Home আঞ্চলিক মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্কে এলাকাবাসী

মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্কে এলাকাবাসী

1


মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় একটি বন্যপ্রাণীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে রাস্তাসংলগ্ন ঝোপঝাড়ে প্রাণীটি দেখা যাওয়ার পর এলাকায় ‘বাঘ’ আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে জেলা বন বিভাগ মোবাইলের ফুটেজ পরীক্ষা করে জানিয়েছে, এটি কোনো হিংস্র চিতা বাঘ নয়, বরং একটি বিপন্ন মেছো বাঘ।
স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার রাত ১১টার দিকে মাঝিপাড়া গ্রামের পাকা সড়কে ইসরাফিল হোসেন নামের এক যুবকের সামনে হঠাৎ প্রাণীটি চলে আসে। আকস্মিক ঘটনায় আতঙ্কিত হলেও তিনি মোবাইল ফোনে প্রাণীটির ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন।
পরে বাজারে গিয়ে ইসরাফিল বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে প্রথমে কেউ বিশ্বাস করেননি। তবে ভিডিওটি দেখার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই স্থানীয় কয়েকজন প্রাণীটির সন্ধানে বের হলেও অন্ধকারের কারণে সেটির হদিস মেলেনি।
প্রাণীটি নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তিও তৈরি হয়। কেউ এটিকে ‘চিতা বাঘ’ আবার কেউ ‘মেছো বাঘ’ বলে দাবি করেন। এতে জল্পনা-কল্পনা আরও বাড়ে।
যেখানে প্রাণীটি দেখা গেছে, এর আশপাশে কয়েকটি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। এ কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা যাচ্ছে।
মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী জানান, তাঁর ভাতিজা ইসরাফিলের ধারণ করা ভিডিও দেখার পর তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটি ধরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ধরতে পারেননি। তার ভাষ্য, বর্তমানে পুরো এলাকাজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিষয়টি জানতে ভিডিওটি জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা তপেনন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে পাঠানো হয়। তিনি জানান, ভিডিওতে দেখা প্রাণীটি আসলে একটি মেছো বাঘ। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় এখনো মেছো বাঘের দেখা মেলে। মেছো বাঘ (মেছো বিড়াল) বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন একটি প্রাণী। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) এদের লাল তালিকায় বিপন্ন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এদের প্রধান বিচরণক্ষেত্র জলাভূমি, বিল ও জলাশয়ের ধারের ঝোপঝাড় দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কমে যাচ্ছে এদের প্রধান খাদ্য মাছ। ফলে খাবারের খোঁজে এরা প্রায়ই লোকালয়ে এসে কৃষকের হাঁস, মুরগি খেয়ে ফেলে এবং স্থানীয়দের হাতে মারা পড়ে।
তপেনন্দ্রনাথ ঠাকুর আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।