Home আঞ্চলিক খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য সম্মেলন

খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য সম্মেলন

240

খবর বিজ্ঞপ্তি।।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কারোর অধীনে নির্বাচনে যাবে না। তবে আমাদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এ জন্য আমাদের মনোনীত (খুলনা-৪, খুলনা-৫ ও খুলনা-৬) এলাকাতে নির্বাচনী কর্মকান্ড চালাতে হবে। নির্বাচনী কাজকে দাওয়াতি কাজ হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এখন থেকে ভালো প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে হবে। তিনি বলেন, একজন ভালো লোককে সমর্থন করলে আপনি নেকী পাবেন। সেই ভালো লোকটি জাতীয় সংসদে গিয়ে ভালো কাজ করবে। আর একজন খারাপ লোককে সমর্থন করলে তার খারাপ কাজের জন্য আপনি গুনাহগার হবেন। সেই খারাপ লোকটি জাতীয় সংসদে গিয়ে খারাপ কাজ করবে। ভোট হলো আপনার একটা আমানত। আপনার এই আমানতটি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের জন্য একজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীকেই দিতে হবে। তাহলেই আপনি কামিয়াব হবেন ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, যে হাত দিয়ে আপনি ভোট দিবেন, সে হাতটি তো আল্লাহ তায়ালা দান করেছেন। তারই বিধান বাস্তবায়নের জন্য যারা কাজ করছেন তাদেরকেই ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে পাঠাতে হবে। তাহলেই ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের আন্দোলনের সহযোগীতা করা হবে। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল সহযোগী সদস্যদেরকে জান-মাল কুরবানি করার প্রস্তুত থাকার আহবান জানান। গতকাল জুময়াবার সকালে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সহযোগী সদস্য সম্মেলন-২০২৩ এ ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সবাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য ও ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম, নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, ইসলামীর ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান প্রমুখ। সম্মেলনের শুরুতে দারসে কুরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। সম্মেলনে ইসলামী গান পরিবেশন করেন প্রেরণা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সদস্য জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মো. হেফজুর রহমান।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আল¬ামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জাতীয় সংসদে শিরকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পীকারকে বলেছিলেন-মানুষের কাছে মাথানত করা এটা শিরক। তখন স্পীকার বললেন-ঠিকই আছে। আপনি মাথানত করবেন না। সংসদে আগে আজান হলে নামাজের বিরতি দেয়া হতো না। সেটিও আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে সংসদে নামাজের বিরতি দেয়া শুরু হয়। মানুষ মারা গেলে সংসদে এক মিনিট নিরবতা পালন করার নিয়ম ছিল। সেটিও আমাদের সময় পরিবর্তন করে দোয়া করার বিধান চালু করা হয়। আর যারা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ^াসী তাদের জন্য দোয়া’র পাশাপাশি এক মিনিট নিরবতা পালন করার নিয়ম চালু রয়েছে। তিনি বলেন, মদ-জুয়া বন্ধের জন্য আমরা জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করেছিলাম। বিলটি পাস না হলেও আমরা জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হতে পেরে এটুকু তো করতে পেরেছিলাম। আমরা সংখ্যায় কম থাকায় বিলটি পাস হয় নাই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাজে সহযোগীতা করার জন্য যারা সহযোগী সদস্য হয়েছেন। তারা মূলত বাংলাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা ও কুরআনের আইন চালুর আন্দোলনের সহযোগী সদস্য হয়েছিলেন। এখনও সহযোগী সদস্য আছেন। অনেক দিন ধোয়া-মুছা না করলে যেমন মরিচা পড়ে যায়। তেমনি সহযোগী সদস্যদেরও মরিচা পড়ে গেছে। সেই ধুলা-বালি সাফ করে মান উন্নয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, সহযোগী দুই ভাবে করা যায়। তার মধ্যে একটি হলো অর্থ বা সম্পদ দিয়ে। আরেকটি হলো সময় দিয়ে। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে হলে সাধ্যমত সম্পদ ও সময় ব্যয় করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম ধাপ হলো সহযোগী সদস্য অর্থাৎ সমর্থক। এরপর সক্রিয় সহযোগী সদস্য, কর্মী, রুকন প্রার্থী ও রুকন হিসেবে শপথ নিতে হবে। তিনি বলেন, এই মান উন্নয়নের জন্য বেশী বেশী কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য পড়তে হবে। আর পড়েই শেষ করলে হবে না। এগুলো লিপিবদ্ধ করতে হবে। একজন কর্মীকে নিয়মিত বৈঠকে হাজির হওয়া, এয়ানত দেয়া, রিপোর্ট রাখা, সমাজ কল্যাণমূলক কাজ ও দাওয়াতি কাজ করতে হবে।
