অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বিএনপি নেতাদের পরিদর্শন: সহায়তার আশ্বাস
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবনচরায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ। রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগর সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃবৃন্দ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আজিজুল হাসান দুলু, বদরুল আনাম, একরামুল হক হেলাল, জালাল উদ্দিন জালু মিয়া, হাসানুর রশিদ মিরাজ, ইশতিয়াক আহমেদ ইশতি, আফশার উদ্দিন, হুমায়ুন কবির, মোঃ আসলাম, এম,এ নাসিম, সাজ্জাত হোসেন জিতু, মোঃ আসাদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, কাজী কামরুল ইসলাম বাবু, আব্দুল হান্নান, শাখাওয়াত হোসেন, টুকু, ইয়াকুব আলী পাটোয়ারি প্রমূখ।
মাতৃভাষা দিবসে মহানগর বিএনপির ব্যাপক কর্মসুচি
খবর বিজ্ঞপ্তি
মহান শহিদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের মহানগর বিএনপি ব্যাপক কর্মসুচি গ্রহন করেছে। কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত দশটায় কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে জমায়েত এবং রাত ১২.০১ মিনিটে শহীদ হাদিস পার্কের শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। ২১ ফেব্রুয়ারি সুর্য্যেদয়ের সাথে সাথে মহানগর বিএনপির সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৭টায় খালিশপুরে এবং ৮টায় দৌলতপুরে কালো ব্যাচ সহকারে প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহন। বেলা ১১ টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
খুলনা লবণচরায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, অর্ধ্ব কোটি টাকার ক্ষতি
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা লবণচরায় এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে রূপসা ব্রীজের কাছে সালাউদ্দিন ইউসুফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে ৩টি তুষকাঠের মিল, ১টি ভাঙ্গারির দোকান ও ১টি কুড়োর মিল পুড়ে ভষ্মিভূত হয়। যাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট পৌঁণে এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রূপসা ব্রীজ বাজার কমিটির সভাপতি জি এম আব্দুর রব বলেন, রাত আনুমানিক ২টার দিকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখি চারটি দোকান পুড়ছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এতে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তুষ কাঠের মিলগুলোর মেশিনপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান রাসেল জানান, রাত পৌঁণে ২টার দিকে নাইট গার্ডের ফোন পেইে ছুটে আসি। এসে দেখি আগুন দাউ-দাউ করে জ্বলছে। সাথে-সাথেই ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করলে তারা দ্রুত এসে প্রায় পৌঁণে ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বাজারের ৩টি তুষকাঠের মিল, ১টি ভাঙ্গারির গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এছাড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১টি কুড়োর মিল ও আরেকটি গোডাউন। আগুনে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী আনোয়ারের। তার প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত তুষকাঠ মিল মালিক আল-আমিন জানান, আগুনে পুড়ে আমার সব চলে গেছে। ৭টা এনজিও থেকে লোন নিয়ে ৭/৮ মাস আগে ব্যবসা শুরু করি। কালকের আগুনে আমার মেশিন, ওয়েল্ডিং মেশিন, গ্রান্ডিং মেশিন স্কেল, তুষকাঠ, তুষসহ পুরো ঘর পুড়ে গেছে। আমি একদম পথে বসে গেছি। এখন আমার কি হবে?
এ ব্যাপারে ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আরিফ হোসেন মিঠু বলেন, রাতে ফোন পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। যেয়ে দেখি আগুন জ¦লছে। ফায়ার সার্ভিসের ৩টি গাড়ি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে আনোয়ার, আল-আমিন, ইউনুস আলী, হাফিজুলসহ ৪/৫ জন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদেরকে সান্তনার পাশাপাশি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। মেয়রকে জানিয়েছি বিষয়টি। সরকারিভাবে সহায়তার ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবেও যতটা পারি সহযোগিতা করবো।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা পরিষদের সদস্য চৌধুরী রায়হান ফরিদ, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর লিলি, ৩১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও বিএনপি’র নেতৃকর্মীরা।
বাগেরহাটের চন্দ্রমহল গেটের সামনে হতে লাশ উর্দ্ধার: মামলা দায়ের
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের রনজিৎপুর বহুবিতর্কীত চন্দ্রমহল ইকোপার্কের সামনে নির্জন স্থান হতে দেলোয়ার হোসেন নিকারীর (২৫) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মডেল থানায় শনিবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের মাতা তহমিনা বেগম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। জানা গেছে, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় পার্কের ২য় গেটের সামনে ১শত ফুট দুরে সুকুমার দাশ এর নির্জন সিম বাগান এর ভিটা হতে নিহত দেলোয়ার নিকারীর মারদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারনা। নিহত দেলোয়ার হোসেন নিকারী ভট্টে-কনকপুর গ্রামের মরহুম ইলাল নিকারীর পুত্র। তিনি পেশায় একজন ভ্যান চালক ও এক সন্তানের জনক ছিলেন। পুলিশ ঐদিনই তার লাশটি উদ্ধার করেন ও শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসাপাতাল মর্গে নিহতের মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয় এবং তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নিহত দেলোয়ার নিকারী তার ভ্যানটি চন্দ্র মহল ইকোপার্কের ১ম গেটের সামনে জনৈক দোকানদার এর কাছে রেখে কয়েকজন সঙ্গির সাথে চলে যায়। বিকাল সাড়ে ৫টায় দিকে জনৈক মহিলা সেই নির্জন স্থানে ঘাস কাটতে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন এর রক্তাক্ত লাশ দেখে চিৎকার করলে গ্রামবাসি ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেলে সন্ধ্যা ৭টায় দিকে চুলকাটি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ তার রক্তাক্ত লাশটি উর্দ্ধার করেন। এ ঘটনায় নিহতের মাতা তহমিনা বেগম বাদী হয়ে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বলে পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) কে এম আজিজুল হক জানিয়েছেন ।
আশাশুনিতে দেশের ১ম শহীদ ভাষা সৈনিক আনোয়ারের স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন
আশাশুনি প্রতিনিধি
দেশের প্রথম শহীদ ভাষা সৈনিক আনোয়ার হোসেনকে স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের দাবিতে আশাশুনিতে মানববন্ধন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়কে বুধহাটা করিম মার্কেটের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে মানববন্ধন চলাকালে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যাণার্জী। সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক ও আশাশুনি প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি সচ্চিদানন্দদে সদয়ের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ও প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এসকে হাসান ও সদস্য হাসান ইকবাল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক ডাবলু, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম আহসান হাবীব, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এড. শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর, অব. লেফঃ শফিফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ গফফার, সাংবাদিক সোহরাব হোসেন, আকাশ হোসেন, জ্বলেমিন, আরিফুল ইসলাম, আবু হেনা প্রমুখ।
বক্তাগণ বলেন, শহীদ ভাষা সৈনিক আনোয়ার হোসেন ১৯৩০ সালে নানার বাড়ি বুধহাটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ছিল কনুই গাজী ও মায়ের নাম ছিল পরীজান বিবি। ৩ ভাইয়ের মধ্যে আনোয়ার হোসেন ছিল সবার বড়। মেধাবী আনোয়ার হোসেন বুধহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। পরে বুধহাটা বি.বি.এম কলেজিয়েট স্কুলে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার পর খুলনা জেলা স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৪৬ সালে এসএসসি পাস করেন। তিনি খুলনার বিএল কলেজে পড়াশুনাকালীন ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। তরুণ আনোয়ার হোসেন আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ খুলনার তৎকালিন গান্ধী পার্কে (বর্তমানে হাদিস পার্ক) ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ইস্তেহার পাঠ করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভাষা আন্দোলনের মিছিল থেকে ১৯৪৯ সালে পুলিশ তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে প্রথমে তাকে কোতয়ালী থানায় রাখা হয়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজশাহী কারাগারে। সেখানে পাকিস্তান সরকারের নির্যাতন ও নিপীড়ণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। একপর্যায়ে ১৯৫০ সালে ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলে খাপড়া ওয়ার্ডে গুলি চালানো হয়। ছাত্র নেতা আনোয়ারসহ কারাবন্ধী ৭ জন নিহত হন। মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে ভাষা সৈনিক আনোয়ার হোসেন দেশের প্রথম শহীদ। অথচ রাষ্ট্রীয়ভাবে তার কোন স্বীকৃতি নেই।
