সাবজাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥
অসহায় বিধবা উন্নতি রানী বিশ^াস। বেশ কয়েক বছর আগে তার স্বামী মারা যায়। এরপর ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। হোটেল শ্রমিক ছেলের অর্জিত আয়ে ভর করে বসবাসের জন্য ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের কাবিলপুর গ্রামে ৪ শতক জমিও কিনেছিলেন। এরপর মানুষের সহযোগীতায় বাঁশ খুঁটি টাকা জোগাড়ের মাধ্যমে বেড়ায়ঘেরা একটি টিনের ঘর নির্মান করেন। তাদের আশা ছিল দু এক একদিনের মধ্যে নতুন ঘরে উঠবেন। সেখানে শান্তিতে বসবাস করবেন। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কেননা রোববার গভীর রাতে কেবা কারা আগুন ধরিয়ে ছাই করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখায় ধুলিস্মাৎ হয়ে গেছে ঘরের মধ্যে থাকা জিনিসপত্র।
অসহায় উন্নতি বিশ^াস জানান, এক ছেলে এক মেয়ে তার। মেয়ে মনিতা বিশ^াসের বিয়ে দিয়েছেন। এখন একমাত্র ছেলে হোটেল শ্রমিকের কাজ করে। তার রোজগারে কোন রকম চলে মা-ছেলের সংসার। ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কাবিলপুর গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আসাদুর রহমানের নিকট থেকে বাড়ি নির্মানের খুব কষ্টে ৪ শতকের এ জমিটি তারা কেনেন। কিন্ত এটি পাশে বসবাসকারী সুধান্ন বিশ^াসও কিনতে চেয়েছিলেন। তারা জমিটি না কিনতে পেরে আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। যে কারনে তারা আমাদের সহিত সব সময় বাজে আচরন করে। এমনকি মাঝে মধ্যে হুমকি ধামকি দেন। গত একদিন আগেও আমার সঙ্গে সুধান্ন বিশ^াসের ঝগড়া হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারাই গভীর রাতে ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে আমরা মনে করছি।
এ বিষয়ে সুধান্ন বিশ^াস বলেন, তারা না দেখে আমাদের মিছেমিছে দোষারোপ করছে। রাতে চেচামেচি শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখি আগুন জ¦লছে। এরপর আমিও দৌড়ে যায়।
ওই গ্রামের ইউপি সদস্য আতাউর রহমান খান বলেন, অসহায় উন্নতি বিশ^াস কাবিলপুর, খানজাপুর ও খালকুলা এই তিন গ্রামের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে খুব কষ্ট করে ঘরটি করেছেন তারা। তারপরও গত কয়েক দিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। এক পর্য়ায়ে গর রোববার উভয়ের মধ্যে গোলমাল তীব্র হয়। এরপর রাত ২ টার দিকে দেখতে পান ওই বিধবার ঘরে দাউ দাউ করে আগুনে জ¦লছে।
জামাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের হোসেন মন্ডল জানান, রাতের আধারের কে বা কারা আগুন দিয়েছে তার বোঝার উপায় নেই। অসহায় গৃহবধুর নতুন ঘরটি আগুনে পুড়ে এভাবে ছাই হওয়াটা সত্যিই দুঃখজনক।
তবে এলাকাবাসী অধিকাংশের ভাষ্য, আসলে গভীর রাতে বিধবার ঘরে কে আগুন জ¦ালিয়েছে তা কেউ দেখেনি। পাশের সুধান্ন বিশ^াসের সঙ্গে উন্নতি বিশ^াস ও তার ছেলের প্রায়ই ঝগড়া হতো এটা সঠিক। একদিন আগেও তাদের মধ্যে বড় ধরনের ঝগড়া হয়েছে। ফলে রেগে সুধান্ন বিশ^াস এটা করতে পারে। আবার অন্যপক্ষও এটা ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে। অন্যদিকে নিজে ঘটিয়েও সুধান্ন বিশ^াসকে তারা ফাঁসাতেও পারেন। আসলে কেউ দেখেনি ঘটনাটি কে ঘটিয়েছে। ফলে কাউকে সঠিকভাবে দোষী বলার সুযোগ নেই। তবে সুধান্ন বিশ^াস তাদের সঙ্গে যে আচরন করে সেটা দুঃখজনক।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিম মোল্ল্যা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেয়ে আমি দেখেছি। একজন অসহায় বিধবার যে ক্ষতি হয়েছে তা সত্যিই দুঃখজনক। তবে এ বিষয়ে এখনও কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।











































