কেইউজের সদস্য মো. শাহ আলম ও আব্দুল মালেক এর সুস্থতা কামনা
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম চোখের অপারেশনজনিত কারণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক প্রোস্টেট গ্লান্ডে অপারেশনজনিত কারণে শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আজ মঙ্গলবার (০৪ অক্টোবর) দুপুরে তাঁদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে যান ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিয়াজ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. জয়নাল ফরাজী, সদস্য আসাফুর রহমান কাজল ও সাংবাদিক শেখ মো. সেলিম।
এদিকে অসুস্থ দুই সিনিয়র সদস্যের আশু সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিবৃতি প্রদান করেছেন কেইউজের নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ, সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও আলমগীর হান্নান, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিয়াজ, যুগ্ম সম্পাদক নেয়ামুল হোসেন কচি, কোষাধ্যক্ষ দিলীপ বর্মন, দপ্তর সম্পাদক শেখ আব্দুল হামিদ, নির্বাহী সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, মিলন হোসেন ও শেখ জাহিদুল ইসলাম।
আশাশুনিতে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালন
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনিতে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস-২০২২ উদযাপন উপলক্ষে আলেচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা মহিলা বিষয় দপ্তরের আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়ানুর রহমান। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুহুল কুদ্দুছ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ খান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, আশাশুনি প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, মহিলা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক আফরোজা সুলতানা প্রমুখ। বক্তাগণ ” সময়ের অঙ্গীকার কন্যা শিশুর অধিকার” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আলোচনা রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রশিক্ষক সরমীন চৌধুরী এবং গীতা থেকে পাঠ করেন প্রশিক্ষনার্থী অলোকা বিশ্বাস।
আশাশুনিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে ওয়াইফাই শ্রমিক আহত
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া কালিবাড়ী বাজারে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত শ্রমিকের নাম সোহাগ সরদার (২৪)। তিনি ইউনিয়নের বকচর গ্রামের আঃ গনি সরদারের ছেলে। তাকে আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ওয়াইফাই লাইন পরিচালক একই গ্রামের সালাম সরদারের ছেলে মেহদী হাসান নাকতাড়া কালিবাড়ী বাজারে গোলাম মোস্তফার বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলায় ভাড়াটিয়ার ওয়াইফাই লাইন সংযোগ দেওয়ার কাজ করছিলেন। সোহাগ সরদার দ্বিতীয় তলার ছাদে উঠে ওয়াইফাই এর তার টানার সময় অসর্কতাবশতঃ বিল্ডিং কাছ দিয়ে চলে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইনে স্পর্শ করলে তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিটকে পড়েন। সাথে সাথে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে সোহাগের ডান হাত ও পিঠের অংশ বিশেষ ঝলছে গেছে। খবর পেয়ে আশাশুনি থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি টিম ঘটনাস্থানে পৌছে সোহাগকে উদ্ধার করে দ্রুত আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করেন। কালিবাড়ি বাজার কমিটির সেক্রেটারী জুলফিকর সরদার বলেন, ওয়াইফাই তার টানানোর সময় সে বিদ্যুতায়িত হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আশাশুনি ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থানে গিয়ে বিদ্যুতায়িত সোহাগকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। কিভাবে বিদ্যুতায়িত হয়েছে তা দেখার বা জানার সুযোগ তাদের হয়নি।
গোয়ালডাঙ্গা দুর্গাপূজা মন্দিরে এমপি রুহুল হক
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরসহ বিভিন্ন শারদীয়া দুর্গোৎসব মন্দির পরিদর্শন ও আগত ধর্মপ্রাণ মানুষের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগদান করেছেন এমপি ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক। সোমবার মহা অষ্টমীর দিনে রাত্র ৯ টার দিকে তিনি মন্দিরে গমন করেন।
সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিশাল গাড়ি বহরে মন্দিরে পৌছলে সনাতন ধর্মাবলম্বী শত শত মানুষ তাকে উলুধ্বনী দিয়ে বরণ করে নেন। বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র সানার সভাপতিত্বে গোয়ালডাঙ্গা দুর্গাপূজা মন্ডপের সামনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আফম রুহুল হক এমপি। প্রভাষক শিবপদ সরকারের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি নীলকণ্ঠ সোম, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুজিৎ মন্ডল, অর্থ সম্পাদক রাজ্যেশ্বর দাশ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্ত্তী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসলেমা খাতুন মিলি, কাদাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান দীপঙ্কর কুমার সরকার দিপ, দরগাহপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মিরাজ আলি, কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ছাকি পলাশ, সাবেক চেয়ারম্যান আঃ আলীম মোল্যা, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক সুবোধ চক্রবর্ত্তী, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ কুমার বৈদ্য, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সুরঞ্জন কুমার ঢালী, সাধারণ সম্পাদক আঃ রহমান ফকির, গোয়ালডাঙ্গা পূজা মন্ডপের সভাপতি পিয়াস কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক প্রভাত রাহা, বড়দল ইউপির সকল মেম্বারবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান অতিথি আশাশুনি সদর দুর্গাপূজা মন্দির ও মহেশ্বরকাটি দর্শনীয় দুর্গাপূজা মন্দির পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন।
প্রতাপনগরে জবর দখলের প্রতিকার পেতে আশরাফ পথে পথে
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মৃত জনাব আলি গাজির ছেলে আশরাফ আলি বেআইনী জবর দখলের প্রতিকার পেতে এমপি-মন্ত্রী, ডিসি-ওসি, চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হয়েও প্রতিকার মিলাতে পারেননি। অসহায় আশরাফ বেআইনী দখলবাজের কাছে কি অনন্তকাল জিম্মী হয়ে থাকবে? এমন প্রশ্ন ছুড়ে এলাকার সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে।
আশরাফ হোসেন প্রতাপনগর মৌজায় এসএ ৫৯২ খতিয়ানে, বিএস ১৬৩৬ খতিয়ানে বিএস ৪১৫৮ ও ৪০৫৭ দাগে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমির মালিক। একই গ্রামের মৃত রহিম বক্স গাজীর ছেলে ইয়াছিন তার নামে রেকর্ড হওয়া বিএস ৬৪৬ খতিয়ানে বিএস ৪০৫৭ দাগের জমিতে দখল না নিয়ে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে আশরাফের জমি দখল করছেন। এমনকি তার ১০ হাত প্রস্থ ও ১২ হাত দৈর্ঘ জমির পরিবর্তে দ্বিগুণ জমি দখলে নিয়েছেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মৌখিক ও স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে থাানয় অভিযোগ করেন। কিন্তু বিচার না পেয়ে তিনি এমপি রুহুল হকের কাছে গেলে ওসি আশাশুনিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেন। ওসি ও তাঁর প্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার বসাবসি ও দু’পক্ষের দু’জন আমিন ও বাজার কমিটির সভাপতি/সদস্যদের উপস্থিতিতে মাপ জরিপের ব্যবস্থা করেন। সকলের স্বাক্ষরিত মাপ জরিপের তথ্য সম্বলিত রিপোর্ট থানায় জমা হলেও কোন প্রতিকার করা হয়নি। ফলে অবৈধ দখলখারী আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাকে ও তার পরিবারের লোকজনকে হুমকী ধামকী দিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাদীপক্ষ আতঙ্ক গ্রস্ত হয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন উপায়ান্তর না দেখে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে চলে যান বঞ্চিত ও লাঞ্চনার শিকার আশরাফ। মাননীয় মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তার অভিযোগ পত্র প্রাপ্ত হয়ে এডিসি (রেভিনিউ) দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাশুনিকে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছেন।
