মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি ।।
মাগুরার মহম্মদপুরে ছাত্রদল নেতা তৈয়েব হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে। হত্যা মামলা হওয়ার পর থেকেই ওই গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।
এ সুযোগ নিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে কয়েক হাজার লোকজন ১০-১২টি বাড়িতে এ হামলা, ভাংচুর, ও লুটপাট চালায়।
তৈয়েব নাওভাঙ্গা ছলিমের চর গ্রামের আবুল কামাল হেড মাস্টারের ছেলে। তিনি রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলার আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাটের চলছে- এমন সংবাদ পাওয়ার পরেই পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে এ বিষয়ে একটি মামলাও হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে জানান, রোববার রাতে উপজেলার নাওভাঙ্গা গ্রামের ফুল মিয়া বিশ্বাসের ছেলে কৃষক দল নেতা জিবলু রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তৈয়েবের গলায় নৌকা ঝুলানো একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটি ২০১১ সালের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় তোলা ছিল।
পোস্ট করে লেখেন- মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির নেতাদের কাছে প্রশ্ন আওয়ামী লীগের কর্মী ছাত্রদলের রাজাপুর ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি হয় কিভাবে। তৈয়েব বিষয়টি দেখতে পেয়ে জিবলু মাতুববর জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানান। জিবলু ডিলিট করে দিবে বলে আশ্বাস দেয়। পরে তিনি বাড়ির দিকে আসতে ছিল চর নাওভাঙ্গা দক্ষিণপাড়া মোড়ের ফিরোজের বাড়ির সামনে পৌঁছলে পেছন থেকে জিবলুর নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তৈয়ব গত বুধবার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় জিবলু, জাহাঙ্গীর, সালাম সরদার, ফিরোজসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা করে মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন নিহতের বাবা আবুল কালাম আজাদ।
মামলা হওয়ার খবর শুনে আসামিপক্ষের সব লোকজন গ্রেফতারের ভয়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়। এ সুযোগ পেয়ে নিহতের স্বজনরা মিলে আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়ি-ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।
ভুক্তভোগী ফিরোজের স্ত্রী বলেন, তৈয়েব হত্যার পর তার লোকজন আমাদের দলের লোকজনের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে সব মালামাল নিয়ে গেছে। তাদের ভয়ে নারী শিশুরা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ বাড়িতে থাকলেও বাজার ঘাটে ও স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না।
মহম্মদপুর থানার ওসি বোরহান উল ইসলাম জানান, আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়ি-ঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামি আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।











