মানববন্ধন শেষে তাকে প্রথম ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, আশাশুনি সরকারি কলেজের নাম ‘শহীদ ভাষা সৈনিক আনোয়ার হোসেনের’ নামে নামকরণ, সাতক্ষীরা, আশাশুনি, বুধহাটাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা, সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়ক তার নামে নামকরণ করা, সরকারিভাবে ট্রাস্ট গঠনের দাবী সম্বলিত একটি স্মারক লিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়ানুর রহমান এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর হস্তান্ত করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাবীর সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।
চাম্পাফুল হাই স্কুলে প্রবিধিমালা ও নির্দেশণা অমান্য করে নির্মান কাজ চলছে
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত চাম্পাফুল আপ্রচ মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠে প্রবিধিমালা ও বিধিবিধানকে অবমাননা করে ছাত্রাবাস ভেঙ্গে দোকান বরাদ্দ বন্দ ও প্রহসন মূলক নির্বাচন বন্ধের দাবী নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাজ বন্দ রাখার নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে কাজ করা হেয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্তপক্ষ ও মহামান্যা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করার ব্যাপারে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। এমনকি তারা পুরাদমে কাজ করতে থাকেন। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে আইন শৃংখলা রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি অটুট রাখতে নির্মান কাজ সাময়িক বন্ধের কথা বলেন। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় কবাজ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা বাদী পক্ষ জানান। ফলে শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী ও এলাকার মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানের ভিতর-বাইরে আইন অমান্য করার ব্যাপারে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ কঠোর হওয়ার মত ঘটনা ঘটতে পারে বলে সচেতনমহল শঙ্কাবোধ করছেন।
স্থানীয় এ এম এম আকতার হোসেনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি বাদী হয়ে দায়েরকৃত আবেদনে জানাগেছে, ১৯৫৫ সালে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৮৭ সালে বিদ্যাপীঠের ভূতপূর্ব প্রধান শিক্ষকের নামে নামকরণ করে শাহাবুদ্দিন ছাত্রাবাস হিসাবে নামকরণ করা হয়। ২২/০৬/২১ তাং আদালত কর্তৃক স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এডহক কমিটি সরকার ও বেসরারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবিধিমালা ও বিধিবিধান অবমাননা করে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্বেও ছাত্রাবাসটি সংস্কার না করে দক্ষিণ পাশের কক্ষ সংস্কারের নামে ভেঙ্গে ফেলে। এবং দোকান বরাদ্দের জন্য লক্ষাধিক টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব আনোয়ারুল হক ৮/১২/১৯ তাং অফিস আদেশে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে মার্কেট তৈরি করা হলে তা অপসারণ করতে হবে এবং ভবির্ষতে যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে মার্কেট তৈরি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে” বলা হয়েছে। কিন্তু উপরোক্ত আদেশ অমান্য করে ছাত্রাবাস ভেঙ্গে দোকান নির্মান করাই কেবল নয় ইতিপূর্বে বিদ্যালয়ে দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রাচীর দিয়ে অসংখ্য দোকান বরাদ্দ দিয়ে স্কুলে যাতয়াতের পথকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রত কর করে তোলা হয়েছে।
এছাড়া শেখ আলতাফ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রবিধিমালা ও হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বন্দের আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে প্রবিধিমালা ২০০৯ এর ১৬ ধারার ক এর পরিপন্থি নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ ৩ দিন সময় রাখা হয়। এবং ২০০৯ এর ২ ধারার ই এর পরিপন্থি ব্যক্তিকে (বিবাহিত ছাত্রীর পিতাসহ ১২ জন) ভোটার করা হয়েছে। ২/৩ বছর পূর্বে মৃত ব্যক্তিকেও ভোটার করা হয়েছে। এবং বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় ২২/৬/২১ তাং মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত হয়েও প্রধান শিক্ষক ৩০/৬/২১ তাং কমিটির জন্য বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে আবেদন করেন। বোর্ড এডহক কমিটি অনুমোদন করেন। এত অনিয়মের মধ্যদিয়ে কিভাবে কমিটি ও প্রতিষ্ঠান চলছে তা সচেতন এলাকাবাসী ভেবে পাচ্ছেন না। নানাবিধ অনিয়মের কারনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার মানুষের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি এবং কার্যক্রম চরম সমস্যা সংকুলের মধ্য দিয়ে চালান হচ্ছে। এব্যাপারে তদন্ত পূর্বক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করে স্কুলটির সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং অতীত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আঃ হাকিম জানান, ছাত্রাবাসটি বহু পুরাতন এবং খুবই জরাজীর্ণ। ইট খসে পড়ছে, ছাউনির টিন মরিচা পড়ে অকেজো হয়েগেছে। স্কুল ছুটির পর প্রাচীর টপকে অনেক সময় গাঁজাখোর বাজে ছেলেরা সেখানে ঢুকে পরিবেশ নষ্ট করে থাকে। সেখানে মাত্র ১টি ভেঙ্গে ৫টি পজেশান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশ ফিরবে। পরবর্তীতে বরাদ্দের চেষ্টা চলছে, পেলে নতুন করে সুন্দর পরিবেশে ছাত্রাবাস নির্মান করা হবে। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মত কাজ করা হচ্ছে।
আ’লীগ নেতা শাহাজাহানের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ কেসিসি প্যানেল মেয়রের
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর ১৪নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাজাহান জমাদ্দারের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলে ধরেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র এ্যাড. মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থদের নানামুখী হয়রানি থেকে রক্ষায় অবিলম্বে অস্ত্রধারী শাহাজাহানকে আ’লীগ থেকে বহিস্কার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে ক্ষতিগ্রস্থদের হয়রানির চিত্র ও প্রতিকারের দাবি তুলে ধরেন। তবে প্রথমেই জনৈক ভোলানাথ মন্ডল গত ৩০ ডিসেম্বর খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোঃ ফারুক আহম্মেদ ও তার সম্পর্কে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশনের প্রতিবাদ জানান কেসিসি’র প্যানেল মেয়র-৩ এ্যাড. মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গেল বছরের ৩ ডিসেম্বর তার নির্বাচনীয় এলাকার বাসিন্দা আনজিলাদের ২ বিঘা জমি গুন্ডাবাহিনী দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে জবর দখল করে নেয় ১৪নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান জমাদ্দার। এরমধ্যে থেকে ১৫ দশমিক ২৫ শতক জমি পিরোজপুরের জনৈক ভোলানাথ মন্ডলসহ কতিপয় ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে। এঘটনায় সালিশ-বিচারে সুরাহা না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ আনজিলা আদালতে মামলা দায়ের করেন (যার নং-সিআর ৪৯/২১)। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভূমিদস্যু শাহাজাহান জমাদ্দার খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য শ্রম শ্রতিমন্ত্রীকে নগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ ও প্যানেল মেয়র-৩ সম্পর্কে ভুল বোঝানো হয়েছে। দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে একেরপর এক জবর দখল, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিক এই দম্পত্তির ওপর প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে জনৈক ভোলানাথকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করিয়েছে শাহাজান জমাদ্দার।
এছাড়া মসজিদের আর্থিক হিসাব চাওয়ায় স্থানীয় মুরব্বী আলহাজ্ব মিনা ওয়াদুদকে মসজিদের সামনে ফেলে বেধড়ক মারপিট এবং ভূমি জবর দখলকালে জমি মালিক আনজিলাকে বেধড়ক মারপিট কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্থ তাদের সাথে আ’লীগ নেতা শাজাহান জম্মাদারের কৃতকর্মের বর্ণনা দেন তারা। প্রথমে জমির সালিশে পক্ষে রায় করিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতিতে তানজিলাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে, পরে সেই জমি নিজেই জবর দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। সংবাদ সম্মেলনে ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় আ’লীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডুমুরিয়ায় দূর্বৃত্তদের হামলায় মুদি ব্যবসায়ী জখম