তিনি সহযোগী সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদেরকে বেশী বেশী ছালাম দিতে হবে। গরীব অসহায় লোকদের খেতে দিতে হবে। আর ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের জন্য শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের ভোটার যে, সেই আমাদের ভোট কর্মী। তিনি আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ সকল কারাবন্দীর মুক্তির দাবি জানান। আর যারা ইসলামী আন্দোলনের জন্য শাহাদাৎবরণ করেছেন তাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র হিসাবে কবুল করুন। তিনি মহিলা সহযোগী বোনদেরকে উদ্দেশ্যে বলেন, হযরত খাদিজা (রা.), হযরত আয়েশা (রা.) ও হযরত ফাতেমার (রা.) মতো ইসলামী আন্দোলনের ত্যাগ ও কুরবানি করার জন্য আল্লাহ তায়ালা উপযুক্ত করে দিন। আমীন।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, খুলনা মহানগরী ৮জন শহীদের রক্তে রঞ্জিত হওয়া মাটি। এ মহানগরী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি ঘাটি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ মহানগরীতে সক্রিয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংগঠনকে মজবুত করে রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন কারাকষ্টে রয়েছেন। তার জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া চান। তিনি যেন দ্রুত মুক্ত হয়ে আবারও এই ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে যুক্ত পারেন। তিনি আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ সকল কারাবন্দীর মুক্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, জামায়াতের গণভিত্তি রচনায় তৃণমূলের সহযোগী, কর্মী জনশক্তিদের অবদান সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এদেশের সবচেয়ে সু-সংগঠিত ও সু-শৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে সর্বমহলে প্রসংশিত। সহযোগী হিসেবে আমাদের সকলকে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আমাদের নিজেদের নাজাতের জন্য এবং জনসাধারণের স্বার্থে আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে আমাদেরকে ময়দানে থাকতে হবে। সবর করার বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনে অনেক বার তাগাদা দিয়েছেন। সেই আল্লাহর ঘোষণা যারা ধৈর্য ধারণ করবে তারা ইহকাল ও পরকাল উভয়স্থানে সফলতা অর্জন করবে। মনে রাখতে হবে যেকোনো আন্দোলনের জন্যই অনেক গুলো পথ অতিক্রম করে যেতে হয়। সুতরাং ধৈর্য্যচূত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলন সংগ্রামে আঘাত আসতে পারে। তাই সকল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করে পরবর্তী অবস্থানে উত্তীর্ণ হতে হবে।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আল¬াহ তায়ালা দুনিয়ার জীবনটাকে ত্যাগ ও কুরবানির জন্য পাঠিয়েছেন। প্রত্যেক পরিবর্তনের পেছনে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও নেতৃত্বের সীমাহীন ত্যাগ-কুরবানি রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব ত্যাগ-কুরবানি ছাড়া সম্ভব নয়। এই আন্দোলনের যেকোনো পর্যায়ের নেতৃত্বের আসনে যারা রয়েছেন, তাদেরকে সর্বোচ্চ ত্যাগ-কুরবানি ও ঈমানের পরীক্ষা দিতে হবে- এটাই স্বাভাবিক। স্বয়ং রাসূলুল¬াহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম ত্যাগ-কুরবানির নজরানা পেশ করেছেন এবং দৃষ্টান্তমূলক পরীক্ষা দিয়েছেন। পৃথিবীর কোনো বিপ্লবই ত্যাগ-কুরবানি ছাড়া সফল হয়নি। আমাদের সাবেক আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আব্দুল কাদের মোল¬া ও মীর কাশেম আলীসহ অনেকেই শাহাদাৎবরণ করে ত্যাগ কুরবানির নজরানা দিয়েছেন। ‘ইসলামী বিপ¬¬ব জান-মালের কুরবানি ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সমাজের কোনো রসম-রেওয়াজ এখানে বাধা হতে পারবে না। এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও ভালবেসে যাদেরকে বুকে আগলে রাখি, সেই সন্তান-সন্তুতি, পিতা-মাতা, ধন-সম্পদ ইত্যাদির মোহ ত্যাগ না করলেও ইসলামী বিপ্লব সম্ভব নয়। এক কথায় ইসলামী বিপ্লব সাধনে আমাদেরকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে আল¬াহ ও আল¬াহর রাসূল (সা.)-কে প্রাধান্য দিতে হবে। ইসলামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদেরকে ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদেরকে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও কুরবানির নজরানা পেশ করে শহীদদের রক্তে রঞ্জিত এ ভূমিতে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা নীরব হবো না, নিথর হবো না, যতক্ষণ না ইসলামকে একটি বিজয়ী আদর্শ হিসেবে দেখতে পাবো।’ তিনি বলেন, সংগঠনের কর্মী হিসেবে যে কাজগুলো করার কথা বলছি, তা মূলত একজন ঈমানদার মুসলমানেরই কাজ। দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা কাজ করছি। যে নামাজ পড়ে মুসুলি¬ হয়েছি, সেই নামাজের দাবিই হচ্ছে দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা। তাই দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ থেকে নিজেদের দূরে রাখা যাবে না। সহযোগী থেকে কর্মী হয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আরো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, আল্লাহর দ্বীনের কাজ, মানুষকে হেদায়াতের পথে নিয়ে আসার ইসলামী আন্দোলনের কাজে আঞ্জাম দিতে আমাদেরকে অত্যন্ত কঠিন সবরের পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। এটা যেন তেন ভাবে করা যায় না। হৃদয়ে ভালোবাসা ও ইখলাসের সাথে এ কাজ করে যেতে হবে। পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আন্দোলন হিসেবে আল্লাহর জমিনে তাঁরই দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টায় জামায়াতে ইসলামীর সহযোগীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।