Home আঞ্চলিক এবারের খুসিক নির্বাচনে কী ভাবছেন তরুণ ভোটাররা

এবারের খুসিক নির্বাচনে কী ভাবছেন তরুণ ভোটাররা

18
প্রতীকী ছবি

কাজী মোহাম্মদ ইউনুছ।।
এবার প্রায় অর্ধলাখ নতুন ভোটার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। এই নির্বাচন নিয়ে তরুণদের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী আমেজ, তেমনি ভাবে কিছু কিছু ভোটারদের মধ্যে শঙ্কাও কাজ করছে। আবার কেউ কেউ অনেকটা এই নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়া নিয়েও ভুগছেন দ্বিধায়।
সরকারি আযমখান কমার্স কলেজ থেকে সদ্য গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন ফারিয়া সুমাইয়া ২৬নং ওয়ার্ডের ভোটার। বিগত দিনে তিনি যে ক’টি নির্বাচন দেখেছেন তাতে ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে আশ্বস্থ হতে পারেননি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েও ফিরে এসেছেন। এবার প্রথমবারের মতো সিটি নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই তরুণী। সুমাইয়া বলেন, ‘এবার নির্বাচনে বড় একটি দল অংশ নিচ্ছে না। এরপরও আমার ভোট দিতে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা আছে।’
২৬নং ওয়ার্ডের আরও একজন নতুন ভোটার ফারজানা ইয়াসমিন কলি তিনি এ বছরই তার নিজ এলাকা মোরেলগঞ্জ পৌরসভা থেকে নাগরিকত্ব স্থানন্তর করে ২৬নং ওয়ার্ডের নিয়ে এসেছেন। তিনি এবারের সিটি নির্বাচনে খুলনায় প্রথম বার ভোট দিবেন। তিনি বলেন ‘যদি ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর হয় তাহলে ভোট দিতে যাবো, আর উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ হলে ভোট কেন্দ্রে যাবো না।’
এবার খুলনা নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে এবার ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৪ জন। ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনের সময় ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এবার ভোটার বেড়েছে ৪২ হাজার ৪৩৬ জন। মোট ভোটারের বিশাল একটি অংশ তরুণ ভোটার। এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখে তরুণ ভোটারদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন মেয়র পদপ্রার্থীরা। তাঁরা সবাই নির্বাচিত হলে তরুণদের জন্য সার্বিক ভাবে কাজ করার আশ্বাস জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় বলেন, ‘খুলনার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ নতুন ভোটার। খুলনার এই তরুণদের নিয়ে আমার আলাদা চিন্তাভাবনা আছে। খুলনার তরুণ সমাজ তারা তাদের মতো করে থাকতে চান, ঘুরতে চান, ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে খুলনাকে আধুনিক শহর হিসাবে দেখতে চান, নিজেদের কথা সবাইকে জানাতে চান। বিশ্বকে নিজেদের মতো করে দেখতে ও দেখাতে চান। তাঁরা নিজেদের একটি স্মার্ট শহরের অধিবাসী হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন।’
৪০ দফা ইশতেহারে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি নগরের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বাসস্টপেজসহ বিনোদনকেন্দ্রে বিনা মূল্যে ওয়াই–ফাইয়ের ব্যবস্থা করবেন। কেসিসির উদ্যোগে একটি ই-লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হবে। নাগরিক সমস্যা জানানো, সেবা ও প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে। সব সেবাকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল করা হবে এবং ই-সেবা চালু করা হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী আবদুল আউয়াল নির্বাচনী ইশতেহারে বেকার যুবশক্তির কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি খামার গড়তে উৎসাহ প্রদান ও নগর অর্থ বিভাগ থেকে ঋণের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করেছেন। তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ দিয়ে আয়ের পথ সৃষ্টি করারও ঘোষণা দেন তিনি।
স্বতন্ত্রপ্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে যুবসমাজের মতামতের ভিত্তিতে তারুণ্যর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মেয়র পদের অন্য দুই প্রার্থীও তরুণদের জন্য উপযোগী শহর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা শাখার সভাপতি কুদরত-ই-খুদা এই প্রতিবেদককে বলেন, বয়স্ক ব্যক্তিদের তুলনায় তরুণ ভোটাররা বেশি ভোটকেন্দ্রে যাবেন। তাঁরা নতুন ভোটার, ভোট দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের আগ্রহ অনেক বেশী কাজ করে। অতটা রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণ না করে যাঁদের পছন্দ হবে; যাঁদের কথা ভালো লাগবে, তাঁদেরই ভোট দেবেন তরুণ ভোটাররা।###