Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

49
ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এই ফুলের নাম একেক জন একেক নামে চিনেন আর জানেন, কেউ বলেন মধু মঞ্জুরী আবার কেউ বলেন মাধবী লতা। ফুলগুলো দেখতে যেমন সুন্দর আর তার নিজস্ব একটা সুন্দর ঘ্রাণ ভীষণ মিষ্টি। এই ফুল গুলো রাতে প্রস্ফুটিত হয় আর তখন চারপাশ টা সুঘ্রাণে ভরে উঠে: পিবিএ

খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা সফল করার লক্ষে কৃষক দলের প্রস্তুতি সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল এর খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা সফল করার লক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয় । ৫ মার্চ শনিবার বেলা ১১ টায় কে ডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আনারুল ইসলাম বাদশা এর সভাপতিত্বে ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম গোলাম কবির এর পরিচালনায় এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয় । সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব, অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, তরিকুল ইসলাম জহির, শফিকুল ইসলাম তুহিন, মনিরুল হাসান বাপ্পি, আবু হোসেন বাবু,

সভায় গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা বক্তব্য রাখেন আব্দুল আলিম হোসেন,  উসমান গনি, ইঞ্জিনিয়ার মমিনুর রহমান মমিন, শফিকুল ইসলাম শফিক, মোঃ সেলিম হোসেন, মোল¬া কবির হোসেন, শের আলম সান্টু, গাজী আমিনুর রহমান মিনু, এডভোকেট মাহমুদুল আলম শাহীন, মহিউদ্দিন খান শ্যামল, নুরুল হুদা খান বাবু ,এডভোকেট সিয়ব আলম, মোঃ রুবাইয়াত হোসেন, নীলিমা ইসলাম বিশ্বাস, যুলফিকার আলি ভুট্টো আহসানুল কাদির স্বপন,  আবু সাঈদ শেখ, ফকির তৌহিদুল ইসলাম, খায়রুল আলম কাদেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা

কেশবপুর(যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শনিবার (৫ মার্চ) দুপুরে ওই ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের লক্ষে ইউনিয়নের বাগদহা মহিউস সুন্নাহ কওমী মাদ্রাসা মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা শেষে উপস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ৩১ সদস্যের ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

থানা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর থানা, পৌর ও থানাধীন ১১টি ইউনিয়ন বিএনপি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর সাদিক, যশোর নগর বিএনপির আহবায়ক সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফ, থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক মশিয়ার রহমান।

মজিতপুর ইউনিয়ন বিএনপির  উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন থানা বিএনপির যুগ্ন-আহবায়ক চেয়ারমান প্রভাষক আলাউদ্দিন আলা, মাসুদুজ্জামান মাসুদ, হুমায়ুন কবীর সুমন, থানা বিএনপির সদস্য আলাউদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ইব্রাহিম হোসেন, মাস্টার রবিউল আলম, আব্দুল লতিফ, ভ্যান্ডার সহিদুজ্জামান সহিদ।

থানা বিএনপি’র যুগ্ন-আহ্বায়ক রেজাউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভা শেষে উপস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আব্দুর রহমানকে আহ্বায়ক, মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির পলাশ, ইব্রাহিম হোসেন, রবিউল আলম, সাহিদুজ্জামান সাইদ, হাবিবুর রহমান হাজী, আবু সাঈদ, আব্দুল লতিফ, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী, আসাদুজ্জামান আসাদকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ৩১ সদস্যের ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নদী খেকোদের কালো থাবা চিত্রায়: প্রভাবশালী দখলবাজরা বেপরোয়া

সাবজাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥

এক সময়ে যে নদীর পানিতে চলতো কৃষকদের জমির সেচকাজ। মৎসজীবিরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। সে নদীর গর্ভেই কেউ কেউ কেউ কেটেছেন বড় বড় পুকুর। গড়ে তুলছেন বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আবার অনেকে নদীর জায়গা যে যার মত আয়ত্বে নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে চাষাবাদ। এমনকি নদীর দ’ুপাড়ের বাসিন্দারাও যে যার মত করে ক্রমেই নদীর জমি নিয়েছে দখলে। এভাবে দীর্ঘদিন কোন রকমের নজরদারি না থাকায় চিত্রা তার গর্ভের জায়গা হারিয়ে কিছু কিছু স্থানে সরু খালে পরিণত হয়েছে। ফলে ভরা বর্ষার মৌসুমেও নদীতে স্রোত থাকে না। মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে মুক্ত জলাশয়ের মাছ থেকে। অপরদিকে লাগাতার ভারী বর্ষা শুরু হলে নদীতে স্রোত না থাকায় মাঠের পানি নিষ্কাষনও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের এ চিত্রানদী এখনই দখলমুক্ত করে খননের ব্যবস্থা না করা হলে এক সময় নদীর সব জায়গা চলে যাবে ছোট বড় নদী খেকোদের পেটে।

স্থানীয়রা বলছেন, এক সময়ে এ নদীর গভীরতা ছিল অনেক। ফলে সারাবছরই নদীভরা পানি থাকতো। বড় বড় নৌকা, লঞ্চসহ বিভিন্ন জলযান এ নদীতে চলাচল করতো। যে কারনে বেশিরভাগ মানুষ স্বল্প ব্যয়ে পানি পথেই ব্যবসা বানিজ্য করতো। কিন্ত সেই নদীতে এখন খোদ বর্ষা মৌসুমেই পানি থাকে না বললেই চলে। এখন বর্ষার ভরা মৌসুমে নদীর তলাণীতে যতটুকু পানি থাকে তার পরিমানটা হাঁটু পানির অধিক নয়। বর্ষার মৌসুম চলে গেলে সেটুকুও থাকে না। তখন নদীর তলানিটাও শুকিয়ে ঠনঠনে করে।

প্রবাহিত চিত্রানদীর ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের অংশের বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, দু’পাড়ের বাসিন্দারা যেন নদীর জায়গা দখলের পাল্লায় নেমেছে। যে যার সুবিধা মত নদীর জায়গা ক্রমেই দখল করে নিজের আয়ত্বে নিচ্ছে দখলবাজেরা। সেখানে অনেকে গড়ে তুলেছেন দালান কোঠা। আবার গ্রামাঞ্চালের অংশে নদীর জমি দখলে নিয়ে ফসলী জমিতে পরিণত করেছে। নদীর বুক চিরেই নদীর অল্প পানিতেই চলছে বোরো ধানের চাষাবাদ। এ জন্য নদীর চিকন নিশানার আইল ফেলে নিচ্ছে যে যার সুবিধামত। এতে ক্রমেই নদীর বুক মাটিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আবার বর্ষয় নদীতে যতটুকু পানি জমা হয় সাভাবিক স্রোত বাধাগ্রস্থ হয়। শহর বাজারের অংশের মত ও গ্রামের অংশও এভাবে ক্রমেই দখল হয়ে যাচ্ছে। তবে  বর্তমান সময়ে শহরের অংশের চেয়ে গ্রামের অংশে দখলের মাত্রাটা বেশি।

সব গ্রামেই চিত্রা কমবেশি দখল হয়েছে তবে কালীগঞ্জ শহর থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত নিয়ামতপুর ইউনিয়ন ও মালিয়াট ইউনিয়নের অংশে দখলের পরিমানটা অত্যাধিক বেশি। বিশেষ করে মালিয়াট ইউনিয়ের দখলবাজেরা নদীর জায়গা দখলে নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

মালিয়াট ইউনিয়নের সাইটবাড়িয়া -গয়াশপুর, পারখির্দ্দা -সরুপকাঠি গ্রামগুলোর অংশে দখল বেশি হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রভাবশালীরা মঙ্গলপৈতা বাজার সংলগ্ন ব্রীজের সামনেই নদীর মাঝখান পর্যন্ত দখলে নিয়ে বোরো ধানের চাষ করেছে। ব্রীজের মুখেই এমন অবস্থা  হওয়ায় নদীর তলানীর পানির গতি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

এ বাজারের অধিকাংশ দোকান মালিক জানান, এ নদীর পাশঘেষা আবাদি জমিগুলো এক সময়ে এ নদীর পানি দিয়ে সেচ কাজ চালানো হতো। সে নদী আজ মাটি ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি থাকে না। একদিকে দখলবাজদের দখল অন্যদিকে চারপাশের মাটিতে নদী ভরাট হয়ে খালে পরিণত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এভাবে থাকলে একদিন নদীর সব জমি চলে যাবে প্রভাবশালীদের আয়ত্বে।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, আগের মত চিত্রায় আর পানি থাকে না। বর্ষার সময়টা পার হলেই নদীর মাঝখান পর্যন্ত শুকিয়ে ঠনঠনে হয়ে যায়। কেউ কেউ নদীর পাশের জমিতে ফসল চাষ করে এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে সরকার খননের ব্যবস্থা করলে তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন নদীর জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকবে। তিনি বলেন, এলাকার সব মানুষ নদীর জায়গা দখল করেনি। মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু মানুষ এর সাথে জড়িত। এক কথায় সকলেই চাচ্ছেন দখলমুক্ত করে নদীটি খননের ব্যবস্থা হোক।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া জেরিন জানান, তিনিও খবর পেয়েছেন অনেকে চিত্রা দখল করে ফসলের চাষ করেছে। নদী দখলমুক্ত করতে ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রামের লোকজনের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথা বলেছেন।  এরপর থেকেই লাগাতর অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন নদী খেকোরা যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

কেসিসি হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা সিটি কর্পোরেশন হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (৫৮২)’র সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কদমতলা মোড়ে ইউনিয়ন চত্বরে এর আয়োজন করা হয়।

সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি মো. আ. রহমান বেপারী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আ. বারেক খান। প্রধান অতিথি ছিলেন ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুজ্জামান মিয়া স্বপন। অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২১নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি আলহাজ¦ জামিরুল হুদা জহর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব মো. সেলিম মুন্সি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্ঠান ঐক্য পরিষদ নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও নিশাত বানিজ্য ভান্ডারের সত্বাধিকারী আলহাজ¦ সুজন মিয়া ও ইউনিয়নের উপদেষ্ঠা আলহাজ¦ হযরত আলী। বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. জিয়া, কাজী মো. পিয়ারু, আ. রহমান সরদার, শামীম সরদার, মো. তৈয়ব আলী হাওলাদার, মো. কালু গাজী, বাবলু মোল্লা ও মো. ফারুক হোসেন। এ সময় ইউনিয়নের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালীগঞ্জের বৃদ্ধ আয়ূবের চা খেয়ে বাড়ি ফেরা হলো না

 বিশেষ প্রতিনিধি ॥

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আয়ুব মন্ডল (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের উপজেলার দুলালমুন্দিয়া বাজারে রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার খামারমুন্দিয়া গ্রামের মৃত ওসমান মন্ডলের ছেলে।

প্রত্যদর্শী দুলালমুন্দিয়া গ্রামের ইসরাইল হোসেন জানান, শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে পার্শ^বর্তী বাজরে চা খেতে আসেন আয়ুব মন্ডল। পরে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুত গতির একটি পিকাপভ্যান তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মতলেবুর রহমান জানান, যশোর – ঝিনাইদহ মহাসড়কের গা ঘেষেই দুলালমুন্দিবাজার। অসাবধানতার কারনে  প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে। তারই ধারাবাহিকতায় আয়ুব মন্ডল দূর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেলেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি আটক করেছে পুলিশ।

শরণখোলায় মাদরাসা ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় মরিয়ম আক্তার (১০) নামে এক মাদরাসা ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (৫ মার্চ) সকালে পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত শিশু খোন্তাকাটা ইউনিয়নের তালতলি গ্রামের বেল্লাল গাজীর মেয়ে। সে রাজৈর এলাকার একটি আবাসিক প্রাইভেট মাদরাসার ছাত্রী।

