Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

57

নগরীর বাস্তহারায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর বাস্তহারা কোলনীর ৯নং রোডের বাসিন্দা মৃত. মো. ফরিদ ভূইয়ার ৪৮৬নং প্লটের ঘরে ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্থ পবিরারের ছোট ভাই মো. আব্দুল করিম ভূইয়া জানান, আমার বড়ভাবি গত ১০/১২ আগে তার জামাই বাড়ী রূপসা নদীর ওপার বেড়াতে যাওয়ার সুবাদে উপরোক্ত ঘরে আমার ভাগ্নে ঘুমায়ে আসছিল। ঘটনার দিন গভীর রাতে ঘরের মাঝের রুমে ভাগ্নের ঘুম ভেঙে গেলে দেখতে পারে ঘরের চারিপাশে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এ সময় তার আত্মচিকিৎসারে আশপাশের স্থানীয় লোকজন এসে আগুন নেভানোর চেষ্ঠা চালায়। আগুন প্রায় একঘন্টার মতো জ্বলতে থাকে। তাৎক্ষনিক আগুনের ঘটনার ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসকে খরব দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌচ্ছে আগেই আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ঘরের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আনুমানিক ধারণা প্রায় ৭/৮ লক্ষ টাকার মালামালের ক্ষতি হতে পারে।

খুলনা বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহিদুজ্জামান জানান, আগুন সংগঠিত ঘটনার খরব পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌচ্ছায় তবে স্থানীয় জনতা আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। ধারণা কর হচ্ছে শর্ট সার্কিট হতে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।

খুলনা বিভাগে এক দিনে করোনায় ৫জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৬৪ জনের। এর আগে রবিবার বিভাগে ৪৮২ জনের করোনা শনাক্ত এবং ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মঞ্জুরুল মুর্শিদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে করোনায় ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক দিনে মৃতের সংখ্যায় শীর্ষে যশোর। এ দিন বিভাগের মধ্যে যশোরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে মারা গেছেন। একইসময়ে বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৬৪ জনের। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে খুলনা। এ জেলায় সর্বোচ্চ ১০৩ জন শনাক্ত হয়েছে। আর কুষ্টিয়ায় ৮৬ জন ও যশোরে ৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরায় ২৮জন, ঝিনাইদহে ২২জন, বাগেরহাটে ৩৪ জন, নড়াইলে ১৫জন, মাগুরায় ৩০জন, চুয়াডাঙ্গায় ৩৭জন ও মেহেরপুরে ৪৪ জনের শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৭৫ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, খুলনা বিভাগে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৩৩০ জন। আর মোট মারা গেছেন ৩ হাজার ২৩৫ জন। শনাক্তের সংখ্যা বিবেচনায় জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে খুলনা। এখানে ৩১ হাজার ৩৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের সংখ্যায় সবচেয়ে কম মাগুরায় ৪ হাজার ৫৬৭ জন। এছাড়া করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে খুলনায়। এ জেলায় মারা গেছে ৮২০জন। আর মৃতের সংখ্যায় সবচেয়ে কম সাতক্ষীরায় ৯০জন।

কেএমপির অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪

স্টাফ রিপোর্টার

মহানগর পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকা হতে ৩৬০ পিস ইয়াবা, ২শ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১শ ৪০ টাকা ও ১টি ইয়ামাহা এমটি-১৫ মোটরসাইকেলসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম পাড়ার মো. দুলাল শেখের ছেলে মো. জাহিদ হাসান শোভন (২২), একই এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন এর ছেলে মো. পারভেজ হোসেন নয়ন (২১), খালিশপুর থানার মুজগুন্নী দিঘীর পাড়ের মো. লিটন হাওলাদারের ছেলে মো. সুমন হাওলাদার (২০) ও খানজাহান আলী থানার বিসিক শিরোমনি মাছ কোম্পানী এলাকার শেখ মতিয়ার রহমানের ছেলে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (২১)।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, পিপিএম জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এসময় ৩৬০ পিস ইয়াবা, ২শ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১শ ৪০ টাকা ও ১টি ইয়ামাহা এমটি-১৫ মোটরসাইকেলসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নগরীতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১২জনকে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণে গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নূরী তাসমিন ঊর্মি।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে মাস্ক না পড়া, টিকা সনদ ছাড়া রেস্তোরাঁয় খাবার গ্রহণসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় করায় মোট ১১টি মামলায় ১২জনকে মোট ১১ হাজার ৭শ টাকা জরিমানা করা হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আ‘লীগের স্মরণ সভা দোয়া মাহফিল আজ

খবর বিজ্ঞপ্তি

মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (০৮ ফেব্রুয়ারী) বাদ মাগরিব মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে স্মরণ সভা দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। স্মরণসভা দোয়া মাহফিলে মহানগর, থানা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সহ নির্বাচিত দলীয় কাউন্সিলরদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ আহবান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সিটি মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক এবং সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, সরকারের উন্নয়ন সফলতা তুলে ধরতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেছেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, সরকারের উন্নয়ন সফলতা জনগণের কাছে তুলে ধরতে আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠনের  তৃণমূল পর্যায় থেকে সকল নেতাকর্মীকে কাজ করতে হবে। সোমবার (ফেব্রুয়ারি) বিকালে কয়রা সদরের সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হল রুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে চলমান ভিশন-২০৪১ সফল করার প্রত্যায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে শেষ করা যায়নি। কারণ আত্মত্যাগীরা আওয়ামী লীগ করে। বাংলাদেশে তৃনমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যন্ত এক একটি নেতাকর্মীর হৃদয়ে বাস করে বঙ্গবন্ধু। কোন পরাজিত শক্তি বঙ্গন্ধুর প্রতি সেই ভালবাসা কমাতে পারবে না। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৃণমুল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় সকল কর্মীদের আত্মনিয়োগে আওয়ামী লীগ টিকে রয়েছে এবং থাকবে। ‘তৃণমূলের নেতাকর্মী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ততার জায়গা’সেই তৃণমূলকে সংগঠিত করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক এ্যাড. শেখ মোশাররফ হোসেনর সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আ’লীগ সভাপতি জি এম মোহসিন রেজা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিশিত রঞ্জন মিস্ত্রী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি শেখ মোঃ আবু হানিফ, প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এম আজিজুর রহমান রাসেল, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সদর ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান  এস এম বাহারুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার কফিল উদ্দিন, ফজর  আলী, জিয়াদ আলী, খয়রুল আলম, নির্মল কুমার দাস, ইউপি চেয়ারম্যান আলীগ নেতা আব্দুস সামাদ গাজী, আছের আলী মোড়ল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইমদাদুল হক টিটু, রোকনুজ্জামান কাজল, হুমায়ুন কবির হিরো, আক্তারুল ইসলাম সৌরভ, জেড এম হুমায়ুন কবির নিউটন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম টিংকু, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বাদলসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি সভা শেষ একই স্থানে সকলের উপস্থিতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আয়োজনে অস্বচ্ছল শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে আন্দোলন কমিটির মতবিনিময় সভা

অভয়নগর প্রতিনিধি

ভয়াবহ দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে ভবদহ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। অবিলম্বে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে একনেকে পাশ হওয়া আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের দ্রুত বাস্তবায়নসহ একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ভবদহ ২১ ভেন্ট স্লুইচ গেটের কপাট জোয়ার-ভাটার সময় সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জলাবদ্ধতা অপসারনের জন্য পাউবো কর্তৃক পাম্পের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। খাল বিল হতে অবৈধ নেট-পাটা, কচুরীপানা অপসারণ করতে হবে। আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে উল্লেখিত দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে ভবদহ অঞ্চলে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। গতকাল সোমবার বিকালে নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলন কমিটির মতবিনিময় সভা থেকে দাবি করা হয়। ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলন কমিটির আহবায়ক অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুলের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সরদার অলিয়ার রহমান, আন্দোলন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এড. কামরুজ্জামান, সদস্য সচিব সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিষ্ণুপদ দত্ত, চলিশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান, সুন্দলী ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল, আন্দোলন কমিটির নেতা রুহুল আমিন, আব্দুর রউফ মোল্যা, আক্তারুজ্জামান তরফদার, মতলেব ফারাজী, আজিজুর রহমান, খায়রুজ্জামান, কামরুল হাসান, মফিজুর রহমান দপ্তরী, শাহীন আহমেদ প্রমুখ। দ্রুত সময়ের মধ্যে উল্লেখিত দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারী প্রদান করেন বক্তারা।

মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক সাংবাদিককে হুমকি; অত:পর মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন

কলারোয়া সাতক্ষীরা||

কলারোয়া উপজেলার গয়ড়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী তবিবর রহমানের বিরুদ্ধে নিউজ করায় সাংবাদিক আব্দুল্লাহকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ প্রাণনাশের হুমকি দেয় তবি। এরপর তার কাছে পাওনা টাকা চাইলে টাকা মাদক মাদক বিক্রয়ের টাকা হিসাবে সে পায় বলে কলারোয়া পৌর প্রেসক্লাবে অর্থের জোড়ে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে। এর আগে গণি মিষ্টান্ন ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী মিজানুর রহমান তার পাওনা টাকা চাইলে গোপনে তার দোকানে ৪০ পিস ইয়াবা রেখে পুলিশকে খবর দিয়ে ধরিয়ে দেয়। পরে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পেলে পুলিশ তার বাড়ি থেকে ১২ পিস ফেন্সিডিল সহ তবিকে গ্রেফতার করে এবং জনসম্মুখে তবি তার দোষ স্বীকার করে। সেই তবি জেল থেকে বের হয়ে এসেই সাংবাদিক আব্দুল্লাহকে ফোনে হুমকি সহ গালিগালাজ করে, যেটা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এবিষয়ে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, তবিবর রহমান তবি যে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সেটা এলাকার সকলে জানে এবং তার নামে থানায় একাধিক মামলাও আছে। তবি আর আমি একই এলাকার হওয়ায় সে গরু বিক্রয় করবে বলে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয়। পরে জানতে পারি এক গরু দেখিয়ে সে আরো জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, এর মধ্য একজন তার বাসা থেকে গরু নিয়ে চলে গেছে। পরে আমি আমার টাকা ফেরত চাইলে সে আমাকে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় আমি নিজের জীবন পরিবার নিয়ে ভয়ে জীবনযাপন করছি। বিষয়টি আমার সহকর্মী সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সাথে নিয়ে কলারোয়া থানায় হাজির হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। এবিষয়ে এলাকার একাধিক ব্যাক্তি বলেন, তবি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সে দিন আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়েই কিভাবে হাজী সাহেব বনে গেলো এবং মাদকের টাকা ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলো সেটায় বুঝলাম না। এবিষয়ে কলারোয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক কবির হুসাইন বলেন, আমি এই মামলাটার তদন্ত করছি, ওসি স্যারের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