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় বিষু রাহা (৪৫) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী গুরুতর জখম হয়েছে। আহত ওই ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে উপজেলার আরাজি সাজিয়াড়া এলাকার অনিল কৃষ্ণ রাহার ছেলে। শনিবার দিবাগত রাতে ডুমুরিয়া বাজারের হাট খোলা চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জানা যায়, মুদি ব্যবসায়ী বিষু রাহা বহু বছর ধরে কৈয়া বাজার ও বটিয়াঘাটা বাজারে ভ্রাম্যমান দোকান দিয়ে আসছে ডুমুরিয়া বড়বাজার হাটখোলায়ও তার একটি মুদিখানার পাইকারী দোকান রয়েছে।ঘটনার দিন সে কৈয়া বাজারে দোকানদারী শেষে প্রতিদিনের মতো অধিক রাতে ডুমুরিয়া বাজারে তার দোকানে আসে।এরপর তার দোকানে ঢুকে দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায় এতে বিষু গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।ওই বাজারের চা দোকানদার আব্দুল হালিম মহালদার জানান, আমিও বিষুর অপেক্ষায় ছিলাম,কারণ সে আমার এখানে প্রতি রাতে সে আমার দোকানে চা খেতে আসে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত আমার দোকান খোলা থাকে।ঘটনার রাত১২টার দিকে বাজারের নাইটগার্ড খালেক এসে বলেতুই বিষুর জন্য বসে আছিস? যেয়ে দেখ বিষুর অবস্থা কি। এই শুনে দ্রুত গিয়েতাকে দোকান থেকে রক্তাক্ত অব¯’ায় উদ্ধার করে ডুমুরিয়া হাসপাতালে নিলে তাৎক্ষনিক তাকে খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে গভীর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার অবস্থা এখন আশংকা জনক বলে ডাক্তার জানিয়েছেন।খবর পেয়ে গতকাল রবিবার বিকালে জেলা পুলিশের বি-সার্কেল মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ওই রাতেই ঘটনা¯’ালে যাই,তবে কে-বা-কারা করেছে এখনো জানা যায়নি তার দোকান থেকে টাকা নিছে কিনা সেটাও বোঝা যা”েছ না,তবে বিষুর অব¯’া খুবই গুরুতর, ঢাকা মেডিকেলে তার চিকিৎসা চলছে
ডুমুরিয়ায় কৃষকদলের প্রস্তুতি সভা
ডূমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের আয়োজনে সাংগঠনিক সভা ও আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস সফল করার লক্ষে এক প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকালে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্লা কবির হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্নআহবায়ক শেখ সরোয়ার হোসেন। উপজেলা কৃষক দলের সাধারন সম্পাদক মাষ্টার আইয়ুব আহমেদ এর পরিচালনা য় বক্তব্যদেন বি এন পি নেতা শাহাদাত হোসেন হালদার, জিএম সাইকুল ইসলাম, গাজী রফিকুল ইসলাম, গোপাল চন্দ্র মন্ডল, হামিদুর রহমান বাবু, শাহাজান গাজী,। ছাত্র দলের নেতা মোল্যা আবরার হোসেন সৈকত, মোল্লা নিজাম উদ্দিন,আঃ মালেক, সাইফুল ইসলাম, আঃ খালেক,মন্টু গাজী, মাহাবুর রহমান, বিপুল মন্ডল, সাদেক আলী,ইনামুল মল্লিক, কায়েস আহমেদ, আঃ গাফফার, গাজী ইজাহারুল ইসলাম, ইলিয়াস শিকদার, ফজলুর রহমান, আজিজুর রহমান, তিতাস,মোহাম্মদ, শহিদুল ইসলাম, কামরুল, আজগর, আইয়ুব হোসেন, মোসলেম ফারাজী প্রমুখ।
চড়া ফুলের বাজারে আজ গাঁদার কদর সবচেয়ে বেশি: ভাষা শহীদদের স্মরনে কালীগঞ্জের ফুলে দেশ রঙিন
সাবজাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥
আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মায়ের ভাষার জন্য বুকের রক্ত দেয়ার ইতিহাস ও সাহস তো শুধু পদ্মা.মেঘনা,যুমনা তীরের বাঙালী সন্তানদেরই আছে। তাইতো সগৌরবে জাতি আজ ভাষা শহীদদেরকে স্মরন করছে প্রাণভরে। অর্থাৎ তাদেরই স্মরি মনের টানে মর্যাদার সঙ্গে। দিনটি পালন উপলক্ষে সকল পেশার মানুষের হাতেই আজ শোভা পাচ্ছে দেশী বিদেশী রঙ বেরঙের ফুল। মাত্র কয়দিন আগেই জাতি উৎসব করলো ফুল নির্ভর পহেলা ফাল্গুন ও বিশ^ভালোবাসা দিবসে। তখনও দেশব্যাপি ফুলের ব্যাপক চাহিদা ছিল। তবে আজকের দিনটি পালন হবে বাঙালী জাতীর অস্তিত্বের টানে। দিবসটি আড়ম্বরের সঙ্গে পালনে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, সামাজিক ও রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছসেবী সংগঠন,এনজিও,ব্যাংক বীমাসহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠানমালার ঘোষনা করেছে। সব বয়সী মানুষ আজ ফুল হাতে অংশ নিচ্ছে প্রভাত ফেরিতে। পরে শহীদ মিনারে ফুল রেখে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরন করছে। এছাড়াও ভাষা শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দিনব্যাপি থাকবে নানা আয়োজন। ফলে সারাদেশে থাকবে ফুলের ছড়াছড়ি। আর দেশব্যাপি ফুলের চাহিদা মেটাতে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাঁদাফুল উৎপাদনকারী অঞ্চল খ্যাত ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের উৎপাদিত ফুল ৪-৫ দিন আগেই পাঠানো হয়েছিল ঢাকা,চট্রগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বড় বড় শহরের পাইকারী ফুলের বাজারে। ফুলবিক্রির প্রধান মাস এবছরের ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত পহেলা ফাল্গুন,বিশ^ ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুলের আকাশচুম্বি দাম পেয়ে চাষীরা রয়েছেন অত্যন্ত ফুরফুরে মেজাজে। ফুলের যে দাম তাদের আশা মহামারি করোনার কালো থাবাসহ অতীতের সকল লোকসান এ বছর কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
কৃষকদের ভাষ্য, চলতি বছরের দ’ুদফার অসময়ের বর্ষায় জলাবদ্ধতায় সারাদেশের ফুলক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সে সময়ে অনেকে ফুলের ক্ষেত চষে অন্য ফসলের চাষ করেছেন। যে কারনে দেশের দক্ষিণাঞ্চাল ছাড়া অন্য অঞ্চলে তেমন একটা ফুল নেই। তাই তো বাজারে ফুলের যোগান কম। ফলে দামও বেশি। ফুলচাষীরা বলছেন, এদেশে বানিজ্যিকভাবে যতদিন ফুলচাষ হচ্ছে এ বছরের ফুলের দাম সর্বোচ্চ। বিগত ২ বছরের মহামারি করোনার ছোবলে ফুল বিক্রি না থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে অনেকে ক্ষেত চয়ে দিয়েছিলেন। আবার চলতি বছরের বৈরি আবহাওয়ায়ও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে জমিগুলো অপেক্ষাকৃত উচু হওয়ায় দেশের দক্ষিণাঞ্চালের ঝিনাইদহ,কালীগঞ্জ,যশোর,সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনাসহ আরও বিভিন্ন উচু স্থানে তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। যশোরের গদখালির পরেই ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের বিভিন্ন মাঠের ফুল দেশসেরা। আর গাঁদা উৎপাদনে এ অঞ্চল রয়েছে দেশের মধ্যে চালকের স্থানে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত ফুলই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সারাদেশের ফুলের বাজার প্রতিবছরের ন্যায় দখল করেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানাগেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাটি ফুল উৎপাদনে সহায়ক। বর্তমানে এ এলাকায় দেশী জাতের গাঁদা, বিদেশী জাতের ভিন্ন ভিন্ন রঙের লিলিয়াম, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রজনীগন্ধ্যা, গোলাপ, চন্দ্র মল্লিকা, ভুট্রাফুল, গাঁদাসহ হরেক রকম মিলে প্রায় ২৫ হেক্টোর জমিতে ফুলচাষ করা হয়েছে। যা সারাদেশের ফুলের চাহিদা মেটাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারী ফুল এলাকা খ্যাত কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে গেলে দেখা যায়, সারা অঞ্চলের মাঠ যেন নানা রঙের ফুলে নববধুর মত সেজে আছে। যা দেখে চোখ জুড়িয়ে মন ভরিয়ে দিচ্ছে। এ অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখতে দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন এ অঞ্চলের মাঠে মাঠে। যতদুর নজর যাচ্ছে শুধু মনে হচ্ছে ফুলের পর ফুলক্ষেত। তবে বিদেশী জাতের নানা রঙের ফুলে যেন দেশী জাতের ফুলকে জাপটে ধরেছে। কেননা এ অঞ্চলের ফুলচাষীরা অনেক ব্যয়বহুল বিদেশী জাতের নামী দামি ফুলের চাষ করতে বিনিয়োগ করেছেন তাদের সর্বোচ্চটা। কেননা তারা যেন বসতবাড়ি নয় মাঠের ফুলের সেট সাজাতে বেশি ব্যস্ত। তবে যত প্রকার ফুল আছে তারমধ্যে বেশি জায়গা দখল করেছে রঙ বেরঙের গাঁদা ফুলে। যে ফুল রয়েছে আজকের অনুষ্ঠান ঘিরে ফুলের পাইকারী বাজারগুলোতে।
যে গাঁদাফুল প্রতিঝোঁপা বেশি হলেও ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতিঝোপা ৮০০ টাকার কাছাকাছি। শুধু গাঁদায় না অন্যফুল যেমন প্রতিটি গোলাপ দাম বেশি থাকলে ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্ত এ বছর বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, প্রতিটি জারবেরা বিক্রি হয় ৫ থেকে ৭ টাকায় কিন্ত এবছর বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৮ টাকায়। ফলে বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে ফুলের এবছর বেশি দামের রেকর্ড। আর দাম বেশি,কম যাই হোক কালীগঞ্জের ফুল আজ থাকবে মানুষের হাতে আর বীর শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলীতে। এখানকার ফুলে সাজবে গোটা দেশও।
বালিয়াডাঙ্গার ফুলচাষী শাহাদত হোসেন জানান, তিনি কিশোর বয়সে পরের ক্ষেতের কামলা ছিলেন। পরে এলাকায় ফুলচাষ শুরু হলে শুরু করি ফুলের খুচরা ব্যবসা। সেখান থেকে শুরু হয়ে এখনও চলছি ফুলের সাথে। আর্থিক অনাটনের কারনে ফুলচাষী হওয়াটা নিজের জন্য ছিল স্বপ্নের মত। ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী থেকে আমি আজ নিজের ফুলক্ষেতের মালিক হতে পেরেছি। কয়েক বিঘা জমি কিনেছি। লিজ নিয়ে ফুলচাষ করছি কয়েক বিঘা। সবই হয়েছে ফুলের কারনে। তিনি বলেন প্রায় ১৮ বছর ফুলের ব্যবসার পাশাপাশি এখন ফুলের চাষও করি । এ বছরের মত ফুলের দাম আগে কোনদিন দেখেননি।
ফুলচাষী মহিদুল ইসলাম জানান, গত ২ বছর ফুলের চাষ ছিল সবচেয়ে লোকসানের। মহামারি করোনার কারনে দেশের ফুলের বাজারে যেমন ধস নেমেছিল। আবার এ বছরের অসময়ের বর্ষায়ও সারাদেশের ফুলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। কিন্ত এ অঞ্চলের মাঠ উচু হওয়ায় তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। নিচু জমিগুলোর ফুলের যতটুকু ক্ষতি হয়েছিল তা বর্তমান ফুলের বাজারের চড়া দামে কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে। শুধু তাই নয় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের ফেব্রুয়ারী মাসেই ফুলচাষীরা কয়েক বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
