খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে ‘আর্ট, আর্টিস্ট এবং ক্রিয়েশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা আজ ২২ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকের জীবন দর্শন ভিন্ন ভিন্ন রকম। শিল্পীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন সবার থেকে আলাদা। তাদের সৃজনশীল কর্মের মধ্য দিয়ে জীবনের নানা দিক ফুটে ওঠে। মননের নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলা বা সেই দর্শনবোধ সৃষ্টিতে শিল্পীর অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। সৃজনশীলতার মাধ্যমে জ্ঞান ও সভ্যতার বিকাশে প্রিন্টমেকিং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকাশের এই যুগে বইকে সহজলভ্য করার পেছনে রয়েছে প্রিন্টমেকিং। উড ব্লকের পর থ্রিডিসহ অন্যান্য প্রিন্টিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রিন্টমেকিংয়ের ভূমিকা রয়েছে। উপাচার্য বলেন, সভ্যতার বিকাশ ও কৃষ্টির সাথে আমাদের ঐতিহ্য ভুলে গেলে চলবে না। দেশের ঐতিহ্য ধরে রাখতে লোকজ দিকগুলো প্রিন্টের মাধ্যমে তুলে ধরে তা বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
আজকের এই কর্মশালায় উপস্থিত খ্যাতনামা শিল্পীদের আলোচনা থেকে সৃজনশীলতার প্রসার ঘটবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও আলোকিত হবেন বলে উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন। এ বছর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে ৪ কোটি টাকার মতো নতুন দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এই আলোচনা থেকে গবেষণার নতুন নতুন বিষয়ে উঠবে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দেশবরেণ্য শিল্পী প্রফেসর রফিকুন নবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর নিসার হোসেন। অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিল্পী জয়ন্ত নস্কর। সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা স্কুলের ডিন ও প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো. নাদিমুদ্দৌলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চারুকলা স্কুলভুক্ত বিভিন্ন ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্বের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী প্রফেসর নিসার হোসেন ‘দি প্রব্লেম এন্ড পসিবিলিটিস অব ফোক আর্ট রিসার্চ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। এরপর ‘লিভিং উইথ আর্ট এন্ড মাই ওয়ার্কস’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের খ্যাতনামা শিক্ষক প্রফেসর রফিকুন নবী। এছাড়া ওয়াটার এন্ড রিডিউসার বেজড সেরিগ্রাফি শীর্ষক ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন ভারতের শিল্পশিক্ষক জয়ন্ত নস্কর।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের
তৃতীয় পুনর্মিলনী আগামীকাল, উৎসবমুখর ক্যাম্পাস
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন খুলনা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (কুআ) তৃতীয় পুনর্মিলনী আগামীকাল ২৩ ডিসেম্বর (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে। পুনর্মিলনী উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ৯.৩০ মিনিটে হাদী চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি, সকাল ১০টায় আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সকল উপাচার্যকে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, ট্রেজারার অধ্যক্ষ অমিত রায় চৌধুরী ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মনিরুল হাসান তুহিন।
অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ফজলে রেজা সুমন জানান, সপরিবারে তিন সহস্রাধিক অ্যালামনাই এই পুনর্মিলনীতে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এবারের পুনর্মিলনী উপলক্ষ্যে দৃষ্টিনন্দন লোগো ও প্রতিপাদ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘রিটার্ন, রিইউনিট, রিএনগেজ’।
অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনা সম্পাদক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকাশনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ব্যান্ডের অংশগ্রহণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যা আগামীকাল বিকেল থেকে শুরু হবে। এছাড়া আজ সন্ধ্যায় মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই পুনর্মিলনীকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।











































