যশোর অফিস ।।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নাউলী পুবের বিলে জলকপাট (স্লুইসগেট) দিয়ে পানি ঢুকেছে। নদীতে জোয়ারের চাপ বেড়ে যাওয়ায় জয়রাবাদ জলকপাট দিয়ে শনিবার থেকে বিলটিতে পানি ঢুকেছে। এতে বিলের শতাধিক বিঘা জমির পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। উপজেলার নাউলী গ্রামের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিলটি স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে পুবের বিল নামে পরিচিত। বিলের পূর্ব দিকে জয়রাবাদ গ্রামে জয়রাবাদ খালের ওপর তিন কপাটের একটি জলকপাট রয়েছে। এই জলকপাট দিয়ে ভৈরব নদ ও মজুদখালী খালের সঙ্গে পুবের বিলের পানি ওঠানামা করে। জলকপাটটি তিন বছর ধরে নষ্ট হয়ে আছে।
জলকপাটে কোনো খালাসি নেই। পুবের বিলে কয়েক হাজার বিঘা জমিতে এবার কৃষকেরা বোরো ধানের চাষ করেছেন। ধান পেকে গেছে। এখন চলছে ধান কাটার মৌসুম। অনেক কৃষক ধান কেটে খেতে শুকাতে দিয়েছেন। শনিবার থেকে ওই জলকপাট দিয়ে বিলে জোয়ারের পানি ঢুকতে শুরু করে। বিলের শতাধিক বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নাউলী গ্রামের কৃষক শাহাজান মোল্যা এবার বিলে আট বিঘা (৪৮ শতকে বিঘা) জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তিনি সব ধান কেটে খেতে শুকাতে দিয়েছিলেন। পানিতে তাঁর পাঁচ বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘জমিতে কোথাও আট আঙুল (আধা ফুট) আবার কোথাও এক হাত পানি। দুই দিন ধরে বেশি দামে জন (শ্রমিক) কিনে দুই বিঘা জমির ভেজা ধান সরিয়েছি। বিলে পানি কিছুটা কমছে। ধান নিয়ে খুব বিপদে আছি।’
সিদ্দিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাফিজুর রহমান শেখ বলেন, ‘জয়রাবাদ জলকপাটটি অনেক দিন ধরে নষ্ট। হঠাৎ নদীতে জোয়ারের চাপ বেড়েছে। এতে ওই গেট দিয়ে পানি ঢুকে শতাধিক বিঘা জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত রোববার সারা দিন গেটের কাছে থেকে পানি যাতে আর না ঢুকতে পারে, সে চেষ্টা করেছি। এখন পানি ঢোকা বন্ধ হয়েছে।’ হাফিজুর রহমান শেখ আরও বলেন, ‘জলকপাটটি মেরামতের জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো সমাধান পাইনি।’
সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অলিয়ার রহমান বলেন, ‘জয়রাবাদ জলকপাটটি তিন বছর কোনো মেরামত করা হয়নি। জলকপাটটিতে কোনো খালাসি নেই। শনিবার থেকে জলকপাটটি দিয়ে পুবের বিলে পানি ঢুকেছে। রোববার রাত থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পানিতে ২০ বিঘার মতো জমির ধান তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
পাউবোর যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ না পাওয়ায় এত দিন স্লুইসগেটটি মেরামত করা যায়নি। এ বছর কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্লুইসগেটটি দ্রুত মেরামত করা হবে। আগামী জুলাইয়ে স্লুইসগেটটিতে সার্বক্ষণিক একজন খালাসি নিয়োগ দেওয়া হবে।










