খুলনায় মোবাইল আউটরিচ প্রকল্পের সভা অনুষ্ঠিত

খবর বিজ্ঞপ্তি

কারিতাস খুলনা অঞ্চলের আওতায় জিআইজেড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন জার্মান কর্পোরেশনের অর্থায়নে এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন এর সার্বিক সহযোগিতায় কারিতাস খুলনা, রূপসা বিশপ মাইকেল এডি রোজারীয়  মিলনায়তনে সোমবার সকাল ১০টায় ‘‘মোবাইল আউটরিচ প্রকল্পের মোবাইল আউটরিচ দল গঠন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো: আব্দুর রহমান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের চীফ প্লানিং অফিসার আবির-উল জব্বার, সচিব মো: আজমুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খান মোতাহার হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসনা হেনা, সহকারী উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিচালক মো: আয়নাল হক, শহর সমাজ সেবা অফিসার আবিদা আফরিন, কাউন্সিলর মো: মনিরুজ্জামান, কাউন্সিলর এস, এম, খুরশিদ আহম্মেদ (টোনা), সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পারভিন আক্তার। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক দাউদ জীবন দাশ। অতিথি হিসাবে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিডিসি নেতা/নেত্রী, এনজিও প্রতিনিধি এবং কারিতাস খুলনা অঞ্চলের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। শুরুতে সার্বজনীন প্রার্থনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। প্রধান অতিথি মো: আব্দুর রহমান বলেন, কারিতাস বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পূর্ব থেকে মানুষের কল্যাণে আর্ত-মানবতার সেবায় এদেশে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে আসছে। কারিতাসের কাজের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা রয়েছে। বর্তমানে শহরে কারিতাস এর বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আমি কারিতাস এর কার্যক্রম দেখেছি, কারিতাস এর উজ্জল ভবিষ্যত মঙ্গল কামনা করছি। অত:পর বিশেষ অতিথি খান মোতাহার হোসেন বলেন, সমাজ সেবার যে ৫৬ ধরনের সরকারি সেবা সমূহ রয়েছে তা শহরের বস্তির সকল মানুষ যাতে পায় তার ব্যাপারে সমাজ সেবা অধিদপ্তর সার্বিকসহযোগিতা করবে।

পরিশেষে সভাপতি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতার ফলে কারিতাস বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে। উল্লেখ্য, ঘনবসতি এলকায় ঝুকিপূর্ণ জীবনযাপনকারী মনুষের মধ্যে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা সেবাগুলি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি সুযোগগুলো গ্রহণের মাধ্যমে তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন। একই সাথে কর্মশালায় উপস্থিত সকলের মঙ্গল কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

খুলনায় মোবাইল আউটরিচ প্রকল্পের সভা অনুষ্ঠিত

খবর বিজ্ঞপ্তি

কারিতাস খুলনা অঞ্চলের আওতায় জিআইজেড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন জার্মান কর্পোরেশনের অর্থায়নে এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন এর সার্বিক সহযোগিতায় কারিতাস খুলনা, রূপসা বিশপ মাইকেল এডি রোজারীয়  মিলনায়তনে সোমবার সকাল ১০টায় ‘‘মোবাইল আউটরিচ প্রকল্পের মোবাইল আউটরিচ দল গঠন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো: আব্দুর রহমান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের চীফ প্লানিং অফিসার আবির-উল জব্বার, সচিব মো: আজমুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খান মোতাহার হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসনা হেনা, সহকারী উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিচালক মো: আয়নাল হক, শহর সমাজ সেবা অফিসার আবিদা আফরিন, কাউন্সিলর মো: মনিরুজ্জামান, কাউন্সিলর এস, এম, খুরশিদ আহম্মেদ (টোনা), সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পারভিন আক্তার। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক দাউদ জীবন দাশ। অতিথি হিসাবে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিডিসি নেতা/নেত্রী, এনজিও প্রতিনিধি এবং কারিতাস খুলনা অঞ্চলের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। শুরুতে সার্বজনীন প্রার্থনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। প্রধান অতিথি মো: আব্দুর রহমান বলেন, কারিতাস বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পূর্ব থেকে মানুষের কল্যাণে আর্ত-মানবতার সেবায় এদেশে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে আসছে। কারিতাসের কাজের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা রয়েছে। বর্তমানে শহরে কারিতাস এর বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আমি কারিতাস এর কার্যক্রম দেখেছি, কারিতাস এর উজ্জল ভবিষ্যত মঙ্গল কামনা করছি। অত:পর বিশেষ অতিথি খান মোতাহার হোসেন বলেন, সমাজ সেবার যে ৫৬ ধরনের সরকারি সেবা সমূহ রয়েছে তা শহরের বস্তির সকল মানুষ যাতে পায় তার ব্যাপারে সমাজ সেবা অধিদপ্তর সার্বিকসহযোগিতা করবে।

পরিশেষে সভাপতি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতার ফলে কারিতাস বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে। উল্লেখ্য, ঘনবসতি এলকায় ঝুকিপূর্ণ জীবনযাপনকারী মনুষের মধ্যে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা সেবাগুলি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি সুযোগগুলো গ্রহণের মাধ্যমে তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন। একই সাথে কর্মশালায় উপস্থিত সকলের মঙ্গল কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস এর এ.এল.টি হিসেবে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন রিয়াজ

খবর বিজ্ঞপ্তি

সরকারি এস. এম. কলেজের সহকারি অধ্যাপক বাগেরহাট জেলা রোভারের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন রিয়াজ বাংলাদেশ স্কাউটস এর এ.এল.টি হিসেবে নিয়োগ  সম্মানীয় পেলেন। বাংলাদেশ স্কাউটস এর স্মারক নং-বাঃস্কাঃ(প্রশিঃ ৬১৬) ১৬৬৬/(৬০)/২০২২ মোতাবেক বাংলাদেশ স্কাউটস এর উপ পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ফারুক আহম্মদ  স্বাক্ষরিত এক পত্রে তথ্য জানানো হয়। ইতিপূর্বে তিনি ২০১৯ সালের ক্রু মিটিং এর পুরস্কার গ্রহণ, ২০১৮ ২০১৯ জেলা উপজেলার শ্রেষ্ঠ রোভার লিডার নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও ন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড,মেডেল অব মেরিট,বার- টু –দি মেডেল অব মেরিট সিএনসি এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। তিনি অর্জনকে জীবনের একটি সেরা শ্রেস্ট অর্জন বলে অভিহিত করেছেন। বিষয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেলা কমিশনার প্রফেসর সেখ বুলবুল কবীর স্যার, সম্পাদক আঃ আউয়াল স্যার,খুলনা বিভাগীয় রোভার নেতা প্রতিনিধি প্রফেসর শহীদুল ইসলাম স্যার, ডিআরসি ট্রেনিং শিকদার রুহুল আমিন স্যার এর প্রতি।  বিশেষভাবে ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জাতীয় কমিশনার( প্রশিক্ষন) জনাব আমিমুল এহসান খান, ,জাতীয় উপ কমিশনার (প্রশিক্ষন) জনাব মোঃ আরিফুজ্জামান, জনাব উত্তম কুমার হাজরা, এবং পি এস টি ট্রেইনার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান স্যারের প্রতি। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রোভার সম্পাদক অধ্যক্ষ প্রফেসর সেলিম চৌধুরী প্রফেসর মনিরুজ্জামান স্যারের প্রতি। সর্বোপরি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন  শ্রদ্ধাভাজন অধ্যক্ষ প্রফেসর নীতিশ বিশ্বাস স্যার এর প্রতি যিনি সকল কাজে তাকে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন। তিনি সবার কাছে কৃতজ্ঞতা দোয়া চেয়েছেন।

মোংলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

মোংলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন আহত হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের আন্ধারিয়া গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মোঃ আঃ সাত্তার শেখ (৫২), তার ছেলে আবু হুরায়রা (৩০) ওমর ফারুক (২২) কে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার শিকার আঃ সাত্তার শেখ বলেন, আন্ধারিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন সে তার নিজের দেড় বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু সোমবার দুপুরে মিঠাখালী ইউনিয়নের নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর আজমল শেখের নেতৃত্ব প্রতিপক্ষ ইয়াছিন শেখ, সালাম শেখ মুরাদ শেখ তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। সময় বাঁধা দিলে তার ছেলে আবু হুরায়রা ওমর ফারুককে বেধড়ক মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

স্থানীয়রা বলেন, ইয়াছিন শেখ গং বছর পাঁচেক আগে এই আঃ সাত্তারকে সিনেমা স্টাইলে মারধর করে প্রকাশে তার কান কেটে ছুড়ে ফেলে দেয়। সেই ঘটনায়ও ইয়াছিন গং জেলহাজতও খাটেন।

বিষয়ে স্থানীয় মেম্বর আজমল শেখ বলেন, আমি হামলার ঘটনার সাথে জড়িত নই। তবে এদের এই জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আমি কিছুদিন আগে সালিশি করেছিলাম।

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে। এখনও কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে গত ২৩ জানুয়ারী একই এলাকায় মেম্বর আজমল শেখের নেতৃত্ব আরো একটি হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময়ও গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছিলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসীর অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, মেম্বর হওয়ার পর থেকেই আজমল শেখ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা না করে সে তার অনুসারীদের দিয়ে সব সময় সংঘর্ষ সৃষ্টি করে রাখছে। এর বিচার হওয়া উচিত।

খাজরায় পুনঃ নির্বাচনে ইব্রাহিম খলিল টুকু বিজয়ী

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে পুনঃ নির্বাচনে ইউপি সদস্য (সাধারণ) পদে ইব্রাহিম খলিল টুকু (ফুটবল প্রতীক) নির্বাচিত হয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি তুয়ারডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল টা পর্যন্ত চলে। মোট ৩১৩৩ ভোটারের মধ্যে ১৭৮৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ১৬ ভোট নষ্ট হয়। ইব্রাহিম খলিল টুকু ১৭২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক মেম্বার আনারুল ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৪৩ ভোট।

নির্বাচন চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিনা সুলতানা, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুল ইসলাম (পিপিএম), পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বজিৎ কুমার অধিকারী, খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এস এম শাহনেওয়াজ ডালিম প্রমূখ ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, গত জানয়ায়ি ইউপি নির্বাচনে নং ওয়ার্ডে প্রার্থী আনারুল ইসলাম ইব্রাহিম খলিল টুকু দুইজনই ১১১৬ ভোট করে (সামন সামান) পাওয়ায় ফলাফল স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। পুনঃ তফশীল মোতাবেক ফেব্রুয়ারী পুনরায় ভোট গ্রহন করা হয়।

আশাশুনিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উদ্বুদ্ধকরণে বিষয়ক সেমিনার

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য প্রচার মানুষকে সঠিক তথ্য সম্পর্কে সঠিক ধারনা প্রদানের লক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।  নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণ প্রকল্পের আওতায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়ের উপর আলোচনা রাখেন, উপ সচিব প্রকল্প পরিচালক ড. এমডি আছাদুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁনের সভাপতিত্বে সেমিনারে ভিডিও চিত্র তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য করনীয়তা নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন প্রোগ্রামার আল আমিন।

প্রকল্পের সহকারী প্রোগ্রামার শাহ এমরানের উপস্থাপনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হান্নান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম, পিআইও সোহাগ খান। অনুষ্ঠানে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকমন্ডলী অংশ নেন।

দিনে দিনে দেশের আবাদি জমি কমে যাচ্ছে: ডিসি সাতক্ষীরা

কলারোয়া সাতক্ষীরা:

