েই দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক ও ঝাড়ুদারও আছেন। দুই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী শিক্ষক-কর্মকর্তা না থাকলেও এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে দুই ব্যাচে ২৩০ শিক্ষার্থী ডিগ্রি নিয়েছেন। এর মধ্যে আইএইচটি থেকে ১৮০ এবং ম্যাটস থেকে ৫০ জন পাস করেছেন।ৎ

সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ দেওয়ার পর কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানান আইএইচটির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জি এম ফারুকুজ্জামান। তিনি বলেন, নলতার এ দুটি প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ ছাড়াই কার্যক্রম ও ক্লাস শুরু হয়েছে। ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ধার করে এনে ক্লাস করানো হচ্ছে। বিনিময়ে এসব চিকিৎসককে ভাতাও দেওয়া হয় না। ফলে তাঁর প্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
একাধিকবার জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেও সাড়া মেলেনি। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে ৮৩টি শূন্য পদের জনবল চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পরও জনবল চেয়েও না পাওয়ার কারণ হিসেবে ফারুকুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটি ‘সি’ ক্যাটেগরির হওয়ায় জনবল নিয়োগে জটিলতা দেখা দিয়েছে। আর ম্যাটসের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জেলার সিভিল সার্জন শেখ সুফিয়ান রুস্তমের ভাষ্য, জনবল নিয়োগ না দিয়ে ক্লাস হওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য উদ্বেগের।
ম্যাটসে প্রতিবছর ৫২ ও আইএইচটিতে ১০৩ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানের এমন পরিস্থিতিতে হতাশ তারা। আইএইচটির রেডিওলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সজল ইসলাম, সম্রাট হোসেন, মাহফুজ হোসেন ও আসলাম হোসেন জানান, এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নেই– তারা আগে বুঝতে পারেননি। অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে আসা শিক্ষকদের দিয়ে কোনো রকমে ক্লাস চলছে। এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চতায় রয়েছেন তারা।
উপকূলীয় এলাকা সাতক্ষীরায় ম্যাটস ও আইএইচটি হওয়া স্থানীয়দের জন্য আনন্দের বলে মত জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের। তবে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের বিষয়টি চিন্তা করে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, জনবল নিয়োগের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন। আর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন মাতুব্বরের ভাষ্য, মামলার কারণে দীর্ঘদিন ম্যাটস ও আইএইচটিগুলোয় শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি এর সুরাহা হয়েছে। শিগগির নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।