Home আঞ্চলিক ৩০ চিকিৎসকের একযোগে ভ্রমণ নিয়ে তোলপাড়

৩০ চিকিৎসকের একযোগে ভ্রমণ নিয়ে তোলপাড়

9

> তিন দিনে ১১ জনের মৃত্যু * ৬২ রোগী চলে গেছেন * ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বাম দলের স্মারকলিপি

যশোর  অফিস।।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের ৩০ চিকিৎসকের একযোগে ছুটি নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক সেমিনারের নামে তারা সোম, মঙ্গল ও বুধবার হাসপাতালের বাইরে ছিলেন। এ তিন দিনে সেবা না পেয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ১১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ না হয়েও ৬২ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের যশোরের নেতারা।

জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

জানা গেছে, এক মাস আগে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামানকে প্রধান উপদেষ্টা ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. হিমাদ্রি শেখরকে সভাপতি করে ‘ডক্টর সার্জনস ওয়েল ফেয়ার’ গঠন করা হয়। এ সংগঠনের ব্যানারে হাসপাতালের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও জুনিয়র কনসালট্যান্টরা সেমিনারে যান।

রোববার ইএনটি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রাশেদ আলী মোড়লের কাছে দায়িত্ব দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক মো. আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে ৩০ চিকিৎসক ভ্রমণে যান। এতে বিপাকে পড়েন হাজারো রোগী। এ ঘটনায় চিকিৎসকরাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ-বৈজ্ঞানিক সেমিনারের নামে ওষুধ কোম্পানির অর্থে চিকিৎসকরা ভ্রমণে গিয়েছিলেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিন দিনে ৬২ জন রোগী বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রার খাতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওইসব রোগীকে পলাতক দেখিয়েছে। শহরের জামরুলতলা এলাকার ইয়াসমিন খাতুন চিকিৎসা না পেয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, পেটে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কয়েকবার চিকিৎসা দেব-দিচ্ছি বলে সময় পার করেন। হাসপাতালে বড় কোনো চিকিৎসক নেই-নার্সদের মাধ্যমে এ তথ্য জানার পর তিনি পাশের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের যশোরের সমন্বয়ক কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটুর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, চিকিৎসাব্যবস্থাকে অরক্ষিত রেখে চিকিৎসকরা দায়িত্বহীন ও মানবিক মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ করেছেন। চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান জানান, সার্জনস ওয়েল ফেয়ারে যোগ দিতে হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ৩০ জন কক্সবাজারে গিয়েছিলাম। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ফিরে এসে সবাই বৃহস্পতিবার থেকে ডিউটি করছি।