Home জাতীয় কেন বাংলাদেশ সীমান্তে আসছে সশস্ত্র কেপিএফ, সামনে কঠিন পরীক্ষা

কেন বাংলাদেশ সীমান্তে আসছে সশস্ত্র কেপিএফ, সামনে কঠিন পরীক্ষা

2

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
বান্দরবানের থানচি ও রুমা সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি পথ, ঝিরি আর পাড়াগুলো এখন কেবল সীমান্তবাসীর চলাচলের পথ নয়, বরং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের নতুন এক আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ‘খুমি পিপল ফোর্স’ (কেপিএফ) নামে একটি নতুন সশস্ত্র সংগঠনের আনাগোনা দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংগঠনটি মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতোয়া টাউনশিপ-কেন্দ্রিক খুমি জনগোষ্ঠীর একটি সশস্ত্র প্ল্যাটফর্ম।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আরাকান আর্মি (এএ) পালেতোয়া অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বাড়ায়। এই চাপের মুখে আত্মরক্ষার যুক্তি সামনে এনে কেপিএফ চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মপ্রকাশ করে। গত এপ্রিল ও মে মাসে বান্দরবানের বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সংযোগস্থল বা তিনমুখ পিলার-সংলগ্ন এলাকা এবং থানচির তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের দুর্গম ঝিরিগুলোতে এই সংগঠনের সদস্যদের দেখা গেছে। তারা স্থানীয় খুমি জনগোষ্ঠীর ভাষা ও জাতিগত নৈকট্য ব্যবহার করে সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ও সহানুভূতি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, কেপিএফ সরাসরি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) চিঠি দিয়ে সীমান্ত এলাকায় চলাচল ও সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে। গত ২৫ মে পাঠানো ওই চিঠিতে তারা দাবি করে, তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে না এবং বিজিবির পরামর্শ মেনে সম্পর্ক গড়তে চায়। তবে চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবির কঙ্বাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকসার খান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সীমান্তে কোনও বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কেপিএফ-এর এই উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করছে। দুর্গম সীমান্তকে ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যদি খাদ্য, আশ্রয় ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে, তবে তা দ্রুত বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে। এছাড়া অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালান রুটের সঙ্গে এদের সংযোগ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা সাধারণ বেসামরিক নাগরিক এবং সশস্ত্র সদস্যদের আলাদা করাও বিজিবির জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা।

জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, ‘‘পার্বত্য সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় শতভাগ নজরদারি বাস্তবিক অর্থে কঠিন। তবে নীতিগতভাবে বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে রয়েছে। কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে বহিষ্কার করা হবে। বাংলাদেশের ভেতরে কোনও বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।’’