শিশুটির মা আসমা বেগম জানান, ওই দিন সন্ধ্যা থেকে মেয়েকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনি রাত ৮টার দিকে ঘরের পাটাতনের ওপর মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছিল। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। মেয়ের মারা যাওয়ার কারন বলতে পারেননি তিনি। মরিয়ম রাজেশ্বর গ্রামে মায়ের সঙ্গে সৎ বাবার বাড়িতে থাকতো।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক বিপ্লব সাধাক জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

শরণখোলা থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাকে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে, মুখ থেকে ফেনা বের হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হলেও ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। এব্যাপারে একটি অপমৃত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কালীগঞ্জ বিএনপি’র পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥

চাল,ডাল,তেল,গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামহীন উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও  সমাবেশ করেছে বিএনপি’র দুটি গ্রুপ।

শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অনুসারীরা বিএনপি’র বর্ষিয়ান নেতা আলহাজ¦ মাহাবুবার রহমানের সভাপতিত্বে মিছিল সমাবেশ করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতা আয়নাল হাসান, তবিবুর রহমান মিনি, শহিদুল ইসলাম, ইলিয়াস রহমান মিঠু, মকছুদুল মোমিন, মঞ্জুরুল হক খোকা, সোহেল রানা, ছাত্রনেতা শোভন আহম্মেদ, জুয়েল রানাসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এদিকে একই দিন বিকেলে বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ মোল্যার সভাপতিত্বে শহরের রোকেয়া সুপার মার্কেটে অনুরুপ সভা করে বিএনপি’র সাবেক সাংসদ শহিদুজ্জামান বেল্টু-ও বিএনপি নেতা হামিদুল ইসলামের অনুসারীরা। এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতা আতিয়ার রহমান, মোস্তফা আব্দুল জলিল, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল গফ্ফার, মাহাবুবুর রহমান মিলন, যুবনেতা শাহাজান আলী খোকন, ছাত্রনেতা আবু তাহের প্রমূখ।

উভয় গ্রুপের নেতৃবৃন্দ বলেন,বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার অনির্বাচিত। তারা নিজেদের পেট ভরাতে ব্যস্ত।  নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাদেশের সরকারী দলের লোকেদের সিন্ডিকেটের কারনে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আজ বাজারে চাল ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম পাগলা ঘোড়ার মত ছুটেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ইতোমধ্যে আহাকার শুরু হয়ে গেছে। শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ সারাদিনের রোজগারে দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারছে না। তাই ব্যর্থ এ সরকারকে এখনই পথত্যাগ করে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দলটির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জ্যৈষ্ঠপুত্র জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ আজ এক হয়েছে। দেশের মানুষ আজ রাজপথে নেমে গেছে। সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আগামী দিনে যে কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম আসছে এজন্য দলের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।  

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্যের শোক ও সমবেদনা

খবর বিজ্ঞপ্তি

ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেনের মাতা রাবেয়া বেগমের (৯৫) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা এবং মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু।

আশাশুনির কোদন্ডা হাইস্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি সদর ইউনিয়নের কোদন্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ এবং প্রাক্তন কৃডু শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও অবঃ সহকারী শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১.৩০ টায় স্কুল ক্যাম্পাসে বিদ্যালয়ের এ্যালামনাই এসোসিয়েশান এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্কুলের প্রাক্তন সফল প্রধান শিক্ষক মনীন্দ্র নাথ বাছাড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংবর্ধিত প্রাক্তন শিক্ষার্থী আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ। শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতকরণ বিষয়ক অভিভাবক সমাবেশ এবং প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন, সংবর্ধিত প্রাক্তন কৃতি ছাত্র সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মোঃ শরিফুল ইসলাম, সংবর্ধিত প্রাক্তন ছাত্র বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি ও এফডিসি’র জয়েন্ট মেম্বার সরোয়ার হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিঃ প্রতিভা সরকার, ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবি উদয় কুমার বসাক, বিদায়ী শিক্ষক আব্দুল হক।

প্রাক্তন সংবর্ধিত ছাত্র ইউএনডিপি এর এডমিন অফিসার মুত্যুঞ্জয় দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক দুখীরাম ঢালী। প্রাক্তন শিক্ষক সুকুমার মল্লিক, বিধান চন্দ্র মন্ডল, রফিকুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি ডাঃ সিরাজুল ইসলামসহ বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এসএমসি সদস্য, স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ও বিদায়ী শিক্ষককে ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।

আশাশুনিতে কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিতে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজিবুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আঃ গণি, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুজিবর রহমান, অরবিন্দু কুমার মন্ডল, আঃ ওহাব, শিবুপদ সরকার, আকিকুন নেছা, আফিফা খাতুন, দীপক কুমার মল্লিক, সুকদেব কুমার সাধু, ইকবাল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, রফিকুল ইসলাম, মহিউদ্দিন গাজী, সানা আবু জাফর, আসাদুল ইসলাম, মারুফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, দেবপ্রসাদ দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বোরো আবাদের বর্তমান পরিস্থিতি, রোগ-বালাই ও পোকা মাকড় দমন, আলোর ফাঁদের মাধ্যমে পোকার উপস্থিতি নির্ণয়, তিল ও মুগ আবাদ, পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও সকল প্রকল্পের প্রদর্শনী নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বড়দলে চেয়ারম্যান ডালিমকে আ’লীগ থেকে বহিস্কারের দাবীতে সমাবেশ

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে কূরুচিপূর্ণ বক্তব্য দানের অপরাধে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ডালিমকে আ’লীগ থেকে বহিস্কারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারে বকুল তলা চত্বরে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বড়দল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে ঊক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনকি সম্পাদক আব্দুস সামাদ বাচ্চু। বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ডালিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইউপি সদস্য জুলফিকর আলী ভুট্টো, মেম্বার সত্যরঞ্জন বৈরাগী, মেম্বার চন্দ্র কান্ত, শহীদুল ইসলাম ছট্টু, এস এম শরিফুল ইসলাম, আঃ খালেক সরদার, হামেদ আলী, কামরুল ইসলাম মোড়ল, ভবতোষ কুমার, ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শংকর মজুমদার প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আশাশুনিতে আওয়ামীলীগের গণজাগরণ ঘটিয়েছেন। আ’লীগকে সুসংগঠিত করেছেন। যেখানে জামাত বিএনপি, জাতীয় পার্টির বিচরণ ও দৃঢ় অবস্থান ছিল, সেখানে আ’লীগের ঘাটি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই উপজেলার সকল ইউনিয়ন এখন আ’লীগের নেতাকর্মী বুক ফুলিয়ে চলতে পারে। নৌকা প্রতীকের বিজয় হয়। চরম দুঃসময়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে দলের জন্য, দলীয় নেতাকর্মীর জন্য মাঠে থেকেছেন। আজতে সেই মহান নেতাকে রাজাকার পুত্র, ডর্জনাধিক হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, বোমা ও অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মামলার আসামী ধৃৃষ্টতাপূর্ণ ও চরম অপমানজনক বাক্যবানে ঘৃণিত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। তার কর্মকান্ডে ইউনিয়নসহ উপজেলার মানুষ যখন ধিক্কার জানাচ্ছে, তখন  আহছানিয়া মিশনের নামে খাল নিয়ে তাকে রিসিভার করে বড়দল ইউনিয়নকে অশান্ত ও রক্তারক্তিতে পরিণত করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে খালের খন্ড খন্ড কাের বিক্রয় করে দিচ্ছে। এতে এলাকার মানুষ ক্ষুব্দ, ধান চাষের এই ইউনিয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে ও ইউনিয়নের মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অবিলম্বে চেয়ারম্যান ডালিমকে বআ’লীগ থেকে বহিস্কার এবং তিতুখালী ও কালকি খাল উন্মুক্ত করার দাবী জানান বক্তাগণ।

বাগেরহাটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা

বাগেরহাট প্রতিনিধি

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বাগেরহাটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (০৫ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাট জেলা পরিষদের আয়োজনে স্বাধনীতা উদ্যানে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময়, বাগেরহাট সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ শওকত হোসেন, পৌর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতুল কুমার বিশ্বাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অতীন্দ্র হাওলাদার মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রনাঙ্গনে কাটানো তাদের বিভিন্ন স্মৃতি ব্যক্ত করেন। এছাড়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. ভুইয়া হেমায়েত উদ্দিন, জেলা পরিষদের সদস্য শরীফা খাতুন, বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন, বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আহাদ উদ্দিন হায়দার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার  মানুষরা অংশগ্রহন করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা শেষে এক সাস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় দর্শনার্থীদের জন্য।

ডুমুরিয়ায় উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

ভাল,চাল,তেল,গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম উর্ধগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে জাকারিয়া সুপার মার্কেটের সামনে আয়োজিত সমাবেশে যোগদেন জেলা বিএনপি আহ্বায়ক সদস্য সচিব সহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যদেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান। প্রধান বক্তা ছিলেন সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি। বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা রাহাত আলী লা”চু, শেখ নাদিমুজ্জামান জনি,শেখ মতিয়ার রহমান বা”চু, ভাইস-চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সরোয়ার হোসেন,শেখ হাফিজুর রহমান, খান ইসমাইল হোসেন, চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল ইসলাম দিদার,এফ এম জহুরুল হক, শেখ শাহিনুর রহমান, অরুন গোলদার, জিএম আমানউল্লাহ, আব্দুল মালেক সরদার, মশিউর রহমান লিটন, শেখ ফরহাদ হোসেন, শেখ হেলাল উদ্দিন, আফজাল ফারাজি, মাষ্টার আমিরুল ইসলাম, মাহাবুবুর রহমান, আজমল হুদা মিঠু, প্রভাষক মঞ্জুর রশিদ, মোল্যা মশিউর রহমান, খান আসাদুজ্জামান মিন্টু, শাহানুর রহমান, হেমায়েত রশিদ খান, দেলোয়ার হোসেন, আয়ুব আহমেদ, মশিয়ার রহমান, সরদার দৌলত হোসেন, শেখ শাহিনুর রহমান শাহীন, জিয়াউর রহমান জীবন, মোনায়েম গাজী, শহিদুজ্জামান, শহিদ মোড়ল, আহমদ আলি ফকির, নুর ইসলাম, অশুপতি, আবরার হোসেন সৈকত, ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান সোহাগ, সাকিব হাসান, মেহেদী হাসান তুহিন প্রমূখ।

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

ডুমুরিয়ায় গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আব্দুর রশিদ গাজী (৩৮) নামের এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার জেলের ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের রাজিবপুর এলাকার আরজান গাজীর ছেলে। নিহতের স্ত্রী শারমিন বেগম জানান, ঘটনার দিন দুপুরে গুটুদিয়া ইউনিয়নে জেলের ডাঙ্গা এলাকার বলরাম মন্ডলের বাড়ির আঙ্গিনায় একটি শিরিশ গাছে ডাল কাটতে উঠে। ওই গাছের নিচে ছিল একটি বিদ্যুৎ লাইন। ডাল কাটার একপর্যায়ে কর্তনকৃত একটি ডাল অসাবধানতা বশতঃ ওই তারে জড়িয়ে সে গুরতর আহত হয়। পরে ¯’ানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রূপসায় ইসলামিক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

রূপসা প্রতিনিধিঃ

রূপসায় রহিম নগর কলোনী জামে মসজিদ কর্তৃক আয়োজিত শবে মিরাজ উপলক্ষে ইসলামিক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল গত ৪ ফেব্রুয়ারি মাগরিব বাদ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নৈহাটী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন বুলবুল। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইমরান বিন লুৎফর। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নৈহাটী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড  ইউপি সদস্য মাসুম সরদার। মোঃ ইসা হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন রহিম নগর কলোনী জামে মসজিদ কমিটির সদস্য আবজাল হোসেন,নুরুল ইসলাম খোকা,ইয়াসিন আলী,খালেদুজ্জামান মিঠু,ফজলু হাওলাদার,ফিরোজ মাহমুদ,সাদেক হোসেন প্রমূখ।