গোয়ালডাঙ্গা হাই স্কুলে ভূয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে ভোটার তালিকার অভিযোগ
আশাশুনি প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা ফকিরবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভূয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি ও অুনমোদনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
ফকিরবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভোটার তালিকা করেছেন। সবশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর ০৫ নং মিটিং এ চুড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুমোদন করা হয়। প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর সম্বলিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু তালিকায় স্কুলের ছাত্রছাত্রী নয় এমন শিক্ষার্থীদেরকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকগুলো অভিযোগের মধ্যে স্কুল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুল, বড়দল মিশন স্কুল ও বড়দল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর একেবারেই নিকটবর্তী বড়দল গ্রামে বসবাসকারী কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ভোটার তালিকার ভোটার নং ও শ্রেণি উল্লেখ করা হলো। ভোটার নং ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৯৯, ১০০,১০১, ১০২, ১০৩, ১০৪, ১০৫ (৬ষ্ঠ শ্রেণি)। ১৭৭, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০, ১৮১, ১৮২ (৭ম শ্রেণি)। ২৬৩, ২৬৪, ২৬৫, ২৬৮, ২৬৯, ২৭০, ২৭১ (৮ম শ্রেণি)। এসব শিক্ষার্থীরা পাশের স্কুলগুলোতে পড়ালেখা করে থাকে দাবী করে একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এদেরকে ভোটার বানিয়ে প্রধান শিক্ষক তার নিজের পছন্দনীয় কাউকে বিজয়ী করতে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। শুধু এরা নয় ভোটার তালিকা যথাযথ ভাবে পরীক্ষা করা হলে আরও অনেক কিছু বেরিয়ে আসতে পারে।
এব্যাপারে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ভোটার নং ১৭৯, ক্রমিক নং ১৮০, ৭ম শ্রেণির ছাত্রী (শ্রেণি রোল ৮২) তুলি মন্ডলের পিতা তোতন মন্ডলের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, তার মেয়ে বড়দল মিশন স্কুলে পড়ে। তার রোল নং ১। অন্যদিকে ভোটার নং ১৮১, ক্রমিক নং- ১৮২, ৭ম শ্রেণির ছাত্র দেব রায়ের পিতা গিলবার্ট রায় বলেন, তার ছেলে বড়দল মিশনের ৭ম শ্রের্ণির ছাত্র। রোল নং- ৯। তার ছেলে মিশন স্কুলেই পড়ে, গোয়ালডাঙ্গা স্কুলে কখনো পড়েনি, পড়েনা বলে তিনি জানান।
স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মোবাইল করা হলে, তার স্কুলে মিশন স্কুলের কিছু ছাত্র পড়ে বলে দাবী করলেও এক স্কুলের শিক্ষার্থী কিভাবে অন্য স্কুলে পড়বে? প্রশ্ন করা হলে ব্যস্ত আছি পরে জানাব বলে দ্রুত মোবাইল কেটে দেন। কিন্তু আর মোবাইল করেননি।
এলজিইডি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী’র সাথে কেসিসি কর্মকর্তাদের সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারি (এলজিসিআরআর)’ প্রকল্প খুলনা মহানগরীতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী’র সাথে কেসিসি কর্মকর্তাদের এক সভা মঙ্গলবার দুপুরে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। প্রকল্পের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এলজিইডি’র অধীন গৃহীত এ প্রকল্পের আওতায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা মহানগরীর হাসপাতাল, বাজার, কবরস্থান, শ্মশান ঘাট সংলগ্ন সড়কসমূহের উন্নয়ন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সিটি মেয়র সময়োপযোগী এ প্রকল্প গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী তাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের গৃহীত কার্যক্রম দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। যথা সময়ে ভ্যাকসিন প্রদান, কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা করায় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সাধারণ মানুষের জন্য সহজ হয়েছে। গৃহীত প্রকল্প এ ক্ষেত্রে আরও অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে সিটি মেয়র উল্লেখ করেন।
এলজিইডি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (নগর ব্যবস্থাপনা) শেখ মুজাক্কা জাহের, কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) লস্কার তাজুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনজুরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার হালদার, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
দশ লক্ষ টাকায়ও সুস্থ্য হয়নি হুজাইফা, পুনঃ অপারেশনে প্রয়োজন ৫ লক্ষ টাকা
স্টাফ রিপোটার, বাগেরহাট
১১ মাসে দশ লক্ষ টাকা ব্যয় ও হার্টের অপরেশনের পরেও সুস্থ হয়নি ১৯ মাস বয়সী হুজাইফা ইসলাম। দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে অবুঝ শিশুটি। বয়স ও শরীরের সাথে হার্টের বৃদ্ধি হচ্ছে না, উপরন্তু হার্টের ভাল্ব আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আবারও ওপেন হার্ট সার্জারির তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। যার জন্য ব্যয় হবে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। এই অবস্থায় সন্তানের চিকিৎসায় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন হুজাইফার বাবা বায়জিদুল ইসলাম সুমন।
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার চরকাঠি গ্রামের সুমন ও শারমিন হোসেন দম্পতির ঘরে ১৯ মাস আগে জন্ম হয় হুজাইফার। জন্মের সময় সুস্থ ও সবল ছিলেন হুজাইফা। আট মাস বয়সে হওয়া সর্দি না কমায়, শিশু বিশেষজ্ঞের দারস্থ হন হুজাইফার বাবা-মা। চিকিৎসক প্রথম দেখাতেই বুঝতে পারেন বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে খুলনা সিটি মেডিকেলে এক্সরেসহ বিভিন্ন ধরণের ডায়গনোসিসে জানা যায় হুজাইফার হার্টে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। সিটি মেডিকেল থেকে দ্রুত ঢাকা নিতে বলা হয়। হার্ট ফাউন্ডেশনে নানা ধরণের পরীক্ষার নিরিক্ষার পরে, ওপেন হার্ট সার্জারী হয় হুজাইফার। এক মাস দশদিন আইসিইউ এবং লাইফ সাপোর্টে থেকে হাসপাতাল ছাড়েন হুজাইফা। এত দিনে হুজাইফার বাবার জমি ও গাছ বিক্রির ১০ লক্ষাধিক টাকা শেষ। ছেলের চিকিৎসা ও দেখভালের জন্য ৮ মাস আগে বেসরকারি চাকুরীও ছেড়েছেন সুমন। এখন ছেলের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করা সুমনের পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
সুমনের প্রতিবেশী সাইদুল শেখ বলেন, ছেলেটার মুখের দিকে তাকানো যায় না। সব সময় মুখ কালো থাকে। ছেলের জন্য সুমনের পরিবারেরও সবার মন খারাপ থাকে। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সুমনরা আর্থিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাড়ির গাছ-মাঠের জমি সব বিক্রি করেছেন ছেলের জন্য। এখন আর সুমনদের তেমন কিছু নেই। সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়ালে শিশুটি বেঁচে যেত।
হুজাইফার বাবা বায়জিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ছেলেকে সুস্থ্য করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। চাকুরি ছেড়েছি, বাবার জমি বিক্রি করেছি। মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা গাছ বিক্রি করেছি। দিনের পর দিন হাসপাতালে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। কিন্তু আমার ছেলে সুস্থ্য হয়নি। ছেলের কান্নায় রাতে ঘুম আসেনা। সমস্যা আরও গুরুত্বর হচ্ছে। কি হবে জানিনা। অপারেশনের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা লাগবে। কোথায় পাব এত টাকা। জমি-জিরাত যা ছিল, তাতো বিক্রি করেছি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হুজাইফার বাবা সুমন।
অসুস্থ্য হুজাইফার মা শারমিন হোসেন বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য জমি-বিক্রির পাশাপাশি প্রচুর ধার দেনা করেছি। তারপরও মানুষের কাছে হাত পাতিনি। কিন্তু এখন আর পারছিনা। কলিজার টুকরা হুজাইফার চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আল্লাহর রহমত এবং মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই বলেন এই মা।
সুমনের পরিবারে হুজাইফা ছাড়াও সুমনের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। হুজাইফাকে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করুণ বায়জিদুল ইসলাম সুমন-০১৯১১-৯২৫২২৪।
সিটি কর্পোরেশনের সাথে মতবিনিময় সভায় সেখ জুয়েল এমপি
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য (খুলনা-২ আসন) সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চলবে। যারা এই নির্দেশনার ব্যতয় ঘটাবে তারা দল, দেশ ও শেখ হাসিনার ভালো চায় না। আওয়ামী লীগকে আরো সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে দলের চেন অব কমান্ড মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি মাল্টিন্যাশনাল অরগ্যানাইজেশন। এ সংগঠনের কর্মীর যেমন অভাব নেই তেমনি নেতারও অভাব নেই। সে কারণেই নির্বাচন বা সম্মেলন আসলে নেতৃত্বের ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। এর মধ্যে থেকেই একজনকে নেতৃত্ব স্থানে আসতে হয়। যারা বাদ পড়েন তারা পরবর্তীতে অপেক্ষা করবে এটাই দলের চেইন অব কমান্ড। আওয়ামী লীগের সদস্য হলে তাকে অবশ্যই এই চেইন অব কমান্ড মানতে হবে।
তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে এবং ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনে দলের প্রতিনিধি থাকতে হবে। তিনি সকলকে আগামী নির্বাচনে তৃণমূল প্রশাসনে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে আহ্বান জানান।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ শেখ হারুনুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম এ ছালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, নির্বাহী সদস্য মো. তরিকুল আলম খান। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা প্যানেল মেয়র মো. আমিনুল ইসলাম মুন্না, প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু, এম এ রিয়াজ কচি, কাজী জাহিদ হোসেন, প্যানেল মেয়র এ্যাড. মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু, কাউন্সিলর শেখ হাফিজুর রহমান, কাউন্সিলর এস এম মোজাফফর রশিদী রেজা, কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, ক্উান্সিলর শামছুজ্জাামান মিয়া স্বপন, কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি আব্দুল ওয়াদুদ, কাউন্সিলর ফকির মো. সাইফুল ইসলাম, কাউন্সিলর আনিছুর রহমান বিশ^াস, কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী, কাউন্সিলর কাজী আবুল কালাম আজাদ বিকু, কাউন্সিলর ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না, মো. জামিল খান, কাউন্সিলর এস এম খুরশিদ আহমেদ টোনা, কাউন্সিলর মো. আব্দুস সালাম, কাউন্সিলর শেখ আব্দুর রাজ্জাক, কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম, কাউন্সিলর এম ডি মাহফুজুর রহমান লিটন, কাউন্সিলর মো. কবির হোসেন কবু মোল্লা, কাউন্সিলর শেখ সামছুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, কাউন্সিলর মো. সুলতান মাহমুদ, কাউন্সিলর মো. ডালিম হাওলাদার, কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান, কাউন্সিলর মো. হাফিজুর রহমান, কাউন্সিলর আশফাকুর রহমান কাকন, কাউন্সিলর গোলাম মাওলা শানু, কাউন্সিলর আরিফ হোসেন মিঠু, কাউন্সিলর পারভিন আক্তার, কাউন্সিলর মনিরা আক্তার, কাউন্সিলর সাহিদা বেগম, কাউন্সিলর রহিমা আক্তার হেনা, কাউন্সিলর আমেনা হালিম বেবী, কাউন্সিলর মাহমুদা বেগম, কাউন্সিলর কণিকা সাহা, কাউন্সিলর মাজেদা বেগম, কাউন্সিলর রেকসোনা কালাম লিলিসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডুমুরিয়ায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মৃনাল কান্তি জোয়ার্দার’র পূজা মন্ডপ পরিদর্শন
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রকৌশলী মৃনাল কান্তি জোয়ার্দার গত সোমবার দিনব্যাপী ডুমুরিয়ায় শারদীয় দূর্গা পূজার মহা অষ্টমীতে খর্ণিয়া,আটলিয়া, মাগুরখালি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কাঞ্চনগর সর্বজনীন পূজা মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজা মন্ডপে আগত দর্শনার্থী ও কমিটি বৃন্দের সাথে শুভে”ছা বিনিময় ও আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এ সময় তিনি বলেন বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জল দৃষ্টান্ত চলমান। এখানে সকল ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এ সময় সাথে ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদ রানা, উপজেলা যুবলীগের সদস্য রাজিউল বারী সৈকত, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল, ইউপি সদস্য ধর্মদাস রায়, মনোজ সরকার, সুভাষ মহন্ত, নিরোধ বিহারী মন্ডল, রঞ্জিত মন্ডল, দিপক রায়, সঞ্জিত বৈরাগী, মিঠু রায়, তাপস মহন্ত, শ্যামল মন্ডল, দূর্গেশ মন্ডল, প্রদ্যুৎ মন্ডল, মিঠু মন্ডল, সৌমিত্র মন্ডল, সুমন মন্ডল, পার্থ মিস্ত্রি, প্রিতম মন্ডল প্রমূখ।
লঘুচাপে মোংলা বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত, ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, ২৪ ঘন্টায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের ফলে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সোমবার রাতে এ সতর্ক সংকেত জারির পর রাতভর থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে পৌর শহরের নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বসতঘর বাড়ীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর শহরের ভাসানী সড়কের বাসিন্দা মোঃ পান্নু বলেন, রাতভর বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ও বাড়ীর উঠান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। মোর্শেদ সড়কের মোঃ কামরুল ও মাসুম বলেন, বৃষ্টিতে রাস্তা তলিয়ে ঘরেও পানি উঠেছে, পুকুর ডুবে গেছে। ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছেনা। ৪/৫ দিনেও এ পানি নামার সম্ভাবনা নেই, কারণ এখানে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, রাস্তাও পুরানো এবং নিচু। তাই বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় ভুগতে হয় আমাদের।
এদিকে একই অবস্থা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও। এছাড়া লঘুচাপের প্রভাবে পশুর নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধির আশংকায় রয়েছেন পশুর নদীর পাড়ের বিশাল জনগোষ্ঠী। বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার চিংড়ি ঘেরের ভেড়ী বাঁধ তলিয়ে যাওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। মোংলা আবহাওয়া অফিস ইনচার্জ অমরেশ চন্দ্র ঢালী, গত ২৪ ঘন্টায় (গতকাল ভোর থেকে আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত) মোংলায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবারও এমন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।
১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ শেষে সরকারকে বিদায় নিতে হবে:মনা
# ২২ অক্টোবর খুলনা বিভাগীয় গণ সমাবেশ # ১৫ অক্টোবর পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় # ৬ ও ১০ অক্টোবর শোক র্যালী
খবর বিজ্ঞপ্তি
দেশের সকল বিভাগীয় সদরে গণ সমাবেশ আয়োজন শেষে আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। ওই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই ফ্যাসিবাদী শাসককে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর কমিটির আহবায়ক শফিকুল আলম মনা।
মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির এক যৌথ প্রস্ততি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। দুপুর ১২ টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে জানিয়ে মনা বলেন, আন্দোলনে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। বিএনপির কর্মসূচিতে জনগনের অংশগ্রহণ বাড়ছে। হামলা হলে পাল্টা হামলার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকার বিরোধী সব রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুগপৎ আন্দোলনের জন্য সার্বিক প্রস্ততি নিচ্ছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। যেখানে সম্পৃক্ত হচ্ছেন পেশাজীবীরাও। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে রাজপথ দখলে রাখার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে নেতাকর্মীদের প্রস্তত থাকার আহবান জানান তিনি।
