মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্যকর্মী (পুরুষ) করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালের টিএইচওসহ ১০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে তারা নিজ বাড়িতে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন পালন শুরু করেছেন। কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া ১০ জনের মধ্যে হাসপাতালের টিএইচও ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপকুমার বসু, প্রধান সহকারী সন্দ্বীপকুমার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) আনিসুজ্জামান ও সাধনা মিস্ত্রি রয়েছেন। আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্যকর্মী গত কয়েকদিনে একাধিকবার এই ১০ জনের সংস্পর্শে গেছেন।

এই ১৪ দিনের জন্য হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডা. মুসাব্বিরুল হক রিফাতকে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বসু এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডা. অনুপ বলেন, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) হালকা জ¦র, কাশি, গলাব্যাথা ও গালে ঘা নিয়ে সেই স্বাস্থ্যকর্মী আমার কাছে আসেন। আমি তাকে করোনা পরীক্ষা করাতে বলি। তিনি প্রথমদিকে রাজি হচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে ল্যাবে গিয়ে তিনি নমুনা দেন। পরে সেটা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) ওই স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা না দিয়ে রোববার (১২ এপ্রিল) পুনরায় সেই নমুনা পরীক্ষা করেন। দ্বিতীয় বারও একই রিপোর্ট আসে। এরপর বিষয়টি আমাদের জানানো হয়।
ডা. অনুপ আরো বলেন, এই খবর পাওয়ার পর হাসপাতাল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা নিজের ও পরিবার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। ওই স্বাস্থ্যকর্মী আমাদের সাথে ছাড়াও তার নিজের সহকর্মীদের সাথে মিশেছে। সে নিয়মিত হাসপাতাল মসজিদে নামাজ পড়েছে। ফলে সে কত লোকের সংস্পর্শে এসছে তা বোঝা যাচ্ছে না। এসব ভেবে আমরা সিভিল সার্জন স্যারকে হাসপাতাল লকডাউন করে দিতে বলেছি। তিনি রাজি হননি। আমাদের দশ জনকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেছেন।
এদিকে মণিরামপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে সোমবার সকালে ভর্তি রোগীরা হাসপাতাল ছেড়েছেন। দুপুরে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাত্র দুইজন রোগী ভর্তি থাকার খবর পাওয়া গেছে। একইভাবে আতঙ্ক শুরু হয়েছে সাধারণ রোগীদের মধ্যেও।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মুসাব্বিরুল হক রিফাত বলেন, আতঙ্কে সকালে চারজন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে মাত্র ৫২জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। যেখানে রোববার বহির্বিভাগে ৯৩জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছিলেন।
এদিকে করোনা আক্রান্ত সেই স্বাস্থ্যকর্মীকে কেশবপুরের ইমাননগরে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি গত সোমবার (৬ এপ্রিল) উপজেলার হানুয়ার গ্রামে যত পরিবারকে টিকা দিয়েছেন সব বাড়ি কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনাসহ মুজগুন্নি গ্রামকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন।
তবে আশার কথা হচ্ছে, আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী শারীরিক অবস্থা জানিয়ে সোমবার নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি অনেকটা সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। একইসাথে আল্লাহর উপর ভরসা রাখার পরামর্শসহ নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি।











































