স্টাফ রিপোর্টার ।।
নগরীর ১৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি সাঈদুর রহমান শাওনকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ৮জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) খালিশপুর থানার এসআই পীযূষ দাস বাদী হয়ে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ও ১৯০৮ সনের বিষ্ফোরক উপাদানাবলী আইনের ৩/৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন নগরীর সামসুর রহমান রোডের মন্টু’র ছেলে গ্রেনেড বাবু (৩২), গোবরচাকা নাহিদের মোড়স্থ ইউনুস সরদারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া মৃত. সুলতানের দু’ছেলে সাইদুল ওরফে সাইদুর (৩৭) ও পলাশ ওরফে চিংড়ি পলাশ (২৮),
গোবরচাকা খালাসী বাড়ীর পাশের বাসিন্দা মধু’র ছেলে ইমন (৩০), শেখপাড়া এলাকার সাত্তারের ছেলে তুহিন (২৬) ও ফুলতলা থানার পয়গ্রাম এর রাসেল (২৭)। ঘটনায় সময় স্থানীয় জনগণ ও খালিশপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ট্রাফিকরা সাইদুরকে আটক করে। তখন সাইদুর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বয়রা বাজার এলাকায় কতিপয় সন্ত্রাসী দু’টি মোটরসাইকেলে করে শাওনকে টার্গেট করে প্রথমে একটি ককটেল চার্জ করে। পরবর্তীতে শর্টগান দিয়ে গুলি করে। তখন ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা দেখতে পেয়ে তাদের ধাওয়া করে। তখন তারা বয়রা কলেজের দিকে পালানোর সময় এ সময় তার দেহ তল্লাশী করে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে র্যাবের সদস্যরা এসে একটি ককটেল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় খালিশপুর থানার এসআই পীযূষ দাস বাদী হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৩জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন যার নং-১২।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শেখ শওকত জনান, অত্র মামলার পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভুগী যুবলীগ নেতা সাঈদুর রহমান শাওন এর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি নগরীর বয়রা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। ১৯৮৫ সালে শাওনের চাচা শেখ জাহাঙ্গীরকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ১৯৮৭ সালে তার আর এক চাচা হুমায়ূন শেখকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এরপর ১৯৯৮ সালে শাওনের বাবা শেখ শাহাজাহানকে হত্যা করা হয়। ১৯৯৯ সালে শাওনের দাদা শেখ হাতেম আলীকে ও ২০০১ সালে শাওনের আর এক চাচা শেখ বাবরকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ ২০১৫ ও ২০১৭ সালে শাওনের ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হলেও প্রাণে বেঁচে যান। নগরীর ছোট বয়রা এলাকায় এক ছেলেকে হত্যা করে সেফটি ট্যাংকিতে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় আলোচনায় আসেন যুবলীগ নেতা সাঈদুর রহমান শাওন। এ কারণে তিনি ট্যাঙ্কি শাওন নামেও পরিচিত।









