কামালহাট গ্রামের ফুলচাষী গিয়াস উদ্দীন জানান, সারাদেশে যত ফুল উৎপাদন হয় তারমধ্যে যশোরের গদখালির পরেই কালীগঞ্জের অবস্থান। তিনি বলেন, দেশের অন্য এলাকা বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ বেশি হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ গাঁদাফুল চাষে সেরা। সেই গাঁদাতে এবছর দামের বাজার দখল করেছে। ফলে এ বছরের বিশ^ ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত বরনে তাদের হাসিমুখ উপহার দিয়েছে।
স্থানীয় ফুল ব্যবসায়ীরা জানায়, এ অঞ্চলের কৃষকেরা কয়েকদিন আগেই তাদের উৎপাদিত ফুল বড় বড় গাড়ি ভরে পাঠিয়েছেন ঢাকার শাহাবাগ,আগারগাঁও, চট্রগ্রামের চেরাগী পাহাড় বাজার, ফেনি, দিনাজপুর, রংপুর, কুমিল্লা, নওগাসহ দেশের বড় বড় শহরের পাইকারী ফুলের বাজারে। আজকের দিনে এ ফুল কিনবেন ফুলের জন্য মুখিয়ে থাকা বিভিন্ন বয়সী মানুষ। গত ২ দিনে যারা ফুল বিক্রি করেছেন গোলাপের দাম পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সারাদেশে সব ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। তবে গাঁদা ফুলের থাকে চাহিদার ক্ষেত্রে সবার উপরে।
স্থানীয় কালীগঞ্জ শহরের ফুল ব্যবসায়ী প্রদীপ কুমার জানান, ২১ ফেব্রুয়ারীর ফুল বিক্রি শুরু হয়েছে আরও ৪ দিন আগে। স্থানীয় ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীরা সারাদেশের আড়তগুলোতে ফুল পাঠিয়েছেন বিক্রির জন্য। আড়ৎগুলোতে আজ ভোর পর্যন্ত ভাষা দিবসের ফুল বেচাকেনা চলবে। এছাড়াও বছরের সব সময়ই তারা ফুল বিক্রি করে থাকেন। তবে প্রতিবছর বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষের দিন, স্বাধীনতা দিবস, বসন্তবরণ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বিশ্ব ভালবাসা দিবসসহ ধর্মীয় বিভিন্ন দিনগুলোতে ফুলের অতিরিক্ত চাহিদা থাকে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারী মাসের জন্য তাদের উৎপাদিত ফুল বাজারজাতকরণে বাড়তি প্রস্ততি নিতে হয়।
ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চালের ফুলেই সারাদেশের বাজার দখল করে আছে। ফুল উৎপাদনের দিক দিয়ে সারাদেশের মধ্যে ঢাকার সাভার ও যশোরের গদখালির পরেই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের অবস্থান। তবে গাঁদা ফুল উৎপাদনে সারাদেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে কালীগঞ্জ। আজকের বসন্তবরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে গত ৩//৪ দিন আগে থেকেই সারাদেশের ফুলের পাইকারী বাজার গুলোতে ফুল বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। প্রায় ২৩ বছরের ফুলের চাষ ও ব্যবসার অভিজ্ঞতায় ফুলের দাম এ বছরই সর্বোচ্চ বলে মনে করেন।
এনইউবিটি খুলনায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি খুলনায় (এনইউবিটিকে) এক আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। রোববার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান কর্ণার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রসাশনিক উপদেষ্টা এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের প্রফেসর এটিএম জহিরউদ্দিন।
এনইউবিটি খুলনার রেজিস্ট্রার ড. মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনইউবিটি খুলনার ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. শাহজাহান কবির। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “ভাষার সাথে স্বাধীনতা জড়িত। পৃথিবীর একমাত্র জাতি হিসেবে আমরাই ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি। যার কারণেই পৃথিবীতে আজ মাতৃভাষার জন্য আলাদা একটি দিবস ঘোষণা করা হয়েছে।”
বক্তারা আরো বলেন, “নিজ মাতৃভাষায় সবকিছু করা আমাদের অধিকার। মাতৃভাষার জন্য ধর্মও কোনো বাড়াবাড়ি করেনি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, মাতৃভাষায়ও আমরা দক্ষতা অর্জন করতে পারছি না, আবার আন্তর্জাতিক ভাষায়ও দক্ষতা অর্জন করতে পারছি না।” মাতৃভাষার চর্চা বৃদ্ধি ও শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষা চর্চার মাধ্যমে জাতিকে উত্তোরোক্তর সমৃদ্ধ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন বক্তারা।
এনইউবিটি খুলনার সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রভাষক মো. মতিউর রহমানে সঞ্চালনায় এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বাংলা ভাষার ইতিহাস নিয়ে স্বরচিত পুঁথি পাঠ করে শোনান মো. মতিউর রহমান।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে খুবিতে কর্মসূচি গ্রহণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
২১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শহিদ তাজউদ্দীন আহমেদ ভবনের সম্মুখে কালোব্যাজ ধারণ, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালোপতাকা উত্তোলন, এর পরপরই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকাল ১০টায় সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আলোচনা সভা, বাদ যোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে প্রার্থনা। এছাড়াও সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হবে।
পরিবেশের ক্ষতি রোধ করতে না পারলে কোনো দেশ বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে না : উপমন্ত্রী
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে পরিবেশ বিষয়ক ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ইকোসিস্টেম রেস্টোরেশন’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন সমাপ্ত হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে ৭ দফা সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) দুপুরে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিশুদের পরিবেশ শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। পরিবেশের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিজ্ঞানী গবেষকদের ফাইন্ডিংসের ভালো ও ক্ষতিকর সব দিক তুলে ধরতে হবে। কেননা পরিবেশের কোনো সীমানা নেই, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি রোধ করতে না পারলে কোনো দেশ বা অঞ্চল এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পাবে না।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠান প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের আরও সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। আপনাদের সম্মেলনের সুপারিশ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সবিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখবে। তিনি বলেন, সম্মেলনে আগত দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে এবং কমিউনিটি গঠন করতে হবে।
সম্মেলনে চিফ প্যাট্রন হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জলবায়ু নিয়ে উন্নত দেশ কি করছে বা কোন নেতা কি করছেন তা নিয়ে বসে না থেকে আসুন আমরা আঞ্চলিক ভিত্তিতে অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনার শেয়ারিং করি। আমরা লিংক স্থাপন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র ও গবেষকদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করি। আমরাই এগিয়ে যাই। আমরাই নেতৃত্ব দেই।
তিনি আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন আয়োজিত এই সম্মেলন আমাদের নবীন শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের নানামুখী উপকারে আসবে এবং তারা গবেষণায় অনুপ্রাণিত হবেন। তিনি বলেন, পরিবেশের যা ক্ষতি হয়েছে তা যেনো আর না হয়, আমরা যাতে আর না ক্ষতি করি, বরং রোধ করি। আমরা পরিবেশ ও প্রতিবেশের পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হই। উপাচার্য এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আগত সকল দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার নিজের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সম্মেলনের প্যাট্রন হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস। সভাপতিত্ব করেন সম্মেলন অরগানাইজিং কমিটির কনভেনর প্রফেসর ড. দিলীপ কুমার দত্ত। সম্মেলনে গৃহীত ৭ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেন সম্মেলনের অরগানাইজিং সেক্রেটারি সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিদেশি ডেলিগেটদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন দুবাই সাফারি পার্কের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, ভারতের যাদবপুর ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. জগপতি তাহ, বর্ধমান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. অপূর্ব রতন ঘোষ ও নেপালের ত্রিভূবন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. রাম কৈলাশ প্রসাদ যাদব। বিদেশি অতিথিবৃন্দ সম্মেলন সফল ও আতিথেয়তা চমৎকার বলে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মঞ্জুর হোসেনও অনুভূতি প্রকাশ করে এই সম্মেলনকে অত্যন্ত সফল বলে অভিহিত করেন এবং এমন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ২টি পেপার উপস্থাপনের বিষয়সহ দু’দিনই সময় দেওয়ার ঘটনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নবীন হলেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে এটা প্রত্যাশা করা যায়।
সম্মেলনে বেস্ট পোস্টার, বেস্ট সায়েন্টিফিক পেপারসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানীরা দুপুরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন এবং উপকূলীয় জয়মনি এলাকা পরিদর্শন করেন।
উপাচার্যের সাথে একাডেমিক প্রধানদের সভায় সিদ্ধান্ত: খুবিতে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবনের সম্মেলন কক্ষে একাডেমিক প্রধানদের সাথে উপাচার্যের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।