বাগেরহাটে নিত্যপন্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট

চাল, ডাল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাগেরহাটের রামপালে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। শনিবার দুপুরে রামপাল উপজেলার ফয়লাহাটে এ বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে একটি লুটপাটের দলে পরিণত হয়েছে। লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করে বিরোধী শক্তিকে দমন পীড়ন করে দাবিয়ে রেখেছে। বিনা ভোটের এই  সরকারের কারসাজিতে তেল, চাল, ডিজেলসহ নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ এই সরকার বাজারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। যে কারণে খেটে খাওয়া, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ আজ অসহায় জীবন যাপন করছে। এ জন্য  আমাদের লক্ষ্য দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে দলকে ঐক্যবদ্ধ করে কঠোর আন্দোলনের জন্যে প্রস্তুত হওয়া আহবান জানান। রামপাল উপজেলার বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী হালিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা শেখ আ আজিজ বাবু, ফকির শাহাদাৎ হোসেন, শেখ আব্দুল্লাহ আজমি, সরদার মাহাফুজুল হক, তালুকদার বদিউজ্জামান মিনা, মুজিবুর হাওলাদার বাবুল। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে যোদ দেন।

নলতায় ঝাড়ুদারকে এক বছর ধরে ধর্ষণ করছে বাজারের ইজারাদার

তরিকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি

শারীরিক সম্পর্ক না করলে করা হচ্ছে মারপিট। হুমকি দেওয়া হচ্ছে ঝাড়ুদারের কাজ থেকে বের করে দেওয়ার। এভাবে ভয় দেখিয়ে সাতক্ষীরার নলতায় এক সন্তানের জননী বিধবাকে এক বছর ধরে ধর্ষণ করছেন বাজারের ইজারাদার।

অভিযুক্ত ওয়াহেদ আলী সরদার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা কাঁচা বাজারের ইজারাদার । ভুক্তভোগী নারী নলতা কাঁচা বাজারের ঝাড়ুদার।

নিরুপায় হয়ে ওই নারী নলতা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ধর্ষণের শিকার নারী জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে আমি একাই বসবাস করি। সংসারের খরচ আমাকে চালাতে হয়। গত বছর থেকে আমি কাঁচাবাজারে ঝাড়ুদারের কাজ করি। এজন্য আমি কাঁচাবাজের পাশে ভাড়া বাসায় থাকি। বাজারের ইজারাদার ওয়াহেদ আলী সরদার বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও কাজ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আমার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমার বাসায় যাতায়াত শুরু করে ও নিয়মিত শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।

তিন বলেন, আমার গর্ভে যাতে বাচ্চা না আসে ওয়াহেদ নলতা বাজারের চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম কে দিয়ে ইনজেকশন পুষ করতো।

তিনি আরও বলেন আমি শারিরক ভাবে অসুস্থ থাকায় ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তার তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারছিনা। এ কারণে বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সকাল ৮ তার কর্মচারি মোনাজাতকে দিয়ে আমাকে মারধর করায় । এ ব্যাপারে আমি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। যে কারণে আজ শুক্রবার (৪মার্চ) আমাকে কাজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী বিধবা ওই নারী পুনরায় কাজ ফিরে পাওয়াসহ এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ওয়াহেদ আলী সরদার নাম্বারে একাধিক বার কল দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কালীগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন এ ব্যাপারে থানা পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়ায় অংশ নিতে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘প্রত্যাশা’ এর চট্টগ্রাম ত্যাগ

খবর বিজ্ঞপ্তি

আগামী ২১ হতে ২৩ মার্চ ২০২২ কাতারে অনুষ্ঠিতব্য  আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া এবং ২৮ হতে ৩০ মার্চ ২০২২ ভারতে এ অংশ নিতে নৌবাহিনী যুদ্ধজাহাজ ‘প্রত্যাশা’ শনিবার চট্টগ্রাম নৌ জেটি ত্যাগ করেছে। জাহাজটি নৌ জেটি ত্যাগের প্রাক্কালে নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী সুসজ্জিত বাদকদল বাদ্য পরিবেশন করে। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল, এনবিপি, এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি থেকে জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান। কমান্ডার বিএন ফ্লিট রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে নৌবাহিনীর পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাগণ, জাহাজে গমনকারী কর্মকর্তা ও নাবিকদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক এ সমুদ্র মহড়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী জাহাজ, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক, সমর বিশারদগণ এবং সামরিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন। বানৌজা প্রত্যাশা জাহাজের অধিনায়ক কমান্ডার মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এর নেতৃত্বে ২৫ জন কর্মকর্তাসহ মোট ১৩৫ জন নৌসদস্য এ মহড়ায় অংশগ্রহণ করবেন। দেশে ফেরার পথে জাহাজটি ভারতের গোয়ায় এ অংশগ্রহণ করবে। উক্ত মহড়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি বন্ধুপ্রতীম দেশসমূহের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়। উল্লেখ্য, মহড়ায় অংশগ্রহণ শেষে জাহাজটি আগামী ০৭ এপ্রিল ২০২২ তারিখে দেশে প্রত্যাবর্তন করবে।

যুদ্ধাপরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ধোঁয়া তুলে জনগনের সাথে প্রতারনা করছে বিএনপি: খালেক

খবর বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, বিশে^র যুদ্ধপরিস্থিতিতে সকল পণ্যের মুল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বাজারেও আমদানিকৃত নিত্যপন্যের দাম উর্দ্ধমুখী। যা নিরসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করছেন। আমরাও জোর দাবী জানায় উদ্ধমুখী বাজারের এই লাগাম টেনে ধরার। কিন্তু আমাদের বিএনপি জামায়াত ও তাদের অনুসারীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শ্লোগান দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পায়তারা করছেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সরকারের সমালোচনা করছেন। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারন জনগনকে বলছেন না। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, সুষ্ঠ নির্বাচনের নামে অতীতে তারা যেমন জনগনের সাথে প্রতারনা করেছেন তেমনি এখনও করছেন। দেশবিরোধী, জনবিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আমাদের আরো সোচ্চার হতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাদেশ গড়ার এই লড়াইয়ে দেশের আপামর জনগনকে সাথে নিয়ে আমাদের জয়ী হতে হবে।

শনিবার বিকাল চারটায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, খুলনা মহনাগর শাখা আয়োজিত বিএনপি জামায়াত ও তাদের অনুসারীদের দেশবিরোধী ষড়যনস্ত্র, নৈরাজ্য ও অপতৎপরতার প্রতিবাদে প্রতিবাদী মিছিল পূর্ব সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। নগরীর শঙ্খ মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর ররহমান পলাশের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলাম বন্দ। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের শেখ, এ্যাডঃ আল আমীন উকিল, মোঃ আবুল হোসেন, কাজী কামাল হোসেন, সওকাত হোসেন, কবির পাঠান, তাজুল ইসলাম, মোস্তফা শিকদার, জুয়েল হাসান দিপু, মেহেদী হাসান মোড়ল, কে এম শাহিন, ইয়াসিন আরাফাত। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক যুবলীগ নেতা মাসুদ পারভেজ, সাবেক ছাত্রনেতা বাচ্চু মোড়ল, রফিকুল ইসলাম রফিক, ইস্রফিল হোসেন জনি, পলাশ মন্ডল, অভিজিৎ পাল, থানা যুবলীগ নেতা রাশেদুজ্জামান রিপন, আব্দুল্লাহ আল মামুন মিলন, ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন লাবু, আরিফুর রহমান আরিফ, রবিউল ইসলাম লিটন, শওকাত হাসান, হাসান শেখ, আসাদুজ্জামান শাহিন, ইমরুল ইসলাম রিপন, বাদল সিপাহী, ইব্রাহিম আহমেদ তপু, মাসুম উর রশিদ, জামাল হোসেন, জামিল আহমেদ সোহাগ, লাবু আহমেদ, জিহাদুর রহমান জিহাদ, চৌধুরী রিয়াজ মাহমুদ, রাকিবুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন সাবু, ইউসুফ শেখ, সাকিব হাওলাদার, নগর ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবু, জব্বার আলী হীরা, জহির আব্বাস, ইমাজ উদ্দিন রিপন, মেহেদী হাসান, শেখ সাকিব, সোহান হোসেন শাওন, মাহমুদুর রহমান রাজেশ, হিরন হাওলাদার, নিশাত ফেরদাউস অনি, যুবলীগ কর্মী পলাশ সাহা দেবু, সাদ আহমেদ খান, সাগর মজুমদার প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদী মিছিল দলীয় কার্যালয় হতে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।

বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো

বেনাপোল প্রতিনিধি

বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃক বেনাপোলের দুটি সিএন্ডএফ এজেন্টেস লাইসেন্স সাসপেন্ড ও হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার (০৫ মার্চ) সকাল থেকে আমদানি-রফতানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন। এর ফলে দু‘দেশের বন্দর এলাকায় পচনশীল পণ্যসহ শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে।

উল্লেখ্য গত ২ মার্চ ভারত থেকে বন্ড লাইসেন্স (শুল্ক মুক্ত) এর মাধ্যমে আমদানিকৃত ডেনিম ফেব্রিক্স এর ট্রাকে বিশেষ ভাবে লুকিয়ে আনা প্রায় অর্ধকোটি টাকার শাড়ি, থ্রিপিচ, বাংলা মদ,ফেন্সিডিল. বিদেশী সিগারেট, ওষুধ, কারেন্ট জালসহ বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্য আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার সাথে ভারতীয় ড্রাইভার সরাসরি জড়িত থাকলেও ট্রাকসহ ড্রাইভারকে ছেড়ে দেয়া হয়।

আমদানিকৃত ডেনিম ফেব্রিক্সের আমদানিকারক ঢাকাস্থ অনন্ত ডেনিম টেকনোলজি লিমিটেড ও ফ্যাশান ফোরাম লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় বুধবার বেনাপোলের শিমুল ট্রেডিং এজেন্সী ও আইডিএস গ্রুপ নামে দুইটি সিএন্ডএফ লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করেছেন বেনাপোল কাস্টমস হাউস। পাশাপাশি সিএন্ডএফের কর্মচারিদের নামেও মামলা করেন বেনাপোল পোর্ট থানায়।

এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের আটক না করে সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল ও কর্মচারিদের নামে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সকালে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন, সিএন্ডএফ স্টাফ এসোসিয়েশন , ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি এক যৌথ সভায় আমদানি-রফতানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। লাইন্সেস পুর্ণবহাল ও মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, ভারতীয় এক শ্রেণীর ট্রাক চালকরা অর্থের প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে বৈধ আমদানি পণ্যের সাথে চোরাচালানী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য পাচার করে আসছে। এর আগে অসংখ্য ট্রাক অবৈধ মালামালসহ বেনাপোল কাস্টমস বিজিবি‘র হাতে ধরাও পড়েছে। অপরদিকে পেট্রাপোল বিএসএফ ও পুলিশ ভারতীয় ট্রাক এর মধ্য থেকে সোনা, ডলার, পাসপোর্ট, মোবাইল, রুপার গহণাসহ ট্রাক চালককে আটক করেছে। ভারতে ট্রাক চালক আটক হলেও বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভারতীয় কোন ট্রাক চালককে আটক না করে ছেড়ে দেয়। এখানে আমদানিকারক ও সংশ্লিস্ট সিএন্ডএফকে দায়ী করা হয়। অথচ তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এ রকম ঘটনায় ইতোমধ্যে ১০টি সিএন্ডএফ লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এসব ঘটনায় বন্দর ব্যবহারকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখাসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা ঘোষণায় বৈধ চালানের আড়ালে ফেনসিডিল, সিগারেট, ভারতীয় মদসহ বিভিন্ন চোরাচালান পণ্যসহ বন্দর থেকে ভারতীয় একটি ট্রাক আটক করা হয়। এ অভিযোগে দুটি সিএন্ডএফ লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করে শোকজ করা হয়েছে। অবৈধ পণ্য আমদানির অভিযোগে থানায় মামলাও করা হয়েছে। আমদানি-রফতানিসহ কার্যক্রম চলমান রাখতে সংশ্লিস্ট বন্দর ব্যবহারকারীদের সাথে আলোচনা করা হবে।

দাকোপে রোজাকে সামনে রেখে বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম

মোঃ শামীম হোসেন – বাজুয়া

খুলনার দাকোপে পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ১৩ ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। হঠাৎ করেই পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগির দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। নতুন করে বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। এছাড়াও কেজিতে ২ থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে আটা, ময়দা, চিনি, ডিম, সয়াবিন তেল ও জিরার দাম। শনিবার দাকোপের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পেঁয়াজের কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা। বাজারের তথ্য বলছে, এক লাফে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৫০-৬০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে এই পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩০-৩৫ টাকা। ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, প্রতি বছরই রমজানের আগে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। এবারও তেমনটি হয়েছে। বাজুয়া বাজারে বাজার করতে আসা খান মনিরুল ইসলাম  বলেন, কিছু দিন আগেও পেঁয়াজের কেজি কিনেছি ৩০ টাকা। এখন ৫০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। এক লাফে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা স্বস্তি নেই আমিষের সহজলভ্য উপাদান মুরগির বাজারেও। কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা, লাল লেয়ার মুরগি ২৬৫-২৭০ টাকা, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-২৯০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করেছেন ১৫০-১৫৫ টাকা। গত সপ্তাহে সোনালি মুরগি বিক্রি করেছেন ২৫০-২৮০ টাকা কেজি দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কিছুটা কম। এ কারণে দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ার কারণে সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। বেড়েছে গরুর মাংসের দাম শুধু ব্রয়লার বা মুরগির দাম নয়, গরু ও খাসির মাংসের দামও বেড়ে গেছে। এখন ৬৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস, ১০০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে খাসির মাংস। সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ছোট ফুলকপির পিস বিক্রি করছেন ৪০ টাকা। বড় ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।  পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা। শালগমের (ওল কপি) কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা। লাউ প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। লালশাকের আঁটি ১০-১৫ টাকা, পালংশাকের আঁটি ১৫-২০ টাকা।

বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা। গাজরের কেজি ২০-৩০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে গাজরের কেজি ছিল ১০-১৫ টাকা। কাঁচা পেঁপে ৫০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা, রসুন ৫০-৬০ টাকা, গোল আলু ১৫ টাকা, দেশি আদা ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। শিং ও টাকি মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩৫০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৬৫০ টাকা। তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকা। ছোট ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০-২০০ টাকা কেজি। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি। পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় সুরমা মাছ ৩০০ টাকা, রূপচাঁদা ৬০০-৮০০ টাকা, লাল কোরাল ৫০০-৬০০ টাকা ও বাটা মাছ ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মুগডাল ১২৫ টাকা, বুটের ডাল ৮০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪৫ টাকা, মসুর ডাল ১১৫ টাকা, ছোলা ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল ৫২ টাকা কেজি

নিম্ন মধ্যবিত্তদের মোটা চাল এখন ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা চিনিগুঁড়া চাল ৯০-১০০ টাকা, মিনিকেট চাল ৬০ টাকা ও নাজিরশাইল চাল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন খোলা সয়াবিন এখন ১৬৫ থেকে ১৬৭ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন কিনতে হচ্ছে ১৭০ টাকা দিয়ে। আর ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন কিনতে লাগছে ৭৮০ টাকা। ত্রুেতাদের অভিযোগ এভাবে যদি প্রতিটি দ্রব্যর দাম বাড়তে থাকে তবে সাধারন মানুষের কি হবে ভেবে দেখেছেন।

নড়াইলে আনসার সদস্য’র স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের

মোঃ তাহের আলী, নড়াইল প্রতিনিধিঃ

নড়াইলে আনসার সদস্য আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী লাকি বেগমকে ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগে সদর নালিশী আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের কলোইগাছি গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে আনসার সদস্য আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ২০ বছর আগে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার বরাসপুর গ্রামের হাবিবর রহমান কাজীর মেয়ে লাকি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুখে-শান্তিতে কাটছিল আনোয়ার-লাকির দাম্পত্য জীবন। তাদের দাম্পত্য জীবনে আরিফুল (১৭), রিয়াদ হোসেন (১৭) ও খাদিজা (৯) নামে তিন ছেলে-মেয়ের জন্ম হয়। লাকির স্বামী আনোয়ার খুলনার খালিশপুরে আনসার ব্যাটালিয়নে কর্মরত।আনোয়ার চাকুরিগত কারণে বাড়িতে না থাকায় একই গ্রামের কেরামত মোল্যার ছেলে শাহীন মোল্যা (২৫) বিভিন্ন অজুহাতে আনোয়ারের বাড়িতে এসে স্ত্রী লাকিকে কুপ্রস্তাব দিতো এবং বিভিন্ন ধরনের খারাপ ইঙ্গিত করতো। শাহীন একপর্যায়ে লাকিকে বিয়ে করে ঘর সংসার

বাঁধার প্রস্তাব দিয়ে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলে।শাহীনের যৌন লালসার স্বীকার হয়ে লাকি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পর স্ত্রীর সঙ্গে শাহীনের অনৈতিক কর্মকান্ডে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। এরপর লাকির স্বামী আনোয়ার হোসেন গত ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর শাহীন মোল্যার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর নালিশী আদালতে মামলা দায়ের করেন। সূত্রে আরো জানা যায়, আনোয়ারের স্ত্রী লাকি লম্পট শাহীনের বিচার চেয়ে গত ২০২০ সালের ১৮ আগষ্ট গ্রাম আদালতে বিচার চেয়ে বাঁশগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।গ্রাম আদালত থেকে শাহীনকে পর পর তিনটি নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি হাজির হননি। শাহীনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের নিস্পত্তির জন্য বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন গ্রাম আদালতের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নড়াইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রের কাছে প্রেরণ করা হয়।

৭ মাস কারাভোগ শেষে স্বদেশে রওনা ১৩ ভারতীয় জেলের

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

এদেশে প্রায় ৭ মাসের কারাভোগ শেষে স্বদেশে রওনা হয়েছেন ১৩ ভারতীয় জেলে। শনিবার সকালে বাগেরহাট জেলহাজত থেকে ছাড়া পেয়ে দুপুরেই তারা তাদের ট্রলার নিয়ে মোংলা থেকে ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগোনার উদ্দেশ্যে সমুদ্র পথে রওনা হয়ে যান।

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারকালে গত বছরের ৮ আগস্ট ভারতীয় এফ,বি স্বর্ণতারা নামক ট্রলারসহ ১৩ জেলেকে আটক করে কোস্ট গার্ড। এরপর কোস্ট গার্ড তাদেরকে পুলিশে হস্তান্তর করার পরদিন বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর পর প্রায় ৭ মাসের মত কারাভোগ শেষে শনিবার (৫ মার্চ) ছাড়া পান তারা। ছাড়া পেয়ে মোংলা থানা হেফাজতে থাকা তাদের ট্রলার নিয়ে দুপুরে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান ওই জেলেরা। স্বদেশে রওনা হওয়া জেলেরা হলেন ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগোনার সাইফুদ্দীন হাওলাদার, কমলকান্ত, সাবের আলী, অলি মোল্লা, রজ্জব শেখ, ইউনুস শেখ, ঝন্টু দাস, স্বপন দাস, আব্দুল মীর, মিলন ঘরামী, স্বর্ন কুমার ঘরামী, সুবেদ ও মলয়।

উল্লেখ্য, আগে ৩ মাস ২০ দিন কারাভোগ করে ছাড়া পাওয়ার পর গত ২৩ ডিসেম্বর মোংলা থেকেই ভারতের আরো ১৩ জেলে স্বদেশে ফিরে যান।

এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না ডাকবাক্সের

শামীম খান জনী,মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি

গ্রামের মোড়ে বড় কোন বটগাছে সেঁটে থাকা কিংবা শহরে রাস্তার পাশে সটান দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ সমান লাল রংয়ের ডাকবাক্সগুলো কার্যত এখন অচল। পোস্টম্যানও নেই, নেই চিঠিও। কেউ এখন চিঠি লিখে না। চিঠি লেখার অভ্যাসটাই বুঝি মানুষ ভুলে যেতে বসেছে। মনের অভিব্যক্তি দিয়ে শব্দের সাথে খেলা করে তৈরি চিঠি প্রিয়জনের হাতে পৌঁছাতে হয়তো সময় নিতো। কিন্তু এ অপেক্ষার দহনটাই ছিল চরম আনন্দের।

ডাক বাক্স গুলোর কচিৎ দেখা মিলে। দিন গড়াচ্ছে, যুগ যাচ্ছে বদলে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে অনেক পুরনো রীতিও। এমন একটি পুরনো রীতি ছিল চিঠি লেখা। এমন এক সময় ছিল যখন যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। চিঠি চালাচালির মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। মনের মাধুরী মিশিয়ে চিঠি লেখার মজাই ছিল আলাদা। কাগজে লিখে খামে পুরে চিঠি পাঠানো হতো। চিঠি লেখার জন্য ছিল পোস্টকার্ড ও বিভিন্ন রং-বেরঙের প্যাড।

পরিবারের কেউ দেশের বাইরে কিংবা অন্য কোথাও অবস্থান করলে তার খোঁজ-খবর নেওয়া হতো চিঠির মাধ্যমে। তাকে বাড়ির ‘অবস্থা’ জানানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল এই চিঠি। তখন মোবাইলের মতো দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম ছিল না। জনপ্রিয় ছিল চিঠি। বর্তমান যান্ত্রিক যুগে চিঠিপত্রের গুরুত্ব কমে গেছে। প্রযুক্তির ধারাক্রম এখন অজপাড়াগাঁয়েও গেছে। তাই এসএমএস, মেইল আর ফেসবুকে চ্যাটই প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

উপমহাদেশে প্রথম ডাক সার্ভিস চালু হয় ১৭৭৪ সালে। বাংলাদেশের ডাক বিভাগের ইতিহাসও অনেক পুরোনো, ১৫০ বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে চলা ডাক বিভাগ আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। দেশে প্রায় ১০ হাজারের মতো পোস্ট অফিস রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ডাকসেবা হিসেবে ডাকঘর চিঠিপত্র, পোস্ট কার্ড, পার্সেল ইত্যাদির সেবা প্রদান করে থাকে। কিন্তু নানা করণে এখন মানুষ পোস্ট অফিসের সেবা নিতে আগ্রহী নয়। ফলে মাঝেমধ্যে যে চিঠি/পার্সেল আসে, তার অধিকাংশই সরকারি চিঠি, পাবলিক চিঠি মাসের পর মাস অনেক পোস্ট অফিসে আসে না। এর মূল কারণ মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। ডাক বিভাগের মাধ্যমে মানুষ সঞ্চয়পত্র, ডাক জীবন বীমা, মোবাইল মানি অর্ডারের সেবা পেয়ে থাকলেও সব ডাকঘরে এই সেবাগুলো এখনো পোঁছায়নি, যার মূল কারণ অনুন্নত অবকাঠামো, সেবার সহজলভ্যতা ও ডাকসেবা সম্পর্কে মানুষের ধারণার অভাব। ফলে বিকাশ, রকেট সার্ভিস চালু হওয়ায় মানি অর্ডারের পরিমাণ কমে গেছে। সুন্দরবন, এসএ পরিবহন, কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সর্ভিস দখল করে নিয়েছে ডাক বিভাগের পার্সেল, চিঠি আদান–প্রদানের স্থান।

একটা সময় ডাকপিয়নেরও কদর ছিল যথেষ্ট। বিশেষ করে প্রেমের চিঠি বিলি করার নানা মজার ঘটনা এখনো অনেকের স্মৃতিতে অমলিন। অনেক ডাকপিয়ন প্রণয়ঘটিত অনেক বিয়ের নীরব সাক্ষী। পিঠে চিঠির বস্তা নিয়ে ঝুনঝুন ঘণ্টা বাজিয়ে রাতের আঁধারে রানার ছুটত দূরের পথে।

মোংলায় ডুবে যাওয়া কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি এখনও

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়ায় কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজের উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি এখনও। দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে ডুবন্ত কার্গো জাহাজটির উদ্ধার তৎপরতা শুরুর জন্য মালিক পক্ষকে শুক্রবার চিঠি দেয় বন্দরের হারবার বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় ৬শ মেট্টিক টন কয়লা নিয়ে হাড়বাড়ীয়ার এ্যাংকোরেজ এলাকার পশুর নদীর ডুবে চরে আটকে তলা ফেটে ওই কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি হারবার মাষ্টার ক্যাপ্টেন মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, কার্গো জাহাজ এম,ভি নাওমী বন্দরের হাড়বাড়ীয়া এলাকায় অবস্থানরত পানামা পতাকাবাহী সি এম,ভি জর্ডান এস জাহাজ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে কয়লা বোঝাই করে। এরপর রাতে এটি ছেড়ে যাওয়ার পথিমধ্যে হাড়বাড়ীয়ার পশুর চ্যানেলের পশ্চিম পাশে ডুবো চরে আটকে পড়ে। সেখানে তলা ফেটে কার্গোটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ার পরদিন শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সেখানে মার্কিং স্থাপন করেন বন্দরের হারবার বিভাগ।

এদিকে শুক্রবারের পর থেকে পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে ডুবন্ত কার্গো জাহাজের কয়লা অপসারণ ও কার্গোটি দ্রুত উদ্ধারে মালিক পক্ষকে হারবার বিভাগ চিঠি দিলেও শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোন কাজই শুরু করতে পারেনি মালিক পক্ষ।

দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের মাস্টার মোঃ আজিজুল হকের সাথে এ নিয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কয়লার কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কয়লা বিষাক্ত সালফার যুক্ত পণ্য। এই কয়লা পানিতে মিশে জলজ প্রাণী ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি করবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কয়লা অপসারণের দাবী জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, মুলত ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই, পণ্যবাহী নৌযানের ফিটনেস না থাকা, অদক্ষ ষ্টাফ দিয়ে নৌযান চালানো, পশুর চ্যানেলের ডুবন্ত রেক যথাসময়ে উত্তোলণ না করাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় একের পর এক নৌযান ডুবির ঘটনা ঘটে আসছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই আরো বেশি সর্তক ও দায়িত্বশীল হবে বলে মত তার।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১৬ নভেম্বর হাড়বাড়ীয়া এলাকায় কয়লা নিয়ে ডুবে যায় একটি বাল্কহেড।

কালীগঞ্জে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দুলাল মুন্দিয়া বাজারে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় আইয়ুব হোসেন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। শনিবার সকালে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ওই স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আইয়ুব হোসেন (৬৫) খামার মুন্দিয়া গ্রামের মৃত ওসমান মন্ডলের ছেলে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মতলেবুর রহমান জানান, আইয়ুব হোসেন দুলাল মুন্দিয়া বাজারে দীর্ঘদিন দিন ধরে দর্জির দোকানে কাজ করতো। সকালে বাড়ি থেকে বাজারে চা নাস্তা করতে এসেছিলো। এসময় সড়ক পাড় হওয়ার সময় দ্রুত গতির একটি পিকআপ ভ্যান তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থানে তার মৃত্যু হয়। পিকআপ ভ্যানটি উপজেলার ভাতঘরা গ্রামের ভিতর গাড়ি রেখে চালক পালিয়ে যায়। পরে কালীগঞ্জ থানা ও বারবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে পিকআপ ভ্যান তাদের  হেফাজতে নিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় এসএসসি ৮২ ব্যাচের বন্ধুদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় এসএসসি ৮২ ব্যাচের বন্ধুদের মিলনমেলা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার শহরের ইটাগাছা তিতুমীর কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে

এসএসসি ৮২ ব্যাচের বন্ধুরা ও তাদের পরিবার অংশগ্রহণ করে। এসএসসি ৮২ ব্যাচের বন্ধুদের পরিবারসহ মিলনমেলা ২০২২ এ উপস্থিত ছিলেন এসএসসি ৮২ ব্যাচের শিক্ষার্থী নবারুল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও রোটারী ক্লাব অব জাহাঙ্গীর নগর ঢাকা’র ক্লাব প্রেসিডেন্ট ডিস্ট্রিক ৩২৮১ রোটারীয়ান নাজনীন আরা নাজু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ তৌফিকুজ্জামান লিটু, নাসরিন শাহী, শুভ্র আহমেদ, শ্রীউলা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল, ডা. মিনহাজ, মাহফুজ, তিতুমীর, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জসি, শিরিন দিপা, দিদারুল, নিয়াজ, শাইরুল ইসলাম, ইঞ্জি: রেজোয়ান, জ্যোৎস্নাসহ এসএসসি ৮২ ব্যাচের বন্ধুরা।

তালায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিত পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

ইলিয়াস হোসেন, তালা(সাতক্ষীরা)

সাতক্ষীরার তালায় জাগরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিতর ঘটনা ঘটেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারী সোমবার বিকালে তালা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এর পরই শুরুহয় বিপত্ত্বি। স্থগিত হয় নির্বাচন।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানাযায়, তালা উপজেলার জাগরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঐদিন নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ঠ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক এস কে কামরুল ইসলাম ও ইন্দ্রজিত দাস বাপী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ঠ  ভোটার, সাংবাদিক সহ সকলে উপস্থিত হন । এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসে না থাকায় অপেক্ষমান সকলের সামনে প্রধান শিক্ষক হাফিজুর ইসলামকে  লাঞ্চিত করেন সভাপতি প্রার্থী অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী ও আঙ্গুল ফুলে রাতারাতি কলাগাছ হওয়া আ.লীগ নেতা ইন্দ্রজিত দাস বাপী। অন্যদিকে এ ঘটনার পর গোটা একলা জুড়ে জনসাধারনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চর হয়।

জেঠুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও অভিভাবক মোল্লা তবিবুর রহমান (কালু) জানান, আমি হেড মাষ্টারকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদ সহ বিচার দাবী করছি। তিনি আরও বলেন, একটি কু-চক্রীমহল ঐতিহ্যবাহী জাগরনী স্কুলের সুনাম নষ্ট করার পায়তারায়  লিপ্ত, তারা নির্বাচন ছাড়াই জোর করে সভাপতি হতে চাই।

জেঠুয়া জাগরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে আমাকে লঞ্চিত করা হয়েছে।

এঘটনায় রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া ও অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী ইন্দ্রজিত দাস বাপীর হাত থেকে রেহায় পেতে ৩ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫টায় স্থানীয় ডাক বাংলো চত্ত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তালা সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও জাগরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বারবার নির্বাচিত সাবেক সভাপতি এস কে কামরুল ইসলাম। এসময় তিনি দ্রুত ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক এস কে কামরুল ইসলাম বলেন, তালার জেঠুয়া জাগরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমার পিতা মৃত শেখ আব্দুল মালেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে একাধীকবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আমিও একাধীকবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি।

বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে তালার জেঠুয়া জাগরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিকাল ৪ টায় নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ঠ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ২ সভাপতি প্রার্থী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ঠ  ভোটার, সাংবাদিকসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে উপস্থিত সকলের সামনে প্রধান শিক্ষক হাফিজুল ইসলামকে আক্রামান্তক ও নোংরা ভাষায় মারতে উদ্যত  হওয়া সহ  আমি কেন বারং বার স্কুলে যাই তার কৈফিয়ত চেয়ে হুমকী দেন অপর সভাপতি প্রার্থী ইন্দ্রজিত দাস বাপী।

অন্যদিকে ঘটনার ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে ভূইফোঁড় সরকারী অনুমোদন বিহীন অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক পরিচয় দেওয়া আ.লীগ নেতা ইন্দ্রজিত দাস বাপী ৫ মার্চ শনিবার সকালে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

এ ব্যাপারে তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান’র বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারী সুষ্ঠ পরিবেশ না থাকায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার দিন নির্ধারণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ^াস জানান, আমি ঐ মুহুর্তে উপস্থিত ছিলাম না, তবে আমি নির্বাচন বন্ধ করতে বলেনি, এটা শিক্ষা অফিসারের ব্যাপার।

খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ৭ই মার্চ জাতির পিতার ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে

খবর বিজ্ঞপ্তি

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস-২০২২ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে ঐ দিন বেলা ১১.৩০ মিনিটে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ক্লাব চত্বরে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। খুলনা প্রেসক্লাবের সকল সদস্য ও ইউজার সদস্যদেরকে যথাসময়ে ক্লাবে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন ক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা।

উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় তরমুজ চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার বিপ্লব ঘটাবে

শাহজাহান সিরাজ, কয়রা থেকে

সুন্দরবনের কোল ঘেষা খুলনার উকূলীয় উপজেলা কয়রার আমাদি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষ ৮ হাজার বিঘা ছাড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, বিগত বছরে এই ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন ও চাষীরা লাভবান হওয়ায় দ্বিগুণ জমিতে এবার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত জাতের পাকিজা, বারি-১, বারি-২ ও ড্রাগন ও রিজেন্ট-২ জাতের তরমুজের বীজ রোপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরেজমিনে এই ইউনিয়নে চান্নির চক, হাতিয়ারডাঙ্গা, হরিকাটি, চণ্ডিপুর, খেওনা, পাটনিখালি, চকগোয়ালবাটি, চক চান্নামারা, মসজিদ কুড়, নাকশা, ভান্ডার পোল ও ভাগবা গ্রামে এক টুকরো জমি পড়ে নেই। এছাড়াও বাগালী, মহারাজপুর, কয়রা সদর ও উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নেও পরিক্ষামূলক কিছু কিছু জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। যে কারনে এসব গ্রামের গরু ছাগলের মালিকরা এই মহুর্তে তাদের পশু অন্য এলাকায় আত্তীয় স্বজনের বাড়ীতে লালন পালনের জন্য পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। তরমুজ চাষীরা জানান, আমন ধান কাটার পর ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে তরমুজ চাষ শুরু হয় এবং ইতোমধ্যে অধিকাংশ জমিতে তরমুজের চারা গজিয়েছে। এদিকে প্রতিদিন চাষীরা পরিবারের নারী, পুরুষ ও তাদের স্কুলগামী ছেলেমেয়েদেরকেও সাথে নিয়ে সকাল বিকেল তরমুজ ক্ষেতে পানি দিতে দেখা যাচ্ছে। তাদের যেন একটু ফুসরত নেই। চাষীদের বক্তব্য বড় ধরনের বৃষ্ঠি ও বিগত বছরের মত দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা না দিলে এবারও লাভের আশা করছেন তারা। চাষীরা আরও জানায়, আমাদী ইউনিয়নে কোথাও গভীর নলকুপে মিষ্ঠি পানি না পাওয়ায় পুকুর ও খালের পানি দিয়ে তরমুজের পাশাপাশি পুইশাক, কুমড়া, করলা, ঢেড়ষ, ঝিঙি ও অন্যান্য সবজি চাষ করছেন তারা। যে কারনে এসব চাষীরা বিগত কয়েক বছর যাবত জাতীয় সংসদ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট এই ইউনিয়নে ছোট বড় ২০ টি খাল খননের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিনুকাটি গ্রামের অমিত সানা জানান, গতবারের চেয়ে এবার বীজ খুব ভাল গজিয়েছে কিন্তু কীটনাশক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে এবং ডিলাররা ভাল মানের কীটনাশক না এনে নরমাল কোম্পানির মাল বেশি দামে সরবরাহ করছে। ভাল কোম্পানির কীটনাশক সরবরাহ হলে গতবারের চেয়ে দ্বিগুন ফলন পাবেন বলে কৃষকরা দাবি করেন।