সভা থেকে অক্টোবর মাসব্যাপি কেন্দ্র ঘোষিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় জানানো হয়, গণবিরোধী কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক জ¦ালানী তেল, চাল, ডাল তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম, নারায়নগঞ্জে শাওন, মুন্সিগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শাওনকে গুলি করে, যশোরে আব্দুল আলিমকে আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে, বিএনপির চেয়ারপার্সন মাদার অব ডেমোক্রেসি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দেশব্যাপী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা মামলার প্রতিবাদে আগামী ২২ অক্টোবর শনিবার খুলনায় বিভাগীয় গণ সমাবেশ করবে বিএনপি। খুলনার গণ সমাবেশকে স্মরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েতে রূপ দেয়ার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরকে নির্ধারণ করে একে সফল করতে বিএনপি এবং প্রতিটি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং প্রতিটি ইউনিট পর্যায়ে সভা সমাবেশ, প্রচার প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ উপলক্ষে গ্রামে গঞ্জে হাটে মাঠে শহরে বিপনী বিতান ও জনসমাগমস্থলে এক লক্ষ লিফলেট বিতরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
খুলনা বিভাগীয় গণ সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কর্মসূচি সমন্বয় করবেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়। কর্মসূচি সফল করতে ১১টি সাব কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় জানানো হয়, আগামী ১৫ অক্টোবর খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে বিএনপি মিডিয়া সেল কর্তৃক বিশিষ্টজনদের সাথে ‘জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় সরকার ও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ অপরিহার্য’ শীর্ষক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ ও পেশাজীবী সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিতব্য এ মতবিনিময়সভা সফল করতে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সার্বিক সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভা থেকে মতবিনিময়সভা সফল করতে তিনটি (অভ্যর্থনা, আপ্যায়ন ও শৃঙ্খলা) উপ কমিটি গঠন করা হয়।
সভা থেকে জানানো হয়, চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ভোলা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও যশোরে নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণে আগামী ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রেল স্টেশন চত্বর থেকে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে শোক র্যালী বের হবে।
একই ইস্যুতে আগামী ১০ অক্টোবর সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রেল স্টেশন চত্বর থেকে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শোক র্যালী বের হবে। কর্মসূচি সমূহ সফল করতে বিএনপি এবং সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের যথাসময়ে কর্মসূচিস্থলে হাজির হওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে আহবান জানানো হয়।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় প্রস্ততি সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু হোসেন বাবু, খান জুলফিকার আলী জুলু, স ম আব্দুর রহমান, সৈয়দা রেহানা ঈসা, আব্দুর রকিব মল্লিক, শের আলম সান্টু, মোস্তফা উল বারী লাভলু, আবুল কালাম জিয়া, বদরুল আনাম খান, মাহবুব হাসান পিয়ারু, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, আশরাফুল আলম নান্নু, শেখ সাদী, মেজবাউল আলম, এনামুল হক সজল, আব্দুর রাজ্জাক, হাফিজুর রহমান মনি, আশফাকুর রহমান কাকন, বেগ তানভিরুল আযম, শেখ শাহিনুল ইসলাম পাখী, মুরশিদ কামাল, আরিফ ইমতিয়াজ খান তুহিন, কে এম হুমায়ুন কবির, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, সৈয়দ সাজ্জাদ আহসান পরাগ, সুলতান মাহমুদ, এহতেশামুল হক শাওন, মনিরুজ্জামান লেলিন, এস এম মুর্শিদুর রহমান লিটন, একরামুল কবির মিল্টন, নাজমুস সাকির পিন্টু, জহর মীর, নাজিরউদ্দিন আহমেদ নান্নু, হাবিবুর রহমান বিশ^াস, হাসানউল্লাহ বুলবুল, শরিফুল আনাম, রফিকুল ইসলাম বাবু, শেখ জামালউদ্দিন, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, গাজী আফসারউদ্দিন, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, নাসির খান, আলমগীর হোসেন, কাজী শাহনেওয়াজ নীরু, ফারুক হোসেন হিল্টন, তারিকুল ইসলাম, খন্দকার হাসিনুল ইসলাম নিক, জাফরী নেওয়াজ চন্দন, মোঃ জাহিদুল হোসেন জাহিদ, শামসুল বারিক পান্না, শফিকুল ইসলাম শফি, আলী আক্কাস, ফারুক হোসেন, মুজিবর রহমান,
মহিলা দলের এ্যাড. কানিজ ফাতেমা আমিন, সেতারা সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের আতাউর রহমান রুনু, শফিকুল ইসলাম শাহিন, মুনতাসির আল মামুন, ছাত্রদলের আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, মোঃ তাজিম বিশ^াস, কৃখশ দলের আক্তারুজ্জামান তালুকদার সজীব, শেখ আদনান ইসলাম দীপ, তাঁতী দলের আবু সাঈদ শেখ প্রমুখ। #
তিন মাস চার দিন কারাভোগ শেষে স্বদেশে রওনা হয়েছেন ১৩৫ ভারতীয় জেলে
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
দীর্ঘ তিন মাস চার দিন কারাভোগ শেষে স্বদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ১৩৫ জন ভারতীয় জেলে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট আদালত থেকে খালাস পেয়ে এ সকল জেলেরা দুপুরেই মোংলায় চলে আসেন। এরপর মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা ৮টি ট্রলার নিয়ে বিকেল ৪টার দিকে ভারতের দক্ষিণ-চব্বিশ পরগোনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান তারা।
মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসিফ ইকবাল জানান, বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে গত ২৭ জুন ৮টি ট্রলারসহ ১৩৫ ভারতীয় জেলেকে আটক করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এরপর গত ২৮ জন ৪টি ট্রলার ও ৬৮ জেলে এবং ২৯ জুন ৪টি ট্রলার ও ৬৭ জেলেকে মোংলা থানা পুলিশে হস্তান্তর করেন নৌবাহিনী। এরপর আটক ওই ১৩৫ জেলেকে বাগেরহাট জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। দীর্ঘ তিন মাস ৪ দিন কারাভোগের পর মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাদেরকে খালাস দেয় বাগেরহাট আদালত। আদালতের খালাস আদেশে মুক্ত হয়ে দুপুরেই তারা বাগেরহাট থেকে মোংলায় চলে আসেন। এ সময় তাদেরকে স্বদেশে রওনা করিয়ে দিতে ফেরিঘাটে উপস্থিত ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ইন্দার জিৎ সাগর। বিকেল ৪টার দিকে এফ,বি মা করুনাময়ী, মা তারা, তারা মা, কৌশিক,
সুস্মিতা, অনিক ও জয়লক্ষী নামক ২টিসহ মোট ৮টি ট্রলারে ১৩৫ জন ভারতীয় জেলে দক্ষিণ-চব্বিশ পরগোনার উদ্দেশ্যে মোংলার ফেরিঘাট থেকে ছেড়ে গেছেন। তাদের বাড়ী ভারতের দক্ষিণ-চব্বিশ পরগোনা জেলার কাকদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায়। এ সকল জেলেদের নিতে ভারত থেকে আসা তাদের স্বজনেরাও এ ট্রলারে রওনা হয়ে যান।
দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এ অংশ নিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১ম গ্রুপের ১০০ সদস্যের ঢাকা ত্যাগ
খবর বিজ্ঞপ্তি
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (আনমিস) এ নিয়োজিত বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট-৮ এ অংশ নিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১০০ জন নৌসদস্যের ১ম গ্রুপ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে। এসময় ওভারসীজ নেভাল অপারেশা›স পরিদপ্তরের উপপরিচালক কমান্ডার আতিকুর রহমান ভ্ইূয়া, (সি), বিএন তাদেরকে বিদায় জানান। এছাড়া আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২২, ২য় গ্রুপের ১০০ জন নৌসদস্য বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট-৮ এ যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে বলে আশা করা যায়। উক্ত কন্টিনজেন্টটি বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট-৭ এর প্রতিস্থাপক হিসেবে দক্ষিণ সুদানে দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমানে ব্যানএফএমইউ-৭ এর অধীনে ২০০ জন নৌসদস্য নিয়োজিত রয়েছে।
জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট দক্ষিণ সুদানের প্রত্যন্ত এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় জ্বালানী, খাদ্য সামগ্রী, ঔষধপত্র ও মানবিক সাহায্য বহনকারী বার্জসমূহের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা বিধান, নৌপথের জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপনে স্থানীয় জনগণকে সহায়তা প্রদান এবং আহত সামরিক-অসামরিক ব্যক্তিদের উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ ডুবুরী সহায়তা প্রদানের কাজ করছে। দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত ব্যানএফএমইউ কন্টিনজেন্টের সদস্যরা নীল নদের দীর্ঘ ৯৩৮ কিঃমিঃ নদী পথে মোট ৫৪টি “অপারেশন লাইফ লাইন’ অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গত দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে নৌবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছে। নৌবাহিনীর এই গর্বিত অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া দক্ষিণ সুদানে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিটটি গত ২০১৫ সাল হতে অদ্যাবধি ১,৪০০ জন নৌসদস্য অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।
সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের এপিএস আবুল কালামের শাশুড়ীর ইন্তেকাল
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
খুলনা ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কারাবন্দী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ¦ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের এপিএস মোঃ আবুল কালাম এর শাশুড়ী গিলাতলা ৫ নং ওয়ার্ড নিবাসী আকলিমা বেগম (৭০) ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধা ৭ টায় নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না- লিল্লাহী- রাজিউন) । মৃত্যুকালে ২ ছেলে ১ কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিতরোগে ভুগছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় নিজ বাড়ির সামনে জানাযা শেষে গিলাতলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস – চেয়ারম্যান ও খুলনা উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী।, অধ্যক্ষ মিয়া গোলাম কুদ্দুস , খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমির সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, ৩৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আঃ হক, মোঃ আশরাফুল ইসলাম , খানজাহান আলী থানা সাংবাদিক ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেক, ইসমাইল হোসেন মন্টু, হাফেজ আঃ লতিফ, বিএনপি নেতা মোঃ নাসির উদ্দিন, খানজাহান আলী থানা ছাত্রদল নেতা মোঃ তাজিম প্রমুখ । জানাযার নামাজে ইমামতি করেন আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য হাফেজ গোলাম মোস্তফা।
বাগেরহাটের শিকদার বাড়ী দুর্গামন্দিও পরিদর্শন করলেন ডিসি-এসপি
বাগেরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিকদার বাড়ী শারদীয় দুর্গাপূজা মন্দির পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আরিফুল হক। সোমবার (৪ঠা সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তারা মন্দির পরিদর্শন করেন। এসময় তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনাঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ খালেকুজ্জামান, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বাবুল সরদার ও বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় অতিথিবৃন্দদেরকে মন্দির কমিটির প্রধান পেষ্টপোষক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি লিটন শিকদার ও তার সহধর্মিনী পূজা শিকদার তাদেরকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
বিশ^ শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের উদ্বোধন
তথ্য বিবরনী
খুলনায় বিশ^ শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের উদ্বোধন ও আলোচনা সভা মঙ্গলবার সকালে জেলা শিশু একাডেমি চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার।
বিশ^ শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গড়বে শিশু সোনার দেশ, ছড়িয়ে দিয়ে আলোর রেশ’। খুলনা জেলা প্রশাসন, জেলা শিশু একাডেমি, জেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তর, জেজেএস ও ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার দেশের শিশুদেরকে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিশুদের মনে বড় হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়ে দিতে হবে। এজন্য চাই সম্মিলিত প্রয়াস। তিনি বলেন, শিশুরা ফুলের মতো পবিত্র এবং প্রত্যেকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। শিশুদের বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। ছেলে শিশুর পাশাপাশি মেয়ে শিশুর সমান যত্ন নিতে হবে। শিশুর প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিতে পরিবার, পিতা-মাতা, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাদিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের উপপরিচালক হাসনা হেনা, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এর খুলনা প্রজেক্ট অফিসার মোঃ জাকারিয়া, জেজেএস’র পরিচালক (প্রোগ্রাম) এমএম চিশতি ও শিশু শিল্পী ইসরাত জাহান লোপা বক্তব্য রাখেন। স্বাগত জানান জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো: আবুল আলম।
খুলনার দাকোপে দৃশ্যমান লাউডোব ফেরিঘাট পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা বৃন্দ
মোঃ শামীম হোসেন- বাজুয়া (দাকোপ)
খুলনার দাকোপে দৃশ্যমান লাউডোব ফেরিঘাট স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে এলাকাবাসীর। দাকোপের ৩৩ নং পোল্ডারে অবস্থিত বাজুয়া, লাউডোব, বানিশান্তা, কৈলাজগঞ্জ দাকোপ ইউনিয়ন। এই পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটা ফেরিঘাট। আর সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে পূরণ হতে চলেছে দাকোপের কৃতি সন্তান লাউডোবের মাটিতে জন্ম গ্রহন করা নেত্রী গন- মানুষের নেতা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি এ্যাডঃ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রচেষ্টায়। ফেরিঘাট পরিদর্শন কালে লাউডোব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজ বলেন পদ্মাসেতু দক্ষিণ এলাকার মানুষের স্বপ্ন ছিল, কিন্তু আমাদের এই পশুর নদীতে একটা ফেরি হবে তাও আবার আমাদেরই লাউডোব ঘাটে এটা কোনদিন কল্পনাও করিনি, আমার জীবদ্দশায় কর্দমাক্ত পায়ের স্বৃতি নিয়ে বৈদ্যতিক আলোয় পিচের রাস্তা বেয়ে প্রিয় মাতৃভূমি চষে বেড়াবো একথা স্বপ্নেও ভাবিনি। যা আজ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছেন। তাই শ্রদ্ধা ভরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও লাউডোবের মাটিতে জন্ম গ্রহণ করে তিল তিল করে বেড়ে উঠে আজ দাকোপকে সাজানোর স্বপ্ন নিয়ে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যিনি দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন সেই সংসদ সদস্য আমাদের প্রানপ্রিয় দিদি এ্যাডঃ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপিকে। যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ এই অসাধ্য সাধন হতে চলেছে। মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাদের মঙ্গল করুক। লাউডোব ফেরিঘাট পরিদর্শন কালে নেত্রীবৃন্দ এসকল কথা আবেগ ভরে প্রকাশ করেন। গতকাল বিকালে লাউডোব ইউনিয়নের প্রতিটি মন্দিরের আইনশৃঙ্খলা সহ নিরাপত্তা বিষয় পরিদর্শন শেষে দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস, দাকোপ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার দও, আরও সফরসঙ্গী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা, মহিলা বিষায়ক কর্মকর্তা সহ লাউডোব ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও গান্যমান্য ব্যক্তি বর্গগন মন্দির পরিদর্শন শেষে নব নির্মিতব্য লাউডোব ফেরীঘাট পরিদর্শন করেন।
আটরা পালপাড়া পূজা মন্দির পরিদর্শনে কেএমপি কমিশনার
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোঃ মাসুদুর রহমান ভূঞা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গা উৎসব-২০২২ উপলক্ষে গতকাল সন্ধায় খানজাহান আলী থানার আটরা পালপাড়া পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন। কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে সকলকে শারদীয়া শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সকলকে পূজা উদযাপনের জন্য আহবান জানান।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোঃ সাজিদ হোসেন; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক এন্ড প্রটোকল) মোসাঃ তাসলিমা খাতুন; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা ) বি এম নুরুজ্জামান,ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মনিরা সুলতানা, অতিঃ ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আব্দুর রহমান, সহকারী পুলিশ কমিশনার দৌলতপুর জোন মোঃ জাফর আহম্মেদ, খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামাল হোসেন খান। খানজাহান আলী থানার ওসি তদন্ত মোঃ কবির হোসেন মাতুব্বর । বিট পুলিশিং কমিটির সভাপতি সৈয়দ কিসমত আলী, খানজাহান আলী থানা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দুলাল চন্দ্র সরকার সহ পূজা মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিট পুলিশিং কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