 ২০২১-২২ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় ৫০ একর  বোরো ধানের সমলয় চাষাবাদ এর ব্লক প্রদর্শনীর আওতায়  সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌর সদরের গোপীনাথপুর মাঠে যান্ত্রিক উপায়ে ধান রোপর কাজের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। সোমবার (৮ফ্রেরুয়ারী) সকাল ১১টার দিকে কলারোয়া পৌরসভার সাতক্ষীরা-যশোর মেইন সড়ক সংলগ্ন গোপীনাথপুর মৌজার কৃষক গোলাম মর্তুজার ক্ষেতে ওই যান্ত্রিক উপায়ে ধান রোপন কাজের উদ্বোধন করা হয়। সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন-সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম, কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, কলারোয়া পৌরসভার মেয়র মাস্টার মনিরুজ্জামান বুলবুল,  সাতক্ষীরা জেলা কৃষি প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ। এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম   উপজেলা কৃষি সস্প্রারণ অফিসার ইমরান হোসেন, পৌরসভার কাউন্সিলর আলফাজ উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবির হোসেন, সমির কুমার,কলারোয়া পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী, প্রেসক্লাবের সদস্য সরদার জিল্লুর, রিপোর্টাস ক্লাবের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সাংবাদিক ফারুক রাজ, এসএম ফারুক হোসেন, রাজু রায়হানসহ কৃষি অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা স্থানীয় কৃষক কৃষাণী। এখানে উন্নত জাতের এসি লাইড ধানের চারা রোপণের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক বলেন-দিনে দিনে দেশের আবাদি জমি কমে যাচ্ছে, কৃষি উপকরনের দাম বৃদ্ধি হয়েছে তাই অল্প খরচে অধিক ফলনশীল এই চারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় প্রদর্শনী হিসাবে রোপন করা হলো।

কলারোয়ায় জমি দখল নিতে না পারায় ব্যবসায়ীকে জীবণ নাশের হুমকি: আদালতে মামলা

কলারোয়া সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অবৈধ ভাবে জমি দখল নিতে না পারায় ব্যবসায়ীকে জীবণ নাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে,কলারোয়া পৌর সদরের গদখালী গ্রামে। এঘটনায় সাতক্ষীরা আদালতে জমির মালিক মৃত আব্দুল হামিদ সরদারের ছেলে এসএম আজাদুর রহমান বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিঃ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহন করে তদন্ত পূর্বক আদেশ দেন। এই আদেশে বলা হয়-বাদী এসএম আজাদুর রহমানের পক্ষের মালিকানাধীন দখলে থাকা নালিশী সম্পত্তিতে প্রবেশ বিবাদী  আতিয়ার রহমানের পক্ষে সাময়িক ভাবে বারিত করা হলো। একই সাথে এসএম আজাদুর রহমানের পক্ষের মালিকানাধীন দখলে থাকা নালিশী সম্পত্তিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি দেং-২৭/২২নং মামলা দায়ের করেন। এর পরেও বিবাদী আতিয়ার রহমান লোকজন ভাড়া করে নিয়ে এসে এসএম আজাদুর রহমান আতাউর রহমান বিপ্লব এর ঘর বাড়ী ভাংচুর করার জন্য মহড়া দিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অপরিচিত লোকজন দিয়ে তাদের দুই ভাইকে জীবণ নাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। যে কোন সময় তাদের ঘর বাড়ী ভাংচুর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে বলে তারা আশংকা করছেন। এদিকে জমির মালিক এসএম আজাদুর রহমান আতাউর রহমান বিপ্লব ন্যায় বিচারের দাবীতে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে: সিটি মেয়র

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। পাশাপাশি শিশু স্বাস্থ্য শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সঠিক পরিচর্যা এবং অবিভাবকদের সচেতনতার অভাবে শিশুরা অপুষ্টিজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়। সঠিক সময়ে প্রতিশেধক টিকাদানসহ তাদেরকে পুষ্টিকর খাবার প্রদান করা গেলে শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিটি মেয়র সোমবার সকালে নগরীর কাস্টমঘাটস্থ আমিরা বানু বেগম নগর মাতৃসদনে ‘‘ট্রেইনিং অন নিউট্রিশন ফর কেসিসি হেলথ স্টাফ’’ শীর্ষক দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশন ইউএসএআইডি যৌথভাবে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। কেসিসিসহ বেসরকারি সংস্থা সূর্যের হাসি বাপসা’২৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে। ইউএস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এফএইচআই-৩৬০ এবং ইউএসএআইডি’সহযোগিতায় গৃহীত ‘‘স্ট্রেনদিং নিউট্রিশন প্রোগ্রাম থ্রু ইমপ্লিমেন্টেশন সাইন্স একটিভিটি’’ শীর্ষক প্রজেক্টের আওয়ায় সংস্থাটি খুলনা মহানগরীতে পুষ্টি বিষয়ক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

কর্মশালায় সিটি মেয়র আরো বলেন, বর্তমান সরকার মা শিশুদের পুষ্টির চাহিদাপূরণে পর্যাপ্ত সহযোগিতা দিচ্ছে। ধারা অব্যাহত থাকলে আজকের শিশুরা আগামী দিনে কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শিশুদের সুরক্ষায় আন্তরিকতার সাথে কাজ করার জন্য তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহবান জানান।

উল্লেখ্য, প্রজেক্টের আওতায় নির্ধারিত চারটি ইপিআই কেন্দ্রে ওজন উচ্চতা মাপার মেশিন এবং গ্রোথ চার্ট সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ০-২৪ মাস বয়সী যে সকল শিশু ইপিআই কেন্দ্রে আসে তাদের জিএমপি প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং এই সকল শিশুকে প্রতি মাসে বার ওজন পরবর্তী তিন মাস পর পর উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। অক্টোবর ২০২১ থেকে পর্যন্ত হাজার ৫’শত ১৮ জন শিশুকে জিএমপি পুষ্টি পরামর্শ এবং সংশ্লিষ্ট হাজারের বেশী মা পরিবারবর্গকে সেবা প্রদান করা হয়েছে।

কেসিসি’প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. স্বপন কুমার হালদার, এফএইচআই-৩৬০ প্রজেক্টের পুষ্টি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. নাছরিন জাহান, বাপসা’প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ গোলাম রসুল, নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের ফ্যামিলি প্লানিং কো-অর্ডিনেটর ডা. তারানা তাবাচ্ছুম চৌধুরী, ডা. সৈকত দাস, ডা. অপূর্ব বিশ্বাস প্রমুখ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আই ডব্লিউ টি আই ডব্লিউ টি সি ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মী সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা আই ডব্লিউ টি আই ডব্লিউ টি সি ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের এক কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর ৪নং ঘাটস্থ ইউনিয়ন কার্যালয় এর আয়োজন করা হয়।

সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বাদশা মিয়া। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক শিকদার। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ আলাউাদ্দন আল আজাদ মিলন। বক্তৃতা করেন শ্রমিক নেতা হাবিবুর রহমান দুলাল, মো. রাজ্জাক হোসেন, মো. আবুল বাশার, মো ভাষান মোল্লা, আব্দুর রহমান বেপারী, হাই ইসলাম কচি, শাজাহান মল্লিক, আ. লতিফ খান, বাদল হাওলাদার, মো. সুজন, মো. রিপন শিকদার, দেলোয়ার হোসেন, রফিক শেখ, সিদ্দিক মাতুব্বর, আসমা আখতার ঝুমুর, মো. হারুন হাওলাদার মো. আলমগীর মুন্সি।

সভায় আসন্ন ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ভোটার তালিকা তৈরী করার জন্য ৫সদস্য বিশিষ্ট একটি উপ কমিটি গঠন করা হয়। বক্তারা ঘাট এলাকায় মাদক সন্ত্রাস মুক্ত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর আহবান জানান।

রিফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির নির্বাচনী তফশীল ঘোষনা: নির্বাচন ২৮ ফেব্রুয়ারি

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা রিফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির নির্বাচনী তফশীল ঘোষনা করা হয়েছে। তফশীল অনুযায়ী খসড়া তালিকা প্রকাশ ছিল ৫ফেব্রুয়ারি, খসড়া ভোটার তালিকার আপিল শুনানী নিস্পত্তি আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায়। মনোনয়নর পত্র বিলি ১০-১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। মনোনয়ন পত্র জমা ১৩ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। মনোনয়ন পত্র বাছাই ১৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার। খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা ৭টায়। চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ১৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায়। প্রতীক বরাদ্দ ১৯ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা ৭টায়। ২৬ফেব্রুয়ারি শনিবার পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে এবং ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ২৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার। নগরীর ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

নির্বাচর পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. আশরাফ হোসেন এবং সদস্য রয়েছেন মো. আ. মান্নান সুভাষ রায়।

বিজেএমসি চেয়ারম্যানের আশ্বাসে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের অনশন কর্মসূচি সহ সকল কর্মসূচি স্থগিত

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল কর্পোরেশন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী-কর্মকর্তা সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় ঘোষিত দিনব্যাপি ঢাকা মতিঝিল বিজেএমসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে  ফেুব্রুয়ারী অনশন কর্মসূচি সহ সকল কর্মসূচি আগামি ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত স্থগিত করেছে সংগঠনঠি ,  পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. ইসরাফীল খান সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান ফেব্রুয়ারী সন্ধায় বিজেএমসির বোর্ডরুমে বিজেএমসির চেয়ারম্যান মোঃ হায়দার জাহান ফারাস এর সভাপতিত্বে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল কর্পোরেশন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী-কর্মকর্তা সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের বকেয়া সহ সকল পাওনার ব্যাপারে   এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় সভায় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র পাট মন্ত্রনালয় এর এডিশনাল সেক্রেটারী ,ডিজিএফআই  কর্মকর্তা . এন এস আই প্রতিনিধি, বস্ত্র পাট মন্ত্রনালয় এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল কর্পোরেশন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী-কর্মকর্তা সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. ইসরাফীল খান ,সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, এসএম জাকির হোসেন, মোঃ জাকির হোসেন, মঞ্জুরুল করিম, আব্দুল ওহাব, আবু জাফর, মোঃ আঃ মতিন হাওলাদার, শেখ আব্দুল জব্বার, মোঃ গোলাম মোস্তফা , মোঃ আবুল হোসেন, প্রশান্ত চক্রবর্তি, মোশারফ হোসেন, মোজাফফার হোসেন গাজী, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোঃ ইউনুসুর রহমান, প্রদীপ দাস, খন্দকার শহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার উদ্দিন দিলু প্রমুখ সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সকল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের কর্মচারী কর্মকর্তারা ( অবসরকৃত) ২০১৩ সালের ১লা জুলাই হতে ২০২০ সালের ২৯ শে জুন পর্যন্ত কোন কর্মচারী কর্মকর্তারা মিলের পাওনাদী পায়নি সরকার ২৯ শে জুন সকল রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল ২০২০ সালের ৩০ শে জুন থেকে মিলগুলি বন্ধ ঘোষণা করার পর শ্রমিকদের অধিকাংশ টাকা পরিশোধ করা হলেও অবসরকৃত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কোন পাওনাদী পরিশোধ করা হয়নি অবসরকৃত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের পাওনা আদায়ের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়েছিলো কিন্তু বৈঠক থেকে আমাদের নায্য দাবি পুরনের ব্যাপারে বিজেএমসির পক্ষ থেকে অতিদ্রত পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে আশ^াস প্রদান করেন যার প্রেক্ষিতে আমরা আগামি ২৮ ফেুব্রয়ারী পর্যন্ত আন্দোলনের সকল কর্মসূচি স্থগিত করলাম এর মধ্যে দাবি পুরন না হলে লা মার্চ নতুন করে রাজপথ, রেলপথ অবরোধ সহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে

আলীম জুট মিল শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে গেটসভা অনুষ্ঠিত

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি

খানজাহান আলী থানা জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন আলীম জুট মিল শ্রমিকদের দাবী আদায় আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে  গতকাল সোমবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত  আলিম জুট মিল গেটের সামনে খানজাহান আলী থানা জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ আমিরুল সরদারের সভাপতিত্বে এক গেটসভা অনুষ্ঠিত হয়। গেটসভায় বক্তারা বলেন বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ব আলিম জুট মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের ৬৪ সপ্তাহের মুজুরী,  ১১ মাসের বকেয়া পাওনা ও  ১৯৭  জন শ্রমিকের সঞ্চয়পত্র প্রদানসহ অনতিবিলম্বে মিল চালু করতে হবে এছাড়া একই দাবিতে আগামি ১০ ফেব্রুয়ারী বিকাল টায় আলীম জুট মিল শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সিবিএ – ননসিবিএ নেতৃন্দের এক জরুরি সভা থেকে পরবর্তি আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং আগামি ১২ ফেব্রুয়ারী  প্রয়াত কমরেড হাফিজুর রহমান ভুইয়ার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলিম গেট সংলগ্ন কমরেড হাফিজুর রহমান স্মৃতি সংসদে স্মরন সভা করার সিদ্ধান্ত হয় সভায় শ্রমিক নেতা আমিরুল সরদারের নামে মশিয়ালীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলা দায়েরের তিব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানানো হয় ,  সভায় বক্তারা বলেন , অতিদ্রত আমিরুল সরদারের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে শ্রমিক সমাজকে সাথে নিয়ে  কঠিন আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে  জরুরী সভায় বক্তৃতা করেন আলীম জুট মিলের শ্রমিকদের দাবী আদায় আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির যুগ্ন আহবায়ক  শ্রমিক নেতা মোঃ জাকির হোসেন সরদার,  সদস্য সচিব মোঃ আঃ রউফ মোড়ল, খানজাহান আলী থানা জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন, হক মহলদার, শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, ইকবাল হোসেন,  কামরুল হাসান, শেখ মুজিবর রহমান,  আবুল কালাম, একরামুল হোসেন, কামরুজ্জামান, আহাদুল মোল্লা, মফিজ শেখ, আমির হামযা, সেলিম হোসেন, জলিল মল্লিক, মনির হোসেন, হাসান আলী প্রমুখ

বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি জেলে নিঁখোজের ঘটনায় তৃতীয় দিনের অভিযান চলছে

মোংলা প্রতিনিধি

পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চর সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে নিমজ্জিত ট্রলার নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সোমবারও তৃতীয় দিনের মত অভিযান চলছে। বনবিভাগের দুবলা শুটকি পল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন আহমেদ জানান, শুক্রবার রাতে আকস্মিক ঝড়ে বঙ্গোপসাগরে সাগরে নিমজ্জিত হয়ে নিখোঁজ ট্রলার জেলেদের সন্ধানে সোমবারও অভিযান চালানো হচ্ছে। দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের ১৫টি ট্রলারসহ বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড নৌবাহিনীর আরো ৭/৮টি নৌযান দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। শুক্রবারের ঘটনার পরদিন শনিবার দিনভর অভিযানে নিমজ্জিত ১২টি ট্রলার দুই জেলের লাশ উদ্ধার হয়। কিন্তু রবিবারের অভিযানে কোন কিছুই উদ্ধার হয়নি। এদিকে অভিযান অব্যাহত থাকলেও সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোন ট্রলার জেলে উদ্ধার হয়নি। তবে এখনও ৭টি ট্রলার ১২ জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বনবিভাগ ফিসারম্যান গ্রুপের নেতৃবৃন্দ। 

ফকিরহাটে ইউএনও-এসিল্যান্ড করোনা আক্রান্ত

ফকিরহাট প্রতিনিধি।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা বেগম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিধান কান্তি হালদার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা হোম আইসোলেশনে আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা বেগম, তাঁর শিশু সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। গত সপ্তাহে তার স্বামী করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তারা আইসোলেশনে ছিলেন। এদিকে গত বুধবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিধান কান্তি হালদার করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। রোববার নতুন জন সহ উপজেলায় এযাবৎ করোনা আক্রান্ত হয়েছে হাজার ১৪৫ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ২৬ জন। তবে উপজেলার কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা দেখা যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, ইউএনও সানজিদা বেগম, তার শিশু সন্তান, মা এবং স্বামী করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে আছেন। সবার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।  এসিল্যান্ডও করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে আছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম জানান, তিনি বর্তমানে হোম আইসোলেশনে আছেন। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মাস্ক পরার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাগেরহাটে এস এসসি ১৯৮৭ ব্যাচের পক্ষ থেকে শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ

বারেহাট প্রতিনিধি।।

বাগেরহাটে এস এসসি ১৯৮৭ ব্যাচের ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষথেকে শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিকরন করা হয়েছে। সোমবার বিকালে শহরের গ্রীনহাড স্কুল প্রাঙ্গনে শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরন করা হয়। তিথি দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কম্বল বিতরন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন তানিয়া খাতুন, নার্গিস আক্তার লুনা, কাজী মুন্নি, সোনিয়া, অপর্ণা পাল প্রমুখ। শহরের প্রায় শতাধিক অসহায়দের মাঝে কম্বল বিতরন করা হয়।

বাগেরহাটে খুড়ে রাখা নালায় চরম ভোগান্তি

স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরের পানি সরানোর জন্য রাস্তার মাঝে পাশে খুঁড়ে রাখা নালায় (ড্রেনে) পথচারীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। লোকজনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লিন্টু শেখ অছিক শেখ জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরের ভিতরে জমে থাকা পানি সরানোর জন্য প্রায় দুই-তিন মাস আগে রাস্তার মাঝে পাশে নালা খোড়া হয়। দীর্ঘদিন নালা খুড়ে রাখার কারণে ওই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এতে ব্যস্ততম ওই সড়কে যানবাহন পথচারীদের চলাচলে দারুণ বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ধরণের যানবাহন স্কুল কলেজের শত’ শত শিক্ষার্থী এবং পথচারীরা চলাচল করেন। পরিস্থিতিতে তাঁদের চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

ব্যাপারে ভ্যান চালক কাদের কাজী, আড়ুয়াবর্ণী গ্রামের বাসিন্দা এছিন ফকিরসহ অনেকে বলেন, অনেক দিন পার হয়ে গেলেও জায়গাটি এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। এখান থেকে লোকজনের চলাচলে দারুণ সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ড্রেনের কারণে যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল সাংবাদিকদের জানান, ড্রেনটির ব্যাপারে কাজের ঠিকাদার উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে বার বার বলা হলেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না। এটা ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ফকিরহাটের মধুসূদন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

ফকিরহাট প্রতিনিধি।

বাগেরহাটের ফকিরহাটের হুচলা গ্রামের মধুসূদন বাকচী হত্যাকন্ডের ১২দিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামী গ্রেপ্তার না হওয়া প্রকৃত আসামীদেরকে গ্রেপ্তারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩রা ফেব্রয়ারী বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এসংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাংলাদেশ দলিত বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) এর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় কুমার শিকদার।

তিনি তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, হুচলা গ্রামের মৃত, মুকুন্দ কুমার বাকচীর পুত্র মধুসুদন বাকচীকে গলায় পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মম ভাবে হত্যা করে। ঘটনার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দিন হুচলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হা-ডু-ডু খেলা হচ্ছিল। গ্রামের প্রায় সকল মানুষ সেখানে খেলা দেখতে যায়। এই সুযোগে হত্যাকারীরা তার পূর্ব শত্রুতার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মধূসুদনের বাড়ির পিছনে তার ছোট একটা মাছের ঘের আছে, সেখানে হত্যাকারীরা পূর্বথেকে ওঁৎ পেতে থেকে ফোন করে মধূসুদনের কাছে বলে তোর ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। একথা শুনে মধূ তাড়াতাড়ি ছুটে যেতে থাকেন। এসময় অন্ধকারে ওঁৎ পেতে থাকা হত্যাকারীরা মধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় পেটে কোপ দিয়ে খুন করে পালায়। তার আত্নচিৎকারে মধূর স্ত্রী এসে চিৎকার করে লোকজন ডাকে। ঘটনা স্থানেই তার মূত্যু হয়। ঘটনার দিন গত ২২ জানুয়ারি ২০২২ শনিবার সন্ধ্যায় ভিকটিমের ঘরের পিছনে তাঁকে হত্যা করে। এঘটনায় মৃতের বড় ভাই বারিন কুমার বাকচীকে বাদী করে পুলিশ ১টি মামলা নিয়েছে। এবং ঘটনা স্থানে রেখে যাওয়া আলামত জুতা, ফোন নাম্বার পেয়ে প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত করে আসামি চিহ্নিত করেছে। তিনি বলেন মধূসুধনের স্ত্রীর দিকে জনৈক বাবুল ফরাজীর নাম একব্যক্তির কুনজর ছিলো, মাঝে মধ্যে তার স্ত্রীকেও কুপ্রস্তাব দিত, এতে তিনি রাজি না হওয়ায় হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। তাই আমরা সরকার প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি বিষয়টি র‌্যাব বা অন্যান্য গোয়েন্দা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে আসামিদেরকে অতিদ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। এছাড়া মধূর এতিম অসহায় হয়ে যাওয়া ছেলে দুটির মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা কারার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দলিত বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সুব্রত কুমার মিস্ত্রী, তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জয়দেব কুমার দাস, খুলনা জেলা কমিটি সহ-সভাপতি অসিত কুমার দাস, বাগেরহাট জেলা শাখার সহ-সভাপতি অসিত দাস সহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ধরার সময় বাঘের আক্রমণ, আহত-

খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ধরার সময় বাঘের আক্রমণের শিকার হয়েছেন এক জেলে। সোমবার সকালে বাঘের আক্রমণে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে রোববার সন্ধ্যার আগে কৈখালী ফরেস্ট স্টেশনের দারগাং বড়খালে হামলার ঘটনা ঘটে। বাঘের থাবায় তিনি মুখে মাথায় তিনটি স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

আহত জেলের নাম আবু হায়াত ঢালী (৪৮)তিনি শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের মৃত. আহসান ঢালীর ছেলে। ফিরে আসা জেলে টেংরাখালি গ্রামের বাবলু সানা জানান, গত ২৯ জানুয়ারী আবু হায়াত ঢালী, নুর ইসলাম গাজী আমিসহ তিনজন কৈখালী ফরেস্ট ষ্টেশন অফিস থেকে বৈধ পাশ নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাই। রোববার সন্ধ্যার আগে সুন্দরবনের দারগাং বড় খালের মধ্যে জ¦ালানী জোগাড় করার জন্য নৌকা থেকে আমরা খালের পাশে প্রবেশ করি। সময় হঠাৎ আবু হায়াত ঢালীর উপর বাঘটি হামলে পড়ে এবং তার মুখে মাথার তিনটি স্থানে থাবা দেয়। তার আত্নচিৎকারে সাথে সাথেই নুর ইসলাম আমি গাছের গায়ে বাড়ি দিয়ে শব্দ করতে থাকি। এর কিছুক্ষণ পর বাঘটি আবার বনের ভিতর চলে যায়। এরপর আবু হায়াত ঢালীকে উদ্ধার করে দ্রুত আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। এরপর সকালে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারি কমিউনিটি অফিসার (মেডিকেল) রাজু ইসলাম জানান, বাঘের আক্রমণে আহত আবু হায়াতের বর্তমানে শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন-সংরক্ষক এম.হাসান জানান, ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। বিস্তারিত জানার জন্য ঘটনাস্থলে বন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।