তরমুজ চাষের বিষয় চণ্ডিপুর গ্রামের সফল তরমুজ চাষী অধ্যক্ষ ড. চয়ন কুমার রায় জানান, এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিগত বছরে চাষের পর থেকে তরমুজ উত্তোলন পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী খরার কারনে ফলন কম হলেও ২ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি তরমুজ অন্যান্য জেলায় পাইকাররা নিয়ে গেছে। তিনি আশা করছেন চলতি মৌসুমে দ্বিগুণ জমিতে তরমুজ চাষ হওয়ায় শিলাবৃষ্টি না হলে এবার দ্বিগুণ উৎপাদন হবে।

মসজিদকুড় গ্রামের চাষী জোবায়ের হোসেন জানান, গত বছর ২০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে ভাল দাম পাওয়ায় তিনি  বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ১ লক্ষ টাকা বেচাকেনা করে খরচ বাদে লাভবান হওয়ায় এবার ৩০ বিঘা জমিতে চাষ করে ২৪ ঘন্টাই মাঠে পড়ে আছেন। তিনি বলেন, এ বছর তরমুজ চাষ বেশি পরিমানে হওয়ায় জমির হারিও বেড়ে গেছে। এখন ১ বিঘা জমি করতে খরচ হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে এলাকার একাধিক চাষির অভিযোগ এলাকার খাল গুলো ইজারা মুক্ত করে খনন করে সেচ মিটারের ব্যবস্থা করা হলে, তরমুজ সহ সবজি চাষে আমাদী ইউনিয়ন বিপ্লব ঘটাবে।

সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোঃ আকতারুজ্জামান বাবু জানান, বিগত বছর দীর্ঘস্থায়ী করার মধ্যে আমাদি ইউনিয়নের তরমুজ চাষীরা রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাতেও তরমুজ রপ্তানি করে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। তিনি বলেন, চাষীদের দাবীর কথা মাথায় রেখে তিনি এই ইউনিয়নে একাধিক খাল খনন সহ অন্যান্য সুবিধাও দিতে প্রস্ততি নিয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, দেশের উপকূলীয় এলাকা কয়রায় চলতি মৌসুমে যে হারে তরমুজের চাষ হয়েছে, বড় ধরনের কোন আঘাত না আসলে এবং বাজারে ভাল মূল্য পেলে ভবিষ্যতে দেশের এক চতুর্থাংশ এলাকায় এখানকার তরমুজ চাহিদা পূরণ করবে।

খাদের কিনারা থেকে পথহারা বাংলাদেশকে টেনে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: নগর বিএনপি

খবর বিজ্ঞপ্তি।।

সরকারের দুর্নীতি আর ভ্রান্ত নীতির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, নিশিরাতের ভোটে নির্বাচিত অবৈধ সরকারের কারনে পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ। পথহারা বাংলাদেশ ক্রমেই গভীর খাদের কিনারে চলে যাচ্ছে। এখনই খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে হবে। আর তাই দেশপ্রেম নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সোচ্চার করতে হবে। মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে শনিবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে যুগ্ম আহবায়কদের সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা আরো বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। অনির্বাচিত সরকারের চরম দুর্নীতি, অপব্যয় এবং অপরিকল্পিত ভ্রান্ত নীতির কারণে অস্বাভাবিকহারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি- চাল, ডাল, ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং তেল, গ্যাস ও পানির মূল্য ধাপে ধাপে বৃদ্ধিতে স্বল্পবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী মানুষের চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

সভায় বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব মো. শফিকুল আলম তুহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম জহির, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মো. রাশেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক স ম আ. রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দা রেহেনা ইসা, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হাসান রুবা, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মাহমুদ আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হাসান দুলু, যুগ্ম আহ্বায়ক শের আলম সান্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম জিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আনাম খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান পিয়ারু, যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক হেলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ।

সভা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সোনালী অতীত নব্বইয়ের দশকে আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের তুখোড় ছাত্রদল নেতা ফকির মোস্তানসির বেলাল’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মাসব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। এছাড়া দ্রব্যমুল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদের কেন্দ্র ঘোষিত ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সকল কর্মসুচির সাথে একাত্বতা ঘোষনা করা হয় এবং সকল প্রকার সহযোগিতা করার আশ^াস প্রদান করা হয়। সভা থেকে ৭ মার্চ আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এছাড়া দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের প্রতি আহবান জানানো হয়। সভা শেষে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসুচি সফল করতে মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের মাহবুব হাসান পিয়ারু, চৌধুরী শামীম কবির, নাজমুল হুদা সাগর, এবাদুল হক রুবায়েত, সে¦চ্ছাসেবক দলের একরামুল হক হেলাল, শফিকুল ইসলাম শাহিন, মোনতাসির আল মামুন, ছাত্রদলের আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, ইশতিয়াক হোসেন ইস্তি, গোলাম মোস্তফা তুহিন প্রমূখ।  

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আজ খুলনা আসছেন

তথ্য বিবরনী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এক দিনের সফরে আজ ৬ মার্চ খুলনা আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী মন্ত্রী সকাল পৌনে ১১টায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (কুয়েট) এ জাতির সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। পরে মন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করবেন।

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা

তথ্য বিবরনী

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি এই বাংলাদেশ। কারও দয়ায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানি শাসকদের নিপীড়ন এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এই অর্জনকে অর্থবহ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু দেশের অনেক শিল্প-কারখানা জাতীয়করণ করে গেছেন। মেয়র আরও বলেন, অভিভাবকদের উচিৎ জাতির পিতার আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর কবির, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ সাইফুল ইসলাম ও রূপান্তরের প্রধান নির্বাহী স্বপন কুমার গুহ। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলাম বন্দ, ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুন্সি মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, মোঃ হাফিজুর রহমান, শেখ মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

সাতক্ষীরায় র‌্যাবের অভিযানে মানব পাচারকারী ২ সদস্য আটক

খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় র‌্যাবের অভিযানে মানব পাচারকারী দলের সক্রিয় ২ সদস্য আটক হয়েছে। তবে মূল হোতারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। র‌্যাব সুত্রে জানাযায়, শনিবার ৫ই মার্চ বেলা ১২.৪০সময় সাতক্ষীরা শহরের বাস টার্মিনাল থেকে মানব পাচারকারী সক্রিয় ২ সদস্য নীলা বেগম পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরে সাতক্ষীরা র‌্যাব-৬ সিপিসি-১এর এফ এস ডি এ ডি মিজানের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম ঘটনাস্থলে পৌছায়। এ সময় মানব পাচারকারীর চক্রের পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার গাজীপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দীন তালুকদারের ছেলে  বাবুল (৪০) এবং সাতক্ষীরা জেলার সদর থানার কাশেমপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে আব্দুল মাজেদ (৪৭) সহ ভিকটিম নীলা বেগম (২১) কে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত ভিকটিম বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার গরমবা গ্রামের মুজাহিদ শেখের স্ত্রী নীলা বেগম। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা র‌্যাব-৬ এর সহায়তায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ভিকটিম বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করেছে বলে র‌্যাব সুত্রে জানাযায়। যার মামলা নং ১৫ তারিখ ০৫/০৩/২২ ইং। এদিকে মানব পাচারচক্রের ২ সদস্য আটক হলেও বরাবরের মতো পাচারের  মূল গডফাদার প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে  থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে একাধিক ব্যক্তি দাবী করেছেন। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি গোলাম কবীর এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে মানব পাচার মামলার বিষয়ে সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার জানা মতে থানায় কোন মামলা হয়নি। 

খুলনার মেয়ে মন্দিরা ‘কাজল রেখা’ হয়ে আসছেন রূপালী পর্দায়

স্টাফ রিপোর্টার

মিডিয়া’তে কাজ শুরু করার পর অনেকের সিনেমাতেই করার করার প্রস্তাব পেয়েছিলেন মন্দিরা চক্রবর্ত্তী। কিন্তু গল্প এবং চরিত্র সবমিলিয়ে যেন কোনটাতেই তার মন সায় দিচ্ছিলো না। অবশেষে যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন সেই স্বপ্নই তার পূরণ হতে যাচ্ছে। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় ‘কাজল রেখা’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন মন্দিরা চক্রবর্ত্তী। এরইমধ্যে সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মন্দিরা, জানালেন তিনি নিজেই। ‘কাজল রেখা’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় কাজ করা নিয়ে ভীষণ উচ্ছসিত এই প্রজন্মের অভিনেত্রী। মন্দিরা বলেন, ‘আমি যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, আমার সেই স্বপ্নই অবশেষে পূরণ হলো

মনপুরা যখন মুক্তি পায়, তখনই আমি সিনেমা হলে গিয়ে মনপুরা দেখেছি। মনপুরা সিনেমাটি আমার মনে গেঁথে আছে। মিডিয়াতে কাজ শুরুর পর থেকেই স্বপ্ন ছিলো শ্রদ্ধেয় সেলিম ভাইয়ের সিনেমায় কাজ করবো। অবশেষে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। কাজল রেখা’র মতো একটি ভালো সিনেমা দিয়েই আমার যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। এটা যে আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য কতোটা ভালোলাগার তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা। বিশেষ করে আমার মা ভীষণ খুশি। কারণ মা’ই মনে মনে চেয়েছিলেন একটি ভালো সিনেমায় অভিনয়ের মধ্যদিয়ে আমার যাত্রাটা শুরু হোক। কাজল রেখা’ সেই স্বপ্ন পূরণের সিনেমা।’

আগামী এপ্রিল থেকে সিনেমাটির শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে। সেরা নাচিয়ে’খ্যাত মডেল, অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্ত্তী ২০১২ সাল থেকে মিডিয়াতে কাজ করছেন।

এক দশক অপেক্ষার পর অবশেষে স্বপ্নের পথে তার যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।খুলনার মেয়ে মন্দিরা চক্রবর্ত্তী বাবা পান্না লাল চক্রবর্ত্তী, মা শুক্লা চক্রবর্ত্তী ও দুই ভাই সৌরভ-আবির তাকে মিডিয়ায় কাজ করার ব্যাপারে সবসময়ই ভীষণ অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। ওয়াহিদ আনামের নির্দেশনায় ‘প্রতিযোগিতা’ নাটকে তার প্রথম অভিনয় করা। এরপর বিভিন্ন পরিচালকের নির্দেশনায় তিনি মোশাররফ করিম, তাহসান, আফরান নিশোর বিপরীতেও অভিনয় করেছেন। চ্যানেলে আইতে প্রচালিত ‘শুকনো পাতার নূপুর’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি বেশ প্রশংসিত হন। এটি নির্মাণ করেছিলেন শাহজাদা মামুন। উল্লেখ্য, ‘কাজল রেখা’ সরকারী অনুদানে নির্মিত হবে। মাহিন আওলাদের নির্দেশনায় মন্দিরা চক্রবর্ত্তী ‘কলঙ্ক’ শিরোনামের একটি গানে মডেল হয়ে বেশ সাড়া ফেলেছেন। গানটি প্রকাশিত হয়েছিলো ধ্র“ব মিউজিক স্টেশন থেকে। গানটি গেয়েছেন কাজী শুভ। গানের কথা ও সুর হানিফ খান।

খুলনা জেলা বিএনপির ৬৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার

আমীর এজাজ খানকে আহবায়ক ও এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে সদস্য সচিব রেখেই খুলনা জেলা বিএনপি’র ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। শনিবার (৫ মার্চ) বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর এ কমিটি অনুমোদন দেন।

কমিটিতে ১৬ জন যুগ্ম-আহবায়ক হলেন শেখ আবু হোসেন বাবু, খান জুলফিকার আলী জুলু, সাইফুর রহমান মিন্টু, এসএ রহমান বাবুল, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, মোঃ রকিব মল্লিক, মোস্তফাউল বারী লাভলু, মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ তৈয়েবুর রহমান, শামীম কবির, আশরাফুল আলম খান নান্নু, সামসুল আলম পিন্টু, মেজবাউল আলম ও এনামুল হক সজল।

