Home আঞ্চলিক প্রায় চার হাজার অসহায় পবিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘মানবিক নেতা’ রাজু

প্রায় চার হাজার অসহায় পবিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘মানবিক নেতা’ রাজু

12

স্টাফ রিপোর্টার:

সাধারণ সময়েই যাদের জোটে না দু’বেলা দু’মুঠো খাবার। আর এখনতো করোনার ছোবলে তারা দিশেহারা। এসব দিশেহারা মানুষের মাঝে গত ১ মাস ধরে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন অনেকটা নিরবে-নিভৃতে। করোনা মোকাবিলায় যখন নাস্তানাবুদ গোটা বিশ্ব। বাদ পড়েনি বাংলাদেশেও। প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ, দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। এই অবস্থায় গৃহবন্দী অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু যারা দিন আনে দিন খায় তাদের অবস্থা এখন আরো করুন। করোনায় ভীত নন তারা, তবে তাদের ভীতি ক্ষুধার। এসব ক্ষুধার্ত মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাঁদের তালিকা তৈরী করে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন। প্রতিদিনই নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন তিনি। যার কথা বলছি তিনি এস এম রাজুল হাসান রাজু। রাজনৈতিকভাবে তিনি সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু খাদ্য সামগ্রী বিতরণে তাঁর কোন দল নেই। দলমত নির্বিশেষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন। ওয়ার্ডের প্রায় ৪হাজার পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন রাজুল হাসান রাজু।

এস এম রাজুল হাসান রাজু বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে আমি দায়িত্ব মনে করেছি সাধারণ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর। ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি, দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়ার সংগ্রাম। এই সংগ্রামটাই আমি অসহায়দের জন্য করছি। তাঁর কর্মকান্ডে খুশি হয়ে তাকে সহযোগিতা করছেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেল ও শেখ রুবেল। শুধু খাদ্যসামগ্রীই নয় তিনি অসহায়দের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেছেন। নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন করোনার সময়টাতে সুস্থ থাকবার-বাড়িতে থাকবার। এক প্রশ্নের জবাবে রাজু বলেন, এই অসহায়দের পেটে যতোদিন ক্ষুধা আছে ততদিন তাদের পাশে থাকতে চাই। কিন্তু তা হয়ত সম্ভব হবে না। তবে করোনার দিন কয়টায় তাদের জন্য ব্যবস্থা করে যেতে চাই। এটাই আমার আনন্দ। এটাই আমার তৃপ্তি। অসহায় মানুষগুলো পেটপুরে খাওয়ার পর তৃপ্তির যে হাসিটা দেয়, এটা আমার কাছে কোটি টাকার সম্বল। আমার এই পরিশ্রম স্বার্থক হয় তখন। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা চাল-ডাল পওয়ার পরে তাদের হাসিমাখা মুখটা দেখার আনন্দটা নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো যাবে না। তিনি বলেন, চারিদিকে করোনা আতঙ্ক। লকডাউন করা হয়েছে খুলনা জেলাকে। এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের লোকজনের চরম দুর্দিন যাচ্ছে। দুঃখে-কষ্টে আছেন মধ্যবিত্তরাও। তাদের কথা চিন্তা করে তিনি মধ্যবিত্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন চাল, ডাল, তেল, আলু। গভীর রাতে অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে শত শত বস্তা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এসব কারণে স্থানীয়দের মাঝে তিনি ‘মানবিক নেতা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র, বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেল ও শেখ রুবেল’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মানবিক নেতা রাজু বলেন, অতিগোপনে শেখ সোহেল এবং শেখ রুবেল সাধারন মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের অনুপ্রেরণা তাঁকে সাহস যোগীয়েছে। সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা রাজু। সমাজের প্রতি প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব আছে। সবাই এগিয়ে এলে যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব।