>> প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা
স্টাফ রিপোর্টার ।।
অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলে রাখার জন্য কতটা নিচে নামা যায়; কতটা হীন মানুসিকতার পরিচয় দেয়া যায় তা দেখতে হলে যেতে হবে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের পারঝনঝনিয়া গ্রামে। সে গ্রামের জনৈক এবাদাত আলী গং আপন ভাইয়ের সম্পত্তি দখলে রাখার জন্য ভাইপো-ভাইজিকে করেছেন অস্বীকার, ভাইপোর নামের আগে জারজ তকমা দিতেও ছাড়েননি তারা। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে এবাদত আলীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা গিয়েছিলাম ওই গ্রামে। সেখানে গিয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী শাহরিয়ার নেওয়াজ রানার সাথে। ১৫ বছর আগে রানারা চাচাদের চক্রান্তে দেশের মায়া ছেড়ে পাড়ি জমায় ফ্রান্সে। ওই সময় রানার বয়স ছিলো ১০ বছর। ফ্রান্স প্রবাসী রানা স্পষ্ট করে বাংলা বলতে পারেন না। আধো আধো বাংলায় তিনি বলেন তার বাবা নেয়ামত শেখ ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও অঢেল সম্পত্তির মালিক। ২০০৭ সালে হঠাৎ স্ট্রোক তিনি মারা যান। অবশ্য ওই সময়ে বাবার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিলো কিনা তা নিয়েও তার প্রশ্ন রয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার সময় রানা’র বয়স ছিলো ১০ বছর, ছোট বোন সুমাইয়া আক্তারের ৮ বছর। রানার অসহায় মা শাহান আক্তার ছোট্ট দুইটি সন্তান নিয়ে যখন দিশেহারা তখন চাচারা হাল ধরেন ব্যবসাসহ সকল সম্পত্তি রক্ষার। বাবা (নেয়ামত শেখ) মারা যাওয়ার পরে চাচারা তার মাকে বলেন, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাতে হলে দেশে না থাকাই ভাল। বড় চাচা এবাদত আলী শেখ বিভিন্নভাবে বোঝায়ে রানা, রানার বোন ও মাকে ফ্রান্সে নিয়ে যান। ওই সময়ে চাচা এবাদত আলী ভুল পরিচয়ে পাসপোর্ট (গলাকাটা পাসপোর্ট) ও ভিসা তৈরী করে তাদের ফ্রান্সে নিয়ে যায়। ফ্রান্সে যাওয়ার পর তাদের ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। খেয়ে না খেয়ে দিনকাটে তাদের।
ফ্রান্সে যেমন কেটেছে রনিদের জীবন: শুরুতে রানার মা মোটেই টের পায়নি গোপালগঞ্জ থেকে দুটি অবুঝ বাচ্চাকে নিয়ে কেন ফ্রান্সে নিলো দেবর। অনেকটা ঘটা করে মমত্ববোধ নিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাড়িয়ে ছিলো সুচতুর এবাদত শেখ। গোপালগঞ্জ থেকে ফ্রান্সে নেয়ার পর পরই এবাদতের আসল চরিত্র বেড়িয়ে আসতে শুরু করে। মায়ের কাছ থেকে শোনা গল্পে সেই সময়ের শিশু রনি আজ পচিশ বছরের যুবক রানা; সে জানায়, ফ্রান্সে গিয়ে তাদের দিন কেটেছে পার্ক, বিভিন্ন স্টেশন বা হাসপাতালের বারান্দায়। পরবর্তীতে ওই দেশের সরকারি অনুদানে থাকার জন্য একটি ঘর পায়। সেই অনুদানের ঘরে প্রায় ১০ বছর বসবাস করার পরে তারা ওইদেশে (ফ্রান্সে) তারা বৈধতা পেয়েছে। ওই সময়ে তাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি চাচা ও ফুফুরা।
নানাকে দেখতে ঢাকায় রনি: চলতি বছরে ফ্রান্সে বসে খবর পায় ঢাকা বসবাসরত নানা (মায়ের বাবা) মঞ্জিল উদ্দীন তালুকদার বেশ অসুস্থ। গত মে মাসে নানাকে দেখতে সে ঢাকায় আসেন। তখন যোগাযোগ হয় ফুফু শিল্পী আক্তারের সাথে। জানতে পারে ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাবার নামে জমি রয়েছে। সেখানেই থাকেন শিল্পী ফুফু। ফুফুর সাথে কথা বলে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে আসে রনি। তবে তার ফিরে আসাটা গ্রামের সবাই ভালো চোখে দেখলেও, ভালো ভাবে নেয়নি তার চাচারা। গ্রামে এসে জানতে পারে বাবার রেখে যাওয়া গ্রামের বাড়িটি দেখাশোনা করে তার আরেক চাচা বন্দে আলী শেখ। রনি গ্রামে ফিরে রনি প্রথমে চাচা বন্দে আলীর বাড়িতে ওঠেন। বাড়িতে থাকা অবস্থায় একদিন মেঝ চাচা রনির মাকে সকল সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দিতে বলে। ওই প্রস্তাবে তার মা রাজি না হলে, তাদেরকে চাচা বাড়ী থেকে বের করে দেয়। তখন রনি বাবার ঘরটি ফেরত চাইলে, চাচারা রাগন্বিত হয়ে উঠে। এমনকি তাড়াহুড়ো করে বাবার তৈরী ঘরটি রাতারাতি ভেঙে বিক্রি করে দেয়।

দ্বারে দ্বারে ঘুরছে রানা: দীর্ঘদিন প্রবাসী জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে বাবাহারা রানা পিতার রেখে যাওয়া চাচাদের দখলে থাকা বিপুল পরিমান সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য রানা এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ওয়ারেশকাম সার্টিফিকেট আনতে গেলে সেখানেও বাধা দেয় চাচারা। এমনকি চাচারা তার নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করেছেন রানা ও তার বোন তার ভাইয়ের সন্তান না। তাদের ডিএনএ টেস্টে ছাড়া যেন নামজারি না করার জন্য।
বন্দে আলী শেখ যা বললেন: রানার বাবা মারা যাওয়ার পরে আমাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে তার মা। রানাকে সেই টাকা পরিশোধ করতে বলেছি। রানার বাবার কোন সম্পত্তি নেই। যারা আমাদের এলাকার শত্রু, তাদের সাথে মিশে রানা এলাকায় এসে এসব অবৈধ দাবি করছে। বন্দে আলী শেখ আরো বলেন, রানা তার বাবার সম্পত্তি পাবে। তবে রানাদের পাসপোর্টে বাবার নাম অন্য একজনের নাম রয়েছে। তাই আমরা মামলা করেছি। আদালত সিদ্ধান্ত দিবে।
রানার বক্তব্য: ভুক্তভোগী রানা’র প্রতিবেদককে জানান, বাবার মৃত্যুর আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে গেছেন। বাবা মারা যাওয়ার পরে ওই সম্পত্তি ভোগ করে আসছেন তার চার চাচা। গ্রামের বাড়ি দেখাশোনা করেন বন্দে আলী শেখ। ঢাকার সম্পত্তি দেখভাল করেন ওই চাচা এবাদত শেখ। বাকি দুইজন চাচার একজন আয়াতুল্লাহ থাকেন ফ্রান্সে এবং ওবাইদুল্লাহ বসবাস করেন গোপালগঞ্জে। তার বাবার সম্পত্তি অবৈধ, অনৈতিকভাবে চাচারা আত্মসাত করার জন্য বানোয়াট ও কাল্পনিক মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।











