আহবায়ক কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে- মনিরুজ্জামান মন্টু, শেখ আব্দুর রশিদ, ডাঃ গাজী আব্দুল হক, চৌধুরী কওসার আলী, এ্যাড. মোমরেজুল ইসলাম, ডাঃ আব্দুল মজিদ, খায়রুল ইসলাম খান জনি, ওয়াহিদ ইমরান, এ্যাড. আব্দুস সাত্তার, অসীত কুমার সাহা, সাকিবল আহম্মেদ দিলু, এ্যাড. একেএম শহীদুল আলম, ইলিয়াস হোসেন মল্লিক, শেখ আসগর আলী, মোল্লা এনামুল কবির, ওহিদুজ্জামান রানা, মোঃ হাফিজুর রহমান, আনিছুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, জিএম রফিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান লেলিন, মুর্শিদুর রহমান লিটন, নাজমুর সাকির পিন্টু, মোঃ ইকবাল শরীফ, এ্যাড. চৌধুরী আব্দুস সবুর, আরিফুর রহমান আরিফ, খন্দকার ফারুক হোসেন, সেলিম সর্দার, রবিউল হোসেন, সরওয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম বাবু, রুম্মন আজম, সাইদুজ্জামান খান, হাসনাত রিজভী মার্শাল, সরদার আব্দুল মালেক, রাহাত আলী লাচ্চু, মল্লিক আব্দুস সালাম, ইঞ্জিনিয়ার টিটু ভূঞা, হাবিবুর রহমান রিটু, শেখ আবুল বাশার, নূরুল আমিন বাবুল, শাহাদাত হোসেন ডাবলু, গাজী আব্দুল হালিম, দিদারুল হোসেন দিদার, হেলাল উদ্দিন হেলাল, জাফরি নেওয়াজ চন্দন, শামসুল বারি পান্না ও মাহমুদ জাহিদ আল কাদির।

ভৈরব নদে তলা ফেটে কয়লাবোঝাই জাহাজডুবি

নওয়াপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের নওয়াপাড়া ভৈরব নদে কয়লাবোঝাই একটি জাহাজ ডুবে গেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ভাটপাড়া শ্মশানঘাটে তলা ফেটে জাহাজটি ডুবে যায়। এমভি সুরাইয়া-৩ নামে ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে এক হাজার ১৬০ টন কয়লা ছিল বলে জানা গেছে। জাহাজে ডুবে যাওয়া কয়লা মেসার্স আফিল ট্রেডার্সের। এমভি সুরাইয়ার মাষ্টার সোহাগ হোসেন জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মেসার্স আফিল ট্রেডার্সের কয়লা নিয়ে এমভি সুরাইয়া জাহাজটি মংলা বন্দর মাদার ভেসেল থেকে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা এক হাজার ১৬০ টন কয়লা ভর্তি করে নওয়াপাড়া উদ্দেশে ছেড়ে আসে। গত ১ মার্চ জাহাজটি উপজেলার ভৈরব নদে ভাটপাড়া শ্মশানঘাটে নোঙর করে। শনিবার জাহাজটির কয়লা নামানোর কথা ছিল। কিন্তু দুপুর ১টার দিকে জাহাজের তলদেশ ফেটে জাহাজটি ডুবে যায়।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ৬৪০ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার নিয়ে উপজেলায় নওয়াপাড়া বাজারের পীরবাড়ি খেয়াঘাটের পাশে ভৈরব নদে এমভি শারিব বাঁধন নামের একটি জাহাজটি ডুবে যায়। ওই জাহাজটি আজও উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।

নওয়াপাড়া নদীবন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, ‘দুপুরের দিকে জাহাজের তলদেশ ফেটে মেসার্স আফিল ট্রেডার্সের কয়লা বোঝাই জাহাজ ডুবে গেছে। এতে ভৈরব নদের পানি কিছুটা দূষিত হবে।’

এরশাদকন্যার আত্মহত্যায় বিক্রমপুর মিষ্টান্নর মালিকের ছেলের নামে মামলা

ঢাকা অফিস

রাজধানীর গুলশানে এরশাদ শিকদারের মেয়ে জান্নাতুল নওরিন এশার (২২) আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচণাকারী হিসেবে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিকের ছেলে প্লাবন ঘোষকে (২৮) আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বাংলাদেশ জার্নালকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ওসি বলেন, আত্মহত্যা প্ররোচণাকারী হিসেবে প্রেমিক প্লাবন ঘোষকে আসামি করে এশার মা সানজিদা নাহার বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

বর্তমানে খুলনায় অবস্থানরত এরশাদ শিকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদা শনিবার দুপুরে বলেন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বর্তমানে মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত রয়েছি। গতকাল খুলনায় আমার মেয়েকে কবর দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকদিন পর কথা বলবো। আমার মেয়ের এই ধরনের ঘটনার জন্য প্লাবন ঘোষ দায়ী।

জানা গেছে, জান্নাতুল নওরীন এশা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করলেও পরবর্তী সময়ে কোথাও ভর্তি হওয়া হয়নি তার। গুলশান সুবাস্তু টাওয়ার-এর ৯ তলায় মা সানজিদাকে নিয়ে থাকতেন জান্নাতুল। ৮ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিকের ছেলে প্লাবন ঘোষের সঙ্গে।

এ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় মনোমালিন্যের এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাতে বয়ফ্রেন্ডকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন জান্নাতুল নওরীন এশা। জান্নাতুলের মা সানজিদা এ ঘটনার জন্য প্লাবন ঘোষকে দায়ী করে আসছেন।

 শখের বসে ইউটিউব চ্যানেল খুলে ৪১ লাখ সাবস্ক্রাইবার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।

রান্নার আয়োজনে পুরো গ্রামের মানুষ। তাদের মধ্যে একদল পেঁয়াজ-রসুনের খোসা ছড়ানোর কাজ করছেন। আরেকদল মাছ-মাংস ধোয়ার কাজে ব্যস্ত। একেক দলের ভাগে পড়েছে একেক দায়িত্ব।

কাটাকুটির পর এবার রান্না চড়িয়ে দেওয়ার পালা। এক পর্যায়ে রান্নাও শেষ হয়। এবার গ্রামসুদ্ধ মানুষের দলবেঁধে খাওয়ার আয়োজন। বিশাল সব কর্মযজ্ঞ। দেখে মনে হবে কোনো বিয়ে বা বড় কোনো অনুষ্ঠানের জন্য এসব আয়োজন। কিন্তু না, এসব আয়োজন ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি (অৎড়ঁহফগবইউ)’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলকে ঘিরে।

বলছিলাম কুষ্টিয়ার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম খোকসার ‘ইউটিউব গ্রাম’ শিমুলিয়ার কথা। ইউটিউবই ইন্টারনেট জগতে বিশেষ পরিচিত এনেছে এই গ্রামকে। এজন্য ‘ইউটিউব গ্রাম’ নামেই এখন পরিচিত কুষ্টিয়ার শিমুৃলিয়া। কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী জেলার সীমান্তে গ্রামটির অবস্থান।

মূলত গ্রামীণ পরিবেশে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে রান্নাবান্না এবং খাওয়া-দাওয়ার ভিডিও আপলোড করা হয় এ চ্যানেলে। এখন পর্যন্ত চ্যানেলটির ভিউ হয়েছে প্রায় ১৩৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৮ হাজার ২৪৮ বার।

বর্তমানে চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ৪১ লাখ। ২০১৬ সালের জুন মাসে প্রকৌশলী লিটন আলী খান ও স্থানীয় স্কুলশিক্ষক দেলোয়ার হোসেন যৌথভাবে ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ নামের এই ইউটিউব চ্যানেলটি চালু করেন।

চ্যানেলটি শুরুর দিকে গ্রামীণ পরিবেশে সব রান্নাবান্না, শিশুদের নিয়ে গ্রামীণ পরিবেশে বনভোজনের আয়োজন, খালে-বিলে মাছ ধরার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে তা তুলে ধরা হতো। সে সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও চিত্র ধারণ করে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে ভিডিও ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হতো। ঢাকায় পৌঁছানোর পর লিটনের হাত ঘুরে সেসব ভিডিও আপলোড করা হতো ইউটিউব চ্যানেলে।

বর্তমানে আশাতীত সাফল্য পেয়েছে চ্যানেলটি। এখন আর মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয় না। ভিডিও চিত্র ধারণের জন্য ব্যবহার হরা হয় একাধিক ক্যামেরা। রয়েছেন চারজন ক্যামেরাম্যান। এখন শুধু নারীদের রান্না করার ভিডিও দেখানো হয় এই চ্যানেলে।

চ্যানেলটির যাত্রা শুরুর গল্প প্রসঙ্গে উদ্যোক্তাদের একজন স্থানীয় মোল্লাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রকৌশলী লিটন সম্পর্কে তার ভাগনে। ঢাকায় ব্যবসা দেখাশোনা করেন। আজ থেকে কয়েক বছর আগে রাজধানী ঢাকাতে লিটনের অফিসে বসে সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়া জেলাকে নিয়ে কিছু করা যায় কি না এ নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনা থেকে উঠে আসে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রামীণ সব কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরার। পরিকল্পনা করা হয় গ্রামের মানুষজনকে নিয়ে রান্নাবান্না করার ভিডিও ধারণ করে আমরা তা ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবো। সেই থেকে আমাদের চ্যানেলের যাত্রা শুরু।’

একটি থেকে এখন তাদের ইউটিউব চ্যানেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটিতে। একেকটি চ্যানেলে গ্রামনির্ভর একেক ধরনের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়।

চ্যানেলটির পরিচালক দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, প্রতিমাসে সব মিলিয়ে তাদের সাত থেকে আট লাখ টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। আর মাসে অন্তত ২০ দিন চ্যানেলটির জন্য ভিডিও ধারণ করা হয়।

চ্যানেলটির মূল উদ্যোক্তা লিটন আলী পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) পড়াশোনা করেছেন। রাজধানীর মিরপুরে যৌথ মালিকানায় তার তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কথা হয় লিটনের সঙ্গে।

লিটন জানান, গ্রামে এলেই স্থানীয় তরুণ-যুবকরা তাদের জন্যও কিছু করার কথা বলতেন। গ্রামবাসীদের কথা মাথায় রেখেই শুরুতে অনেকটা শখের বশেই ইউটিউব চ্যানেলটি খোলা হয়। পরে আয়ের বিষয়টি মাথায় আসে। তখন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ চ্যানেলের কাজ।

তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে কিছুদিন নিজেরাই পকেটের টাকা খরচ করে রান্নার আয়োজন করতেন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শিমুলিয়া গ্রামে বসে ধারণ করা এসব ভিডিও সম্পাদনার কাজ হয়ে আসছে ঢাকায়। শুরুর মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই গ্রামীণ জীবনের ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়ে যায়।

বিদেশি রান্না বিষয়ক জনপ্রিয় অনেক ফেসবুক পেজে শেয়ার হতে থাকে অ্যারাউন্ড মি বিডির ভিডিও। নিভৃত পল্লী খোকসার শিমুলিয়া গ্রামে ছুটে আসেন ‘বেস্ট এভার ফুড রিভিউ শো’ চ্যানেলের পর্যালোচক সানি সাইড।

দেশের মধ্যে যারা খাবার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করেন তাদের মধ্যে অনেকে গ্রামে আসেন। হু হু করে বাড়তে থাকে চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যা (সাবস্ক্রাইবার)। একই সঙ্গে, এই ইউটিউব চ্যানেলেও আয় বাড়তে থাকে। কিন্তু শুরুর দিকে তাদের এই কাজকে নিয়ে অনেকেই নানান কটূকথা বলতেন। তবে এখন গ্রামবাসীরাই তাদের কাজের প্রেরণা। সবাই মিলেমিশে তারা এখন আনন্দ উপভোগ করেন।