সভায় নবাগত শিক্ষার্থীদের আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম বর্ষের সশরীরে ক্লাস শুরুসহ অন্যান্য বর্ষের ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় একাডেমিক প্রধানবৃন্দ একমত হন যে, কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে যেনো র্যাগিং এর মতো অমানবিক ঘটনা না ঘটে। এজন্য ডিসিপ্লিন ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের দপ্তর থেকে ভিজিলেন্স বৃদ্ধি, ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরার সর্বোচ্চ কভারেজের আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের মোটিভেশন এবং হটলাইন নম্বর চালু করা, অভিযোগ বক্স স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী যেনো সিনিয়র শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সবারই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায় সে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, সকল স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক জহুরুল হককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটকের প্রতিবাদে মানববন্ধন
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল হককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটকের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আয়োজনে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে উক্ত মানবন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত, প্রেসক্লাব সাবেক সাধারন সম্পাদক এম. কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ¦ল, আশাশুনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক অসীম কুমার চক্রবর্তী, সাংবাদিক সেলিম রেজা মুকুল, ফরিদ আহমেদ ময়না, হাফিজুর রহমান মাসুম, মনিরুল ইসলাম মনি, দৈনিক ভোরের পাতা’র সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এস এম মহিদার রহমান, আকরামুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক মুক্ত স্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আবুল কালাম, বাংলাভিশন টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান, যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার আহসানুর রাজিব, মাই টিভির ফয়জুল হক বাবু, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান, খন্দকার আনিসুর রহমান, মোঃ আমিনুর রশিদ, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ মামুন হোসেন, মোঃ ফিরোজ হোসেন, মোঃ আব্দুল মতিন, শেখ হাসান গফুর, মোঃ রুবেল হোসেন, মোঃ অহিদুজ্জামান, মোঃ আবির হোসেন লিয়ন, মোঃ তৌফিকুজ্জামান লিটু, এ এস এম শাহনেওয়াজ মাহমুদ রনি, মোঃ কামাল উদ্দীন, সরদার, মোঃ শহিদুল ইসলাম শহিদ, মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার, মোঃ তারিকুল ইসলাম সহ ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সকল সাংবাদিক বৃন্দ ।
বক্তারা এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবী জানিয়ে বলেন, পাটকেলঘাটা থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ জহুরুল হককে থানায় ডেকে এনে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা অবিলম্বে এ ধরনের সাজানো ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে তাকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে অন্যথায় কঠোর কর্মসুচি দেয়া হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন বক্তারা।
উল্লেখ্য ঃ সাংবাদিকদের কর্মরত অবস্থায় সাতক্ষীরার তালা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির বিভিন্ন সময়ে তাদের হেনস্তা এবং মানসিক নিপীড়ন করেছেন। সম্প্রতি তিনি বদলী হওয়ায় পাটকেলঘাটা এলাকার স্থানীয় লোকজন মিষ্টি বিতরন করেন। এই মিষ্টি বিতরনের ছবি জনৈক আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর সংবাদিক জহুরুল হক বিষয়টি জানার জন্য থানায় গেলে ওই অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ইন্ধনে তাকেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিষয়টি সাতক্ষীরার সাংবাদিক মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বাগেরহাটে খাল খননে বাধা ৯৮ অবৈধ স্থাপনা
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
বাগেরহাটের চিতলমারীতে খালের জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প খালের খননকাজ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে খাল খননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খননকাজ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সদরের বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাড়ে ১২ কিলোমিটার নদীটি দখল-দূষণে এখন খালে পরিণত হয়েছে, যা ‘হক ক্যানেল’ নামে পরিচিত। এ হক ক্যানেলের মধ্যে ১৫-২০ ফুট জমি দখলে নিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে অসংখ্য বহুতল ভবন, পাকা ঘরবাড়ি ও স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। চিতলমারীতে নাব্য সংকটের কারণে নদী ও খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় কৃষিকাজসহ দৈনন্দিন কাজে পানি ব্যবহারে এলাকার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। প্রবাহ ফেরাতে সরকার চিতলমারীর পুরনো মধুমতি, হক ক্যানেল ও মরা চিত্রাসহ তিনটি নদী ও ৫৫টি খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অবৈধ স্থাপনার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাল খননকাজ করতে পারছে না। এছাড়া ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদ ও নৌ-চলাচল হুমকির মুখে।
চিতলমারী সদরের বেয়ালিয়া গ্রামের সানজিদা বেগম বলেন, ১৫ বছর ধরে খালের পানি ব্যবহার অনুপযোগী। স্থানীয়রা জানায়, অবৈধ স্থাপনা ও দখলবাজির কারণে এক সময়ের নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে। এখন আর খালে পানি নেই। আর্সেনিকের কারণে খালের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু খননকাজ বন্ধ থাকায় আমরা দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
সদর বাজারের ফয়জুল শিকদার বলেন, হক ক্যানেলের পানির ওপর নির্ভর করে এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষিকাজ। বর্তমানে খাল ও নদীতে পানি কম থাকায় খননের উপযুক্ত সময়। নদী ও খালপাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খননকাজ না করলে সরকারের কোটি টাকার প্রকল্প কাজ বিফলে যাবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি শামীম আহসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. শামীম আহসান বলেন, ২০১৯ সালের শেষের দিকে ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ১২ কিলোমিটার হক ক্যানেলের খননকাজ শুরু হয়। কিন্তু অবৈধ দখলদারের কারণে আমরা উপজেলা সদরের ১ কিলোমিটার খাল খনন করতে পারছি না। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু হানিফ জানান, হক ক্যানেল পাড়ের ৯৮টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যৌথ তালিকা বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুই বছর আগে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় ঠিকাদার খননকাজ করতে পারছেন না। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে খননকাজের এক্সক্যাভেটর মেশিন হক ক্যানেলের পাড়ে যেতে পারছে না। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আশপাশের খনন করা নদী ও খালগুলোর স্রোত বা গতিপ্রবাহ অস্বাভাবিক আটকে থাকছে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কৃষ্ণেন্দু বিকাশ সরকার বলেন, নদী ও খাল খননের শুরুতে উচ্ছেদের জন্য মরা চিত্রা নদী ও হক ক্যানেলের দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখলদাররা নানা কৌশলের আশ্রয় নেন। এখন খননকাজ বন্ধ। আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের খননকাজ শুরু করতে পারব।
বাগেরহাটে ১৬ মাদক মামলার আসামী পঙ্কজ গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় ১৬ মাদক মামলার আসামী সায়েদ শেখ ওরফে পঙ্কজকে (৫৫) মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ছোট নলবুনিয়া গ্রামের বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শরণখোলা থানার অফিসার ইন চার্জ মো. সাইয়েদুর রহমান জানান, মাদক বিক্রির গোপন সংবাদ পেয়ে এসআই স্বপনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে মৃত মেছের শেখের ছেলে সায়েদ শেখ ওরফে পঙ্কজকে ১০০গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তার বাড়ি থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন পঙ্কজ পালিয়ে গেলে তার সহযোগী বোন ও ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সায়েদ শেখ ওরফে পঙ্কজ একজন ভয়ঙ্কর মাদককারবারী। তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সাল থেকে এপর্যন্ত শরণখোলা থানায় ১৬টি মাদক মামলা রয়েছে।
বাগেরহাটে অভিভাবক ফোরামের স্কুল পরিদর্শন
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর আগামী ২২ ফেব্রুয়ারী স্কুলে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। শ্রেণীকক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস করায় শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হতে পারে এমন আশঙ্কার জায়গা থেকে দীর্ঘ বিরতির পরে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শতভাগ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ও উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ২টি পরিদর্শন করেছে বাগেরহাট সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ের অভিভাবক ফোরামের সদস্যরা ।
রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারী) সকালে বাগেরহাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এসময় ফোরামের নেতৃবৃন্দ স্কুলের পরিচ্ছন্নতা, বেতন পরিশোধ পদ্ধতি, স্কুলের শিক্ষকদের শুণ্যপদ নিয়ে বিদ্যালয় দুটির প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময়ে ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক আছমাতুল ফাতিমা ময়না, সদস্য সচিব কল্লোল সরকার, আহবায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ শওকত হোসেন, এস.এম রাজসহ ফোরামের সদস্য বৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
কুয়েট ও ল্যাবএইড এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (কুয়েট) ও ল্যাবএইড লিমিটেড এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকালে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে দ্বিপাক্ষিক এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। এই সমঝোতা স্মারকের প্রেক্ষিতে কুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অধিকতর স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিতকরণের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এ কে এম আজহারুল হাসান, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর মোঃ গোলাম কাদের, বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মোঃ আনিছুর রহমান ভূঞা, খুলনা ল্যাবএইড লিমিটেড এর ম্যানেজার ও ইনচার্জ মোঃ জাকারিয়া ইসলাম, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন প্রমূখ। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মোঃ আনিছুর রহমান ভূঞা এবং ল্যাবএইড এর পক্ষে খুলনা ল্যাবএইড লিমিটেড এর ম্যানেজার ও ইনচার্জ মোঃ জাকারিয়া ইসলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তা এবং শিক্ষক সমিতিসহ অন্যান্য সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
তথ্য বিবরনী
খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির ফেব্রুয়ারি মাসের সভা রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম কামাল হোসেন জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে। এর আওতায় দেশব্যাপী এক কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ লাখ ব্যক্তিকে টিকা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে এ পর্যন্ত খুলনাতে প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ১৭ লাখ ৭১ হাজার ২৩৪ জন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭৪ জন ও বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে ৯৮ হাজার ৩২০ জনকে। সভায় ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম জানান, বর্তমানে খুলনা শহরের ১ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সব এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে খুলনা জেলার সকলের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খো. রুহুল আমীন জানান, ২২ ফেব্রুয়ারি সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এছাড়া প্রাইমারি স্কুল ১ মার্চ থেকে খুলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস চলবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, সেচ সুবিধা নিশ্চিত এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে কৃষকের সুবিধার কথা বিবেচনা করে স্লুইসগেটগুলো সচল রাখা প্রয়োজন। সভাপতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সভাপতির বক্তৃতায় মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, এখনো করোনার প্রভাব বিদ্যমান, তাই করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহিদ হাদিস পার্কে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ জন এবং সংগঠন পর্যায়ে ৫ জন একত্রে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে পারবেন। সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আছাদুজ্জামান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মোঃ ছাদেকুর রহমানসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
তথ্য বিবরনী
খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির ফেব্রুয়ারি মাসের সভা রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলন কক্ষে অনষ্ঠিত হয়। সভায় ডেপুটি সিভির সার্জন ডাঃ এস এম কামাল হোসেন জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে। এর আওতায় এক কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২১ লক্ষ ব্যক্তিকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত খুলনাতে প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ১৭ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৪ জন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮৭৪ জন ও বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে ৯৮ হাজার ৩২০ জনকে। সভায় ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম জানান, বর্তমানে খুলনা শহরের ১ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সব এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে খুলনা জেলায় সকলের জন্য সুপেয় পানির নিশ্চয়তায় উদ্যেগ নেওয়া হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খো. রুহুল আমীন জানান, ২২ ফেব্রুয়ারি সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এছাড়া প্রাইমারি স্কুল ১ মার্চ থেকে খুলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস চলবে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, সেচ সুবিধা নিশ্চিত এবং অতিরিক্ত পানি নিঃশরনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে কৃষকের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সøুইজগেটগুলো সচল রাখা প্রয়োজন। সভাপতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সভাপতির বক্তৃতায় মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, এখনো করোনার প্রভাব বিদ্যমান, তাই করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে সচেতনতামূলক প্রচারনা চালাতে হবে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে শহীদ হাদিস পার্কে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ব্যক্তি পর্যায়ে ২ জন এবং সংগঠন পর্যায়ে ৫ জন পুষ্পমাল্য অর্পণ কারার জন্য অনুরোধ জানান। সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আছাদুজ্জামান খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মোঃ ছাদিকুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারন দপ্তরে উপপরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান সহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বন্দ জুট মিল চালু ও বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বেসরকারী জুট মিল শ্রমিকদের মানববন্ধন
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
ব্যক্তি মালিকানাধীন মহসেন, এ্যাজাক্স, জুট স্পিনার্সসহ একের পর এক বন্ধকৃত বেসরকারি জুট মিল চালু, শ্রমিক-কর্মচারীদের চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধসহ ৬ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে রবিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ফুলবাড়ীগেটস্থ খুলনা যশোর মহাসড়কে বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। আফিল জুট মিলের শ্রমিকনেতা নিজাম উদ্দীনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেকের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও মহসেন জুট মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল খান, মহসেন জুট মিলের শ্রমিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্বারি আসহাব উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দীন, শ্রমিক নেতা কাবিল হোসেন, কেসমত আলী, আবু তালেব, মোঃ হোসেন আলী, আমির মুন্সি, সাংবাদিক মিহির রঞ্জন বিশ্বাস, মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা বলেন, বেসরকারি জুট মিলের শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিক বার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। মহসেন জুট মিল শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধসহ শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ২ দিনের কর্মসূচী ঘোষনা করেন। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১ টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গফফারফুড মোড়ে আলোচনা সভা ও ২৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের সামনে অনশন কর্মসূচী । এর মধ্যে শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি পুরন করা না হলে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে বলে জানান শ্রমিক নেতারা ।
মহেশপুর সীমান্তে এক সপ্তাহে শিশুসহ ৮৯জন আটক
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি,
অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সময় এক সাপ্তাহে ঝিনাইদহের মহেশপুরে নারী ও শিশুসহ ৮৯জন ৫৮ বিজিবি’র হাতে আটক হয়েছে। বিজিবি’র প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার যাদবপুর, মাটিলা ও বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সময় ৫৮ বিজিবি’র অধিনস্ত যাদবপুর,মাটিলা ও বাঘাডাঙ্গা বিওপির টহল দল তাদেরকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ, ২৯ জন নারী ও ২০ জন শিশু রয়েছে। আটককৃতরা জানায়, তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, যশোর ও ঝিনাইদহ জেলায়। ৫৮ বিজিবি’র উপ পরিচারক তসলিম মো. তারেক জানান,সীমান্তে অবৈধ পারাপার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে আছে। মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, এ সকল ঘটনায় বিজিবির পক্ষ মামলা করা হয়েছে।