খুলনায় রহিমা বেগমকে অপহরণ মামলায় ৪ আসামির জামিন
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় আলোচিত রহিমা বেগমকে কথিত অপহরণ মামলায় ৪ আসামির জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা খাতুন। মঙ্গলবার তাদের জামিন শুনানির পূর্ব নির্ধারিত দিন ধার্য ছিল। সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম তারিক মাহমুদ।
জামিন পাওয়া চার জন হলেন- খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সহকারী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া ও তার ভাই মো. মহিউদ্দিন এবং মহেশ্বরপাশা এলাকার রফিকুল ইসলাম পলাশ ও তার ভাই নুরুল আলম জুয়েল। গত ৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে তারা কারাগারে ছিলেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার অপর ২ আসামি হেলাল শরীফ ও রহিমা বেগমের তৃতীয় স্বামী বেলাল হাওলাদার কারাগারে রয়েছেন।
গত ২৭ আগস্ট নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার বাড়ি থেকে গৃহবধূ রহিমা বেগম রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মেয়ে আদুরি আকতার বাদী হয়ে পরদিন দৌলতপুর থানায় অপহরণ মামলা করেন। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ আত্মগোপনে থাকা রহিমা বেগমকে ফরিদপুরের বোয়ালমারি উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে আসে।
কিশোর নিশান হত্যা: দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কমে যাবজ্জীবন
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার মিরপুরে ভ্যানচালক কিশোর নিশানকে (১৪) গলা কেটে হত্যার দায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া দুই আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ রায় দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান জামান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী কে এম সারোয়ার জাহান।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হয় কিশোর নিশান। পরদিন সকালে মিরপুর উপজেলার স্বরূপদহ ভাঙ্গা বটতলার কলাবাগান থেকে নিশানের জবাই করা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওইদিনই নিশানের বাবা ইনামুল মণ্ডল বাদী হয়ে মিরপুর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশি তদন্তে আসামি সন্টু শেখ (২১) গ্রেপ্তার হন। তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ অপর আসামি মাহাবুব ইসলামকেও (২২) গ্রেপ্তার করে। সেইসঙ্গে পুলিশ নিশানের ভ্যান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও দড়ি উদ্ধার করে।
এরপর ২০১৭ সালের ২০ মার্চ এই মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন কুষ্টিয়ার বিচারিক আদালত। পরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরাও আপিল করেন। আজ উভয় আবেদনের শুনানি নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।
খুলনায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার রূপসা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ যুবক মাহাতাব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে রূপসা রেলসেতুর পশ্চিমপাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত রোববার রাতে রূপসা নদীর রেল সেতু এলাকায় বালু বহনকারী বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি ট্রলার ডুবে যায়। এ সময় ছয় জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মাহাতাবকে পাওয়া যায়নি। মাহতাব হোসেন নগরীর খালিশপুর হাউজিং বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন বলে জানা গেছে।
খুলনা নৌ পুলিশের এসআই ইলিয়াস মাতব্বর জানান, মাহাতাবকে উদ্ধারের জন্য সোমবার সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়। প্রথম দিন তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা ফের অভিযান শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাহাতাবের মরদেহ রূপসা রেলসেতুর পশ্চিম তীরে ভেসে ওঠে।
খুলনায় বিচারকের বাসায় চুরি
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় চুরি হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
খুলনা সদর থানার ওসি হাসান আল মামুন জানান, বিচারক নগরীর ট্যাংক রোডে এম এ মান্নানের বাড়ির তিন তলায় ভাড়া থাকতেন। সোমবার গভীর রাতে ওই বাড়িতে চুরি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানায়, ওই বাড়ি থেকে বিচারকের মানিব্যাগ (যার মধ্যে নগদ ২৬ হাজার টাকা ছিল), সোনালী ব্যাংকের এটিএম কার্ড, বিচারিক আইডি কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, ৩ টি আংটি, একটি সোনার চেইন, ১টি সোনার কানের দুল চুরি হয়েছে।
মার্কেট নির্মাণে পুকুর ভরাট
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
বাণিজ্যিক ভবনের আড়ালে আগেই ঢাকা পড়েছে কুষ্টিয়া শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া হাই স্কুল। স্কুলের চারপাশে মার্কেট ও স্কুলভবন নির্মাণ করতে একটি পুকুর ভরাট করা হয়। এবার শেষ পুকুরটির ওপরও কালো থাবা পড়েছে পরিচালনা পর্ষদ ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের।
জানা গেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাতের বেলায় জলাধারটি ভরাট করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বড় অংশ ভরাট করা শেষ হয়েছে। সেখানে নতুন করে বাণিজ্যিক ভবন করা হবে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে শুরু হয় ট্রাকের আসা-যাওয়া। এক ডাম্প ট্রাক বালু ফেলার পর কিছু সময় বিরতি। এরপর আবারও এক ট্রাক ভরে বালু এনে ফেলা হচ্ছে পুকুরে। এভাবে রাতভর বালু ফেলে গোপনে ভরাট করা হচ্ছে স্কুলের পুকুরটি। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে পুকুর ভরাট করায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মী, সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও স্কুলটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগের তীর স্কুলটির প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান ও একটি প্রভাবশালী মহলের দিকে। দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের জন্য পুকুরের অর্ধেকের বেশি অংশ ভরাট করে ফেলেছেন তাঁরা। সরেজমিন দেখা গেছে এ চিত্র। এর আগে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে অনিয়ম, দোকান বরাদ্দ দিয়ে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতা ও স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম কাদেরী শাকিল বলেন, প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সঙ্গে আঁতাত করে পুকুরটি ভরাট করে মার্কেট তৈরির পরিকল্পনা করছেন প্রধান শিক্ষক। যে কারণে রাতের আঁধারে চুপিচুপি ভরাটকাজ চালাচ্ছেন তাঁরা। কোনোভাবেই জলাধার ভরাট করার বিধান নেই। তাঁরা আইন না মেনে ব্যক্তিস্বার্থে এসব অপকর্ম করছেন। বিশেষ করে খলিল প্রধান শিক্ষক হওয়ার পর স্কুলটি ধসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। স্কুলটি বাঁচাতে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন।
পুকুরটি ১৯৯০ সালের দিকে খনন করা হয়। এর আয়তন এক বিঘার বেশি। মাছ চাষ করা ছাড়াও বর্ষার সময় আশপাশের পানি এ জলাধারে পড়ত। আগে একটি পুকুর ভরাট করায় এটিই টিকে ছিল কোনোরকমে। এটিও ভরাট করলে পরিবেশ বিপন্ন হবে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু। পুকুরটি রক্ষার দাবিও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, বড় পুকুর হলে পরিবেশের ছাড়পত্র নিতেন। ছাড়পত্র না নিয়েই ভরাটের কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার পরামর্শে তিনি পুকুর ভরাট করছেন বলে জানান।
