আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও গভীর সংকটে পড়েছে।
সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রু হুডিশতেনু আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সাময়িক উত্তেজনা হ্রাসের আশা জাগলেও পরিস্থিতি এখন আগের সেই অস্থিতিশীল অবস্থানে ফিরে গেছে।
বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান আবারও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিয়ে একটি সদিচ্ছা প্রদর্শন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অনুরূপ কোনো ইতিবাচক সাড়া না আসায় তেহরান দ্রুত সেই অবস্থান থেকে সরে আসে।
হুডিশতেনু যুক্তি দেন, ইরানের এই সদিচ্ছা প্রদর্শনের কৌশলটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত, যা ওয়াশিংটনের অনমনীয়তার কারণে ভেস্তে গেছে। ফলে ইরান পুনরায় তাদের শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে এবং প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কঠোর বার্তা দিচ্ছে।
ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্লেষকদের ভাষায়, ইরান কখনোই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করবে না, কারণ এটিই তাদের হাতে থাকা একমাত্র এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই ইরান বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের দরকষাকষির সক্ষমতা টিকিয়ে রাখে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা চাপের কৌশল হিসেবে এই অঞ্চলে তাদের অবরোধ ও সামরিক তৎপরতা বজায় রেখেছে। ওয়াশিংটনের এই অবরোধ কর্মসূচি মূলত একটি বৃহত্তর ‘জবরদস্তিমূলক কূটনীতি’ বা কোয়ার্সিভ ডিপ্লোমেসির অংশ। দুই শক্তির এই অনড় অবস্থানের কারণে পারস্য উপসাগরীয় এই সংকীর্ণ জলপথে আবারও সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর।
……………………………………..
সূত্র: আলজাজিরা।









