শিক্ষার্থীদের জন্য রান্নাকৃত খাবার খেয়ে মান যাচাই খুবি উপাচার্যের

খবর বিজ্ঞপ্তি

সোমবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন আকষ্মিকভাবে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি হলের ডাইনিং রুম পরিদর্শন করেন এবং রান্নাকৃত খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা খাবারের মান নিয়ে উপাচার্যের কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ডাইনিংয়ে রান্নাকৃত খাবার (ভাত, মুরগির মাংস, সবজি ডাল) দিয়ে দুপুরের আহার করেন এবং একবেলা খাবারের নির্ধারিত মূল্য বাবদ ৩৫ টাকা নিজ পকেট থেকে পরিশোধ করেন। এসময় তিনি হলের ডাইনিং পরিচালনাকারী শিক্ষার্থীদের ডেকে কথা বলেন এবং খাবারের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ধন্যবাদ জানান। খাবারের মান যেনো সবসময় সন্তোষজনক থাকে সে বিষয়েও নির্দেশনা দেন। হল পরিদর্শনকালে উপাচার্য হলের চলমান উন্নয়নমূলক কাজও ঘুরে দেখেন।

পরে উপাচার্য খান বাহাদুর আহছানউল্লা হল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি রান্নাঘর, ডাইনিং ক্যান্টিন ঘুরে দেখেন। উপাচার্য হলের খোঁজ-খবর নেন এবং যথাশীঘ্র সম্ভব নতুন রান্নাঘর তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একই সাথে তিনি হলের আশপাশের পরিবেশ উন্নয়ন পর্যায়ক্রমে হলের অন্যান্য সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

হল পরিদর্শনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. সালমা বেগম, খান বাহাদুর আহছানউল্লা হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোঃ ইকবাল হোসেন, উভয় হলের সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খুবির সামনে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মিত হলো গতিরোধক

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দু’পাশে দুর্ঘটনা এড়াতে দুটি গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) নির্মাণ করা হয়েছে। গতিরোধকের সামনে সতর্কতামূলক জেব্রাক্রসিংও দেওয়া হয়েছে। রবিবার গতকাল সোমবার সড়ক জনপথ বিভাগ কাজটি সম্পন্ন করে। বিষয়ে গত ০২ ফেব্রুয়ারি সড়ক জনপথ বিভাগ, খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কার বিষয়টি উপলব্ধি করে দ্রুত গতিরোধক বসায় সওজ।

ব্যাপারে সড়ক জনপথ বিভাগ, খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, গতিরোধকের পাশাপাশি শীঘ্রই গতিসীমা নির্দেশক সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হবে। তাছাড়া ওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য ডিজাইন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) স্থাপন করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সড়ক জনপথ বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

ডুমুরিয়ার বিল বরুনায় সেচ মেশিনে জলাবদ্ধ নিরসন: ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদে সম্ভাবনা

এস রফিক, ডুমুরিয়া

ডুমুরিয়ায় বিল বরুনায় সেচ মেসিন মটর দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন করে ১০টি বিলের হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।প্রায় দেড় সপ্তাহ হল কৃষকদের উদ্দ্যোগে কর্মসুচী গ্রহন করা হয়েছে।এতে সেচ মেশিন মটর দিয়ে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।উপকৃত হচ্ছে কয়েক‘কৃষক।তবে কার্যক্রম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক এমন প্রত্যসা সকলের।

জানা যায়,উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নে বিল খুকশিয়ায় টাইডাল রিভার ম্যানেজম্যান্ট (টিআরএম) বন্ধ হওয়ার ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া হরি-ভদ্রা নদীতে দ্রুত পলি ভরাট হয়ে যায়। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৫নং পোল্ডারে ৩টি স্লুইচ গেটের মুখে পলি ভরাট হওয়ায় বিলের পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে পড়ে। আর এতে ধামালিয়া রুদাঘরা ইউনিয়নের উত্তরাঞ্চলীয় বিল দহকুলা, বিলসালাতিয়া, বিল তাওয়ালিয়া, বিল কাটেঙ্গা, কেওড়াতলা, বিল সিঙ্গাসহ ১০টি বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রুপ নেয়। ফলে ওই এলাকার প্রায় হাজার হেক্টর কৃষি জমি অনাবাদির হুমকিতে পড়ে। গত বছর এলাকার কৃষকরা পতিত জমি চাষাবাদের লক্ষে স্থানীয় কৃষক সমাজের বিত্তশীলদের আর্থিক সহায়তায় বিএডিসি থেকে সেচ পাম্প উত্তোলন করে শুরু হয় বরুনা বিল সেচ প্রকল্প।কিন্তু এটি ব্যায় বহুল হওয়ায় হিম-সিম খেতে হয় কৃষকদের।এ বিষয়ে কাটেঙ্গা এলাকার ফারুক সরদার, ইমরান মোল্যা,বরুনা এলাকার কৃষ্ণপদ মন্ডল,ইউপি সদস্য রিপনসহ একাধিক কৃষক বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে পানি নিস্কাশনের অভাবে আমরা এসব বিলে ফসল উৎপাদন করতে পারিনি। গত বছর থেকে স্থানীয় কৃষকদের উদ্দ্যোগে জন প্রতিনিধিদের অনুদানে সেচের ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে পানি নিস্কাশন হওয়ায় আমরা আবাদ করতে পারছি।হরি-ভদ্রা পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ মতলেব গোলদার বলেন, শোলগাতিয়া-বরুনা এলাকায় ৬টি গ্রুপ করে সকল কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে সেচ প্রকল্প চালু করা হয়। যে জমিতে মৎস্য চাষ ছাড়া অন্য কোন ফসলাদি হতনা, সেচ প্রকল্প স্থাপনের মধ্যদিয়ে এসব বিলে এখন সোনার ফসল ফলছে। বিষয়ে ধামালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ্িবএম জহুরুল হক বলেন, নির্বাচনে আমার প্রতিশ্রুতি ছিল এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন। যেটা বাস্তবায়নে আমি নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং তার সুফলও পেয়েছি।প্রায় দেড় সপ্তাহ হল ৭টি সেচ মেসিন ১০টি মটর স্থাপন করা হয়েছে।এরফলে প্রায় হাজর হেক্টর জমিতে ইরি রোরো ফলবে।

প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএডিসি’নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জামাল ফারুক বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার নিম্নমাঞ্চলীয় জলাবদ্ধ ১০টি বিলে বোরো আবাদের উপযোগি করতে আমরা প্রয়োজনীয় সেচ মেশিন মটর সরবরাহ করেছি। তিনি বলেন, মাননীয় কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিএডিসি, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট মৃত্তিকা’যৌথ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি পানির লবনাক্ততা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদনের পথে। এটি হলে নিম্ন অঞ্চলে কৃষকের ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

ডুমুরিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

ডুমুরিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে শেখ নজরুল ইসলাম সভাপতি আশিষ কুমার পাপ্পিকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শেখ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক সভা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আব্দুর ছাত্তার মোড়ল, ছালাম ফকির, আঃ বারী গোলদার, নুরমোম্মদ শেখ, মাহাতাব উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক শাহিন খান, তাপস কুমার মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাত কুমার সরকার, সহ-সাংগঠনিক ইউসুফ আলী মোল্যা, প্রচার সম্পাদক ওলিয়ার রহমান সহ প্রচার খায়েরুল ইসলাম, দপ্তর পঙ্কজ কুমার তরফদার, সহদপ্তর মাহাবুব আলম, মহিলা সম্পাদিকা বিনা রানী রায়, সহ-সম্পাদিকা মাঞ্জুরা ইয়াসমিন, কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মোড়ল, সহ-কোষাধ্যক্ষ আঃ সামাদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মফিজুল হক সরদার, আঃ জব্বার, মতিয়ার রহমান, স্মৃতি রঞ্জন, মঞ্জুরুল হক, দীপক মন্ডল, এসএম সেলিম, প্রসেনজিত, নুরুল আমীন, সমীর মল্লিক, কামরুজ্জামান রিপন, সঞ্জিত মন্ডল, দেবপ্রসাদ রায়, পবীত্র কুমার, কার্তিক চন্দ্র রাবেয়া খাতুন।

দাকোপে শিম চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন চাষীরা

মোঃ শামীম হোসেন – বাজুয়া (দাকোপ)

শীতকালীন সবজি হিসেবে সবার কাছে শিম বেশ জনপ্রিয় একটি সবজি। শীত মৌসুম শুরুর দিকে উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে এর দাম বেশি থাকে। এই অসময়েও বেশি দামে শিম বিক্রির আশায় দাকোপের চাষিরা শিম চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় চলতি মৌসুমে শিম বিক্রি করে চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের হরিণটানা, ধোপাধী, ভুটেমারী,গাধাামারী, লাউডোব, দাকোপ, বানিশান্তা, বাজুয়াসহ কয়েকটি গ্রামের মাঠে প্রচুর পরিমাণ শিম চাষ হয়েছে। মাঠের পর মাঠ শিম ফুলে ভরে উঠেছে। চাষি শিম ক্ষেতে সেচ কীটনাশক দিচ্ছেন। কেউ করছেন শিম গাছের পরিচর্যা। আবার কেউ বা তুলছেন শিম। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে প্রচুর পরিমাণে শিম চাষ হয়েছে। বাজুয়ার কচা গ্রামের প্রভাষ থান্দার বলেন, শীত মৌসুম শুরুর আগেই ক্ষেত প্রস্তুত করে বপন করেন শিমের বীজ। পুরো শীতে শিম বিক্রি করে বেশ লাভবান হন। শীতের পাশাপাশি গরমেও সবজি চাষ হচ্ছে বলে তিনি জানান। নতুন চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে অনেকেই হয়েছেন স্বাবলম্বী। শিমে অন্যান্য সবজির মতো ভাইরাস নেই বললেই চলে। সব ধরনের মাটিতেই শিমের চাষ হয়। বাড়ির চালে, মাচায়, রাস্তা কিংবা পুকুর পাড় এমনকি জমির আইলে এসবজি চাষ করা যায়। বাজারে শিমের চাহিদা ভালো, দামও বেশি, তাই গ্রীষ্মেও শিম চাষে ঝুঁকছেন অঞ্চলের চাষিরা। লাউডোব গ্রামের আরেক শিম চাষী অলি শেখ বলেন, দীর্ঘ দশ বছরেরও বেশি আমি শিম চাষ করছি। এপর্যন্ত প্রায় হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। একই গ্রামের আরেক শিম চাষী ইদ্রিস গাজী বলেন, এবার আমি দুই কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছি। প্রতি সপ্তাহে আমার ১০০ থেকে ২০০ টাকার কীটনাশক লাগে। সার, কীটনাশকের দাম বেশি হলেও উৎপাদন খরচ উঠে যাবে বলে জানান তিনি। বানিশান্তা গ্রামের শিম চাষি মোহর আলী জানান, প্রতিবছর আমি শিম চাষ করি।  আমার ভালো লাভ হয়। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়া যায় শিম চাষ করে। আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণে শিম চাষ করার ইচ্ছা আছে। শিম ব্যবসায়ী অমল বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে আমি নিজে শিম চাষ করে কৃষকের কাছ থেকে শিম কিনে বাজুয়া বাজারে বিক্রি করি। ক্ষেত থেকে চাষিরা শিম বিক্রয় করে লাভবান হয় সেই সাথে আমিও লাভবান হই। শিম ব্যবসায়ী কানাই বলেন, অনেকদিন ধরে আমি শিম সবজির ব্যবসা করি। চাষিরা শহরে শিম নিয়ে গেলে কেজি প্রতি টাকা করে খরচ হয়। সেই জন্য চাষিরা ক্ষেত থেকে আমাদের কাছে শিম বিক্রি করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, এই মৌসুমে শিমের ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় শিম চাষে চাষি বেশি লাভবান হবেন। অল্প জমিতে স্বল্প পুঁজি দিয়েই চাষ করা হয় শিম। এতে বেশ লাভ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই প্রতিবছর চাষিরা শিম চাষ করেন। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।

