Home Uncategorized গৃহবধূর চোখে-মুখে সুপার গ্লু: খুলনায় দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে ধূম্রজাল

গৃহবধূর চোখে-মুখে সুপার গ্লু: খুলনায় দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে ধূম্রজাল

166

 

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি গ্রামে চোখে-মুখে সুপার গ্লু দিয়ে ও হাত-পা বেঁধে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে ধূম্রজাল কাটেনি। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও শুধু গৃহবধূকে সুপার গ্লু দিয়ে ও হাত-পা বেঁধে বাড়ি থেকে কিছু মালপত্র নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

তবে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেনি এবং একা ছিল বলেও দাবি করেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীর স্বামী মামলার এজাহারে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় মামলা করেন। এর একদিন পর পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত ইমামুল ওরফে এনামুলকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাইকগাছার পূর্ব কাশিমনগর এলাকায় মাদক বিক্রি করার সময় পুলিশ এনামুলকে একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও ইয়াবাসহ আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। তখন মোবাইল ফোনটি নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বলে জানা যায়।

তবে চুরির কথা স্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেনি এনামুল। ফলে এ ঘটনা নিয়ে এখনও ধূম্রজাল কাটেনি। পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের পর স্থানীয় মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বলা হচ্ছে, চোরের মেশানো চেতনানাশক ওষুধ দেওয়া ভাত খেয়ে ওই নারী রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। তাহলে তাঁর অচেতন থাকার কথা। অচেতন থাকলে চোখে-মুখে সুপার গ্লু দেওয়া এবং হাত-পা বাঁধার প্রয়োজন হলো কেন? এ ছাড়া ঘরে অনেক জামাকাপড় থাকে, তা দিয়ে তাঁর হাত-পা না বেঁধে পরনের পোশাক খুলে বাঁধার কথা কতটা বিশ্বাসযোগ্য। এ ছাড়া গৃহবধূর গলা ও বুকে কামড়ের দাগ ছিল।

হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে ওই নারী জানিয়েছিলেন, রাত ১২টায় তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর পর রাতে কী হয়েছে তা তাঁর মনে নেই। মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, আমার স্ত্রী বাড়িতে আছে, এখন সে মোটামুটি সুস্থ। ধর্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আর কথা বলব না, যা জানার পুলিশের কাছ থেকে শোনেন।

এ ব্যাপারে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, সকালে ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর শরীরে কামড়ের দাগ ছিল। এ কারণে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে আমরাও ধারণা করছি। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়া এনামুল জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেনি। আমরা মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। ধর্ষণ হয়ে থাকলে অবশ্যই তা রিপোর্টে আসবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাইকগাছা থানার ওসি (তদন্ত) তুষার কান্তি দাস বলেন, এনামুল দুর্ধর্ষ অপরাধী, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিল কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এ ছাড়া ধর্ষণের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন রায় জানান, ওই গৃহবধূর মেডিকেল রিপোর্ট শিগগির তৈরি হয়ে যাবে। তখন বোঝা যাবে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কিনা।