Home আঞ্চলিক খাদ্য বিভাগের সড়ক পরিবহন খাত সিন্ডিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ

খাদ্য বিভাগের সড়ক পরিবহন খাত সিন্ডিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ

10

স্টাফ রিপোর্টার।।  

২০০৫ সালের পর খুলনা খাদ্য বিভাগের সড়ক পরিবহন খাতের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নতুন ঠিকাদার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। এ দীর্ঘ সময়ে উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়াও একটি সিন্ডিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। নতুন ঠিকাদার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রায়  তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান বর্তমান দর ও শর্তে কাজ করার আবেদন জমা দিয়েছেন খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবরে। 

আবেদন পত্রে জানা যায়, টেন্ডার আহবানের পর ঠিকাদার অন্তর্ভুক্ত প্রক্রিয়াকালে নানা অজুহাতে মামলা করে বারবার স্থগিত করছে একটি স্বার্থদ্বেষী মহল। প্রতিযোগিতামুলক অংশগ্রহন না থাকায় প্রতিবারেই লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রনালয়ের দরপত্রের নিয়ম অনুসারে প্রতি দুই বছর অন্তর দরপত্রের দর হওয়ার নিয়ম। ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য ডিআরটিসি তালিকাভুক্তি করার জন্য আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক   খুলনা বিভাগ আহবান করে। কিন্তু অদ্যবধি কোন সুরাহা হয়নি। প্রায় তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের চুক্তিবদ্ধ দর ও শর্তে কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে মেসার্স হাফিজ এন্টারপ্রাইজ, রেনু ট্রেডার্স, আর আর এন্টারপ্রাইজ, সীমা এন্টারপ্রাইজ, আলেয়া এন্টারপ্রাইজ, পরশ এন্টারপ্রাইজ, পিয়াস এন্টারপ্রাইজ, তাকিয়া ফারিয়া ট্রেডার্স, বয়রা ট্রেডার্স, মাহমুদা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মো. শাহাবুদ্দিনসহ অনেকে।

সুত্র জানায়, খাদ্য বিভাগের সরকারি চাল-গমসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য পরিবহণে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুলনায় রয়েছে বিভাগীয় রোড ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রাক্টর ( ডিআরটিসি) বিভাগ। যেটি খুলনার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (আর সি ফুড) নিয়ন্ত্রণাধীন। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করেন একজন কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ি প্রতি দুই বছর পর পর ঠিকাদার অন্তর্ভুক্তির জন্য টেন্ডার আহবানের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ২০০৫ সালের পর থেকে সড়ক পথের ঠিকাদার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, খুলনা বিভাগে খাদ্য পরিবহণের (সড়ক পথে) জন্য আর সি ফুডের কার্যালয় থেকে সর্বশেষ ২০০৪ সালে ঠিকাদার অন্তর্ভুক্তির জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছিল। ওই সময় ২৭৫ জন ঠিকাদার অন্তর্ভুক্ত হয়। যাদের মেয়াদ ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে শেষ হয়। কিন্তু প্রতি দুই বছর পর পর ঠিকাদার অন্তর্ভুক্তির জন্য টেন্ডার আহবানের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয় না। প্রতি বছরই পুর্বের অন্তর্ভুক্ত ঠিকাদারের সাথে চুক্তি করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা কয়েকজনের মধ্যে। অন্তর্ভুক্ত ঠিকাদারের একেক জনের একাধিক নামেও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে বর্তমান ঠিকাদারা দর বৃদ্ধির পায়তারা করছে বলেও সাধারণ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন। তারা আরও অভিযোগ করেন ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সীমিত দরপত্র (এলটিএম) পদ্ধতিতে খুলনা বিভাগীয়  সড়ক পরিবহণ ঠিকাদার (ডিআরটিসি) নিয়োগের শিডিউল জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল। ওই সময় তিন শতাধিক ঠিকাদার শিডিউল জমা দেয়। কিন্তু নড়াইল ও খুলনার দু’ঠিকাদার মামলা করেন। আর পুর্বের মামলাগুলো টেন্ডারে কাজ পাওয়ার পর নিজেরাই প্রত্যাহার করে নেয়।