কুষ্টিয়া হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডাক্তার এ কে এম মুনির বলেন, পুকুরটি স্কুলের মধ্যেই রয়েছে। খেলার মাঠ করার জন্যই এটি ভরাট করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য- এটি পুকুর নয়; আগের সভাপতি মাছের পোনা চাষ করার জন্য খনন করেছিলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক বা মানুষ সৃষ্ট জলাশয় ভরাট করার কোনো সুযোগ নেই। যদি ভরাট করতে হয় অবশ্যই নিয়ম মেনে অনুমতি নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কুষ্টিয়া হাই স্কুলের পুকুর ভরাটের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, নানা অনিয়মে জর্জরিত কুষ্টিয়া হাই স্কুল। স্কুলটি নিয়ে তাঁরা মহা বিপদে রয়েছেন। শুনেছেন এর মধ্যেই মার্কেট নির্মাণের জন্য পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, তিনি এ বিষয়ে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ শহরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। নিহত যুবক শহরের চাকলাপাড়ার সত্যপদ দাসের ছেলে সুবির দাস (২০)।
সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও চারজন। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, চাকলাপাড়া এলাকার সত্যপদ দাসের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল সুনিল চন্দ্র দাসের।
এ জমির মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সোমবার ওই মামলায় হাজিরা দিয়ে আসে উভয় পরিবার। এর পর গভীর রাতে স্থানীয় মির্জা মহলের সামনে সুবির দাস ও প্রতিপক্ষ সুনিল দাসের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে সুনিল ছুরি দিয়ে সুবির দাসকে আঘাত করে। শুরু হয় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। সুবিরসহ আহত হন পাঁচজন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক সুবির দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
শারদীয় দূর্গাপুজায় মন্ডপ পরিদর্শনে নগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ
খবর বিজ্ঞপ্তি
‘অসাম্প্রদায়িক দেশ বিনির্মাণে এ দেশের মানুষ ও আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আমরা কিছুটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আজও সেই আশা-আকাঙ্খা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।’ হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ডে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সব সম্প্রদায়ের মানুষ একই বৃন্তে নতুন ফুলের মতো প্রস্ম্ফুটিত ও বিকশিত হয়েছি। বাস করেছি মিলেমিশে। সেই সমাজ ও দেশকে নষ্ট হতে দিতে পারি না। আমাদের বয়স হয়েছে, যাওয়ার পথে। আজ বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য তরুণ ও যুবসমাজের দায়িত্ব অনেক বেশি।
মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার বিভিন্ন পূজামন্ডপে যান এবং মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ভক্তপুজারীদের সাথে শারদীয় দূর্গোৎসব শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে তাদের বরণ কালে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সব ধর্ম-বর্ণের অধিকার রক্ষার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক ও জনগণের বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু
আরও বলেন, পৃথিবীতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য, অসুর ধ্বংস করার জন্য। আজ দানব সরকার আমাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। আজ উৎসবের দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে, অসুরকে পরাজিত করে সত্য, সুন্দর, ন্যায় আর সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করব। যে রাষ্ট্রে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলেমিশে থাকব। সবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। মোটা কাপড়, মোটা ভাত খেয়ে মাথার ওপর একটা ছাদ নিয়ে সবাই মিলে আমরা একটি সুখী-সমৃদ্ধির সমাজ গড়ে তুলব।
সন্ধ্যায় তিনি সদর থানাধীন বড় বাজার কালীবাড়ি মন্দির, সোনাপট্রি মন্দির, ধর্মসভা মন্দির, পঞ্চবিথী ক্রীড়া চক্র মন্দির, দোলখোলা সর্বজনীন মন্দির ও শীতলাবাড়ি মন্দির, সোনাডাঙ্গা থানাধীন শিববাড়ি কালিবাড়ি মন্দির, বয়রা পূজাখোলঅ মন্দির ও পৈপাড়া পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এড. বজলুর রহমান, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, শেখ আব্দুর রশিদ, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, আনোয়ার হোসেন, এড. গোলাম মওলা, রিয়াজুর রহমান, ইশহাক তালুকদার, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, আকরাম হোসেন খোকন, সমশের আলী মিন্টু, রবিউল ইসলাম রবি, মহিউদ্দিন টারজান, মেহেদী হাসান সোহাগ, বাচ্চু মীর, আব্দুল মতিন, মজিবর রহমান ফয়েজ, আব্দুল জব্বার, মাজেদা খাতুন, লিটু পাঠোয়ারী, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, আল বেলাল, সৈয়দ হুমায়ুন কবির, আলমগীর হোসেন আলম, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, আব্দুল জব্বার, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, মোহাম্মদ আলী, ওলিয়ার রহমান, ইকবাল হোসেন, নুরুল ইসলাম লিটন, সাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হোসেন, আমীর হোসেন বাচ্চু, টিপু হাওলাদার, হুমায়ুন কবির, শাহাদাৎ হোসেন, রায়জিদ হোসেন, মোস্তফা জামান মিন্টু, হেদায়েদ হোসেন হেদু, সাজ্জাদ শেখ, ঈসা শেখ, আব্দুর রহমান, সুলতান মাহমুদ সুমন, এমরান হোসেন, বুলবুল আহমেদ, মুশফিকুর রহমান অভি, ওহাব শরীফ, আরিফুর রহমান আরিফ, গোলামুর রহমান ডালু, মারুফ হোসেন, নাজমুল হোসেন, কামরুজ্জামান সিরাজ, আবুল বাশার, আব্দুল জলিল, মহিবুল্লাহ, শাহিন, বেলাল, মনির, শেখ বেলাল, আশিকুর রহমান সেলিম, জাকারিয়া লিটন, আকবর হোসেন, আলমগীর হোসেন, হাবিবুর রহমান, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, আবু তালেব, শামীম আশরাফ, শামীম খান, শরিফুল ইসলাম সাগর, আল আমিন তালুকদার প্রিন্স, রাজিবুল আলম বাপ্পি, এম এ হাসান, সেলিম বড় মিয়া, মাসুদ রেজা, শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর মোল্লা, মাসুদ রুমী, আব্দুস সালাম, মেজবাউল আলম পিন্টু, ইউনুস শেখ, এসকে আব্দুল্লাহ, রেজাউল ইসলাম, আসাদুর রহমান সানা, রফিকুল ইসলাম, রবিউল আলম, শেখ আল মামুন, কবির বিশ্বাস, কামাল হোসেন, রাজু হাওলাদার, জুয়েল রানা, কামরুল বিশ্বাস, সান্টু সানা,
ঝিনাইদহে দুই স্বর্ণ চোরাকারবারিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় ঝিনাইদহে দুই আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. নাজিমুদ্দৌলা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দৌলতগঞ্জ দেয়াড়াপাড়ার শ্রী ষষ্টি কর্মকারের ছেলে সুনীল কর্মকার ও একই উপজেলার বাজারপাড়ার মৃত ফয়জুল্লাহ মোল্লার ছেলে ওবাইদুল্লাহ।
রায় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৪ মার্চ কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ জে আর পরিবহনে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের গহনা জব্দ করে। এ সময় গ্রেফতার করা হয় বাহক সুনীল কর্মকারকেও।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুনীল জানান, এ গহনার মালিক জীবননগরের ওবাইদুল্লাহ।
পরে পুলিশ বাদী হয়ে দুজনের নামে মামলা করে। তদন্ত শেষে কোটচাঁদপুর থানার তৎকালীন ওসি শহিদুল ইসলাম ও এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম ২০১৫ সালের ১১ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেন। ৭ বছর মামলা চলার পর সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত মঙ্গলবার এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ইসমাইল হোসেন ও আসামি পক্ষে মো. বদিউজ্জামান মামলাটি পরিচালনা করেন।
কৃষ্ণকাটি গ্রামের অনেকে আর্সেনিকে আক্রান্ত
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় সুপেয় পানির অভাবে গত ২০ বছরে পানিবাহিত রোগ আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে এক গ্রামের অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর্সেনিকের নাম শুনলেই আঁতকে উঠেন উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি গ্রামের বাসিন্দারা। দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছিল এই গ্রামে। জানা গেছে, প্রতি বছর কৃষ্ণকাটি গ্রামের অনেকে আর্সেনিকে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার অভাবে অনেকে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আর্সেনিকের ব্যাধি বয়ে বেড়াচ্ছেন। শরীরে আর্সেনিকের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছে এখানকার মানুষ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুটিগুটি ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় রোদে গিয়ে পরিশ্রম করতে পারেন না এলাকার পুরুষেরা।