মহেশপুরে অবৈধ্য দলিল লেখক সমিতির বদৌলতে রাতারাতি কোটিপতি দলিল লেখকরা

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি

জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুর,উপজেলায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাস। এক তৃতীয়ংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল,সরল সোজা সাধারণ মানুষ তারা।সে সুজককে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে জিম্মি করে প্রতিনিয়ত শোষন করে অবৈধ্য ভাবে কোটিপতি বনে যাচ্ছে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যে মহেশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী দলিল লেখক সমিতির কতিপয় দলিল লেখকরা। ওই অফিসের সকলেই বিভিন্ন  নিয়ম কানুন ভুয়া খাত দেখিয়ে এবং দলিল লেখক সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে ভূমি ক্রেতাদের নিকট থেকে অবৈধ্য ভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

২০১৬ সালে একতা দলিল লেখক সমিতি নামে একটি সিন্ডিকেট সমিতির আত্মপ্রকাশ ঘটায়। এটি গঠনের পরপরই দলিল মূল্যের প্রতি লাখে সরকারী খরচের অতিরিক্ত টাকা আদায়ের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর থেকে তালিকা অনুযায়ী সমিতির নামে অর্থ আদায়ের জন্য প্রত্যেক দলিল লেখককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রতি বছরই নতুন নতুন তালিকা করে বাড়ানো হয় অতিরিক্ত টাকার হিসাব। বর্তমানে জমির মূল্যের উপর সরকারী খরচের অতিরিক্ত হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ ক্ষমতার দাপটের কারণে আজ পর্যন্ত কেউই থামাতে পারেনি এই সিন্ডিকেটকে। যা সাধারণ মানুষের গোদের উপর বিষ ফোঁড়া হয়ে রয়েছেন।

যেখানে ইউনিয়নের জমি রেজিষ্ট্রীতে সরকারী নির্ধারিত লাখে সাড়ে হাজার টাকা খরচ হবে সেখানে সাড়ে হাজারের পরিবর্তে সাড়ে ১২ বাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। পৌরসভার মধ্যে লাখে সাড়ে হাজারের জায়গায় নেওয়া হচ্ছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা করে।

এই অবৈধ দলিল লেখক সমিতির বদৌলতে রাতারাতি কোটিপটি বনে যাওয়া দলিল লেখকের লিষ্ট বেশ চড়া। সমিতির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। একাধিক কোটি টাকার বাড়িও তাদের নামে। এমন তালিকায় আছেন মহেশপুর সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী। যার নামের সাথে কাজের কোনই মিল নেই। নিজের নামে প্রতি সু-বিচার করেন না তিনি। লক্ষ লক্ষ টাকাসহ মহেশপুর শহরের কোটি টাকা মূল্যের তলা বিলাশবহুল বাড়ির মালিকও তিনি। বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে সভাপতি পদে বহাল থেকে রমরমা চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন।

সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান দলিল লেখকের পাশাপাশি স্ট্যাম্প ভেন্ডার। জাল স্ট্যাম্প জাল কোট ফিঁ বিক্রির অভিযোগে স্ট্যাম্প ভেন্ডারের লাইসেন্স বাতিল হলেও দলিল লেখক সিন্ডিকেটের নেতা হিসেবে সে লক্ষ লক্ষ টাকাসহ তলা বিল্ডিং-এর মালিক। কিছুদিন আগে সে তার মহেশপুর ক্যাম্পপাড়ার বাড়ির পার্শ্বের সাবেক যুবলীগ নেতা হাসানুজ্জান আলিমের নিকট থেকে ৪৭ লক্ষ টাকায় তার তলা বাড়িটি ক্রয় করেছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম জিরো থেকে হিরো হয়ে কোটিপতি বনে গেছেন। তিনি বেশ কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করেছেন এবং বাড়িতে বিল্ডিং তৈরী করেছেন। ধুর্ত এই ব্যাক্তি কোটিপতি হলেও টাকা ব্যাংকে না রেখে বিভিন্ন আত্মীয়র কাছে রাখেন।

কোষাধক্ষ আতিয়ার রহমান জিরো থেকে বর্তমানে ১৫/২০ বিঘা জমি, ৫তলা বাড়িসহ কোটি টাকার মালিক। সমিতি নামের সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজীর টাকা তার কাছে রক্ষিত থাকায় সে টাকা সমিতির ব্যাংক একাউন্টে না রেখে মহেশপুর শহরের কয়েক জন কাপড় ব্যবসায়ী মালিকের নিকট সুদে খাটায়।

মহেশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের উল্লেখিত দলিল লেখক সমিতির নেতাদের অবৈধ চাঁদাবাজী বন্ধ করতে দুদকের একজন সৎ অফিসারের নেতৃত্বে অনুসন্ধানী টিম গোপনে তদন্ত চালিয়ে জমি ক্রেতা সেজে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে চাঁদাবাজীর টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে কঠিন শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের চাঁদাবাজীর জুলুম থেকে মহেশপুর উপজেলাবাসীকে রক্ষা করতে কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন উপজেলাবাসী।

মহান শহিদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা

তথ্য বিবরনী

খুলনায় মহান শহিদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা সোমবার সকালে খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় পুষ্পমাল্য অর্পণের সময় প্রতিষ্ঠান সংগঠন পর্যায়ে পাঁচজন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুইজন একত্রে পুষ্পস্তবক অর্পণে অংশ নিতে পারবেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন, জেলা শিশু একাডেমি সরকারি গণগ্রন্থাগার আলাদাভাবে শিশুদের জন্য চিত্রাংকন, আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। জেলা তথ্য অফিস নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে। ঐদিন বাদজোহর ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকল মসজিদে দোয়া এবং সুবিধাজনক সময়ে মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। পরে একই স্থানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ-২০২২ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্রে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শিক্ষার্থীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) সুশান্ত সরকার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) সোনালী সেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর কবিরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন।

অলক এখন আব্দুল্লাহ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

খ্রিষ্ট ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন মোংলার ৪৬ বছর বয়সের এক ব্যক্তি। চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারী অলক সরকার নামের ওই ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি তার নাম রেখেছেন মোঃ আব্দুল্লাহ। ইসলাম গ্রহণের সাথে সাথেই  নব মুসলিম আব্দুল্লাহ তিন দিনের জন্য মেহনতের তাবলীগ জামায়াতে যান। সেই সাথে শুরু করেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াও। মোঃ আব্দুল্লাহ মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের নম্বর ওয়ার্ডের জয়মনিরঘোল এলাকায় বসাবস করেন। এখন থেকে ১৬ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। স্ত্রী মারা যাওয়ার সময় রেখে যান দুইটি কন্যা সন্তান। সেই থেকে ওই মেয়ে দুইটি তাদের চাচা দাদার কাছে থাকেন। আর তিনি একাই বসবাস করে আসছেন।

৪৬ বছর ধরে খ্রিষ্ট ধর্ম পালন করে হঠাৎ ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে নব মুসলিম মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, তাই অনেক কিছু চিন্তা ভাবনা করেই নিজ ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বরসহ সবাই জানেন। নিয়ম অনুযায়ী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি, আমার কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার কাছে ইসলাম ধর্ম ভালো লাগতো। তাই মুসলমান মানুষের সাথেই চলাফেরা বেশি করতাম। আগে থেকেই তাদেরকে অনুসরণ করতাম। তাই ভাল লাগার জায়গা থেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

আগের অলক সরকার বর্তমান নব মুসলিম মোঃ আব্দুল্লাহ পেশায় একজন জেলে। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে মাছ কাকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

চিলা ইউনিয়নের নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মোঃ নাজমুল হাওলাদার বলেন, এলাকার অলক সরকার নামের একব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তার সাথে কথা বলে জেনেছি ভাল লাগার জায়গা থেকেই তিনি নিজ ইচ্ছায় পূর্বের ধর্ম ত্যাগ করেছেন এবং মুসলমান হয়েছেন। তিনি বাগেরহাট জেলা নোটারী পাবলিক আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট করেই ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। এবং স্থানীয় মৌলভীর কাছ থেকে কালেমা পড়ে মুসলিম হয়েছেন।

কেশবপুর সদর ইউনিয়নে আলাউদ্দীন চেয়ারম্যান নির্বাচিত

আলমগীর হোসেন ,কেশবপুর :

কেশবপুর সদর ইউনিয়নে আলাউদ্দীন আলা বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।  সোমবার নূতন মুলগ্রাম স্গিত কেদ্রে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী গৌতম রায় ২০১ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। ইতিপূর্বে জানুয়ারি নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের টি কেদ্রে গৌতম রায় ৫৪৮ ভোট এেিগয় ছিলেন। গলোযোগের কারণে ওই ইউপি‘২নং ওয়ার্ডের (নতুনমূলগ্রাম) কেদ্রে  ভোট গ্রহণ স্গিত হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী গৌতম রায় ৯টি ভোট কেদ্রে বিএনপি সমার্থিত প্রার্থী আলাউদ্দীনের চেয়ে ৪৫৮ ভোট বেশী পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। সর্বশেষ সোমবার ঘোষিত বেসরকারী ফলাফল বিএনপির সমার্থিত স্বত্ত্র প্রার্থী আলাউদ্দীন আলা ৬১০২ ভোট পান। গৌতম রায়ের প্রাপ্ত ভোট ৫৯০১। চশমা প্রতিকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ভোট পেয়েছেন।  আনারস প্রতিকের আয়ুব আলী হাতপাখা প্রতিকের আনিসুর রহমান তিনটা করে ভোট পেয়েছেন। 

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৫৩৮৭ স্বত্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আলাউদ্দীন আলা পেয়েছিলেন ৪৯২৯ ভোট। কেশবপুর ইউপি‘স্গিত ২নম্বর নূতন মুলগ্রাম ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ২১১৯ জন।

সান্ত্বনা শাহরিনের স্বামীর মৃত্যুতে উপাচার্যের গভীর শোক

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা স্কুলের আওতাধীন প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক সান্ত্বনা শাহরিন এর স্বামী সোহেল প্রাণন সোমবার বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি … রাজিউন)তিনি বেশ কিছুদিন ধরে কিডনিজনিত সমস্যা ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৪৪ বছর। তিনি মা, স্ত্রী বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে যশোরের খয়েরতলায় নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক সান্ত্বনা শাহরিনের স্বামীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

অনুরূপভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, চারুকলা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন।

এএসআইয়ের ‘নেতৃত্বে’ ভাঙা হলো রেবেকার চায়ের দোকান!

