Home আঞ্চলিক খুলনায় শিশু শুভ হত্যায় গ্রেপ্তার-২: সজল ব্যাপারীর আদালতে স্বীকারোক্তি

খুলনায় শিশু শুভ হত্যায় গ্রেপ্তার-২: সজল ব্যাপারীর আদালতে স্বীকারোক্তি

9

স্টাফ রিপোর্টার ।।

নগরীর বয়রা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সিএন্ডবি কলোনি) দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শুভ হাওলাদার (৯) হত্যা মামলার আসামী মো. সজল ব্যাপারীকে (১৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রধান করেছেন।  

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুকান্ত দাস আসামীকে আদালতে হাজির করেন। এসময় তার দেয়া ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তরিকুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন। নিহত শুভ হাওলাদার সোনাডাঙ্গার হাফিজ কমিশনারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ইব্রাহিম হাওলাদার ও ঝুমুর বেগমের ছেলে। আসামী সজল ব্যাপারী সোনাডাঙ্গা ময়লাপোতা মুনসুর খাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া নুর মোহাম্মদের ছেলে।

 মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার এসআই সুকান্ত দাস জানান,  ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সজল বাবার কাছ থেকে কুড়ি টাকা নিয়ে ময়লাপোতা এলাকার একটি হোটেলে নাস্তা করে। পরে বালুর মাঠের দিকে খেলতে যায়। এসময় সজল ওই স্থানে হাজির হয়ে শুভকে হিজড়া বলে ডাকতে থাকে। এতে শুভ ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি সজলকে গালিগালাজ করে। পরে সজল ক্ষুব্ধ হয়ে শুভকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে প্রথমে লাথি মারে। এরপর ইট দিয়ে আঘাত করে। ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে সমস্যা হতে পারে বলে সজল তাকে ইট দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। শুভর মৃত্যুর পর সেখান থেকে বের হয়ে ঘুরে বেড়ায়। মানুষের মধ্যে এসেও ঘুরে বেড়ায়। পরবর্তীতে পুলিশ আসলে পালিয়ে গোপালগঞ্জ গিয়ে আত্মগোপন করে। ঘটনার দিন ঘর থেকে বিকেলে সজলের রক্তমাখা প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরে মধুপুর গুচ্ছগ্রামে পৌছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সজল নদীতে ঝাপ দেয়। পুলিশও সাথে সাথে নদীতে ঝাপ দিয়ে তাকে আটক করে। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ  মো. মমতাজুল হক বলেন, হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি জাহিদকে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করে র‌্যাব। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে থানায় হস্তান্তর করে তারা। এদিকে নিহত শুভর মা রবিবার রাতে ৩জন আসামির নামসহ অজ্ঞাতনামা ৭জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিন ঘটনাস্থলের ফুটেজ সংগ্রহ করে বস্তির একটি ঘর থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।