শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
বিরল প্রজাতির সুন্দরবনের একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ক্রমেই দানা বাঁধছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও মৃত্যুর কারণ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ ময়নাতদন্তের সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক।
এদিকে অপত্যাশিতভাবে সুন্দরবনে একটি বাঘের এমন মুত্যর ঘটনায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। গত শনিবার (২৫ নভেম্বর) পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী স্টেশনের আওতাধীন কাছিকাটা এলাকা থেকে মস্তকবিহীন ওই বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবনে মাছ শিকারে যাওয়া একদল জেলে মৃত বাঘের মাংস অপর একটি বাঘ খাওয়ার বিষয়ে তথ্য দেয়। গত শনিবার তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মস্তকবিহিন বাঘের দেহাবশেষ নিয়ে কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। গত রোববার উপজেলা ভেটোনারি সার্জন ডা. সৌরভ মল্লিক মৃত বাঘের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।
উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা কৈখালী স্টেশন অফিসের ইনচার্জ সুলোজ কুমার দীপ জানান, নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তথ্যদাতারা ভিন্ন কৌশলে তাদেরকে কাছিকাটায় এলাকায় বাঘের মৃতদেহের সংবাদ পাঠায়। শিকারি চক্রের কাছে চামড়া সবচেয়ে মূল্যবান বিধায় চামড়া অক্ষত থাকায় তারা বাঘটির স্বাভাবিক মৃত্যুর ধারণা করছেন।
এদিকে ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা ডা. সৌরভ মল্লিক জানান, আনুমানিক ২০-২২ দিন আগে বাঘটির মৃত্যু হতে পারে। পুরুষ প্রজাতির ওই বাঘ প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন উল্লেখ করলেও তার মূল্যবান অঙ্গ-প্রতঙ্গসমুহ যথাস্থানে ছিল না, যে বিষয়ে তিনি মুখ খুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি বাঘটির মৃত্যর কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও ডা. সৌরভ মল্লিক এসব বিষয়ে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন বলে জানান।
এদিকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এ কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী জানিয়েছেন, রোববার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে। ময়নাতদন্ত শেষে বাঘের দেহাবশেষ কলাগাছিয়া এলাকায় মটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি জানান। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।











