 নড়াইল প্রতিনিধি

সরকারি জমিতে থাকা রেবেকার ১০ বছরের চায়ের দোকান ভেঙে দিল নড়াইল সদর থানার এএসআই কাউসার হোসেন হাওলাদার। সোমবার সকালে নড়াইল এলজিইডি অফিসের সামনের দোতলা ভবনের মালিকের পক্ষে যান এএসআই কাউসার। নিজের একমাত্র উপার্জনের সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে দিনমজুর পরিবারটি। ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর ধরে জেলা পরিষদের জায়গা লিজ নেন ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তার কাছ থেকে অল্প একটু জায়গা নিয়ে টিনশেড তুলে চা বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন রেবেকা খাতুন।

রেবেকার চায়ের দোকানের পেছনে ওবায়দুর রহমান নামের এক কুয়েক প্রবাসীর দোতলা বাড়ি। গত দুই মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নেয় হলিচাইল্ড কেয়ার হোম প্রি ক্যাডেট স্কুল। স্কুল ভাড়া নেওয়ার পর থেকে স্কুলের প্রিন্সিপাল আসলাম খান নানা কায়দায় চায়ের দোকানটি তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা করতে থাকে।

সোমবার নড়াইল সদর থানার এএসআই কাউসার হোসেন হাওলাদারকে সঙ্গে নিয়ে রেবেকার চায়ের দোকানের চুলা ভেঙে ফেলে। এরপর দোকান থেকে সমস্ত মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে তালা মেরে দেন প্রিন্সিপাল।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রেবেকার চা দোকানের সব মালামাল এদিক ওদিক ছড়ানো। সরকারি জমিতে যেখানে চা দোকানের চুলা ছিল সেখানে বাথরুমের কুয়া খুঁড়ে চাড়ি বসানো হচ্ছে। ঘটনার পরে বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রেবেকা তার তার দিনমজুর স্বামী সেকেন্দার আলি বিশ্বাস।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেবেকা বলেন, সকালে এএসআই কাউসার আর প্রিন্সিপাল আসলাম  দুইজনে মিলে আমার দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আমি এসপি অফিসে গিয়ে নালিশ করে এসেই দেখি আমার সব ভেঙে ফেলেছে তারা। এখন আমি খাব কী? আমার দুটি বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব?

হলিচাইল্ড কেয়ার হোম প্রি ক্যাডেট স্কুলের প্রিন্সিপাল আসলাম  শেখ বলেন, আমি দখল করিনি, বাড়ির মালিকই সব ব্যবস্থা করেছেন। থানা থেকেই তারিখ দেওয়া হয়েছে। সেভাবেই চুলা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ব্যাপারে এএসআই কাউসারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি ঠিক ওরকম নয়, আমি ঘটনার সময় ছিলাম, তবে আমি ওই নারীকে বলেছি আপনার চুলাটা সরিয়ে দেন। আমি চুলায় লাথি মারিনি।

নড়াইল সদর থানার ওসি মো. শওকত কবির বলেন, পুলিশের তো কারো দখলদারিতে সহায়তা করার কথা নয়। ওইখানে কোনো পুলিশ যায়নি। চা দোকানির অভিযোগ থানায় গ্রহণ করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় নসিমন-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নসিমন (আলমসাধু) মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও একজন।

সোমবার (ফেব্রুয়ারি) উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের কাঠালতলা এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- দামুড়হুদা উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের ইরান আলীর ছেলে আলমসাধুচালক লাল্টু মিয়া (২২) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল কায়েসের ছেলে মোটরসাইকেল চালক রিফাত রহমান (২১)

আপরদিকে আহত মানিক মিয়া (২০) দর্শনা পৌর এলাকার রামনগর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।

দামুড়হুদা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মোল্লা জানান, কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন মোটরসাইকেলচালক রিফাত তার বন্ধু মানিক। তারা জয়রামপুর গ্রামের কাঠালতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি আলমসাধুর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আলমসাধু চালক লাল্টু মিয়া। গুরুতর আহত হন রিফাত তার বন্ধু মানিক। খবর পেয়ে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাল্যবিয়ের চেষ্টা, কনে ছাড়াই বাড়ি ফিরে গেলেন বর

যশোর প্রতিনিধি

যশোরে একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরুফা সুলতানা। শ্যামলী আক্তার (১৩) নামের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

রোববার (ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌগাছা উপজেলার বুন্দলীতলা গ্রামে ঘটনা ঘটে। শ্যামলী আক্তার ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মেয়েটি চৌগাছা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তার অমতে উপজেলার বুন্দলীতলা গ্রামের বাবুল মুন্সির বাড়িতে (নানা বাড়ি) নিয়ে এসে বিয়ের আয়োজন করেন অভিভাবকরা। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা ওই গ্রামের ইউপি মেম্বার হাবিবুর রহমানকে নির্দেশ দেন বিয়েটি বন্ধ করার জন্য। পরে ইউপি মেম্বার হাবিবুর রহমান মেয়ের নানার বাড়ি গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।

ইউপি মেম্বার হাবিবুর রহমান বলেন, ইউএনওর নির্দেশ পেয়ে আমি ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি রান্নাবান্নার আয়োজন চলছে। বরপক্ষের লোকজনও সেখানে উপস্থিত আছেন। আমি তাদের বোঝাই যে, এটি বাল্যবিয়ে। এই বিয়ে আইনত অপরাধ। ইউএনওর নির্দেশ পেয়ে আমি এসেছি। পরে উভয়পক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে বিয়ে বন্ধ করে দেন এবং বরপক্ষ বাড়ি চলে যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরুফা সুলতানা জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বারকে দিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করা হয়েছে।

চলে গেলেন বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান

নড়াইল প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাওয়া নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ–সভাপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এস এম ফজলুর রহমান জিন্নাহ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের আলাদাতপুর এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

মৃত্যুকালে তিনি মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাদ আছর গার্ড অব অনার শেষে শহরের আলাদাতপুর পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ১৯৬৯ ১৯৭২ সালে নড়াইলে জনসভা করতে এসেছিলেন তখন অ্যাডভোকেট এস এম ফজলুর রহমান জিন্নাহ সঙ্গে ছিলেন। এস এম ফজলুর রহমান জিন্নাহ নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি, নড়াইল জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি, নড়াইল জজ কোর্টের সাবেক পিপি, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি উপদেষ্টা ছিলেন।

বর্ষীয়ান এই নেতার মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, সহ-সভাপতি পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, যুগ্ম-সম্পাদক বাবুল কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ কুন্ডু মিটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি সরদার আলমগীর হোসেন আলমসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

চেক জালিয়াতি করে ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ পৌরসভায় মেয়রের চোখ ফাঁকি দিয়ে পৌরসভার একটি চক্র লাখ ৭৫ হাজার টাকার কাজের বিপরীতে ৭৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে। অনিয়মের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে তদন্ত করে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পৌরসভার আভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, ২০১১ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কাজের বিপরীতে এই টাকা উত্তোলন করা হয়। ৩৭টি কাজের বিপরীতে ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকের ৩১৬নং একাউন্ট ঝিনাইদহ জনতা ব্যাংকের ১৪২৫০৩নং একাউন্ট থেকে এই টাকা উত্তোলন করা হয়।

তবে এই চেক জালিয়াতি নিয়ে পৌরসভার সাবেক সচিব আজমল হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাঁন, নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন হিসাব রক্ষক মখলেছুর রহমান একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

এদিকে ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু চেক জালিয়াতির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ২০২১ সালের ২৭ জুন তার দপ্তরের ২৯৬নং স্মারকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাঁনকে অন্যত্রে বদলি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (পৌর-শাখা) বরাবর চিঠি দেন। কারণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাঁন একাই ১২টি কাজের বিপরীতে জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করেছেন ৩১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও তিনি নিজের নামে কাজ দেখিয়ে লাখ ৪৪ হাজার ৮১৯ টাকার স্থলে জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত ২৮ লাখ টাকা লোপাট করেছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আসাদুজ্জামান চাঁন স্টোর কিপার হিসেবে চাকরীতে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে প্রধান সহকারী পদোন্নতি পেয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। দীর্ঘ ২০ বছর তিনি একই কর্মস্থলে চাকরি করার কারণে প্রভাব বিস্তার করে নানা রকমের অনিয়ম পৌরসভার চেক নিজের নামে নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে চেকের পাতায় টাকার অংক বৃদ্ধি করে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। চিঠিতে ঝিনাইদহ পৌরসভার স্বার্থ বিবেচনা করে আসাদুজ্জামান চাঁনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অন্যত্র বদলির জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু।

পৌর মেয়রের চিঠি পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন ২০২১ সালের ১২ আগস্ট তার দপ্তরের ৪৬.০০.০০০০.০৬৩.২৭.০০১.১৪.৬৭৮নং স্মারকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালককে অভিযোগসমুহ সরেজমিন তদন্ত করে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য নির্দশক্রমে অনুরোধ করেন। কিন্তু উপসচিবের চিঠি আসার প্রায় মাস অতিবাহিত হলেও জালিয়াতি চক্রের হোতারা অধরাই থেকে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাতো দূরের কথা বদলি পর্যন্ত হয়নি। বহাল তবিয়তে এই চক্রের নাটের গুরু আসাদুজ্জামান চাঁন চাকরি করে যাচ্ছেন।

ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রশাসিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাঁন বলেন, চেক জালিয়াতিতো আমি করতে পারি না। এটি একাউন্ট কর্মকর্তা মকলেছুর রহমান করতে পারেন।

তবে একাউন্ট কর্মকর্তা মকলেচুর রহমান বলেন, সাবেক সচিব আজমল হোসেন, প্রশাসিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাঁন, প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন আমাকে দিয়ে জালিয়াতি করাতে বাধ্য করেছেন।

প্রকৌশলী কামাল হোসেন সব ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমি কিছুই জানি না।

তবে সাবেক সচিব আজমলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাপারে ঝিনাইদহ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের উপ-পরিচালক ডিডিএলজি মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, যেহেতু জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখন বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না।

ট্রলারডুবির তিন দিনে জেলের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১০

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

ঝড়ের কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হওয়ার জেলেদের মধ্যে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাগেরহাটের দুবলা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তৃতীয় দিনে সোমবার (ফেব্রুয়ারি) দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পূর্ব বনবিভাগের দুবলা শুঁটকিপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় জানান, নিয়ে এখন পর্যন্ত চার জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দশ জেলে। ছাড়া সাগরে নিমজ্জিত সাতটি ট্রলারের সন্ধান মেলেনি এখনও।

সর্বশেষ উদ্ধার জেলের নাম আনোয়ার হোসেন বাদল। তিনি বাগেরহাটের কচুয়ার সৈয়দ আলী হাওলাদারের ছেলে। এর আগে দুপুরে বঙ্গোপসাগরের নীলবয়া এলাকায় ভেসে ওঠা এক জেলের লাশ উদ্ধার করেন সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা।

শুক্রবার রাতে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চর সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে আঠারোটি ট্রলার ডুবে যায় এবং ১৪ জেলে নিখোঁজ হন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় লাখ ৬৩ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