আর্সেনিক আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে বা হাতের তালুতে বাদামি ছাপ পড়ে। সাধারণত বুকে, পিঠে কিংবা বাহুতে ‘পিগমেনটেশন’ দেখা দেয়। যা পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপ নেয়। সাদা এবং কালো দাগের পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির জিহ্বা, মাড়ি, ঠোঁট ইত্যাদিতে মিউকাস ব্রন মেলানোসিসও দেখা দেয়। কারও কারও হাতের চামড়া পুরু হয়ে যায়, আঙুল বেঁকে যায়, অসাড় হয়ে যায়। এছাড়া পায়ের আঙুলের মাথায়ও পচন ধরে। আর্সেনিকের বিষক্রিয়ার অন্যান্য লক্ষণগুলো হচ্ছে- হজমে বিঘ্ন ঘটা, পেটব্যথা, খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া ইত্যাদি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এসব লক্ষণে আক্রান্ত অনেকের দেখা পাওয়া গেছে। তবে তাদের ধারণা- আর্সেনিকের সঠিক কোনো চিকিৎসা নেই। তাই দীর্ঘ বছর ধরে ব্যাধি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। সরেজমিনে কৃষ্ণকাটি গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, গ্রামের একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল সাতজন। তবে গত ১৪ বছরের ব্যবধানে সেই পরিবারের ছয়জন সদস্য মারা গেছেন আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে। কৃষ্ণকাটি গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে কেউ না কেউ আর্সেনিকে আক্রান্ত।
এদিকে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও বিভিন্ন এনজিও থেকে সুপেয় পানির প্ল্যান্ট করা হলেও সেগুলো দীর্ঘ বছর যাবত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা প্রতিনিয়ত আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছেন। এই এলাকায় গভীর নলকূপ থাকলেও আর্সেনিকমুক্ত পানি পাওয়াটা বেশ দুষ্কর। সরকারিভাবে পানি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটার বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এক প্রকার নিরুপায় হয়ে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছেন তারা। সংশ্লিষ্ট এলাকার শিশুরাও আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ওয়াটার প্ল্যান্ট বসানো হলেও সেটা দীর্ঘদিন যাবত অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর দুই বার টিউবওয়েলের আর্সেনিক পরীক্ষা করার কথা থাকলেও জনস্বাস্থ্য বিভাগ তা করে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দা রুমানা বেগম জানান, সর্বপ্রথম তার পরিবারে আর্সেনিক শনাক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সাতজন সদস্য মারা গেছেন। সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন। কখন নিজে আর্সেনিকে আক্রান্ত হবেন, সেই শঙ্কায় রয়েছেন।
তিনি জানান, একই পরিবার থেকে এতগুলো মানুষ আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। এলাকায় সুপেয় পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিনিয়ত তারা পানি নামক বিষ গ্রহণ করছেন। যার ফলশ্রুতিতে প্রতি বছরই এই গ্রামের অনেকের মৃত্যু হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির মোড়ল জানান, তার সমস্ত শরীরে আর্সেনিক আছে। তবে কোনো ওষুধ খেয়ে এটা থেকে মুক্তি মেলেনি কারও। তার বাবা-দাদারাও আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। টিউবওয়েলে আর্সেনিক পরীক্ষা করে লাল রং দিয়ে সনাক্ত করে গেলেও বাধ্য হয়ে সেই পানি গ্রহণ করতে হচ্ছে। কারণ কোনো উপায় নেই আর। তাছাড়া সরকারও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এ বিষয়ে।
রুহুল আমীন নামে অপর ব্যক্তি জানান, বর্তমানে এই গ্রামে ৫০টি পরিবারের আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী রয়েছে। তিনি নিজেও একজন আর্সেনিক রোগী। রোদে গিয়ে পরিশ্রম করতে পারেন না, কারণ শরীরের ভেতর জ্বালাপোড়া করে। সুপেয় পানির ব্যবস্থা হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।
ফাতেমা বেগম নামে এক নারী জানান, জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করে আর্সেনিক পাওয়ায় লাল রং দিয়ে শনাক্ত করে গেছে। তারপরেও সেই পানি পান করতে হচ্ছে পরিবারের সবাইকে। কারণ বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। তার শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের তিনজন বর্তমানে আর্সেনিক আক্রান্ত। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভয়ে আছেন।
জমির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি আর্সেনিকে আক্রান্ত, তার সমস্ত শরীরে গুটিগুটি নানা ধরনের ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। যেটিতে রোদ বা পানি লাগলে জ্বালাপোড়া করে। তার বাবা দাদারাও আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাছাড়া গ্রামের অনেক লোক মারা গেছেন আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি এটা রোধে কোনো ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে কিছু বছর পরে হয়তো এই গ্রামটি জনশূন্য হয়ে পড়বে।
নাজমা বেগম নামে এক রোগী জানান, আর্সেনিকে তার স্বামী, ছেলে, দেবর ও শ্বশুর মারা গেছে। দীর্ঘ ২২ বছর নিজেও আর্সেনিক বয়ে বেড়াচ্ছেন। ঢাকায় গিয়ে কেমোথেরাপি দিতে হয়। তবে টাকার অভাবে বহুদিন ঢাকায় যাওয়া হয়নি, চিকিৎসাও করানো হয়নি। ডাক্তার আমাকে শাক-সবজি ও ফল খেতে বলেছে। শাকসবজি এলাকায় পাওয়া গেলেও ফল কিনে খেতে হয়। তাই ফল খাওয়া হয় না।
জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মফিদুল হক লিঠু জানান, তার ইউনিয়নে কৃষ্ণকাটি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটা গ্রামে আর্সেনিকের ভয়াবহতা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এখানে একই পরিবারের চারজন আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এই গ্রামগুলোর অধিকাংশ মানুষের শরীরে কালো কালো নানান ধরনের চিহ্ন দেখা দেয়। এটার নাম হলো আর্সেনিক। আর্সেনিক প্রতিকার করার মতো কোনো চিকিৎসা নেই। তাই বাধ্য হয়ে তারা এই ব্যাধি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন। সাধারণত বিশুদ্ধ পানির অভাবে আর্সেনিকের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নানান ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হয়, এই ক্ষত একটি পর্যায়ে ক্যান্সারে রূপ নেয়। পরবর্তীতে সেই মানুষটি মারা যায়।
তিনি আরও জানান, ইতোপূর্বে অনেকবার বিভিন্ন ওয়াটার প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। তবে সেটাতে আর্সেনিক নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। যদি আর্সেনিকমুক্ত কোনো ওয়াটার প্ল্যান্ট তৈরি করা সম্ভব হয়, সেক্ষেত্রে এই ইউনিয়নের মানুষ আর্সেনিকের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে পারে।
তালা উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতি দ্রুত পুনরায় আর্সেনিক পরীক্ষা করা হবে। ওই এলাকায় কয়েকটি ওয়াটার প্ল্যান্ট করা থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কাজ করা হবে। ওয়াটার প্ল্যান্টগুলো চালু করে তাদের সুপ্রিয় পানির ব্যবস্থা করা হবে।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন সাফায়াত জানান, আর্সেনিক আক্রান্তদের খুব বেশি ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু মেডিসিন তাদের জন্য সাজেস্ট করা হয়। এতে করে আর্সেনিকের প্রবলতা কিছুটা কমে থাকে, তবে সেটা নির্মূল হয় না। এ জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হল প্রথম থেকে আর্সেনিকযুক্ত পানি না খাওয়া, বিশুদ্ধ পানি পান করা। যারা আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছে তাদের নিয়মিত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। তাছাড়া যে পানিটা আমরা পান করি, সেটা বছরে দুই বার শীতের সময় ও বৃষ্টির সময় আর্সেনিক পরীক্ষা করতে হবে। প্রথমদিকে এটা নিয়ে বেশ জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে পানির আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়েছে।
আর্সেনিকের শেষ পরিণতি কি মৃত্যু? এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, হ্যাঁ, আর্সেনিকের সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে মৃত্যু।










































