আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) :
যশোরের মণিরামপুরে দুই দফায় দুইজন হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একজনের আক্রান্তের খবর এসেছে গত ১২ এপ্রিল এবং নতুনজন আক্রান্তের খবর এসেছে বুধবার (২৯ এপ্রিল)।
নতুন আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর দাবি, সরকারিভাবে সেবাদানকারীদের যে পিপিই সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো মানসম্মত নয়। এসব পিপিই পরে কাজ করলে আক্রান্তের সম্ভবনা বেড়ে যাবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে এই নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। মণিরামপুর হাসপাতালের তিনতলায় কেবিনে আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোবাইলে কথা হয় আক্রান্ত সেই স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে। তিনি বলেন, ‘আমরা ফিল্ডে কাজ করি। আমাদের আক্রান্তের ঝুঁকিটা বেশি। আমাদের হাসপাতাল থেকে যে পিপিই দেওয়া হয়েছে সেটা মন বুঝানো। পায়ে মোজা থাকার কথা ছিল হাঁটু পর্যন্ত। কিন্তু যা দিয়েছে তাতে পায়ের অর্ধেক খালি থাকছে। এগুলোর উপরে ভরসা করলে সেবাদানকারীরা আক্রান্ত আরো বেশি হবেন।’
আক্রান্ত এই স্বাস্থ্যকর্মীর বেশ কয়েকদিন ধরে সর্দি ছিল। সেটা সারার পর শুকনো কাঁশি শুরু হয়। যা এখনো বর্তমান। সাথে তার হালকা গলা ব্যাথা হয়েছে। তাকে শুধুমাত্র জিংক ট্যাবলেট, গ্যাসের বড়ি ও প্যারাসিটামল দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুইদিন আগে মঙ্গলবার তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করার পরও তাকে দিয়ে ডিউটি করান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার তিনি উপজেলার পাঁচাকড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে তিন বাচ্চাকে টিকা দেন। এরপরই জানতে পারেন তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও করোনা পরিস্থিতিতে তিনি টিকা দিতে চাচ্ছিলেন না। কিন্তু টিএইচএ ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ ৩৯জন স্বাস্থ্যকর্মীকে বাধ্যগত টিকা দিতে বুধবার বিভিন্ন এলাকায় পাঠান।
তবে স্বাস্থ্যকর্মীর আক্রান্তের খবর পেয়ে টিকা দেওয়া তিন শিশুর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান নেহালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজমুস সাদাত।
আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে মণিরামপুর হাসপাতালের এক নারী উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো), নারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) ও নারী অফিস সহকারীর করোনা পজেটিভ ফলাফল আসে। এদেরমধ্যে অফিসসহকারী কোন উপসর্গ ছাড়াই আক্রান্ত হয়েছেন। আর আক্রান্ত সেকমোর হালকা জ¦র ছিল এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টের হালকা কাঁশি ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এজমার রোগী। কয়েকদিন আগে একবার তিনি নিজের পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তখন ফলাফল নেগেটিভ এসেছিল।
এই পর্যন্ত মণিরামপুর হাসপাতালের পাঁচজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে তিনিজন হাসপাতালের আইসোলেশনে এবং বাকি দুইজন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে হাসপাতালের স্টাফরা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী প্রায় শূণ্যের কোটায় পোঁছেছে। বৃহস্পতিবার রাত নয়টা পর্যন্ত মাত্র একজন রোগী ভর্তি ছিলেন। ভর্তি না হয়ে রোগীরা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এই কারণে বর্হিবিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ৭০ জন রোগী বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতালের আরএমও ডা. অনুপ কুমার বসু জানিয়েছেন।
ডা. অনুপ বসু বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কারণ তিনি আগ থেকেই এজমার রোগী। তাকে অবস্থা বুঝে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদেরও অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। যার উপসর্গ নেই তাকে ভিটামিন সি, জিংক ট্যাবলেট, প্যারাসিটামল ও গ্যাসের বড়ি দেওয়া হচ্ছে।
নমুনা নেওয়ার পরও সেই স্টাফকে দিয়ে কাজ কেন করানো হচ্ছে- এমন প্রশ্নে ডা. বসু বলেন, নমুনা নিলেই যে তাকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না এমন কোন নির্দেশনা নেই। যারা নমুনা দিচ্ছেন তারা আবার কাজও করছেন। পজেটিভ ফলাফল আসলে তাকে আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ১০ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান ড. বসু।
পিপিই’র ব্যাপারে ডা. বসু বলেন, সরকার যাই দিচ্ছে তাই পরেইতো কাজ করছি। তারপরেও পরায় কোন ত্রুটি থাকতে পারে।
এসব বিষয়ে জানতে হাসপাতালের প্রধান ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথকে একাধিকবার কল করা হয়। তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।









