স্টাফ রিপোর্টার

চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় ৩লাখ ৬৩ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।উল্লেখিত পরিমাণ জমি থেকে চলতি রবি-২০২১-২০২২ মৌসুমে ১৫ লাখ ৬২হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা।অতিরিক্ত ফলন অর্জনে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের বোরো ধান চাষে সবধনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা ভিত্তিক বোরো ধান চাষের জমির পরিমাণ এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে- যশোর জেলায় ১,৫৭,৮৮৫ হেক্টর জমিতে ৬লাখ ৮৮হাজার ১১৩ মেট্রিক টন চাল।ঝিনাইদহ জেলায় ৭৮হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে ৩লাখ ৩৯ হাজার ৪৯২ টন চাল।মাগুরা জেলায় ৩৬হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ১লাখ ৫৪হাজার ১৩৩ টন চাল।কুষ্টিয়া জেলায় ৩৫হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ১লাখ ৫৪ হাজার ৪৭৮ টন চাল। চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩৫হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ১লাখ ৪৬হাজার ৩১৬ টন চাল এবং মেহেরপুর জেলায় ১৯হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে ৭৯হাজার ৬২১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

যশোর কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক দীপংকর দাশ জানান, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বোরো চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ,পরামর্শ,মাঠ দিবস,উঠান বৈঠক,নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক কৃষকদের সহজ শর্তে ফসলি ঋণও প্রদান করেছে। গত কয়েক বছর যাবত বাজারে ধান চালের দাম ভালো পাওয়ায় অঞ্চলের কৃষকরা বোরো ধান চাষের ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।কৃষকেরাই যাতে বোরো চাষে সফলতা আনতে পারেন সে ব্যাপারে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় ৩২ হাজার ৫৭৪ হেক্টর জমিতে গম চাষ

স্টাফ রিপোর্টার

চলতি মওসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় ৩২ হাজার ৫৭৪ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। এতে লাখ ১০ হাজার ৪২৫ টন গম উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা ভিত্তিক গম চাষের জমির পরিমাণ এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে- যশোর জেলায় ৩৯৯ হেক্টর জমিতে হাজার ৩৫২ টন, ঝিনাইদহ জেলায় হাজার ২৭৮ হেক্টর জমিতে ১৪ হাজার ৫০২ টন, মাগুরা জেলায় ২হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে হাজার ৬৪৪ টন, কুষ্টিয়া জেলায় ১১ হাজার ৫৫৭ হেক্টর জমিতে ৩৯ হাজার ১৭৮ টন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৯৯৫ হেক্টর জমিতে হাজার ৩৭৩ টন এবং মেহেরপুর জেলায় ১২ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে ৪২ হাজার ৩৭৫ টন গম।

উল্লেখিত পরিমাণ জমি থেকে হেক্টর প্রতি দশমিক ৩৯ টন হিসেবে জেলায় চলতি রবি-২০২১-২০২২ মওসুমে লাখ ১০ হাজার ৪২৫ টন গম উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা। অতিরিক্ত ফলন অর্জিত করার উদ্দেশ্য সফল করতে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের গম চাষে সবধারনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

যশোর কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক দীপংকর দাশ জানান, গম চাষের ক্ষেত্রে পানির প্রয়োজন কম হওয়ায় অঞ্চলের জেলাগুলিতে ক্রমাগত গম চাষের ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। দেশের চাহিদা অনুযায়ী গম যাতে বাহির থেকে আমদানি করতে না হয় দেশের কৃষকেরাই যাতে গম চাষে সফলতা নিয়ে আসেন সে বিষয়টি কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

যশোরের কেশবপুর: ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে শতাধিক বাড়ি প্লাবিত

যশোর অফিস।।

টানা বর্ষণে উপজেলার মাদারডাঙ্গা দাসপাড়ার অদূরে আকবর আলীর ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। যশোরের কেশবপুরে মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে শতাধিক বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার মাদারডাঙ্গা গ্রামে ঘটনা ঘটেছে। ওই বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়ায় ক্রমেই সেখানে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার টানা বর্ষণ হয়। এতে মাদারডাঙ্গা দাসপাড়ার অদূরে আকবর আলীর ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এরপর গ্রামে পানি উঠতে থাকে। রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের দাসপাড়া, পালপাড়া, মহলদারপাড়ায় অন্তত ১০০ বাড়িতে পানি উঠেছে। পাঁজিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পেছনেই পানি রয়েছে। পাঁজিয়া স্কুলের একটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। মাদারডাঙ্গা গ্রামের আনছার আলী রফিকুল ইসলাম বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে বাড়িতে পানি উঠেছে। ঠান্ডা পানি ভেঙে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেকেরই ঠান্ডা লেগে গেছে। ঘেরের বেড়িবাঁধ দুর্বল থাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকালও পানির উচ্চতা বেড়েছে পাঁচ ইঞ্চি। সম্পর্কে ঘেরমালিক আকবর আলী বলেন, ঘেরের বেড়ি দুর্বল ছিল না। পানির চাপে টানা বৃষ্টিতে বেড়ির ৩০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। মেরামতের কাজ চলছে। ২৭ বিল পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে তামাশা চলছে। ওই এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয় কাটাখালী স্লুইসগেট (জলকপাট) হয়ে ডায়ের খাল দিয়ে হরি নদে। হরি নদ পলি দিয়ে ভরাট হয়ে আছে। নতুন করে ঘেরে বেড়ি ভেঙে যাওয়ায় মাদারডাঙা গ্রামে পানি ঢুকে গেছে। এই পানি দেড় মাসেও নামবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেশবপুর কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সী আসাদ উল্লাহ বলেন, মাঘ মাসের প্রচণ্ড বৃষ্টিতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। শ্রী নদী খনন না হলে এলাকার পানির সমস্যার সমাধান হবে না। বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু পাস হয়নি।

খুলনার পাইকগাছায় লবণে ‘পুড়ছে’ ১২টি গ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার।।

খাওয়ার পানির চাহিদা মেটে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে অন্য এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করে। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি লতা ইউনিয়নের অন্তত ১২টি গ্রাম লবণাক্ততার শিকার। বছরের পর বছর এসব এলাকায় নোনাপানি তুলে চিংড়ি চাষ করা হচ্ছে। খাওয়ার পানির চাহিদা মেটে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে অন্য এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করে। লবণসহিষ্ণু গাছ ছাড়া এলাকায় তেমন কোনো গাছ নেই। ঘাস বা লতাজাতীয় গাছ না থাকায় দেখা দিয়েছে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে অবৈধভাবে পাইপ জলকপাট (স্লুইসগেট) বসিয়ে নদী থেকে জমিতে তোলা হয় নোনাপানি। ওই পাইপের কারণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্ষা মৌসুমে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সামান্য পানি বাড়লেই ভেঙে যায় বাঁধ। ছাড়া লবণাক্ততার প্রভাবে মাটির সড়কগুলোও সহজে ভেঙে যাচ্ছে। লবণপানি তুলে চিংড়ি চাষ থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ওই দুই ইউনিয়নের মানুষ। জোট বেঁধেছেন লবণপানির চিংড়িঘেরের বিরুদ্ধে। সভা, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা। গত জানুয়ারি বাঁধের ওই পোল্ডারের আলোকদ্বীপ বাজারে লবণপানির ঘের বন্ধ করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন এলাকাবাসী। সেখানেও সবাই একমত হন জমিতে লবণপানি না তোলার ব্যাপারে। গত বছর বিভিন্ন সময় দুই ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সমন্বয় বৈঠকেও ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিংড়িঘের বন্ধ করতে মত দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরাও। বিষয়ে দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রিপন কুমার মণ্ডল বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ লবণপানির ঘের বন্ধ করতে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে আবেদন করেছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পরিষদ থেকে রেজল্যুশন করে ঘের বন্ধ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করা হয়েছে। রিপন কুমার মণ্ডল আরও বলেন, বর্তমানে ২০ নম্বর পোল্ডারের চারপাশে ১৫০টির বেশি অবৈধ পাইপ জলকপাট তৈরি করা হয়েছে। গত বছর পাউবো থেকে সেগুলো শনাক্ত করে উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে। এলাকায় মাইকিং করে তা সরিয়ে নিতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘেরমালিকেরা সরাননি। এখন আশঙ্কা হচ্ছে, প্রভাবশালী ঘেরমালিকেরা যেকোনো সময় রাতের আঁধারে নদীর বাঁধ কেটে ঘেরে লবণপানি তুলতে পারেন।

পাউবোর ২০ নম্বর পোল্ডারটি লতা দেলুটি ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। ওই দুই ইউনিয়নের মাঝ বরাবর চলে গেছে নড়া নদী। নদীটি ওই পোল্ডারের দুই ইউনিয়নকে ভাগ করেছে। পোল্ডারে জমির পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার বিঘা, মানুষ বাস করে ১০ হাজারের মতো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালের দিক থেকে ওই এলাকায় চিংড়ি চাষ শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে এক হাজার থেকে তিন হাজার বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেন, এমন ঘেরমালিক আছেন ১০ জন। আর ২০০ থেকে ৫০০ বিঘার মতো জমির ঘেরমালিক আছেন ৩০ জন। ওই পোল্ডারের প্রায় ৯০ শতাংশ জমির মালিক এলাকায় থাকেন না। তাই তাঁরা জমিগুলো চিংড়িচাষিদের কাছে ইজারা দিয়ে রেখেছেন। প্রতিবছর সেখান থেকে টাকা পান। ভুক্তভোগীদের কয়েকজন বলেন, ওই এলাকায় বড় ঘেরে যাঁরা চিংড়ি চাষ করেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিভিন্ন জেলা সদরের বড় বড় ধনী ব্যক্তি। রাতে ঘেরমালিকের লোকজন এলাকায় মহড়া দেন। ঘেরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি-ধমকি হেনস্তা করা হয়। ২০ নম্বর পোল্ডারের লতা ইউনিয়নের মধ্যে ২০০ বিঘার ঘের রয়েছে অজিয়ার রহমানের। এলাকাবাসীর অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঘের থেকে মানুষ পাচ্ছে। আবার সেখানে ধানও চাষ করছে। অল্প কিছু মানুষ, যাদের জমি নেই, তাঁরাই ঘেরের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একসময়ে ঘের করতে গিয়ে জোরজুলুম চলেছে। তবে এখন সেটা নেই। ঘেরের মালিকেরা নিজেদের জমির পাশাপাশি হয়তো অল্প কিছু জমি ইজারা নেন। ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় উপকূলীয় অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১০ সালে উপকূলীয় পাঁচ জেলায় অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ বন্ধ করতে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)ওই পাঁচ জেলার মধ্যে খুলনাও ছিল। জানতে চাইলে বেলার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ২০১০ সালে রিট আবেদন করার পর ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ বন্ধ করতে চূড়ান্ত রায় দেন। ওই রায়ের পর খুলনার দাকোপ উপজেলার ৩২ নম্বর পোল্ডারে চিংড়ি চাষ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু অন্যান্য এলাকায় কৃষিজমিতে নোনাপানি তুলে ঠিকই চিংড়ি চাষ হচ্ছে। মূলত ওই আদেশ পালন করতে অনীহা দেখা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের। বিষয়ে পাইকগাছার ইউএনও মমতাজ বেগম বলেন, যেহেতু এলাকার মানুষ লবণপানির ঘের না করার ব্যাপারে জোটবদ্ধ হয়েছেন, তাই ঘেরমালিক এলাকাবাসীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সুত্র- প্রথম আলো