চ্যানেলটির দর্শকদের বড় একটি অংশ ভারতের। আছে যুক্তরাষ্ট্রেও। লিটন আলী জানান, কোন দেশ থেকে ভিডিও দেখা হচ্ছে, সেটাও আয়ের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।

জানান, চ্যানেলটির আয় থেকেই রান্নাবান্নার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা, চারজন ভিডিওগ্রাফার, রাঁধুনিসহ প্রায় ৫০ জন মানুষের বেতন ও সম্মানীর ব্যবস্থা হয়। গ্রামের উন্নয়ন, অসুস্থ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হয়।

ইউটিউব চ্যানেলকে ঘিরে স্বপ্নের কথা জানিয়ে লিটন আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরিকল্পনা ছাড়াই কাজ শুরু করেছিলাম। এখন গুছিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতে শুধু বিচিত্র বিষয়গুলো নিয়ে চ্যানেল খোলার ইচ্ছা রয়েছে।’

ইউটিউব চ্যানেলকে ঘিরে গ্রামীণ জিনিসপত্র দিয়ে শিমুলিয়া গ্রামে তৈরি করা হয়েছে একটি থিমপার্ক। বাঁশ-খড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন হাতি, কচ্ছপ, ডাইনোসর। পুকুরের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে ঘর। সহজ, সরল গ্রামীণ জনপদের মানুষকে একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রচেষ্টায় যতটা করা সম্ভব, সবই যেন করা হচ্ছে এই ‘ইউটিউব গ্রামে’।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, যেদিন রান্নাবান্না হয় সেদিন খুব আনন্দ হয় তাদের। সকাল থেকে রান্না কাজ শুরু হয়। বিকেলে গ্রামের শত শত মানুষ একসঙ্গে বসে খান। আর একেক সময় একেক আয়োজন থাকে। পোলাও, বিরিয়ানি, গরু, খাসি, মুরগির মাংস, বড় মাছ, ছোট মাছ, ডিমসহ বিভিন্ন রকমের খাবার পরিবেশন করা হয়।

এই চ্যানেলের জন্য যেসব নারীরা রান্নার কাজ করছেন তাদের সবাই গৃহিণী। আছেন বউ-শাশুড়িও। ইউটিউব চ্যানেলটি ঘিরে এখন অনেকেরই উপার্জনের পথ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত পোশাক পরে তারা রান্নাবান্না করেন।

তাদেরই একজন রাশিদা বেগম। যিনি চার বছর ধরে এই চ্যানেলের জন্য কাজ করছেন। রাশেদা জানান, স্বামীর উপার্জনের পাশাপাশি এখন নিজের বাড়তি উপার্জনের ফলে বাচ্চাদের লেখাপাড়া ও হাতখরচে সুবিধা হয়।

এই চ্যানেলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা আরেকজন রেহেনা খাতুন বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে গল্পে গল্পে রান্নাবান্না করি। আবার একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করি। এই কাজে আমাদের খুব আনন্দ হয়।’

‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ ইউটিউব চ্যানেলের কল্যাণে শিমুলিয়া গ্রাম এখন দেশ-বিদেশে আলোচিত। দূর-দূরান্ত থেকে এই গ্রামে ছুটে আসে মানুষ।

চ্যানেলটির বিশেষত্ব হলো কোনো উপস্থাপনা ছাড়াই রান্নাবান্নার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই শৈল্পিকভাবে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। নেই কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ধারণ করা ভিডিওগুলোর প্রত্যেকটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন উৎসুক দর্শকরা। তাই আপনিও একটু সময় নিয়ে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ ইউটিউব চ্যানেলে।

খুলনা কোর্ট রিপোর্টার ইউনিটি সভাপতি জলিল, সম্পাদক সোহাগ

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনার আদালতের সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের সমন্বয়ে “কোর্ট রিপোর্টার ইউনিটি” গঠন করা হয়েছে। শনিবার ৫মার্চ ইউনিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সর্ব সম্মতিক্রমে ৭সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করা হয়। আগামী ৩বছর এ কমিটির মেয়াদকাল থাকবে। কমিটির সভাপতি এম এ জলিল (দৈনিক খুলনাঞ্চল), সহ সভাপতি প্রবীর কুমার বিশ্বাস (দৈনিক খুলনা), সাধারন সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান (দৈনিক সময়ের খবর), যুগ্ম সম্পাদক এড. মাসুম বিল্লাহ (খুলনা প্রতিদিন ডট কম), কোষাধ্যক্ষ এড. মামুন খান (দৈনিক জন্মভুমি), প্রচার প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এস এম মোঃ আউয়াল শেখ (প্রবর্তন), কার্যনির্বাহী পরিষদ মেম্বার মোঃ রায়হান  মোল্লা (দৈনিক প্রবাহ)।

সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষিকাসহ নিহত ২

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা সদর ও শ্যামনগরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

শনিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের তুজুলপুরে ও সকালে শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়ায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-সাতক্ষীরা পৌরসভার রইচপুর এলাকার মাহবুবুর রহমান বাবু (৩৫) ও শ্যামনগর উপজেলার বড়কুপট গ্রামের স্কুলশিক্ষিকা রীতা রানী।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবীর জানান, দুপুরে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া স্বপ্নীল পরিবহনের একটি বাস সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের তুজুলপুর এলাকায় বিপরীতগামী একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এসময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে পাশের গাছে ধাক্কা লেগে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় ও কমপক্ষে ২০ জন যাত্রী আহত হন।

আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবুর রহমান বাবু। তিনি পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

অন্যদিকে, শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহেদ মুর্শেদ জানান, স্কুলশিক্ষিকা রীতা রানী শ্যামনগরের ১৮৫ নম্বর সাপের দুনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি তার স্বামী দেবনাথ রপ্তানের মোটরসাইকেলে করে বড়কুপট গ্রাম থেকে স্কুলে যাচ্ছিলেন। পথে আটুলিয়া এলাকায় তার ব্যবহৃত ওড়না মোটরসাইকেলের চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

স্থানীয়রা রিতা রানীকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুলনার বাজার থেকে খোলা সয়াবিন তেল উধাও

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনার বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। সেই সঙ্গে পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। রমজানের আগেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের সময় সব পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে। তবে খুলনার বাজারে কোনো পণ্যেরই সংকট দেখা যায়নি।

শনিবার (৫ মার্চ) সরেজমিন খুলনা নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৫৫ থেকে পাঁচ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।

তবে নগরীর বাজার ঘুরে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করতে দেখা যায়নি। এক লিটারের বোতলজাত তেল বিক্রি করছেন দোকানিরা। প্রতি বোতল তারা ১৮০ টাকা বিক্রি করছেন। তবে বাজারে পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের কোনো বোতল চোখে পড়েনি।

সোনাডাঙ্গার ট্রাক টার্মিনালের কাঁচামরিচের ব্যবসায়ী শেখ লুৎফর, সোবহান হাওলাদার ও হারিস শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। বগুড়া, কাজীরহাট ও ময়মনসিংহের মাদারগঞ্জ কাঁচামরিচের বড় মোকাম। সেখান থেকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে কাঁচামরিচ সরবরাহ করা হয়। ওই মোকামগুলোতে কাঁচামরিচের সংকট দেখা দিয়েছে। কাঁচামরিচের গাছ মারা যাচ্ছে। এজন্য মোকামগুলোতে আমদানি কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় সেখানে অনেক ব্যাপারী ভিড় করছেন। তাই সেখানকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে মাল কিনতে হচ্ছে।’

তারা আরও বলেন, ‘খুলনার বাজারে প্রতিদিন সাত ট্রাক কাঁচামরিচের প্রয়োজন হলেও সেখানে চার ট্রাক মাল আসছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বাজারে ভারতীয় মরিচ নেই।’

একই বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বয়াতি বলেন, ফরিদপুর জেলার ‘পেঁয়াজ কালি হাট’ দেশের বড় পেঁয়াজের মোকাম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা সেখান থেকে পেঁঁয়াজ কেনেন। এখন কালিকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ পর্যায়ে। প্রতিবছর এ সময়ে দাম বাড়তি থাকে। তবে এবার দাম তেমন বেশি বাড়েনি বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, ‘মাঝে ভারী বৃষ্টির কারণে দাম বেড়ে আবার কমে গিয়েছিল। মোকামগুলোতে পেঁয়াজের সংকট থাকায় সেখানে দাম বেড়েছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। এজন্য মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজে দু-তিন টাকা করে বেড়েছে। তবে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে এর দাম স্বাভাবিক হবে। তখন দাম ৩০ থেকে ৩২ টাকার মধ্যে থাকবে বলে জানান পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বয়াতি।

এদিকে জোড়াকল বাজারের খুচরা দোকানে এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের দেখা মিললেও পাঁচ লিটারের বোতল দেখা যায়নি। বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, দোকানে এক লিটারের কয়েকটি বোতল থাকলেও খোলা তেল তাদের দোকানে নেই।

জোড়াকল বাজারের নিয়মিত ক্রেতা আনসার আলী ও রাবেয়া বেগম জাগো নিউজকে বলেন, বাড়িভাড়া, পানির বিল বেড়েছে। তবে আয়তো বাড়েনি। এই অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে তারা সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

পাইকগাছায় ৫ কি.মি. ইটের রাস্তা যেন মরণফাঁদ

পাইকগাছা প্রতিনিধি।।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতার শংকরদানা কাঠের ব্রিজ থেকে তেঁতুলতলা পর্যন্ত প্রায় ৫ কি. মি. ইটের সোলিং রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় ইট উঠে বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয়রা কোথাও কোথাও ইট বিছিয়ে উপযোগী করলেও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সম্প্রসারিত গর্তগুলি পরিণত হয়েছে একেকটি মরণ ফাঁদে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে নানা আশংকা জেঁকে বসেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, এ রাস্তা দিয়ে তেঁতুলতলা, শংকর দানা, গঙ্গার কোনা, পানা, হাড়িয়া, কাঠামারী, হালদারচক, বাহির বুনিয়া, হানি, মুনকিয়াসহ ১০ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চলাচল করে। তবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এ রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে থাকে। সর্বশেষ গত বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকায় রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল ছাড়া কোনো যানবাহন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। তাও আবার অনেক যায়গায় নেমে ঠেলে পার হতে হয়।

শংকর দানার জ্যোতিষ মণ্ডল জানান, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এবং গেল বছর বর্ষাকালে দীর্ঘ দিন পানিতে ডুবে থাকায় রাস্তাটির করুণ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

ছেলে-মেয়েদের হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় পড়ে বই খাতা ভেঁজার ঘটনা নিত্য-নৈমিত্তিক। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই রাস্তাটির আশু সংস্কারের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।

তেঁতুলতলা গ্রামের কুমারেশ সরদার ও সুভাষ মনি জানান, এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য ২০০৭ সালে লতা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান দিবাকর বিশ্বাস রাস্তাটি পাকা করে দেন। তবে সুষ্ঠু তদারকির অভাবে এলাকার চিংড়ি ঘের মালিকেরা ঘেরের পানিতে বছরের একটা বড় অংশ জুড়ে রাস্তাটি পনিতে ডুবিয়ে রাখে। এর উপর সংস্কার হয়না দীর্ঘদিন। বিষয়টি নিয়ে তারা সাবেক চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মণ্ডলকে জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। রাস্তাটি নির্মাণের দীর্ঘ ১৫ বছরেও আর কেউ সংস্কার পর্যন্ত করেনি।

লতা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথম ওই রাস্তার কাগজপত্র তৈরি করে উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। আরো আগেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জানিয়ে, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান জানান, শংকর দানা থেকে গঙ্গারকোনা পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা খুব খারাপ। রাস্তাটি প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী তিন মাসের মধ্যে টেন্ডার হবে। টেন্ডারের ভিত্তিতে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই রাস্তাটির কাজ শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।