বিসিকের খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় অর্ধবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
তথ্য বিবরনী
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ে রবিবার সকালে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বিসিকের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কর্মকান্ডের অর্ধবার্ষিকী অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিসিকের চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর অবদান রাখাই বিসিকের লক্ষ্য। একসময় কেবল কৃষিখাত দেশের মূল চালিকাশক্তি ছিলো, এখন শিল্পক্ষেত্রে দেশ অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, বিসিক ৭৯টি শিল্পখাত নিয়ে কাজ করছে, যার সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।
বিসিকের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাহেরা নাসরীণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিসিকের পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) মাহবুবুর রশিদ। সম্মেলনে বিসিকের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সকল জেলা এবং শিল্পাঞ্চল কার্যালয়ের প্রধানগণ, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীরা অংশ গ্রহণ করেন।
সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশের এক কোটি জনগোষ্ঠিকে ভ্যাকসিন প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েছে: সিটি মেয়র
তথ্য বিবরনী
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, দেশের মানুষকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশের এক কোটি জনগোষ্ঠিকে ভ্যাকসিন প্রদানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। করোনা মোকাবেলায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এই টিকা প্রদান কার্যক্রমে মেয়র সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি রবিবার সকালে নগর ভবন সম্মেলনকক্ষে ২৬ ফেব্রুয়ারি গণটিকা কর্মসূচি বাস্তবায়ন উপলক্ষ্যে উদ্বুদ্ধকরণ ও পরিকল্পনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। সভায় জানানো হয়, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে এক লাখ ৩৯ হাজার পাঁচশত জনকে করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেসিসির ৩১টি ওয়ার্ডের দুইশত ৮৯ টি কেন্দ্রে পাঁচজন কর্মীর নয়টি করে দল কাজ করবে। এপর্যন্ত কেসিসি এলাকায় পাঁচ লাখ ৫৩ হাজার আটশত ১৮ জন প্রথম ডোজ, চার লাখ ৪০ হাজার ছয়শত ৬৯ জন দ্বিতীয় ডোজ এবং ৫২ হাজার নয়শত ৯৪ জন বুস্টার ডোজ প্রদান করা হয়েছে। সভায় আরও জানানো হয়, ইতোমধ্যে টিকা গ্রহণ করেনি এরকম জনগোষ্ঠীর অন্তত এক কোটি মানুষকে বাছাই করে টিকার আওতায় আনা হবে। এর সাথে বিশেষ জনগোষ্ঠী, কারখানার শ্রমিক, মার্কেট, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কর্মচারী, নৌকা-জাহাজে বসবাসকারী ভাসমান জনগোষ্ঠী, বেদে বহর, ইটভাটা শ্রমিক ও অন্যান্য ভাসমান জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়া পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি টিকা নিতে কোন ধরণের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। ঐ দিন দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ বন্ধ থাকবে। সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম, সচিব মোঃ আজমুল হক, সিভিল সার্জন ডাঃ সুজাত আহমেদ, কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ফজলুর রহমান, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ মেহেদী নেওয়াজ, প্যানেল মেয়র এ্যাডভোকেট মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু, কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার হালদারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে মেয়র নগর ভবন চত্বরে একশত ২০জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে ফ্যামিলি কিট বিতরণ করেন। এসময় কেসিসির সচিব ও সমাজসেবা দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গৃহবধুর অগ্নিদগ্ধ বিকৃত লাশ উদ্ধার
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ষোলদাগ এলাকায় ষোলদাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর পিছনের কলার বাগান থেকে শনিবার সন্ধ্যার পর সজনী(৩০) নামে এক গৃহবধূর অগ্নিদগ্ধ বিকৃত লাশ উদ্ধার করেছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ। সজনী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া রানাখড়িয়া এলাকার সিরাজুল হকের মেয়ে এবং ষোলদাগ এলাকার লালন(৩৫) এর স্ত্রী। সজনীর মা সালেহা পিতা সিরাজুল এবং চাচি আইরিন লাশ সনাক্তকরণ করেন। নিহতের মা বলেন, প্রায় ১৩ বছর আগে সজনিকে লালনের সাথে বিয়ে দাও বিয়ে দেন। তাঁদের ঘরে একজন ছেলে এবং জন মেয়ে রয়েছে। কিছুদিন যাবত স্বামী লালন স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সজনী পালিয়ে বাবার বাড়ি যান। সেখান থেকে গত ১৫ ই ফেব্রুয়ারি লালন শশুর বাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে জোর করে নিয়ে আসেন। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মোবাইল ফোনে সজনীর মাকে জানান সজনীকে পাওয়া যাচ্ছে না। একদিন পর ১৯শে ফেব্রুয়ারি সজনীর অগ্নিদগ্ধ বিকৃত লাশ পাওয়া যায়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভেড়ামারা দৌলতপুর সার্কেল ইয়াসির আরাফাত এবং ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মুজিবুর রহমান জানান, নিখোঁজ সজনীর স্বজনরা লাশটি তাঁদের মেয়ে দাবি করছে। স্বামী লালনের পরিবার লাশটি সজনীর নয় বলে জানানোতে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে সনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত জানান, সংবাদ পেয়ে ওসিকে সঙ্গে নিয়ে তৎক্ষণাৎ আমরা সেখানে যাই। নিখোঁজ স্বজনের পিতা-মাতা তাদের মেয়ে বলে শনাক্ত করেছে। আরও নিশ্চিতভাবে সনাক্তকরণ এবং আসামি গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
রূপসায় মাদক ব্যবসায়ীর হামলায় ঘের মালিকসহ আহত ২
রূপসা প্রতিনিধি :
রূপসায় চিহ্নিত মাদক সম্রাট মতি গাজী ও তার স্ত্রীর হামলায় ঘের মালিক জুয়েল (২৮) ও কর্মচারী কবির শেখ (২৬) রক্তাক্ত জখম হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টায় বাগমারা দক্ষিণপাড়া গুপিয়ার খালের পুরাতন স্লুইসগেটের সামনে এঘটনা ঘটে। এব্যাপারে আহত কবির রূপসা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। আহত কবির জানায়, ঘটনার দিন সকালে বাগমারা গ্রামের মৃত মোস্তফা কামালের ছেলে জুয়েলের লিজ নেওয়া গুপিয়ার খালে জেলেদের দিয়ে মাছ ধরতে থাকে। জাল টেনে মাছ উপরে তোলার সময় পাশর্^বর্তী বাসিন্দা মৃত সামাদ গাজীর ছেলে চিহ্নিত মাদক সম্রাট মতি গাজী ও তার স্ত্রী তাদের মাছ ধরার কাজে বাধা দেয়। এনিয়ে জেলেদের সাথে বাকবিতন্ডা হতে থাকলে কবির শেখ সেখানে এগিয়ে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে তাকে মারপিট করতে থাকে। এসময় জুয়েল তার কর্মচারীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মতিগাজী দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে ও তার কর্মচারীকে রক্তাক্ত জখম করে। উল্লিখিত মতিগাজী একাধীক মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী। সম্প্রতি জেল থেকে বেরিয়ে পূর্বের ন্যায় সে তার মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলে অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়।
সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুর নেতৃত্বে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন
খবর বিজ্ঞপ্তি।।
শনিবার দিনগত রাতে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবনচরা এলাকায় মরহুম সালাউদ্দিন ইউসুফ মাধ্যমিক স্কুলের সামনে তুষ মিলসহ তিনটি ভাংগারী ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান অগ্নিকান্ডে পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে যান সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাবেক মেয়র ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান মনি, সিনিয়র বিএনপি নেতা জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু। পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম খোকন, জাহাঙ্গীর হোসেন দুলাল, সাখাওয়াত হোসেন, কামরুল আলম খোকন, সেলিম হাওলাদার মন্টু, সেলিম বড় মিয়া, মো. রিয়াজ, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, আবু তালেব, শফিকুল ইসলাম, মো. মনিরুজ্জামান, মাসুদ রুমী, মহাসীন ভুঁইয়া, রফিকুল ইসলাম রয়েলসহ এলাকার গণ্যমান্য ও স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ।
শুভকে হত্যার কারণ খুঁজে পাচ্ছে না কেউ
জাহিদুল ইসলাম।।
খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার আবাসিক এলাকা থেকে শুভ (১১) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে। কিন্তু তাকে হত্যার কারণ পুলিশ, পরিবার ও এলাকাবাসী কেউ বলতে পারছেন না। সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক জানান, নিহত শিশুর বাবার নাম ইব্রাহিম। সকালে লাশ উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কী কারণে এবং কীভাবে মারা গেছে জানতে পারিনি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজসহ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। এদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শুভ দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না তারা। এ ঘটনা খুবই হতাশাজনক। সকালে সে খেলতে বের হয়েছিল। এরপরই তার মৃত্যুর খবর শোনা যায়। তাকে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ঘরের আড়ায় ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভালকী গ্রাম থেকে পারুলা খাতুন (৩৮) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাত ১১টার দিকে নিজ ঘরের আড়া থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, শনিবার রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে তিনি নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। রাত ১১টার দিকে তার এক সন্তান বাজার থেকে বাড়ি ফিরে মাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখে। এ সময় তার চিৎকারে স্বজন ও প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের স্বজনরা জানান, পারুলার তিন ছেলের মধ্যে একজন ঢাকা, একজন ঝিনাইদহ থাকে। অন্য ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাকে নিয়েই তিনি ওই বাড়িতে বসবাস করেন। তবে কারও সঙ্গে তার কোনো ঝগড়া-বিবাদের কথা শোনা যায়নি। তিনি কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন নাকি অন্যকিছু তাও নিশ্চিত নয়। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, এ ঘটনায় স্বজনরা থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- এটি আত্মহত্যা। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে এটি আত্মহত্যা না অন্যকিছু সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সবজি ও মাছে ক্ষতিকর ভারী ধাতু: খুলনা ও সাতক্ষীরায় খুবির ৩ শিক্ষার্থীর গবেষণা
স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা ও সাতক্ষীরায় সবজি, গলদা ও বাগদা চিংড়ি এবং তেলাপিয়া মাছে পাওয়া গেছে ক্ষতিকর কয়েকটি ভারী ধাতু। সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে সবজিতে মিলেছে এই ধাতু। আর ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে তৈরি ফিশ ফিড ব্যবহারের কারণে ভারী ধাতু ঢুকেছে মাছে। এ ছাড়া চিংড়ি ঘেরের মাটি ও পানিতেও সংমিশ্রণ ঘটেছে এসব ধাতুর। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের তিনজন শিক্ষার্থীর পৃথক তিনটি গবেষণায় উঠে এসেছে এই চিত্র। শনিবার খুবি ক্যাম্পাসে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই তিন শিক্ষার্থীর গবেষণাগুলো উপস্থাপন করা হয়। খুলনার ডুমুরিয়ায় টমেটো, শিম ও বেগুন- এই তিন সবজি নিয়ে গবেষণা করেন খুবির পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের ছাত্রী রওনক জাহান। তিনি তার গবেষণার উদ্বৃতি দিয়ে জানান, কৃষকরা সবজি চাষের জন্য ক্ষেতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। এর ফলে টমেটো, শিম ও বেগুনে অতিমাত্রায় ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক ও সিসা পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরায় বাগদা ও গলদা চিংড়ি এবং তেলাপিয়া মাছ নিয়ে গবেষণা করেছেন একই ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সজীব রায়। তিনি আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার তিনটি ঘের থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা করেন। তার গবেষণায় এ দুটি মাছে মিলেছে অতিমাত্রায় আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম ও আর্সেনিক। ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে তৈরি ফিশ ফিড ব্যবহারের কারণে এই ভারী ধাতু ঢুকেছে মাছে। এ ছাড়া সাতক্ষীরার দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলায় চিংড়ি ঘেরের পানি ও পলি মাটি নিয়ে গবেষণা করেছেন ওই ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাসের মুস্তফা। তিনি ছয়টি ঘের থেকে পানি ও পলি মাটির ১২টি নমুনা সংগ্রহ করে এই গবেষণা চালান। সেই গবেষণায় পানি ও মাটিতে অতিমাত্রার তিনটি ভারী ধাতু মিলেছে। সেগুলো হচ্ছে ক্যাডমিয়াম, জিঙ্ক ও সিসা। ফিশ ফিড থেকে এসব ধাতুর সংমিশ্রণ ঘটেছে।
এই তিনটি গবেষণা করা হয় পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে। তিনি জানান, গবেষণায় সবজি, গলদা ও বাগদা চিংড়ি, তেলাপিয়া মাছ এবং চিংড়ি ঘেরের পলি মাটি ও পানিতে যে মাত্রার ভারী ধাতু পাওয়া গেছে তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি। তিনি জানান, এই তিনটি বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যাপারে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার সমকালকে বলেন, অতিমাত্রার এসব ভারী ধাতু মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। নিয়মিত এসব ধাতু মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়।
বেগুন গাছে টমেটো চাষে সফল বাবলু
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বেগুন গাছে টমেটো চাষে সফলতা পেয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের সবজি চাষি বাবলু কোম্পানি। প্রায় সাত বছর ধরে উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় বেগুন গাছে টমেটোর আবাদ করছেন বাবলু। ধারাবাহিকভাবে একই গাছে দুই ধরনের ফসল ফলিয়ে সফলতা পাচ্ছেন তিনি। এর আগে কলা গাছ থেকে রাসায়নিক সার, আতা ও নিমপাতা থেকে কীটনাশক তৈরি, ঢেঁড়স গাছ থেকে পাটের বিকল্প আঁশ উদ্ভাবন করে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন বাবলু। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ছাতিয়ান মালিথাপাড়া গ্রামের বাবলু সর্দার ওরফে বাবলু কোম্পানির (৪৬) প্রাতিষ্ঠানিক কোনও শিক্ষা নেই। তবে মেধা দিয়ে কৃষি উদ্ভাবনে স্বীকৃতি পেয়েছেন। বাবলু শুধু সফল সবজি চাষিই নন, নতুন নতুন উদ্ভাবনেও তার সফলতা রয়েছে। ২০১১ সালে ঢেঁড়স গাছ থেকে পাটের আঁশ উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছিলেন। ২০১২ সালে ঢাকায় জনবিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উদ্ভাবনী মেলায় ২৫ স্বশিক্ষিত উদ্ভাবকের একজন বাবলু। বাবলু কোম্পানি বলেন, এবছর প্রায় ৩০০ বেগুন গাছে টমেটোর চাষ করেছি। এবারও ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু গাছের টমেটো এবং বেগুন বিক্রি করেছি। এখনও গাছে অনেক টমেটো রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রায় সাত বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে বেগুন গাছে কলম করে টমেটোর চাষ শুরু করি। একই গাছে বেগুন এবং টমেটোর চাষ করে বেশ সাফল্য আসে। এরপর থেকে প্রতিবছর এই পদ্ধতিতে বেগুন এবং টমেটো চাষ করছি। বাবলু বলেন, প্রথমে আমি চার বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করি। আর ১০ কাঠা জমিতে টমেটো। বেগুন গাছে টমেটো চাষের জন্য ১০টি বেগুন গাছে টমেটোর ডোগা কেটে কলম করি। কিছুদিন পর দেখা যায় টমেটোর ডগাগুলো মরেনি। সেগুলোও বেগুনের ডগার মতো বড় হচ্ছে। কলম করার মাসখানেক পরে দেখা যায়, বেগুন গাছের ডগায় টমেটো ধরেছে। এতে বেগুন গাছ থেকে একসঙ্গে টমেটো এবং বেগুন পাওয়া যায়। একেকটি গাছ থেকে প্রায় তিন কেজি টমেটো পেয়েছি। সফল এই সবজি চাষি বলেন, ২০০০ সালে নিজ গ্রামের তাজ আলী মালিথার এক বিঘা জমি চার হাজার টাকায় লিজ নিয়ে ফুলকপি চাষ শুরু করি। পরের বছর একই গ্রামের বগা বিশ্বাসের কাছ থেকে আট হাজার টাকায় দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে বেগুন, লাউ ও বাঁধাকপি চাষ করি। এরপর বাড়তে থাকে সবজি চাষের প্রসার। মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, বাবলু একজন সফল সবজি চাষি। তিনি উপজেলার মডেল চাষি হিসেবে পরিচিত। বেগুন, টমেটো ও তিত বেগুন একই গোত্রের হওয়ায় বেগুন গাছে খুব সহজেই টমেটোর কলম করা যায়। বেগুনের চেয়ে তিত বেগুনে পোকার আক্রমণ কম। সহজেই বেগুন গাছে টমেটো চাষ করা যায়। রমেশ চন্দ্র বলেন, বাবলু বেগুন গাছে কলম করে টমেটো চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। সাধারণত শৌখিন ব্যক্তিরা এগুলো বাড়ির ছাদে চাষ করতে পারেন। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে বেগুন গাছে টমেটো চাষ খুব জনপ্রিয় হবে বলে আশা করছি। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাদের বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও বাবলুর এসব চাষাবাদ ব্যতিক্রম। বেগুন গাছে টমেটোর কলম করে সফল হওয়ার পর তিনি আলু গাছে কলম করে টমেটো আবাদের চেষ্টা করছেন। আমরা বিভিন্নভাবে তাকে সহযোগিতা করছি। এতেও তিনি সফল হবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।
ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা, পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত
স্টাফ রিপোর্ট।।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এজন্য পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এতথ্য নিশ্চিত করেছে পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিস।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘রবিবার পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) এটা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।’ এদিকে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপকূলজুড়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। উপকূলবর্তী সমুদ্র উত্তাল না হলেও বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা সৈকতে নামতে পারেননি। বেশিরভাগ পর্যটকরা হোটেলে সময় কাটিয়েছেন। ভ্যানচালক সোহরাব মল্লিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃষ্টি নামলে আমাদের ভ্যানে কেউ ওঠে না। সকালে ২০০ টাকা পাইছি। এরপর বৃষ্টি। আজ আর কোনো ইনকাম হলো না।’











































